আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: নারী ও ধর্ম, বাংলাদেশি অ্যাপস আর ভারতীয় 'নজরদারি' নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৯ মিনিট
টোকিও তে এখন চলছে অলিম্পিক গেমস, যেটা গত বছর হবার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এক বছর দেরিতে শুরু হয়েছে।
কিন্তু খেলা-ধুলার বাইরে কিছু ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে অলিম্পিক কমিটি সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারছে না।
যেমন ধরুন, নরওয়ের নারী বিচ হ্যান্ডবল দলের সদস্যদের ছোট বিকিনি না পরায় জরিমানা করার ঘটনা। সেটাতে আসছি একটু পরে।
হিন্দু ধর্মীয় রীতি না পুরুষতন্ত্র?
ধর্মে নারীর প্রতি বৈষম্যের আরেকটি উদাহরণ সম্প্রতি দেখা গেল ভারতে, যেটা বেশ বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
ভারতীয় অভিনেত্রী এবং টিভি উপস্থাপিকা মন্দিরা বেদী তার স্বামী রাজ কৌশলের শেষ কৃত্য করায় সামাজিক মাধ্যমে হয়রানির শিকার যেমন হয়েছেন, তেমনি অনেকে তার প্রশংসাও করেছেন। সে বিষয়ে লিখেছেন মৌলভীবাজার থেকে রিপন রুদ্র পাল:
''পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের নানা ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
''শ্মশানে নারীদেরকে না যেতে দেয়া বা না যাওয়ার প্রবণতা কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থারই প্রতিফলন।
মন্দিরা বেদীর স্বামীর শেষ কৃত্যের কাজ উনি নিজেই সম্পন্ন করা আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।
একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের যে কেউ তাঁর সৎকারের কাজে অংশগ্রহণের অধিকার রাখেন,এতে তিনি নারী বা পুরুষ যে-ই হন না কেন। সবার উচিত একজন নারীকে নারী হিসেবে না দেখে একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা।''
আমি নিশ্চিত সমাজবিজ্ঞানীরা একমত হবেন মিঃ পাল, এসবই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থারই ফল।
এ'কথাও ঠিক যে, সব ধর্মেই দেখা যায় নারীদের সমান ভূমিকা দেয়া হয় না।
তবে পশ্চিমা বিশ্বে দেখা গেছে, তাদের প্রধান ধর্ম খ্রিস্ট ধর্ম পুরুষতান্ত্রিক হলেও, সমাজ কিন্তু এগিয়ে গেছে এবং নারী-পুরুষ সমতা অনেক ক্ষেত্রেই অর্জন করা হয়েছে।
ভারতে সেরকম অগ্রগতি এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
কিছু সম্পর্কিত প্রতিবেদন:
এবারে অলিম্পিক গেমসে নরওয়ে নারী দলের সাথে আচরণ নিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েবসাইটে "মেয়েদের খেলার পোশাক নিয়ে লিঙ্গবৈষম্যবাদী খবরদারি কেন থামছে না" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়ছিলাম, যার মূলকথা ছিল, ২০২১ সালে এসেও কেন নির্ধারণ করে দেয়া হবে মেয়ে খেলোয়াড়রা কী পরবে আর কী পরবে না?
''মেয়েদের পোশাক নির্ধারণ করে দেয়া কিংবা কোন বিশেষ পোশাক পরতে বাধ্য করাই হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।
''শুধু খেলা নয়, পরিবারের সদস্যরাও মেয়েদের পোশাক পরা নিয়ে হত্যা পর্যন্ত করছে। এই যে ভারতীয় তরুণী নেহা, জিন্স পরার কারণে নিজ পরিবারের সদস্যদের দ্বারা হত্যার শিকার হলেন।
''এমন অনেক পরিবার আছে, মেয়েদের পোশাক পরা, বাইরে ঘুরতে যাওয়া, পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া বিভিন্ন বিষয়ে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনাকে আপনি কি বলবেন?
''নারী বিষয়টি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয় হয়ে যুগ যুগ ধরে লিঙ্গবৈষম্যবাদে পরিণত হয়েছে।''
নরওয়ের নারী দল নিয়ম অনুযায়ী ছোট বিকিনি না পরে পুরুষদের মত কিছুটা লম্বা শর্টস পরে মাঠে নামেন, কারণ তারা ঐ ছোট বিকিনিকে নারীর প্রতি অসম্মানজনক পোশাক হিসেবে গণ্য করেছেন।
কিন্তু অলিম্পিক কমিটি পুরনো ধ্যান-ধারণা থেকে বের না হয়ে তাদের জরিমানা করে।
এই প্রেক্ষিতে আপনার কথা ঠিক মিঃ শামীম উদ্দিন, যে নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টির পেছনে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তবে সেই দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি এবং জোরদার করতে ধর্ম এবং পারিবারিক ঐতিহ্যর যে প্রচুর অবদান রয়েছে, সেটাও অনস্বীকার্য।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
গৃহকর্মীদের রক্ষা করবে কে?
সম্প্রতি শ্রীলংকায় একজন রাজনীতিকের বাসায় ১৬-বছর বয়স্ক গৃহ পরিচারিকার মৃত্যুর পর দেশের সরকার গৃহ কর্মীদের নিবন্ধন করার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশেও সেরকম কিছু দরকার বলে লিখছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:
''শুধু শ্রীলংকায় নয়, আমাদের দেশের গৃহকর্মীরাও বাসাবাড়িতে কাজের নামে নানাভাবে নিগৃহীত ও লাঞ্ছিত হয়। সমাজের একশ্রেণির মুখোশধারীরা
''এ ধরনের অপরাধ দিনের পর দিন করে যাচ্ছে। এ ধরনের নিগ্রহের ঘটনা প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে ফাঁস হয় কিন্তু অপরাধীদের শাস্তি পাওয়ার খবর খুব কমই শোনা যায়।
''এটা আমাদের দেশেও করা উচিৎ, তাহলে সমাজের মুখোশধারীরা এ ধরনের অপরাধ করার সুযোগ কম পাবে।''
আপনার কথার সাথে অনেকে একমত হবে মিস ফেরদৌসি।
বাংলাদেশে গৃহকর্মীদের ওপর অত্যাচারের কথা বহুবার গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অনেক মানবাধিকার সংস্থা তাদের জন্য কাজ করেছে।
কিন্তু তারপরও মনে হয় কর্মস্থল বা সমাজে তাদের প্রাপ্য সম্মান থেকে তারা এখনো বঞ্চিত।
শ্রীলংকার মত নিবন্ধন করলে কী হবে আমি জানি না, তবে সেটা তাদের অধিকার আদায়ের রাস্তা হয়তো একটু সহজ করবে।
কোভিড টিকা আগে কার প্রাপ্য?
এবারে আসি করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে।
টিকাদান কর্মসূচির সাথে একটি প্রশ্ন শোনা যায়, আর তা হল, কারা এই টিকা পাবেন? কিসের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি হবে ইত্যাদি। সে বিষয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, 'করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও শিক্ষকদের ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।'
''আমার প্রশ্ন হল, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি থাকা স্বত্বেও শিক্ষকগণ যদি ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে গণ্য হতে পারেন, তাহলে 'সবচেয়ে কঠোর লক ডাউন'-এ, যেখানে সব কিছু বন্ধ রেখে শুধু ব্যাংক খোলা রাখা হচ্ছে, সেখানে ব্যাংকাররা কেন ফ্রন্ট লাইনার হবেন না?
''উল্লেখ্য আমার স্ত্রী একজন শিক্ষক আর আমি একজন ব্যাংকার। সুতরাং বিষয়টিকে আবার পারিবারিক কলহে রূপ দিবেন না আশা করছি।''
কে টিকা আগে পাবে আর কে পরে পাবে, এই দ্বন্দ্ব থেকে পারিবারিক কলহ তো একেবারে অবধারিত মিঃ সাঈদ। কিন্তু এই কলহে আপনার জয়ী হবার কোন সম্ভাবনা আমি দেখছি না।
সবাই একমত, যে ফ্রন্ট লাইন কর্মীদের টিকা সবচেয়ে আগে দেয়া উচিত, কিন্তু প্রশ্ন হল কারা ফ্রন্ট লাইন কর্মী? আমার তো মনে হয়, নার্স-ডাক্তার সহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী তো বটেই, পুলিশ আর সেনাবাহিনীও ফ্রন্ট লাইন কর্মী।
কারণ, তারা কাজের সূত্রে কোভিড রোগীদের সংস্পর্শে আসেন, বা যারা কোভিড রোগী তাদের দেখা-শোনা করেন, সেবা দেন।
শিক্ষকরা সেভাবে ফ্রন্ট লাইনার না, তবে তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে।
ব্যাংক এর কর্মকাণ্ডকে কি ফ্রন্ট লাইন বলা যায়? তাদের তো কোভিড রোগীদের সাথে কাজ করতে হয় না আর আপনি নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন, ব্যাংক কর্মীরা একটি নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে থেকে কাজ করেন।
পেগাসাস কি বাংলাদেশে নজরদারি করছে?
বিশ্বব্যাপী এখন আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে ইসরায়েলে তৈরি স্পাইওয়্যার পেগাসাস। সে বিষয়ে প্রশ্ন করে লিখেছেন কক্সবাজার থেকে ইফতেখার:
''ভারতে পেগাসাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে জনগণের গোপনীয়তার অধিকার যেভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বা হচ্ছে তার নিন্দা জানাই। মূলত এটা সে দেশের সরকারের কর্তৃত্ববাদী চেহারারই বহিঃপ্রকাশ।
''আমার প্রশ্ন হচ্ছে পেগাসাস সফটওয়্যার দিয়ে যে কোন দেশের মোবাইল ফোনকেই হ্যাক করা যায় কি?
''অর্থাৎ ভারত যে সফটওয়্যার কিনেছে তা দিয়ে কি ইচ্ছে করলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান ইত্যাদির ফোন নজরদারি করতে পারবে?''
এই সফটওয়্যারের কার্যকারিতা দেখে তো সেরকমই মনে হচ্ছে মিঃ ইফতেখার।
মরক্কো থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন নম্বরে নজরদারি করা হত বলে অভিযোগ আছে। পাকিস্তান অভিযোগ করছে, ইমরান খানসহ কয়েকজনের ফোন ভারত থেকে নজরদারি করা হচ্ছিল।
তবে এখন পর্যন্ত যত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের কোন ফোন নাম্বার নেই বলেই মনে হচ্ছে।
ইন্টারনেটে নজরদারি বা আড়ি পাতা নিয়ে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রীর সাথে বিবিসির সাক্ষাৎকার:
পেগাসাস সম্পর্কে আরো পড়ুন:
সরকারি অ্যাপ দিয়ে কি সামাজিক মাধ্যম চলবে?
পরের চিঠিও প্রযুক্তি নিয়ে তবে স্পাইওয়্যার নিয়ে না। ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ লিখেছেন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্ম তৈরি করতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ নিয়ে:
''বর্তমানে বিদেশী যে সকল অ্যাপস বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রয়েছে, তার বিপরীতে সরকার নিজেরা নতুন করে আমাদের দেশীয় ধাঁচে অ্যাপস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তৈরি করতে সচেষ্ট হয়েছে।
''যেমন, 'ফেসবুক' এর বদলে 'যোগাযোগ', 'ওয়াটসঅ্যাপ' এর বিকল্প হিসেবে 'আলাপন', 'জুম' এর বিপরীতে 'বৈঠক'।
''এই অ্যাপস গুলো তখনই কার্যকর হবে যখন সরকার তার সরকারি দপ্তর থেকে তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এর আগে 'পিপীলিকা' নামে একটি সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে কিছুদিন মানুষের মধ্যে হই - চই দেখা দিলেও পরে তার কার্যকারিতা দেখা যায়নি৷
এ ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে।
''এই অ্যাপস গুলো ডাউনলোড করার জন্য যদি সাময়িক সময়ের জন্য কিছু সুবিধা দিয়ে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তবেই শুধু অ্যাপস গুলো কার্যকারী হবে। অন্যথায় মানুষ বিদেশী অ্যাপস ব্যবহারের দিকেই নজর দিবে৷''
আমাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, আলাপন চালু করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য মিঃ বিল্লাহ।
তবে যাই হোক, ফেসবুক, ওয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির সাথে প্রতিযোগিতা করে যদি স্থানীয়ভাবে তৈরি আ্যপগুলো সফল হয়, তাহলে তো সরকারকে অভিনন্দন জানাতেই হবে।
কিন্তু আপনার কি মনে হয়, মানুষ সরকারি উদ্যোগে তৈরি অ্যাপস ব্যবহার করতে আগ্রহী হবে? মানুষ কি আস্থা পাবে সরকারের তৈরি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে?
পাবলিক যদি ফেসবুক বা ওয়াটসআ্যপ ব্যবহার করে সন্তুষ্ট হয়, তাহলে তারা কেন তার বিকল্প ব্যবহার করবে? বিকল্প তখনই প্রয়োজন হয় যখন আসল জিনিস দুর্লভ হয়ে যায়।
চীনে যেমন ফেসবুক, ইউ টিউব, গুগল ইত্যাদি নিষিদ্ধ, তাই তারা নিজেদের তৈরি ওয়েবো, বাইদু, উইচ্যাট ইত্যাদি অ্যাপ ব্যবহার করে।
কিন্তু চীন তো গণতান্ত্রিক দেশ না, সেখানে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা আছে বলেই সামাজিক যোগাযোগ, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই সে পথে হাঁটতে চাইবে না?
লকডাউনের কোনো বিকল্প আছে কি?
আবার ফিরছি করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে। লকডাউন নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''লকডাউনের মধ্যে শিল্প-কারখানা খোলা রাখার যে অনুরোধ জানিয়েছিল শিল্প-কারখানার মালিকরা, সরকার সে অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তটি বেশ যৌক্তিক বলেই মনে হচ্ছে।
''কারণ করোনা আমাদের উভয় সংকটে ফেলে দিয়েছে। একদিকে জীবন অন্য দিকে জীবিকা।
''কিন্তু করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যু হারের যে ঊর্ধ্ব গতি ঠিক এই পরিস্থিতিতে লকডাউন তুলে দেওয়া বা লকডাউনের মধ্যে শিল্প-কারখানা খোলা রাখা কি আদৌ ঠিক হবে?
''লকডাউন নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে একথা ঠিক কিন্তু এই মুহূর্তে লকডাউনের কোনো বিকল্প আর আছে কি?''
কোন দেশের সরকার চায় না লকডাউন দিয়ে অর্থনীতির চাকা বন্ধ করে দিতে মিঃ সরদার।
কিন্তু যেসব দেশেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে, সে দেশেই দীর্ঘ সময় লকডাউন দেয়া হয়েছে।
তার মানে, বিকল্প ছিল না বলেই লকডাউন দেয়া হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশে মনে হয় সরকার বেশ দোদুল্যমান! দু'সপ্তাহ লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হলেও, শিল্পপতিদের কাছ থেকে চাপ আসার পরই আবার শিথিল হওয়া শুরু হল।
শিশুদের সাঁতার শেখানো হয় না কেন?
পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন পড়ে জানলাম বাংলাদেশে গত ১৯ মাসে পানিতে ডুবে দেড় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের অধিকাংশ শিশু।
''আমার জানা মতে, আমাদের দেশে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে শিশুদের সাঁতার শেখানো হয় না।
''আমি মনে করি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, হাওর,বাওর এলাকায় যে সকল শিশুদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে তাদের সাঁতার শেখানোর বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
''তাহলে হয়তোবা আমাদের দেশে অনেক শিশু পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।''
একদম ঠিক কথা বলেছেন মিঃ বিল্লাল। ভাবতে অবাক লাগে, বাংলাদেশের মত নদ-নদীতে ভরা দেশে কেন শিশুরা, বিশেষ করে গ্রামের শিশুরা, সাঁতার জানে না?
এ'ধরনের খবর বা পরিসংখ্যান নতুন কিছু না, কয়েক বছর পর পরই এ'কথা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু তারপরও শিশুদের সাঁতার শেখানোর কোন উদ্যোগ দেখা যায় না।
ব্যাপারটা আসলেই বিস্ময়কর।
বিবিসি বাংলায় ভুল তথ্য কেন?
আমাদের প্রকাশিত একটি খবরের লিঙ্ক দিয়ে সেখানে একটি তথ্য ভুল বলে লিখেছেন গোলাম মুকতাদির:
''বাংলাদেশে ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে,যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ মুকতাদির। এখানে আমাদের বড় একটি ভুল হয়ে গেছে।
বাংলাদেশে ২০২০ সালের মার্চ মাসে স্কুল-কলেজ বন্ধ হবার পর কোন পরীক্ষা নেয়া হয়নি, সে কথা সঠিক। ফলে, এইচ এস সি পরীক্ষা নেয়া হয় নি, সে কথাও ভুল না।
কিন্তু এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি মাসে, অর্থাৎ করোনাভাইরাস সঙ্কটের আগে নেয়া হয়েছিল। আমাদের ভুলটা সেখানেই।
এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত এবং লজ্জিত।
পত্র লেখককে অবহেলা করা হচ্ছে কেন?
পরের প্রশ্ন করেছেন ভোলার চর ফ্যাশন থেকে সালমা আক্তার:
''আমি অনেক কষ্ট করে অনলাইনে বিবিসির অনুষ্ঠানগুলো শুনি এবং অনেক আশা নিয়ে আপনাদের কাছে পত্র লিখি। বা ইমেইল করি।
''আপনারা ই-মেইল কতক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করেন বা কোন দিন কয়টার মধ্যে পাঠালে আপনারা পড়বেন, সেটার একটা সময়সীমা জানিয়ে দিলে আমাদের জন্য খুবই সুবিধা হয়।
''গতবার আমার মেইল পড়া হয়নি এমনকি প্রাপ্তি স্বীকারও করা হয়নি। এতে আমি খুবই মর্মাহত। আশা করি এবারের ইমেইল পড়া হবে।''
আপনি মর্মাহত হয়েছেন জেনে আমি দুঃখিত মিস আক্তার।
প্রীতিভাজনেসু আমি আমার মূল কাজের ফাঁকে করে থাকি, নিজেকে কোন নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেই না। সোমবার থেকেই ইমেইল চেক করতে শুরু করি, কিছু চিঠি এডিট করা এবং উত্তর দেবার কাজও শুরু করে ফেলি।
বুধবার আপনাদের সময় রাত আটটা-নটার মধ্যেই আমার স্ক্রিপ্ট লেখা শেষ হয়ে যায়। সুতরাং, বুধবার রাতের মধ্যে মেইল না আসলে সেটা অনুষ্ঠানে নেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহার সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহার সাক্ষাৎকার ভাল লেগেছে জানিয়ে লিখেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে মোহাম্মদ কামাল হোসেন মিলন মুকছুদি:
''গত ২৭শে জুলাই এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে সেঁজুতি সাহার সাক্ষাৎকারটি আমার খুবই ভালো লেগেছে।
''একজন নারী বিজ্ঞানী উচ্চতর শিক্ষাই শুধু পান নাই, উচ্চতর মন-মানসিকতাও পেয়েছেন।
''বিশেষ করে তার মন্তব্য, "তাকে সবাই ভুলে যাবেন, যখন সে এমন ধরনের ট্রেনিং দিবেন যে তাকে আর কেউ মনে রাখার দরকার হবে না," সেটা আমার খুবই ভালো লেগেছে।
''এই ধরনের কথা এর পূর্বে আমি কখনই শুনিনি।
''বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহাকে আমার পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ, তিনি যেন অনেক কিছু আবিষ্কার করে বাংলাদেশকে ধন্য করতে পারেন।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ মুকছুদি, আমাদের অনুষ্ঠান শোনার জন্য। সেঁজুতি সাহাকে আপনার অভিনন্দন অবশ্যই পৌঁছে দেব।
ফোন-ইন এ কি পুরুষ বৈষম্য হচ্ছে?
সব শেষে, আমাদের অনুষ্ঠানে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে শফিকুল ইসলাম:
''বিবিসি বাংলায় সপ্তাহে যে দু'টি ফোন-ইন অনুষ্ঠান হয়, তাতে অংশগ্রহণকারীদের সিংহ ভাগই থাকেন নারী। কিন্তু চিঠি-পত্রের অনুষ্ঠান প্রীতিভাজনেসুতে পুরুষদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি।
''নারীদের তেমনটা অংশ গ্রহণ নাই বললেই চলে।
''নারীরা কি শুধু মাত্র ফোন-ইনে অংশগ্রহণ করতে স্বাছন্দ্যবোধ করেন?
''নাকি বিবিসি বাংলাই নারীদের সমান অধিকারের দিক দিয়ে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন?''
বিবিসির সকল বিভাগের সামনে একটি লক্ষ্যমাত্রা আছে মিঃ ইসলাম, আর তা হল, অনুষ্ঠানে যত জনের কণ্ঠ থাকবে তার ৫০ শতাংশ যেন নারী হয়। এই টার্গেট সব বিভাগের জন্য, শুধু বাংলা নয়।
ফোন-ইনে যেহেতু অংশগ্রহণকারীর কণ্ঠ প্রচার করা হয়, তাই আমরা সক্রিয়ভাবে নারী-পুরুষ উভয়েরই মতামত সংগ্রহ করি। কিন্তু প্রীতিভাজনেসুতে সক্রিয় ভাবে কিছু করি না, যারা লিখতে আগ্রহী তাদের চিঠির জবাব দেয়া হয়।
তবে যখন কোন শ্রোতার নিজ কণ্ঠে অংশগ্রহণের কথা আসে, তখন আমরা নারী শ্রোতাকেই প্রাধান্য দেই, যেহেতু অধিকাংশ পত্রলেখক পুরুষ।