আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: ইভ্যালির ভবিষ্যৎ, পেগাসাস হ্যাকিং আর লকডাউনের হাল নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৯ মিনিট
চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বত্র মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল আযহা পালন করা হচ্ছে। সে কারণে হয়তো চিঠির সংখ্যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম।
কিন্তু তারপরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা ঘটছে, তাই অন্যান্য সময়ের মত এবার প্রীতিভাজনেষু বাদ না দিয়ে, বিভিন্ন বিষয় মিশিয়ে অনুষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে।
তবে গত সপ্তাহে যে খবর সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তা হল, পেগাসাস নামক স্পাইওয়্যার দিয়ে মোবাইল ফোন হ্যাকিং এবং বেআইনি নজরদারী। সে বিষয় দিয়ে শুরু করছি, লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:
''ইসরায়েলের তৈরি গোপন নজরদারীর স্পাইওয়্যার পেগাসাস নিয়ে বিশ্ব জুড়ে চলছে হৈচৈ ও জোর আলোচনা সমালোচনা। মোবাইল ফোনে কীভাবে কাজ করে এই স্পাইওয়্যার, তা নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদন দেখলাম।
''তাছাড়া, এই স্পাইওয়্যার দিয়ে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, অধিকার কর্মী এবং আরো অনেকের ওপর গোপন নজরদারী করা সম্ভব বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যা খুবই ভয়ংকর তথ্য। গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি লোকদের ক্ষেত্রেই যদি এমন নজরদারী হতে পারে, তবে সাধারণ মানুষ তো হিসাবের বাইরে।
''আমার প্রশ্ন এ নজরদারীর সাথে কে জড়িত, কোন রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী তা আপনাদের প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট নয়। বিষয়টি ব্যাখ্যা করার অনুরোধ করছি।''
আমি আপনার সাথে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করবো মি. রহমান, কারণ আমাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই স্পাইওয়্যার বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা মূলত সেসব দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, সামরিক বাহিনী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রতিবেদনে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভারত সহ ১১টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তবে আরো দেশের নাম আগামী দিনগুলোতে প্রকাশ করা হবে বলে আমাদের ধারণা।
পেগাসাস সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য বিশ্বের ১৭টি গণমাধ্যমের হাতে আছে এবং তারা সব কিছু তদন্ত করে পর্যায়ক্রমে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। আমরা তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আমাদের প্রতিবেদন তৈরি করছি, কারণ মূল নথি-পত্র বিবিসির হাতে নেই।
পেগাসাস সম্পর্কে অন্যান্য খবর:
ইভ্যালি নিয়ে দুশ্চিন্তা
বিগত সাত দিনে বাংলাদেশে হয়তো তার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে অনলাইন শপিং পোর্টাল ই-ভ্যালি। সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ:
"ইভ্যালি" বাংলাদেশের একটি বড় অনলাইন শপিং মাধ্যম। তবে এই ই - শপিং এর কোন প্রকার নীতিমালা আছে কিনা সেটা এখন একটি বিরাট প্রশ্ন।
''টাকা ইনভেস্ট করিয়ে চার থেকে পাঁচ মাস পর পণ্য ডেলিভারি দেয়া বা কোন কোন ক্ষেত্রে না দেয়া, এরকম কথা আমি কোন অনলাইন শপিং মাধ্যমের ক্ষেত্রে কোন দিনও শুনিনি। এরা কম দামে পণ্য ডেলিভারি দেয়ার নাম করে জনগণকে লোভে ফেলে একটা বড় মাপের টাকা এখন ঋণে পরিণত করেছে৷
''সরকারের দরকার ছিল এদের ঋণের পরিমাণ আরও কম থাকতেই লাগাম ধরা। তা হলে নিরীহ মানুষ গুলো আজ বেকায়দায় পড়তো না।''
ইভ্যালির ক্ষেত্রে কী সমস্যা হয়েছে তা আমি পুরোপুরি জানি না, মি. বিল্লাহ। এমনও হতে পারে যে, তারা কখনো ভাবে নি এত বেশি মানুষ তাদের স্বল্প দামের অফার গুলো লুফে নেবে।
সাধারণত উন্নত বিশ্বে সব সময়ই পণ্যের দাম আগে দিতে হয়, সরবরাহ পরে, কিন্তু অনলাইন শপিং এ ফ্রিজ বা টেলিভিশনের মত বড় আইটেম হয়তো পাঁচ-সাত দিন লাগতে পারে, যদি সেগুলো তাদের স্টকে থাকে।
কিন্তু ইভ্যালির ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে তাদের স্টক বলতে কিছু নেই, তারা পুরো মূল্য নিয়ে তারপর সামগ্রী সংগ্রহ করছে, যেটা খুবই ঝুঁকি পূর্ণ।
যাই হোক, কোন ব্যবসা লাটে উঠুক সেটা কেউ চাইবে না, বিশেষ করে যেখানে হাজার হাজার মানুষের টাকা এবং জীবিকা জড়িত আছে।
ই-কমার্স সম্পর্কিত খবর:
লকডাউন তুলে নেয়া কি ঠিক ছিল?
ফোন হ্যাকিং, ই-কমার্স, এসব নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ তো আছেই, কিন্তু করোনাভাইরাস নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''ঈদের আগে এভাবে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে কি নীতিনির্ধারকেরা ঠিক করেছেন? লকডাউন নেই বুঝলাম, তাই বলে কি স্বাস্থ্যবিধির বালাই থাকবেনা? মানুষের সচেতনতা কি উবে গেল এক নিমিষেই?
''সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হল, যে মানুষগুলো ঢাকা ছাড়ছে তারা হয় ভাইরাস বহন করে গ্রামে যাচ্ছে অথবা গ্রাম থেকে বহন করে শহরে আসবে।
''তাছাড়া যেহেতু তাদেরকে সীমিত সময়ের মধ্যে ফিরতে হবে, সহজেই বোঝা যায় কি ঘটতে যাচ্ছে সামনে। আমার বোধগম্য নয়, করোনা ভাইরাস নিয়ে আমি কি খুব বেশি চিন্তা করছি, নাকি অন্যরা খুব কম চিন্তা করছে?''
আমার মনে হয় চিন্তা কম-বেশি সবাই করছে মি. সাঈদ, কিন্তু সমস্যা হল, খুব কম লোকই তাদের চিন্তা অনুযায়ী কাজ করেন।
কেন জানি মনে হয়, সবাই দায়িত্বটি অন্যের ঘাড়ে চাপাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। অন্যকে, বিশেষ করে সরকারকে যদি দায়ী করতে পারেন, তাহলে নিজেকে দায়মুক্ত করে ফেললেন।
এই সময়ে লকডাউন তুলে দেয়া যে কত ঝুঁকিপূর্ণ, সেটা সবাই বোঝেন। কিন্তু সরকার এটাও জানে যে ঈদের আগে লকডাউন বহাল রাখা সম্ভব না, কারণ মানুষ সেটা উপেক্ষা করবেই। তাহলে আপনি যাবেন কোথায়?
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন খোলা হচ্ছে না?
করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আলোচনা-সমালোচনা চলছে, আর তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শিক্ষা খাতের অবস্থা। সে বিষয়ে লিখেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে মোহাম্মদ ফরহাদ রাজু:
''বাংলাদেশে গত বছর মার্চ মাসের ১৬ তারিখে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিন্তু বিবিসি বাংলার কোনো সাংবাদিকের চোখে পড়ল না, যে হাজার হাজার নূরানি মাদ্রাসা খোলা। সেখানে কি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নেই?
''আমার জানা মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ছোট ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাহলে, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চালু রাখা যেত।
''আচ্ছা মানলাম, সরকার শিক্ষার্থীদের মঙ্গল চায়। তাহলে এসাইনমেন্টের নামে শিক্ষার্থীদের জড় করার মানে কী? আমাদের অটো পাস দিয়ে জীবন ধ্বংস করার দরকার কী? আরো দুই বছর পড়াশোনা বন্ধ রাখুক। আমরা বুড়ো দাদা হয়ে যাই।''
আমি জানি না, আপনি কোন শ্রেণীর শিক্ষার্থী মি. ফরহাদ, তবে আপনার ক্ষোভ-হতাশার যথেষ্ট কারণ যে আছে তা সবাই মানবেন।
তবে নূরানি মাদ্রাসা কি খোলা আছে? মাস কয়েক আগেই আমরা নূরানি মাদ্রাসা রোজার মধ্যেই খুলে দেবার দাবী নিয়ে প্রতিবেদন করেছি। অর্থাৎ সেগুলো বন্ধই ছিল, না হলে খোলার দাবী উঠবে কেন?
যাই হোক, স্কুল-কলেজ খোলা নিয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনা আমার কাছে স্বচ্ছ নয়, তবে আমার সব সময় মনে হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারবে, সেই ভরসা সরকার সরকার পাচ্ছে না, যে কারণে এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব।
কিশোর-কিশোরীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তারা হয়তো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়বে না, কিন্তু বাড়ি গিয়ে তারা বাবা-মা, আরো বয়স্ক আত্মীয়-স্বজনের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে যা হবে আরো ভয়ানক।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
পান্তা ভাত-এর পুষ্টিগুণ
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন প্রতিযোগিতা মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশী শেফ কিশোয়ার চৌধুরী পান্তা ভাতের একটি রান্না তৈরি করে বেশ সাড়া ফেলেছেন। এর ফলে অনেকে এখন পান্তা ভাত নিয়েই জল্পনা-কল্পনা শুরু করেছেন।
বিবিসি বাংলায় পান্তা ভাত নিয়ে একটি প্রতিবেদন পড়ে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''বাংলাদেশ, ভারত , চীনের কিছু প্রদেশের মানুষের প্রধান খাবার ভাত। আমার জানা মতে বাংলাদেশীরা সবচেয়ে বেশি ভাত খায়।
''বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন পড়ে জানতে পারলাম, ভারতের আসাম প্রদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.মধুমিতা বরুয়া ও তার সঙ্গী একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে দেখেছেন, পান্তা ভাতে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ।
''আমি বিবিসি বাংলাকে এবং ভাত নিয়ে গবেষণা করা সকল বিজ্ঞানীকে ধন্যবাদ জানাই। এই ধরনের গবেষণা অব্যাহত থাকলে আমরা অনেক খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পারবো।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. বিল্লাল, দৈনন্দিন খাবারের পুষ্টি সম্পর্কে জানা থাকলে সবাই তাদের খাবারের মান উন্নত করতে পারবে। তবে শুধু গবেষণা করলেই চলবে না।
যারা খাবার প্রস্তুত এবং বাজারজাত করেন, তাদেরও উচিত খাবারে যেসব পরিপোষক পদার্থ আছে, সেগুলো কী এবং কী পরিমাণে আছে, তার একটি তালিকা প্যাকেটে ছাপিয়ে দেয়া।
ক্রেতা তখন কোন কিছু কেনার আগে জেনে নিতে পারে ঐ খাবারের পুষ্টিগুণ কতটুকু।
অনেক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় এ'কাজ করবেন না, সেজন্য সরকারকে আইন করে এই পুষ্টি তালিকা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
ঈদের সময় মহাসড়কে দুর্ঘটনা নতুন কিছু না। কিন্তু তারপরও কেন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না? প্রশ্ন করে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব:
''প্রতিবছর ঈদের সময়ে দেশের সড়কগুলোতে পরিবহনের চাপ বেড়ে যায় এবং সড়কে থাকে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
''এই সময়ে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনার হার বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। সরকার সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করলেও কোনভাবে সেটা কমানো যাচ্ছেনা ।
''সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কোন বিষয়টিকে দায়ী করা যেতে পারে এবং দুর্ঘটনার হার কমানোর জন্য কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?''
এবার পরিস্থিতি হয়তো কিছুটা ভিন্ন হবে মি. হাকিম, যেহেতু ২৩ তারিখ থেকে আবার গণপরিবহন চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
তবে প্রতিবার যেটা দেখা যায়, মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মধ্যে প্রতিযোগিতা, তার সাথে অদক্ষ ড্রাইভারের হাতে প্রাইভেট গাড়ি, সব মিলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েই থাকে।
এর সাথে আছে হাইওয়ে গুলোর নকশা, যাকে অনেক প্রকৌশলী ঝুঁকিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন।
সরকার অনেকবার বলেছে, তারা হাইওয়ের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সংস্কার করবে, কিন্তু কাজগুলো আদৌ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
আম উপহার দেয়া কি 'খবর'?
এবারে একটি অভিযোগ। ভারতীয় নেতাদের উপহার হিসেবে আম পাঠানোর খবর বিবিসিতে না শুনে হতাশ হয়েছেন মোহাম্মদ মোহসীন আলী, যিনি রংপুরের লালবাগের বাসিন্দা:
''গত জুন মাসের শেষদিকে যখন বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব সেনের কাছে উপহার হিসেবে রংপুরের বিখ্যাত "হাড়িভাঙ্গা" আম পাঠালো, তখন ভাবলাম, বিবিসি থেকে এবার হাড়িভাঙ্গা আমের নাম শোনা যাবে।
''কিন্তু শোনা গেলনা।
''সপ্তাহ খানেক পরে ওনারা যখন প্রধান মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরতি পত্র পাঠালো, তখন মনে হল যাক এবার নিশ্চয়ই অমিতাভ ভট্টশালী রিপোর্ট করবেন আর আমরা শুনবো।
''তাও হলো না।
''অথচ সংবাদটি দেশের সব ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া নিউজ করল,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলল।
''অপেক্ষা করতে করতে আমের মৌসুম প্রায় শেষ। আশাটুকু থেকেই গেল।
''এখন কথা হল মৌসুমি ফলের পুষ্টিগুণ, অর্থনৈতিক ভূমিকা, উপকারিতা" বাজারজাতকরণ ও ইতিহাস নিয়ে কোন প্রতিবেদন করার সুযোগ কি বিবিসি বাংলায় নাই?''
সুযোগ অবশ্যই আছে মি. আলী, আর সেরকম প্রতিবেদন বিবিসি বাংলায় করা হয়েও থাকে। কিছু দিন আগেও বাংলাদেশী আমের নামের বাহার নিয়ে অনুষ্ঠান করা হল, তার আগে আম কীভাবে চেনা যায়, তা নিয়ে ভিডিও রিপোর্ট করা হয়েছে।
তাছাড়া আমের বাজার এবং ব্যবসার নানা গল্প নিয়ে আমরা নিয়মিত প্রতিবেদন করছি।
তবে হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কয়েকজন নেতার জন্য আম পাঠিয়েছেন বা তারা সেই উপহারের জন্য ধন্যবাদ দিয়ে চিঠি লিখেছেন, এগুলো রেডিওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর মনে হয়নি।
তবে ফেসবুকে একটা ফটো-কার্ড প্রকাশ করা হয়েছিল।
নিরপেক্ষ ভাবে যাচাই বলতে কী বোঝায়?
বিবিসি বাংলার স্টাইল সম্পর্কে জানতে চেয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:
''আমি লক্ষ্য করেছি, বিবিসি বাংলার কোন সাংবাদিক যখন কোন সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন তখন প্রতিবেদন প্রচার করার সময় বলা হয়, তিনি আমাকে বলছিলেন। অথচ হওয়ার কথা তিনি বিবিসিকে বলছিলেন।
''আমার প্রশ্ন কোনটি সঠিক? আরও লক্ষ্য করেছি, কোন ঘটনার প্রতিবেদন প্রচার করার সময় বলা হয়, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিরপেক্ষভাবে যাচাই বলতে কি বুঝায়?''
প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলবো, দুটোই সঠিক। কারণ যিনি সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, তিনি প্রতিবেদকের সাথে কথা বলছেন, কাজেই প্রতিবেদক বলতেই পারেন যে তিনি আমার সাথে কথা বলছিলেন।
এখানে কোন দোষ নেই।
তবে যখন সাক্ষাৎকার বিবিসির অন্য কেউ নিয়ে থাকে, অর্থাৎ বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক না, তখন বলা হয় তিনি বিবিসিকে বলেন।
আর নিরপেক্ষভাবে যাচাই বলতে আমরা সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় সূত্র বুঝে থাকি।
কোন খবর বা ঘটনার বিবরণ যদি আমরা শুধুমাত্র একটি সূত্র, বিশেষ করে সরকারি সূত্র থেকে পেয়ে থাকি, তখন তখন বলে দেয়া হয় যে নিরপেক্ষ কোন সূত্র দিয়ে খবরটি যাচাই করা যায় নি।
এবারে বিবিসি বাংলার ৮০তম বার্ষিকী নিয়ে চিঠি, লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বিবিসি বাংলা তার প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করবে কি?
''বিবিসি বাংলা তার সত্তর এবং পঁচাত্তর বছর পূর্তিতে একটি করে ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, ৮০ বছর পূর্তিতে বিবিসি বাংলা কি কোনো ম্যাগাজিন উপহার দেবে তার দর্শক-শ্রোতাদের?
''এখানে আমি বিশেষ ভাবে অনুরোধ করবো, দু'একজন প্রবীণ শ্রোতা বন্ধুদের লেখা ছাপানোর জন্য। বিবিসি বাংলার দীর্ঘ দিনের শ্রোতাদের লেখা থেকে আমরা আগেকার বিবিসি বাংলা সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা পেতে পারি।''
এ'পর্যন্ত আমরা তিনটি বড় বার্ষিকী উপলক্ষে তিনটি ম্যাগাজিন বা স্মরণিকা প্রকাশ করেছি মি. সরদার - আপনি নিশ্চয় ১৯৯১ সালে সুবর্ণ জয়ন্তীর কথা ভুলে যান নি?
যাই হোক, আশা করছি এবারও আমরা একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করবো, যেখানে মূলত বিবিসির প্রাক্তন এবং বর্তমান কর্মীদের লেখা থাকবে। কিন্তু তার সাথে আমরা কিছু বিশেষ ফিচার বা গল্প সংযোজন করার কথা ভাবছি, যেটা অতীত নয়, বর্তমান সময়ের ওপর আলোকপাত করবে।
আর শ্রোতা-দর্শক শুধু প্রবীণ কেন? নবীন অডিয়েন্স, বিশেষ করে যারা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়, তাদের কথাও থাকতে পারে। দেখা যাক কী হয়!
আরো লিখেছেন ঢাকার উত্তর কাফরুল থেকে এম আলম:
''আমি ১৯৫৮ সাল থেকে বিবিসি শুনে আসছি। তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়তাম। আগে ডাক যোগে অনেক চিঠি পাঠাতাম, কিন্তু এখন তো আর চিঠি লেখার যুগ নেই আর আমার জন্য ইমেইল করার সুযোগটা সীমিত।
''আমি জানি, করোনার কারণে বিবিসি বাংলার ৮0 বছর পূর্তি উপলক্ষে কোন শ্রোতা সম্মেলন করা সম্ভব নয়, কিন্তু কোন বিশেষ অনুষ্ঠান করবেন কিনা বা কোন ম্যাগাজিন বের করার চিন্তাভাবনা আছে কিনা জানালে খুশি হব।''
ম্যাগাজিনের কথা একটু আগেই বললাম, মি. আলম। আমরা অবশ্যই বিশেষ অনুষ্ঠানমালার কথা ভাবছি, যেমন কোন একটি থিম ধরে। সেটা যেমন রেডিওতে থাকবে, তেমনি টেলিভিশন, অনলাইন, ডিজিটাল ভিডিও, সব মাধ্যমেই রাখা হবে। আশা করি উপভোগ করবেন।
কয়েক সপ্তাহ আগে সাতক্ষীরার মুঈন হুসাইন বলেছিলেন একজন শ্রোতার কথা যার নাম তিনি অনুষ্ঠানে শুনতে চেয়েছিলেন। আজকে তিনি আরেকজন শ্রোতার গল্প বলছেন:
''বিবিসি বাংলার এমন নীরব ও ভীষণ নিবেদিত শ্রোতা যে আজো আছে, তা আমি আগে জানতাম না। এই অত্যন্ত মনোযোগী তথা আপনাদের খাঁটি প্রেমিক শ্রোতাটির নাম মিন্টু আহমেদ। তিনি প্রতি রাতে বিবিসির সাড়ে দশটার খবর শোনেন। কখনো বাদ দেন না বা মিস করেন না।
''উনি আমাদেরই গ্রামের মানুষ। সুতরাং আমার মনে হলো, এই আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর কথা সবার নিকট পৌঁছানো আমার অবশ্যই উচিৎ। যাতে করে তাঁকে অন্তত কিছুটা হলেও সম্মানিত করা হবে। এবং হয়তো বা একারণে তিনি প্রচুর খুশী হবেন।''
আশা করি আপনার মিন্টু কাকা অনুষ্ঠান শুনছেন মি. হুসাইন, আর, আপনার ভাষায়, মনযোগী তথা আপনাদের খাঁটি প্রেমিক শ্রোতার গল্প সবাইকে শোনানোর জন্য ধন্যবাদ।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
জমির উদ্দিন সরকার, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব, রাজশাহী।
সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পাড়, রংপুর।
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
মুঈন হুসাইন, সাতক্ষীরা।