আফগানিস্তান: কাবুল বিমানবন্দরে লোকজনকে সরিয়ে নিতে চরম বিশৃঙ্খলা, রবিবার থেকে ১২ জনের মৃত্যু

ছবির উৎস, Getty Images
আফগানিস্তানে রাজধানী কাবুলে রোববার তালেবান বাহিনী প্রবেশের পর থেকে শহরের মূল বিমানবন্দরের ভেতরে এবং আশপাশে ১২ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তালেবান বাহিনী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালেবান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন গুলিতে এবং পদদলিত হয়ে এই ১২ জন নিহত হয়েছেন।
যাদের ভ্রমণের অনুমোদন নেই তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করে তিনি বলেছেন 'বিমানবন্দরে আসা কারোর ক্ষতি করতে চায় না তালেবান।'
বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও তাদের আফগান সহকর্মীদের দ্রুত কাবুল থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই বিমানবন্দরের বাইরে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বিরাজ করছে।
কাবুলের বিমানবন্দর এখনো মার্কিন সেনাদের দখলে রয়েছে তবে এর আশপাশের সড়কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তালেবান বাহিনী।
সেখানে সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধারা সড়ক পাহারা দিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বৈধ কাগজপত্র এমন ব্যক্তিদেরও বিমানবন্দরে যেতে বাধা দিচ্ছে তারা।
বিমানবন্দরের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করা তালেবান যোদ্ধারা বিমানবন্দরের দিকে জনস্রোত ছত্রভঙ্গ করতে আকাশে গুলি ছুঁড়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫ হাজার ব্যক্তিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এই বিমানবন্দরের মাধ্যমে, যেটি মূলত মর্কিন সৈন্যদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার তিনদিন অতিবাহিত হয়েছে।
"সেখানে অবশ্যই নৈরাজ্যকর অবস্থা," একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন।
কারণ গত বিশ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে সহায়তা করা আফগানরা সহ হাজার হাজার মানুষ কাবুল ছাড়ার জন্য উদগ্রীব।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Reuters
বিমানবন্দরের চারদিকে মোতায়েনকৃত তালেবান যোদ্ধারা আফগানদের কাগজপত্র ছাড়া বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তবে আমেরিকার পাসপোর্ট যাদের আছে, তাদের অনুমতি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
রবিবার তালেবানদের নাটকীয়ভাবে কাবুল দখল করার ঘটনা বহু পশ্চিমা সরকারকে বিস্মিত করেছে।
ওদিকে সেখানকার ডাচ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সমালোচনা হচ্ছে, কারণ তারা বলেছেন যে তারা যে চলে যাচ্ছেন সেটি তাদের আফগান সহকর্মীদের বলার মতো সময় পাননি।
ডাচ মিলিটারি ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে দোভাষী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেয়ার জন্য হয়তো অল্প সময়ই হাতে আছে।
"আমরা যদি পরবর্তী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সফল না হই, তাহলে দেরি হয়ে যাবে," আন্নে-ম্যারি স্নেলস বিবিসিকে বলেছেন।
অন্তত পনেরটি দেশ কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে কাবুলে বিমান পাঠিয়েছে।
আমেরিকান, ফরাসি, ডাচ, জার্মান, স্প্যানিশ ও ব্রিটিশ উড়োজাহাজগুলো গত কয়েক ঘণ্টায় সেখান থেকে ছেড়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখন বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা চলতি মাসের মধ্যেই অন্তত ত্রিশ হাজার ব্যক্তিকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছে।
লোকজনের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের গুলি ছুঁড়তে হয়েছে বলে বুধবার পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি বলেছেন, প্রায় সাড়ে চার হাজার সৈন্য এখন বিমানবন্দরে আছে এবং আরও কয়েকশ সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
"যত বেশি সম্ভব লোকজনকে আফগানিস্তান থেকে বের করার বাধ্যবাধকতা আমাদের আছে," মিস্টার কিরবি বলেছেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে সরিয়ে নেয়া।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, এখনো অন্তত এগারো হাজার আমেরিকান আফগানিস্তানে আছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২৫ জন আমেরিকানসহ অন্তত দু'হাজার ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র বলেছে, তারা ইতোমধ্যেই তাদের নাগরিক ও কিছু আফগানকে সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সাতশ ব্রিটিশ নাগরিক ও কিছু আফগানকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে জানিয়ে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ল্যরি ব্রিস্টো বলেছেন, তারা এর গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

ছবির উৎস, Getty Images
আতঙ্ক থেকে স্বস্তি
একজন ব্রিটিশ সাহায্য কর্মী বিবিসিকে বলছেন যে তিনি সরে আসার পর নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন।
"রানওয়ে শত শত আফগানে গিজগিজ করছিলো যারা কোথাও যাওয়ার আশায় ছিলো," কিট্টি শেভালিয়েন পিএ নিউজ এজেন্সিকে বলছিলেন।
তিনি বলেন, তিনি কতটা ভাগ্যবান সেটি তিনি বুঝতে পারেন যেখানে তার অনেক বন্ধু ও সহকর্মী এখনো আটকে আছেন।
আবার জার্মানদের সাথে আফগানিস্তান ছেড়েছেন ,এমন একজন নারী বলেছেন যে বিমানে চড়ার আগেও তিনি ভীত ছিলেন।
তিনি বলছিলেন যে তিনি ও তার ছেলে কি পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কাবুল ছাড়তে পেরেছেন।
বিমানবন্দরে একজন আমেরিকান বুঝতে পারছিলেন যে এই নারী ও তার ছেলে কি অবস্থার মধ্যে আছেন।
"তিনি বললেন, সব ঠিক আছে আপনারা ভেতরে যেতে পারেন। অন্যরা পেছনে কাঁদছিলো এবং ফ্লোরে পড়েছিলো, যা ছিলো ভীতিকর," বলছিলেন তিনি।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নর ফরেন পলিসি প্রধান জোসেফ বোরেল বলছেন, "আমরা আফগান সহকর্মীদের ফেলে আসতে পারি না এবং তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য সব কিছু করছি আমরা"।
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তান থেকে শরণার্থীর ঢল নামতে পারে বলে সতর্ক করে বলেছেন যে তিন লাখ থেকে ৫০ লাখ পর্যন্ত মানুষ ইউরোপমুখী হতে পারে।
যুক্তরাজ্য বলেছে, পরবর্তী কয়েক বছরে তারা বিশ হাজার আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post









