এডিটার'স মেইলবক্স: তালেবান, আফগানিস্তান আর মাশরাফি ইঅরেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন

যুদ্ধ জয়ের পর সশস্ত্র তালেবান মিলিশিয়া, ১৭/০৮/২০২১

ছবির উৎস, Anadolu Agency

ছবির ক্যাপশান, যুদ্ধ জয়ের পর কাবুলের রাস্তায় সশস্ত্র তালেবান মিলিশিয়া
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

চলতি সপ্তাহে বিশ্বের সব চেয়ে বড় খবর কী ছিল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আফগানিস্তানে তালেবান গোষ্ঠী অবিশ্বাস্য গতিতে গোটা দেশের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে।

রবিবার বিনা লড়াই-এ রাজধানী কাবুলের পতন হল, রাষ্ট্রপতি আশরাফ গানি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেন। কুড়ি বছর যুদ্ধের পর আমেরিকানরা স্বীকার করলো এই যুদ্ধে তারা জয়ী হতে পারবে না।

সে বিষয় দিয়ে আজ শুরু করছি। প্রথমে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল: 

''আফগানিস্তানে যেভাবে তালেবান ক্ষমতা দখল করলো তা বিস্ময়কর। অপরদিকে, আফগান সেনাবাহিনী যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তা হাস্যকর। আফগান সরকার ও সৈন্যদের অবস্থা দেখে অনুমান করা যায় যে, তারা মূলত সুযোগ-সুবিধা ও দুর্নীতি করার জন্যই এসেছিলেন।

''অপরদিকে তালেবান ক্ষমতা দখলের এত রসদ পেলো কোথায়? যদি না কোন দেশ তাদের সাহায্য করে? এখানে ভূ-রাজনীতি একটা ট্রাম্প কার্ড হিসেবে কাজ করেছে। আর সেই ট্রাম্প কার্ড খেলেছে চীন, রাশিয়া আর পাকিস্তান।''

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন আর সামরিক বাহিনী প্রধান জেনারেল মার্ক মাইলি, ১৮/০৮/২০২১

ছবির উৎস, OLIVIER DOULIERY

ছবির ক্যাপশান, পরাজয়ের বেদনা: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন আর সামরিক বাহিনী প্রধান জেনারেল মার্ক মাইলি।

আফগান সরকার, সেনাবাহিনী আর সুশীল সমাজ যে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশের জন্য কাজ করেনি, সে অভিযোগ অনেকেই করছেন মিঃ শামীম উদ্দিন। কিন্তু সেই উপলব্ধি একটু দেরিতেই এসেছে বলে মনে হচ্ছে।

তালেবান-এর প্রতি পাকিস্তানের সহানুভূতি কখনোই গোপন ছিল না। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন তাদের সেনাবাহিনী তালেবানকে চূড়ান্তু লড়াই-এর পরিকল্পনা করতে সহায়তা করেছিল। বর্তমান ঘটনা প্রবাহ থেকে যে পাকিস্তান লাভবান হয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তালেবান-বিরোধী বিক্ষোভের সময় একজন আফগান নারী, ১৮/০৮/২০২১

ছবির উৎস, Hindustan Times

ছবির ক্যাপশান, দুশ্চিন্তায় ভেঙ্গে পড়েছেন একজন আফগান নারী

পরের চিঠি লিখেছেন ভোলার চর ফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাশুকুল হক মাশুক:

''বিশ বছরের এ অসম যুদ্ধে আমেরিকার যেমন বিপুল আর্থিক ও মানবিক ক্ষতি হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে আফগানিস্তানেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পরও দেশে ও বিদেশে যেসব যুদ্ধবাজ লোক, মার্কিন ও নেটোর সৈন্য প্রত্যাহারের বিরোধিতা করছে, আসলে তারা দীর্ঘমেয়াদী এ ক্ষয়ক্ষতিকেই সমর্থন করছে।

''তাদের মনে রাখা দরকার, শক্তির জোরে তথাকথিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা গেলেও, সেটা টেকসই ও স্থায়ী হয় না।''

আফগানিস্তানে আমেরিকার ব্যর্থতার কারণ নিয়ে গবেষণা আরো অনেক বছর ধরে চলবে মিঃ হক। তবে এখানে একটি কথা বলা উচিত, যারা আমেরিকার সৈন্য প্রত্যাহারের বিরোধিতা করছেন, তারা সবাই কিন্তু যুদ্ধবাজ নয়। তাদের যুক্তি হচ্ছে, আমেরিকার এভাবে চলে যাওয়া উচিত হয়নি। এর ফলে দেশের অনেক মানুষ, বিশেষ করে নারী সমাজ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প আর মার্কিন গাধা

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপী:

''বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন, "আমরা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করে দিয়েছি...এটার পেছনে আমাদের হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে, লাখ লাখ জীবন চলে গেছে, কিন্তু আগের তুলনায় সেখানে কোন পরিবর্তন আসেনি"।

''ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য শুনে মনে হলো, সত্য কখনও ছাই চাপা থাকে না এবং গাধা সব সময় পানি ঘোলা করে খায়। ভিয়েতনামের সায়গন থেকে আফগানিস্তানের কাবুল, আরেকটি পরাজয়ের কলঙ্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ইতিহাসে যুক্ত হলো।''

শুধু গাধার পানি খাওয়া না, আফগানিস্তানে আমেরিকার পরিণতি দেখে অনেকে ন্যাড়া এবং বেল তলার কথাও ভাবছেন।

আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ব্যর্থ হয়েছিল আফগানিস্তানে তাদের ঘরানার শাসন-ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে। কিন্তু আমেরিকা সেই সোভিয়েত ব্যর্থতা - বা ভিয়েতনামে নিজেদের ব্যর্থতা - থেকে শিক্ষা না নিয়ে মনে করলো, শুধু গণতন্ত্র আর মুক্তির কথা বললেই আফগানরা তালেবানকে প্রত্যাখ্যান করবে।

মানব জাতির জন্য গণতন্ত্র এবং মুক্তি সবচেয়ে মঙ্গলজনক মূল্যবোধ, কিন্তু এগুলো যে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া যায় না, আফগানিস্তান তা আবার প্রমাণ করলো।

আফগানিস্তান নিয়ে আরো পড়ুন:

কাবুলে একটি বিকৃত পোস্টারের পাশ দিয়ে যাচ্ছে একজন সশস্ত্র তালেবান।

ছবির উৎস, WAKIL KOHSAR

ছবির ক্যাপশান, কাবুলে একটি বিকৃত পোস্টারের পাশ দিয়ে যাচ্ছে একজন সশস্ত্র তালেবান।

তালেবান কি মুজাহিদ?

মিডিয়া কি আফগানিস্তান, বিশেষ করে তালেবান নিয়ে দ্বিমুখী আচরণ করছে? তাই মনে করছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের রাফিউল ইসলাম রাফি:

''বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু আফগানিস্তান নিয়ে মিডিয়ার কিছু দ্বিমুখী নীতি দেখে হতবাক হলাম৷ তালেবান মার্কিনীদের দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই নিজেদের মুজাহিদ দাবি করছে এবং বিশ্ব মিডিয়া তাদের জঙ্গি, উগ্রপন্থী ও কট্টরপন্থী বলে আসছে।

কিন্তু হঠাৎ মার্কিন সৈন্যরা একরকম পরাজয় বরণ করে আফগানিস্তান ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পরপরই মিডিয়া এদেরকে যোদ্ধা বলা শুরু করলো। গত কয়েকদিন থেকে লক্ষ্য করছি বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় সকল মিডিয়া তাদের 'মুজাহিদরা' ও 'জিহাদি' বলে আখ্যায়িত করছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো তারা একইসাথে কিভাবে দ্বিপন্থী হতে পারে? নাকি এটা মিডিয়ার দ্বিমুখী নীতি?''

আমার তো তা মনে হয় না মিঃ ইসলাম। হয়তো যেসব মিডিয়া তালেবানকে আদর্শগত কারণে সমর্থন করে, তারা তাদেরকে 'মুজাহিদ' বলে বর্ণনা করে থাকতে পারে। যেসব আফগান জিহাদি গ্রুপ ১৯৮০-র দশকে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, তাদেরকেই 'মুজাহিদীন' বলা হয়, তালেবানকে নয়।

অনেকে তালেবানকে জঙ্গিও বলে থাকে, যদিও সেটা সন্ত্রাসীর মত বিতর্কিত একটি শব্দ। জিহাদি শব্দটি অনেক ইসলামপন্থী সংগঠনের বেলায় ব্যবহার করা হয়, যারা নিজেরাই তাদের কার্যক্রমকে জিহাদ বলে দাবি করে।

কাবুলে সামরিক বিমান পাঠিয়েছে অন্তত পনের দেশ

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, আফগান শরণার্থীদের সরিয়ে নিতে কাবুলে সামরিক বিমান পাঠিয়েছে অন্তত পনেরটি দেশ

বাংলাদেশের কি শরণার্থী নেয়া উচিত?

পরের চিঠি লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন: 

''আফগানিস্তানের কিছু শরণার্থীকে বাংলাদেশে সাময়িক সময়ের জন্য আশ্রয় দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ নাকচ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশ কি কোন দেশের আশ্রয় কেন্দ্র, যে তারা যখন তখন আবদার নিয়ে আসবে? ঐসব মানবিক দেশগুলো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যাপারে উদাসীন কেন? তাদের দেশে কতজনকে আশ্রয় দিয়েছেন?''

আমার মনে হয় না কেউ আফগানদের বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করছে মিঃ আহমেদ। যে অঞ্চলে সংঘাত চলছে, প্রাথমিক ভাবে তার আশে-পাশের দেশেই শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার চেষ্টা করা হয়। আশির দশকে লক্ষ লক্ষ আফগান পাকিস্তানে আশ্রয় পেয়েছিল, রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা পেয়েছে বাংলাদেশে।

তবে আফগান শরণার্থীদের নতুন ঢেউ-এর যে আশঙ্কা অনেকে করছেন, তারা কোথায় যাবে তা নিয়ে বড় রকমের টানা-হেঁচড়া শুরু হবে বলে মনে হচ্ছে।

বিবিসি বাংলার আরো কিছু খবর:

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা

ছবির উৎস, THEO KARANIKOS

ছবির ক্যাপশান, আমি দায়ী?: মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা

মাশরাফির এ্যাড, মাশরাফির দায়?

বাংলাদেশে ইভ্যালি নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয় নাই, কিন্তু তার মধ্যেই আরেকটি ই-কমার্স কোম্পানি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ইঅরেঞ্জ-এর বিরুদ্ধে কিছু গ্রাহক অভিযোগ করছেন যে তারা টাকা দিলেও পণ্য পাননি। কিন্তু বিষয়টির সেখানেই শেষ না। সম্প্রতি গ্রাহকরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বাড়ি ঘেরাও করে প্রতিবাদ করেছেন, কারণ তিনি কিছু দিন আগ পর্যন্ত ঐ কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কাজ করেছেন।

সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''মিঃ মোর্ত্তজার কারণেই ইঅরেঞ্জের নিকট পণ্যের অর্ডার দিয়েছিলেন বলেই জানাচ্ছেন অনেকে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই মিঃ মোর্ত্তজার বাড়ির সামনে গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেছেন। যদিও মিঃ মোর্ত্তজার সাথে প্রতিষ্ঠানটির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। আমার মনে হয়, এইসব তারকা ব্যক্তিদের উচিৎ কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করার আগে ঐ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে তবেই কাজ করা।''

গ্রাহকরা কি 'ডাহা মিথ্যা' বলছে?

ভিন্ন মত পোষণ করে লিখেছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ:

''মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা কিছুদিন আগে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে কিছু বিক্রয় প্রতিষ্ঠান এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন। এখন কথা হচ্ছে এখানে মাশরাফীর দায় কোথায়?

''যদি ক্রেতারা বলে থাকে যে মাশরাফীকে দেখে তারা টাকা ঢেলেছে, তবে সেটি ডাহা মিথ্যা কথা। আসলে তারা লোভের বশবর্তী হয়ে টাকা ইনভেস্ট করেছে। এখন তাদের তাদের ভুলটা মাশরাফীর ঘাড়ে চাপাচ্ছে।।''

মিঃ মোর্ত্তজা কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর, তিনি কোম্পানির মালিক বা পরিচালক নন। তাহলে অসন্তুষ্ট গ্রাহকদের বিক্ষোভ তার বাড়ির সামনে হবে কেন? সাকিব আল-হাসান, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বা লিওনেল মেসি যে সব পণ্য এনডোরস করেন, সেগুলো নিয়ে ক্রেতা অসন্তুষ্ট হলে তারা নিশ্চয় ঐ তারকাদের বাসা ঘেরাও করেন না?

তবে একটি বিষয়ে আমি মিঃ সরদারের সাথে একমত, বাংলাদেশে মিঃ মোর্ত্তজার ভাবমূর্তি যেহেতু আকাশচুম্বী, তাই কোন্‌ পণ্য বা কোম্পানি তিনি এনডোর্স করবেন তা নিয়ে আরেকটু ভাবা উচিত।

৩০শে জুলাই দেয়া ফেসবুক পোস্ট

ছবির উৎস, https://www.facebook.com/eorangeonlineshop

ছবির ক্যাপশান, ইঅরেঞ্জ এর ৩০শে জুলাই দেয়া ফেসবুক পোস্ট।

ই-ব্যবসা কি লাটে উঠছে?

এই ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে আরো লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''দেশের ই কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো কি আসলেই শুধুমাত্র গ্রাহকদের টাকা লুট করার জন্যই গড়ে উঠেছিল, নাকি পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কাজে না লাগে তাহলে এ্যামাজন, আলিবাবা বা দারাজের মত প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ব্যবসা করার পাশাপাশি সেবা দিয়ে যাচ্ছে?

''তাছাড়া এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই কেন নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নিচ্ছে না? এখন যদি একটার পর একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে তাহলে দেশের ই কমার্স শিল্প চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না?''

আমার মনে হয় ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে মিঃ সাঈদ। এখানে উদ্যোগের অভাব নেই কিন্তু মনে হয় পেশাদারিত্বের অভাব আছে। তবে আপনি ঠিকই বলেছেন, দেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা ঠিক না করলে বাংলাদেশে অনলাইন রিটেইল ব্যবসা তাদের হাতের বাইরে চলে যাবে। তখন আলিবাবা, এ্যামাজনের মত আন্তর্জাতিক কোম্পানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে।

দুই মাসে পাঁচ বার পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগলো।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দুই মাসে পাঁচ বার পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগলো।

পদ্মা সেতু কি নাশকতার শিকার?

পদ্মা সেতুর পিলারে পর পর কয়েকবার ফেরির আঘাতের পর তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। সে বিষয়ে লিখেছেন রংপুরের বেনুঘাট দিঘির পাড় থেকে সেলিম রাজ:

''ব্রিজ চালু হলে ফেরি বন্ধ হয়ে যাবে, তাই গোপন পরিকল্পনা চলছে কিভাবে ব্রিজ ভেঙে দেওয়া যায়। তাই বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে পিলারে বার বার আঘাত করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে সরকার তৎপর না হলে, এক সময় সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে শুনতে হবে পদ্মা সেতু ভেঙে গেছে।

''এমন কথা যেন শুনতে না হয়, সেজন্য প্রশাসনকে যথেষ্ট তৎপর থাকতে হবে। ব্রিজ করা হলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং রক্ষা করা বিরাট দায়িত্ব।''

আপনার কথাটা কিছুটা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মত শোনাচ্ছে মিঃ রাজ। তবে তার জন্য আপনাকে দোষারোপ করছি না। কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ না একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে, ততক্ষণ মানুষ বিভিন্ন দিকে নাশকতার আলামত দেখতে পাবে। আপনার কথার পক্ষে কোন প্রমাণ আপনি দেননি, কিন্তু আপনার কথা খণ্ডন করার মত কোন যুক্তিও আমার কাছে নেই। আমরা সবাই অপেক্ষা করছি জানার জন্য।

শেখ মুজিবুর রহমান

ছবির উৎস, ARCHIVE

ছবির ক্যাপশান, শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবার: (বাঁ দিক থেকে) শেখ কামাল, শেখ রেহানা, শেখ রাসেল (পিতার কোলে), শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ জামাল ও শেখ হাসিনা।

ইতিহাসের সাক্ষী পনেরোই অগাস্ট

এবারে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি রক্তাক্ত এবং মর্মান্তিক অধ্যায় নিয়ে লিখেছেন পাবনার সাঁথিয়া থেকে মোহাম্মদ সজিব হোসেন:

''পনেরোই আগস্ট-এর ইতিহাসের সাক্ষী অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের রহস্য শুনে গা শিউরে উঠলো। এত নির্মমভাবে পারলো বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে হত্যা করতে? একজন রাষ্ট্রপতির বাসায় কোন পাহারাদার নেই, এটা শুনে অবাক লাগল। এটা যে পরিকল্পনা মাফিক হত্যাকাণ্ড ছিল সেটা বুঝতে পারলাম । আমরা বাংলাদেশে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না।''

আপনার সাথে সবাই একমত হবেন, মিঃ হোসেন, ১৫ই অগাস্টের মত নির্মম হত্যাকাণ্ড আর কেউ দেখতে চায় না। আশা করা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতির এই রক্তাক্ত অধ্যায় এখন সুদূর ইতিহাসের অংশ হিসেবেই থেকে যাবে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বা আইজিপি বেনজীর আহমেদ

ছবির উৎস, বাংলাদেশ পুলিশ

ছবির ক্যাপশান, পুলিশ আইজিপি বেনজীর আহমেদ: পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের বন্ধ হবে কী করে?

বাংলাদেশ পুলিশ কি বিপাকে?

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে নানা ঘটনা আর রটনার পর বাংলাদেশের পুলিশও কি বিপাকে পড়েছে? তাই মনে করছেন মুহাম্মদ শামিমুল হক মামুন, যিনি সন্দ্বীপের ওসমানিয়া থেকে লিখেছেন:

''বহুল আলোচিত নায়িকা পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে বেশ বিপাকেই আছেন গোয়েন্দা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। ঐ নায়িকার সংগে জন্ম দিনের কেক কাটার সময় পরীমনির সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠতাপূর্ণ ছবি সামনে আসায় বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়েছেন চৌকস এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

''গত ৬ই অগাস্ট চট্টগ্রামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফেনী গোয়েন্দা পুলিশের একজন ওসি সহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালে সুদানে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে কর্মরত অবস্থায় পিবিআইর একজন এসপির বিরুদ্ধে পুলিশের এক নারী পরিদর্শককে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

''বাংলাদের পুলিশের এ অবস্থা কেন? আর কতো অভিযোগ পুলিশ-এর বিরুদ্ধে শুনতে হবে?''

সেটা নিশ্চয়ই পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে মিঃ হক। যত দিন পুলিশের সদস্যরা নিজস্ব নীতিমালা ভঙ্গ করবে বা সরাসরি আইন ভঙ্গ করবে, তত দিন অভিযোগের কথা শুনতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি কঠোর ভাবে আইন প্রয়োগ করে, তাহলে পুলিশের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কমতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনে যোগ দেয়া একদল ছাত্রী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চাকরি না পেলে কি বিয়ের বয়সও শেষ হয়ে যায়?

চাকরি করতে প্রস্তুতি লাগে?

এবারে ব্যতিক্রমী একটি প্রশ্ন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী:

''বিবিসির কাছে একটি প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমানে মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে ছেলেরা শিক্ষিত হচ্ছে বটে, কিন্তু চাকরি নেই, পড়াশুনা শেষ করতে করতে ৩০ বছর, চাকরির প্রস্তুতি নিতে আরো তিন চার বছর। ছেলেদের বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে, মেয়েরা জানতে চায় ছেলে কী চাকরি করে। তাহলে বিয়ে করবে তা নাহলে নয়। এভাবে বিয়ের স্বপ্ন শেষ?''

এই প্রশ্নের জবাব বিবিসি কীভাবে দেবে, তা আমি বুঝতে পারছি না মিঃ চৌধুরী। বিয়ের বয়স বলতে কি আদৌ কিছু আছে? কই, সেদিনই তো বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী ৬৩ না ৬৫ বছর বয়সে বিয়ে করলেন। আর আপনি যে বলছেন, চাকরির প্রস্তুতি নিতে চার বছর লাগে, সেটা আবার কী? পড়া-শোনা শেষ হওয়া মাত্রই তো চাকরিতে ঢোকা উচিত। তিন-চার বছর ধরে কী প্রস্তুতি নেয় তারা?

স্টুডিওতে শ্রোতাদের চিঠি হাতে সেরাজুর রহমান এবং কমল বোস
ছবির ক্যাপশান, প্রীতিভাজনেসুর সাদা কালো অতীত: স্টুডিওতে শ্রোতাদের চিঠি হাতে সেরাজুর রহমান এবং কমল বোস

দেরিতে আসা চিঠি কি বাতিল হয়?

প্রীতিভাজনেসুতে চিঠি বাছাই, বিশেষ দেরিতে পাঠানো চিঠি নিয়ে জানতে চেয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরার আশাশুনি থেকে মঈনুল আহমেদ মঈন: 

''আপনাদের কাছে কি যে আগে ইমেইল করে তারটাই প্রথমেই প্রচার করা হয়? না কী ইমেইল বাছাই করার ক্ষেত্রে এমন কোন নিয়ম আপনারা পালন করেন না? প্রচারযোগ্য ইমেইল এবং ইমেইল বাছাই করার বিষয়ে আপনাদের শর্ত সম্পর্কে জানতে আমি আগ্রহী।

আর যাদের ইমেইল এই সপ্তাহের ' প্রীতিভাজনেসু ' আয়োজনে প্রচারের জন্য আপনাদের কাছে দেরিতে গিয়ে পৌঁছায়, তাদের ভিতর মানসম্মত ইমেইলগুলোতো আপনারা পরের অনুষ্ঠানের জন্য রেখে দিতে পারেন। কিন্তু আপনারা সেটা না করে কেন তা বাতিল হিসাবে গণ্য করেন ?''

চিঠি বাছাই-এর ক্ষেত্রে ধরা-বাধা কোন নিয়ম নেই মিঃ আহমেদ। সব কিছু ঐ সপ্তাহের ঘটনাবলী, কী ধরণের চিঠি এসেছে, কতগুলো চিঠি এসেছে ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে।

সাধারণত, অনুষ্ঠান তৈরি হয়ে যাবার পর, বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার আসা চিঠির জবাব দেবার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। কারণ, কোন চিঠি এক সপ্তাহ পরে অনুষ্ঠানে নেয়া সম্ভব হয় না।

তবে ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। সেটা নির্ভর করবে চিঠির বিষয়বস্তুর ওপর। চিঠিতে যদি আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে গুরুতর কোন অভিযোগ, বিশেষ করে সম্পাদকীয় নীতিমালা সংক্রান্ত অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই পরের সপ্তাহে নেয়া হবে, অথবা জবাবটা আপনি ইমেইলেই পাবেন।

কমেন্ট নিয়ে কমেন্ট

সব শেষে, আমাদের ফেসবুক পাতায় বিভিন্ন কমেন্ট নিয়ে কমেন্ট করেছেন, পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহীন তালুকদার:

''বিবিসি বাংলার অনেক লেখার উপর দু'একজনের কমেন্ট দেখি - আপনারা উসকানি দেন, সুড়সুড়ি দেন, খোঁচা মারেন, ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী, পশ্চিমা বিশ্বাসী, ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনি কি বলবেন?''

কী আর বলার আছে মিঃ তালুকদার? কেউ কিছু বললেই তাতে আমি প্রতিক্রিয়া জানাই না। সবারই মতামত দেবার স্বাধীনতা আছে। সেই মতামত যতই অসত্য, এমনকি উদ্ভট হোক না কেন, মতামত দেবার স্বাধীনতাকে আমি সব সময় শ্রদ্ধা করি।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

হরিদাস রায়, ডোমার, নীলফামারী।

রহমাতুল্লাহ আল আরাবী, বোয়ালিয়া, রাজশাহী।

এম.জুয়েল সরকার, সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব, পাইকগাছা, খুলনা।

জহিন মুমতাহিনাহ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা।

মোস্তাফিজুর রহমান, গংগারামপুর,খুলনা।

মোতাছিম বিল্লাহ মুন্না, দিনাজপুর।

শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।