এডিটার'স মেইলবক্স: ভিকারুননিসা, জাহাঙ্গীর কবির আর মিডিয়া ট্রায়াল নিয়ে প্রশ্ন

গণমাধ্যমেও বাহিনীগুলোর বক্তব্য থাকলেও বেশিরভাগ সময় অভিযুক্তদের পক্ষের বক্তব্য থাকে না।
ছবির ক্যাপশান, আদালতে বিচারের আগেই 'মিডিয়া ট্রায়াল' হয় পত্রিকার পাতায়, টেলিভিশনের স্ক্রিনে।
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

শুরুতে জানিয়ে রাখি, বেশ কয়েকটি চিঠি এসেছিল বাংলাদেশে টিকা না নিয়ে বাইরে বের হওয়া যাবে না, এরকম একটি সরকারি ঘোষণা প্রসঙ্গে। কিন্তু এক দিন পরই, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জানিয়ে দিলেন, সেরকম কোন নীতি গ্রহণ করা হয়নি। কাজেই সে চিঠিগুলো অনুষ্ঠানে না নেবার সিদ্ধান্ত নেই।

যাই হোক, শুরু করছি বাংলাদেশে পুলিশের মাঝে একটি প্রবণতা নিয়ে। প্রায় দেখা যায়, পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করে তাদের মিডিয়ার সামনে হাজির করে, যদিও এর বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ রয়েছে।

প্রথমে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:  

''বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত 'পুলিশ এবং অভিযুক্ত: বিচারের আগেই 'মিডিয়া ট্রায়াল' কি আইনের লঙ্ঘন?' শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আলোচিত ঘটনায় গ্রেপ্তার করার পরে অভিযুক্তকে প্রায়শই গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে এমনভাবে তাদের উপস্থাপন করা হয় ও বর্ণনা তুলে ধরা হয়, যাতে বিচারের আগেই তারা জনমনে দোষী বলে চিহ্নিত হয়ে যান।

''আমি লক্ষ্য করেছি, এক্ষেত্রে শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই নয়, আমাদের দেশের অনেক ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়াও একইভাবে অভিযুক্তকে উপস্থাপন করে, নানাভাবে ট্রল করে, যা ভুক্তভোগী ব্যক্তির জন্য চরম অবমাননাকর, বিব্রতকর এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এটা তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ ও ক্ষতের সৃষ্টি করে, যা কোটি টাকায়ও পূরণীয় নয়। আমার প্রশ্ন, আমেরিকা, ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশগুলোতেও কী এ ধরনের মিডিয়া ট্রায়ালের নামে অভিযুক্তদের অপদস্থ করা হয়?''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিস ফেরদৌসি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যেমন উচিত না অভিযুক্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ করার আগেই তার পরিচয় প্রকাশ করা, তেমনি গণমাধ্যমেরও খেয়াল রাখা উচিত যাতে তারা কাউকে বিচারের আগেই দোষী না বানিয়ে দেয়।

ব্রিটেনে পুলিশ এ'ব্যাপারে বেশ সতর্ক। তারা সাধারণত কোন অভিযুক্তর নাম পরিচয় প্রকাশ করে না, ছবি তো দূরে থাক। ব্যতিক্রম যে নাই তা নয়। রাজনীতিক বা সেলেব্রিটিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুলিশ তদন্তর সময় পরিচয় প্রকাশ করে বলে তারা কেন এই তদন্ত করছে। তবে কী তথ্য প্রমাণ তারা পাচ্ছে, বা জেরার সময় অভিযুক্ত কী বললেন, এসব কোন সময় প্রকাশ করা হয় না। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ বলেই ধরে নেয়া হয়।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

পুলিশের নিজস্ব বক্তব্য থাকলেও সেই আটককৃতদের কোন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয় না।
ছবির ক্যাপশান, পুলিশের নিজস্ব বক্তব্য থাকলেও সেই আটককৃতদের কোন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয় না।

মিডিয়া ট্রায়াল কেন?

এ বিষয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল: 

''বিচারের আগেই মিডিয়া ট্রায়াল' শীর্ষক প্রতিবেদনটি পরিক্রমা অনুষ্ঠানে শুনছিলাম। এই মিডিয়া ট্রায়াল সংস্কৃতি বাংলাদেশে নতুন নয়, তবে এর আধিক্য দিন দিন বাড়ছে। আমি মনে করি এটি অনৈতিক, মানহানিকর এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন। দেশে মদ, গাঁজা দেদারসে বিক্রি হলেও শুধুমাত্র ঘরে রাখার দায়ে টেবিলে সাজিয়ে এবং তাদের নিজস্ব বক্তব্য দিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, এর চেয়ে বড় অপরাধী বাংলাদেশে নেই, আর এর চেয়ে বড় অপরাধ বাংলাদেশে ঘটে না।

''আমি বলছি না যে, এটা অপরাধ নয়, তবে যে কোন অপরাধীকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করার পরই কেবল এ ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল করা আইনসম্মত এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয়। অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হবার আগেই সামাজিকভাবে যে মানহানিকর অবস্থায় পড়ে তার দায়ভার নিবে কে?''

সেটাই হচ্ছে কথা মিঃ শামীম উদ্দিন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত নাও হতে পারে, কিন্তু ততক্ষণে জনমনে তাকে দোষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়ে গেছে। এখানে দায় ভার যেমন পুলিশের আছে, তেমনি যেসব মিডিয়া অভিযুক্তদের ছবি, পরিচয় প্রকাশ করে দেয়, তাদের ওপরও মানহানির দায় বর্তায়। বিবিসি মানহানি আর আদালত অবমাননার বিষয় খুবই গুরুত্বের সাথে নেয়, এবং এ'ধরনের খবর প্রচার করার আগে আমরা প্রায়ই বিবিসির নিজস্ব আইনজীবীদের পরামর্শ নিয়ে থাকি।

বিবিসি বাংলায় বিশ্বের খবর:

শিক্ষার্থীর আত্মহননের ঘটনায় স্কুলের সামনে সমাবেশ করে ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবকরা
ছবির ক্যাপশান, ভিকারুননিসা নুন স্কুল-এ ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীর আত্মহননের ঘটনার পর সমাবেশ করে ক্ষোভ জানায় অভিভাবকরা

ভিকারুননিসা নিয়ে কী হচ্ছে?

এবারে ঢাকার একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরে যে বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম: 

''সম্প্রতি রাজধানীর নামকরা ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং একজন অভিভাবকের ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাঁস হওয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। অধ্যক্ষের এহেন কর্মকাণ্ডে সচেতন মহল বিব্রত বৈকি। তাছাড়া বর্তমান সরকারের আমলের শুরু থেকেই শিক্ষাঙ্গনে ক্রমাগত দলীয়করণ, অনিয়ম, ভর্তি বাণিজ্য, দুর্নীতি ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান- মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য একেবারেই তলানিতে। প্রশ্ন হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব অপকর্ম বহাল তবিয়তে থাকলে তো জাতির জন্য ঘোর অমানিশা ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকবে কি?''

আপনার দুশ্চিন্তার কারণ বুঝতে কারো অসুবিধা হবে না মিঃ রহিম। একটি প্রবাদ তো আমরা ছোট কাল থেকেই জানি, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, আর সেজন্যই বলা হয়, আপনি যদি কোন জাতিকে ধ্বংস করতে চান, তাহলে প্রথমে তার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করুন।

ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজে নানা রকম ঘটনা গত কয়েক বছরে ঘটেছে। সব সময়ই কিন্তু বলা হয় এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা আছে, যার মূল কারণ হচ্ছে অতি মাত্রায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা রাজনৈতিক প্রভাব। তবে শুধু এই স্কুল না, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ খাত, যেমন বিচার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, গণ মাধ্যম ইত্যাদি থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আর দুর্নীতি দূর করা জরুরি।

আরো পড়ুন:

সঞ্চয়ী হিসাব সক্রিয় করতে কোন ধরণের ফি আদায় করা যাবে না।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, করোনা মহামারীর মাঝে ব্যাংক কর্মচারী থেকে নেই।

ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা কারা?

এবারে একটি গুরুতর অভিযোগ।

গত সপ্তাহে একজন ব্যাংকার, ঝিনাইদহর কাজী সাঈদের চিঠির জবাব আমি বলেছিলাম, "ব্যাংক এর কর্মকাণ্ডকে কি ফ্রন্ট লাইন বলা যায়? তাদের তো কোভিড রোগীদের সাথে কাজ করতে হয় না আর আপনি নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন, ব্যাংক কর্মীরা একটি নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে থেকে কাজ করেন।" আমার এই উত্তরে মর্মাহত হয়ে দীর্ঘ একটি চিঠি লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:

''একজন ব্যাংক কর্মী হিসাবে আমি বিবিসি বাংলার উত্তরে চরম হতাশ, বিস্মিত ও দ্বিমত পোষণ করছি। করোনা মহামারির মধ্যে ফ্রন্টলাইনার যোদ্ধা হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবদান কোন অংশেই কম নয়। একজন ব্যাংকার লেনদেনের সময় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। যেখানে ব্যাংক কর্মকর্তার সামনে গ্রাহকদের নিজেদের মধ্যে নিরাপদ দূরত্বে থাকার কথা, সেখানে কার আগে কে সার্ভিস নিবে, সেটা নিয়ে একজনের ঘাড়ের উপর দিয়ে আরেকজন চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন কিংবা জমা করার চেষ্টা করে।

''এতে করে একজন ব্যাংকার খুব সহজে ব্যাংকের ভিতরেই মরণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, করোনা মহামারি শুরুর পর গত মে পর্যন্ত দেশের ব্যাংকের ১৩৩জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেছেন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ৩৯৯ জন। এত সব কিছুর পরও কি এদের ফ্রন্টলাইনার যোদ্ধা বলা যাবে না?''

ব্যাংকিং

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ব্যাংক কর্মী: গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

আমি কিন্তু বলিনি যে ব্যাংকাররা ফ্রন্টলাইনার নন মিঃ হক। আমি পত্র-লেখকের প্রতি পাল্টা একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছি মাত্র। আর আপনি ব্যাংকে গ্রাহকদের আচরণের যে বর্ণনা দিলেন, তা থেকে আমার মনে হয় ব্যাংকে ব্যবস্থাপনায় অনেক ত্রুটি রয়েছে।

এই দুর্যোগের সময় দেশের অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন সচল রাখতে ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার মতে ফ্রন্টলাইন কর্মী হচ্ছেন তারা, যারা প্রতিদিন কোভিড রোগীদের সংস্পর্শে এসে কাজ করেন, রোগীদের সেবা দেন। যারা রোগীদের হাত ধরে ওষুধ খাইয়ে দেন, তাদের মুখে অক্সিজেনের মুখোশ লাগিয়ে দেন, তাদের বিছানার আশে-পাশে সব পরিষ্কার করে দেন।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ডা. জাহাঙ্গীর কবির
ছবির ক্যাপশান, জাহাঙ্গীর কবির।

জাহাঙ্গীর কবির বিতর্ক

ইউটিউবে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ে চিকিৎসা বা পরামর্শ দিয়ে বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন জাহাঙ্গীর কবির নামক একজন ডাক্তার। সম্প্রতি ডাক্তারদের একটি সংগঠন তার কিছু ভিডিও সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছে। সে বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''জাহাঙ্গীর কবিরের চিকিৎসায় যদি মানুষের উপকার হয়, তাহলে তাকে বাধা দেওয়া উচিত নয়। আর যদি প্রমাণ হয় চিকিৎসার নামে তিনি অচিকিৎসা করছেন, তাহলে তার সনদ বাতিল করা উচিত। প্রমাণ ছাড়া কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া অনুচিত বলেই আমি মনে করছি।

আমি দেখেছি, যারা ভারতে চিকিৎসা করাতে যান, তাদের বেশীরভাগ বাংলাদেশের চিকিৎসকদের দ্বারা ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন। ধরে নিলাম, জাহাঙ্গীর কবির কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা বা ভুল পরামর্শ দিয়েছেন। তাহলে যারা ভুল পরামর্শ দিয়ে মাঝে মাঝে রোগী ও তার পরিবারকে সর্বস্বান্ত করেন, তাদের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?''

জাহাঙ্গীর কবির-এর চিকিৎসা পদ্ধতি বা যেভাবে তিনি পরামর্শ দেন, তা নিয়ে ডাক্তারদের অনেক ক্ষোভ রয়েছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। অনেকে অভিযোগ করছেন মিঃ কবির করোনাভাইরাসের টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য বা ব্যাখ্যা দিয়ে টিকা নিতে মানুষকে নিরুৎসাহিত করছেন, যেটা অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি কাজ। তবে হ্যাঁ, তার কণ্ঠ রোধ না করে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ডাক্তারি করার লাইসেন্স প্রত্যাহার করা যেতে পারে।

আরো পড়ুন:

টি টোয়েন্টি সিরিজে দুই দলের অধিনায়ক

ছবির উৎস, Ratan Gomez

ছবির ক্যাপশান, টি টোয়েন্টি সিরিজে দুই দলের অধিনায়ক , মাহমুদুল্লাহ এবং ম্যাথু ওয়েড।

খেলা-ধুলা নিয়ে সচরাচর চিঠি আসে না, তবে আজ ক্রিকেট নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''অনেক শর্ত দিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট টিম। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দলের জয়ের পর অনেকে মজা করে এমনটাও বলছেন, এই শর্তটাই কেবল অস্ট্রেলিয়া দেয়নি যে, তাদের হারানো যাবে না। যাই হোক, এতো সব শর্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মেনে নেওয়ার পিছনে কি বিশেষ কোনো কারণ ছিল?''

ভেতরে কী দর কষাকষি হয়েছিল তা আমার জানা নেই মিঃ সরদার। তবে বিশেষ কারণ তো একটা হতেই পারে, আর তা হল অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলার জন্য বাংলাদেশে আনা। কোভিড মহামারির মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশে খেলতে রাজি করানোই তো একটা বড় কূটনৈতিক সাফল্য। আর অস্ট্রেলিয়া যদি অনেক শর্ত আরোপ করে থাকে, সেগুলো নিশ্চয়ই তাদের খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারা করেছে। সব দেশেরই তাই করা উচিত।

শিবগঞ্জ ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড়ের একটি ঘাটের ঘরে বজ্রপাতে
ছবির ক্যাপশান, শিবগঞ্জ ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড়ের একটি ঘাটের ঘরে বজ্রপাত হয়। (প্রতিকী ছবি)

বজ্রপাত - উত্তরে না পশ্চিমে?

গত মঙ্গলবারের সান্ধ্য অধিবেশনের একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে শফিকুল ইসলাম:

''বিশ্ব সংবাদে উপস্থাপক বজ্রপাতের খবরে, বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কথা বললেন। এখন আমার প্রশ্ন হলো,তাহলে বাংলাদেশের পশ্চিমের জেলা কোনটি? আমার জানা মতে পঞ্চগড় উত্তরের জেলা।''

পঞ্চগড় অবশ্যই উত্তরের জেলা মিঃ ইসলাম, কিন্তু আপনাদের গাইবান্ধাও তো উত্তরের। আপনি হয়তবা ভাবছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জকে পশ্চিমের জেলা বলা উচিত, যেহেতু মানচিত্রে দেখা যায় জেলাটি দেশের পশ্চিম সীমান্তে। কিন্তু আমরা জানি পদ্মার উত্তরে আর যমুনার পশ্চিমে যতগুলি জেলা আছে, তাদেরকে সম্মিলিতভাবে উত্তরবঙ্গ বলা হয়, যার মধ্যে চাঁপাই নবাবগঞ্জ অন্যতম। সেজন্য সম্ভবত আমার সহকর্মী উত্তরের জেলা বলেছেন।

সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান।

ওসামা বিন লাদেন-এর সাক্ষাৎকার

ইতিহাসের সাক্ষীর সাম্প্রতিক একটি পর্ব নিয়ে লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মোহসীন আলী:

''নব্বইয়ের দশকে যখন বিশ্ব রাজনীতি ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে শঙ্কিত তখন আমি অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলাম। যতটুকু মনে পড়ে ঐ সময় শুনেছিলাম কোন একজন লন্ডনের সাংবাদিক ওনার সাক্ষাতকার নিয়েছিল। আজ প্রায় ৩০ বছর পরে সাংবাদিক আতওয়ানের সাক্ষাৎকারটি শুনে বুঝতে পারলাম একজন সাংবাদিক জীবনের কতটা ঝুঁকি নিয়ে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন।

''আর ওসামা বিন লাদেনের মত একজন ধনকুবেরকে নিয়ে যখন খোদ আমেরিকার এফবিআইয়ের মত বাঘা বাঘা গোয়েন্দা সংস্থা হাবুডুবু খাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আজ আর বুঝতে বাকি রইলনা। সাংবাদিক আতওয়ান কি এখনও বেঁচে আছেন?''

হ্যাঁ মিঃ আলী, ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান বেঁচে আছেন। তিনি লন্ডনেই বসবাস করছেন এবং একজন মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে মিডিয়াতে কাজ করেন। এক সময় বিবিসি বাংলায়ও তার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে, যদিও ইদানিং তা কম হচ্ছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ফোন-ইন কী কাজ দেয়?

এবারে আমাদের রেডিও অনুষ্ঠানের অন্যান্য খুঁটি-নাটি নিয়ে দু'একটি প্রশ্ন। প্রথমে ফোন-ইন লিখেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ নূর হাসান: 

''বিবিসি বাংলা নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে শ্রোতাদের দেশ ও বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবনে সাহায্য করে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সাপ্তাহিক আয়োজনে ফোন-ইনে শ্রোতারা যে মতামত দেন, সেগুলো সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিংবা সমস্যা সমাধানে কি কোনো প্রভাব ফেলে? নাকি বিবিসি বাংলা শুধু শ্রোতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য এটি করে থাকে?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মিঃ হাসান। ফোন-ইন অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল শ্রোতাদের মতামত দেবার একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা। এর ফলে শ্রোতাদের সাথে বিবিসির যোগাযোগ তো অবশ্যই জোরদার হবে। সেখান থেকে আমরাও শ্রোতাদের বিভিন্ন মতামত জানতে পারবো।

কিন্তু এই ফোন-ইনে দেয়া মতামত সরকার গুরুত্বের সাথে নেয় কি না, বা তাদের নীতিমালা তৈরিতে শ্রোতাদের মতামত কোন ভূমিকা রাখে কি না, সেটা নিয়ে আমাদের কোন তথ্য নেই। শুধু এটুকুই বলা যায়, যে কোন গণতান্ত্রিক দেশে সরকার জনমতকে গুরুত্ব দেয়, এবং রেডিওতে ফোন-ইন জনমত যাচাই এর একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়।

পরের চিঠি লিখেছেন চুয়াডাঙ্গার উথলী বাজার থেকে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ:

''আমি আপনাদের বিবিসি বাংলার শ্রোতা। তবে এখন আর লেখা হয়ে ওঠেনা। আমি অনুষ্ঠান প্রচারের পরের দিন সকালে ওয়েব সাইটে শুনি। ইদানিং সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার রেডিওতে প্রচারিত অনুষ্ঠান শুনছি শর্টওয়েভে ৯৪১০ কিলোহাটর্জে, কিন্তু রেডিওতে অনুষ্ঠান শেষ হবার তিন মিনিট আগেই সম্প্রচার শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা বিবিসি এফএম সম্প্রচার এলাকার বাইরে। তবে এফএমে এমন সমস্যা নেই, আমি এফএম শ্রোতাদের কাছে এটা জানতে পেরেছি। বিষয়টি সমাধানে ব্যবস্থা নিলে সুখী হবো।''

শর্ট ওয়েভে প্রায়ই সমস্যা দেখা যায় মিঃ আব্দুল্লাহ। বিবিসির ইঞ্জিনিয়াররা সে বিষয়ে বেশ সজাগ, এবং সমস্যার রিপোর্ট পেলেই সেটা তারা তদন্ত করে দেখেন। আশা করছি ৯৪১০ কিলোহাটর্জের সমস্যা শীঘ্রই সমাধান করা যাবে।

বিবিসি বাংলা স্মরণে ...

সব শেষে, বিবিসি বাংলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''প্রীতিভাজনেসুতে শুনলাম, ৮০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিবিসি বাংলা একটি স্মরণিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে। শুনে একটু হতাশ হলাম যে এটাতে শুধু বিবিসির সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের লেখা স্থান পাবে। আমি মনে করি, এটাতে নবীন ও প্রবীণ শ্রোতাদের কিছু স্মৃতিচারণমূলক লেখা স্থান দিলে এটা আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য হবে। তাছাড়া, করোনা মহামারির কারণে শারীরিক উপস্থিতিতে শ্রোতা সম্মেলন করা কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। তাই একটি ভার্চুয়াল জুম শ্রোতা সম্মেলন আয়োজন করার প্রয়োজন অনুভব করছি।''

স্মরণিকাতে মূলত বিবিসির বর্তমান এবং প্রাক্তন সাংবাদিকদের লেখাই স্থান পাবে মিঃ রহমান। আমরা মনে করি বিবিসির জন্ম বার্ষিকীতে সেটাই উপযুক্ত, আর আমার মতে সেটাতে ম্যাগাজিনের গ্রহণযোগ্যতা কোন ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তবে হ্যাঁ, আমাদের অডিয়েন্সের নবীন-প্রবীণ কয়েকজন সদস্যর মন্তব্যর জন্য একটি জায়গা তো করাই যায়।

কোভিড মহামারির কারণে হয়তো এ'বছর কোন অডিয়েন্স সম্মেলন করা সম্ভব হবে না, কিন্তু তাতে কোন সমস্যা নেই, সম্মেলন না হয় আমরা আগামী বছর করবো। দু'হাজার কুড়ি সালের অলিম্পিক গেমস যদি ২০২১ সালে হতে পারে, আমাদের ৮০ তম বার্ষিকীর সম্মেলন এক বছর পরে করতে ক্ষতি কী?

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

রাসেল শিকদার, কেন্দুয়া, মাদারীপুর।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।

হরিদাস রায়, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বয়রা, খুলনা।

আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।

সম্পদ কুমার পোদ্দার (বলরাম), শেরপুর, বগুড়া।

জহিন মুমতাহিনাহ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা।

কাজী সাইদ, ঝিনাইদহ।

মোহাম্মদ কামাল হোসেন মিলন মুকছুদি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।