এডিটার'স মেইলবক্স: মাদ্রাসা বন্ধ, পুলিশের আঘাত আর মেসি-ম্যারাডোনা নিয়ে কথা

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

বাংলাদেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

কিন্তু মাদ্রাসা, বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তার ভিন্ন একটি মাত্রা আছে যেহেতু তাদের অনেকেই আবাসিক এবং মাদ্রাসাগুলোই তাদের আশ্রয়স্থল।

এ'মাসের ছয় তারিখে মাদ্রাসা খুলে দেবার জন্য হেফাজতে ইসলামের প্রচেষ্টা নিয়ে আমরা যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলাম, তার ওপর মন্তব্য করে লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:

''কওমি মাদ্রাসায় অনেক এতিম, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের বাচ্চারা লেখাপড়া করে। এসব বাচ্চাদের মাদ্রাসাই হচ্ছে একমাত্র বাসস্থান ও অভিভাবক।

''মাদ্রাসা বন্ধ থাকলে এসব বাচ্চাদের থাকা খাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই, যা খুবই মানবিক বিষয়।

'' তাছাড়া, সামনে ঈদুল আযহা এবং শহরের অধিকাংশ মানুষ পশু জবাইয়ের জন্য এসব মাদ্রাসা ছাত্র শিক্ষকের উপর নির্ভরশীল এবং মানুষের দানকৃত পশুর চামড়া এসব মাদ্রাসার আয়ের অন্যতম উৎস।

''মাদ্রাসা বন্ধ থাকলে অনেক পশুর চামড়া নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কাও রয়েছে। এসমস্ত মানবিক কারণে কওমি মাদ্রাসা স্বাস্থ্য বিধি মেনে খুলে দেওয়া খুবই যৌক্তিক হবে।''

এত দীর্ঘ সময় অন্য কোন দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে কি না, তা আমার জানা নেই মিঃ রহমান। এখানে শুধু মাদ্রাসা না, সব স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎই ঝুঁকির মুখে।

তবে আপনার কথাও ঠিক, কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের পরিস্থিতি অনেকটা ভিন্ন। অন্যদিকে, সরকারকেও ভাবতে হবে এসব মাদ্রাসায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কি আদৌ সম্ভব? অনেক মাদ্রাসা আবাসিক হবার কারণেই হয়তবা দুশ্চিন্তা আরো বেশি।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

পুলিশ কি নিজের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত করছে?

এবারে বাংলাদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে চিঠি।

সম্প্রতি বরিশালে পুলিশের হেফাজতে একজন নারীকে নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আব্দুর রহমান জামী:

''কিছুদিন পরপরই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। পরবর্তীতে তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়।

''গত বছরে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমেদ নামের এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এ'মাসের দুই তারিখে বরিশালের উজিরপুর থানায় এক নারী আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

''পুলিশ জনগণের সেবক। কিন্তু এসব অভিযোগ ও বাস্তবতা পুলিশের ক্লিন ইমেজকে কি ক্ষতিগ্রস্ত করছে না? ভাবমূর্তি রক্ষায় পুলিশের কি কোন করণীয় নেই?

''গুটি কয়েক সদস্যের অপকর্মের দায় কি পুরো পুলিশ বাহিনী নিতে পারে? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না কেন?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মিঃ রহমান। যখন কোন একজন উচ্ছৃঙ্খল সদস্য ঘটনা ঘটায়, তখন পুলিশের উচিত সেটা ধামা-চাপা দেবার চেষ্টা না করে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া। তাতে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে, কমবে না।

বরিশালের ঘটনা একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। আমি যতদূর জানি, পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, এবং উল্টো অভিযোগকারী নারীকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেছে।

এখানে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি, এবং সম্ভবত বিভাগীয় তদন্ত দিয়ে সুবিচার করা যাবে না।

একই বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক: 

''সম্প্রতি বিবিসি বাংলা'র ওয়েবসাইটে খবরটি দেখে চমকে গেলাম। বরিশালে হত্যা মামলায় এক নারীকে রিমান্ডে নিয়ে তার যৌনাঙ্গে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।

''এরকম ঘটনা একটা-দুইটা না, মিডিয়ার আড়ালে এমন হাজারও অভিযোগ রয়েছে। ওরা ক্ষমতা পেয়ে নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে।

''আসলে দোষ আমাদের রাষ্ট্রেরই। সাধারণ মানুষ অন্যায় করলে যে শাস্তি, পুলিশ অপরাধ করলে তার দ্বিগুণ শাস্তির আইন দরকার ছিল এই রাষ্ট্রে।

''আমাদের প্রশাসন উপরে ফিটফাট আর ভিতরে সদরঘাট অবস্থা। এই অবস্থা নিরসনে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।''

সব অপরাধের বিচার হওয়া উচিত এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত।

তবে আপনি ঠিক বলেছেন মিঃ ইসলাম, পুলিশের হাতে যেহেতু ক্ষমতা দেয়া হয়েছে আর জনগণও পুলিশের কর্তৃত্ব মেনে নেয়, তাই তাদের দায়িত্ববোধ যেমন অনেক বেশি হওয়া উচিত, তেমনি তাদের জবাবদিহিতার মাত্রাটাও অনেক বেশি হওয়া উচিত।

যত দিন পুলিশের সদস্যরা মনে করবে তারা অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে কারণ তারা পুলিশ, তত দিন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রই তৈরি হবে না।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

কোভিড সঙ্কটে পুলিশের দায়িত্ব

তবে পুলিশ দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ, বিশেষ করে যখন কোন জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হয়, যেমন হয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ে।

কিন্তু এই সঙ্কট মনে হয় পুলিশ দিয়েও সামলানো যাচ্ছে না, লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

''সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জনসাধারণকে ঘরে থাকতে বললেও, অনেক মানুষ আইন না মেনে অকারণে বাহিরে বের হচ্ছে।সে যেমন নিজের ক্ষতি করছে, আবার অন্যদের জন্যও স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

''আমি মনে করি জীবন সবচেয়ে মূল্যবান, তাই নিজের খাম খেয়ালিপনার কারণে যারা অন্যের ক্ষতির কারণ হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা উচিত।

''ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মহামারি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভাল মাধ্যম হল, যে যেখানে আছে সে সেখানে অবস্থান করবে। আমি মনে করি জীবিকার চেয়ে মানুষের জীবন রক্ষা করা জরুরি।''

আপনার সাথে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবেন মিঃ বিল্লাল, কারণ এই বিষয়টি নানা দিক থেকে বিতর্কিত। এ'কথা ঠিক, জীবন না থাকলে জীবিকা দিয়ে কী হবে? আবার এটাও ঠিক, জীবিকাই যদি না থাকে, তাহলে জীবনটা কতদিন থাকবে?

এই দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রেখেই সরকারকে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, কৌশল বের করতে হবে, যাতে সবাই বিধিনিষেধ মেনে চলতে পারে। আর সেটা যেন তারা স্বেচ্ছায় করে, পুলিশ বা কোন বাহিনীর ভয়ে না। কাজটা সহজ না, কিন্তু সেটাই সরকারকে করতে হবে।

লকডাউন এ কি দেশ অচল হয়ে যাবে?

সাতক্ষীরার টেকাকাশিপুর থেকে মুঈন হুসাইন লিখেছেন, কীভাবে লকডাউন তার জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে:

''আমি কাজ করি একটা বেসরকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে। আর যতবার বাংলাদেশে লকডাউন দিয়েছে , ঠিক ততবারই আমাদের সমস্ত কর্মীদের কাজও বন্ধ হয়ে গিয়েছে মাসের পর মাস।

''বন্ধের সময় তো আমরা কেউ বেতন পাই না। উপরন্তু আগের পাওনা টাকা গুলোও পেতে ৫- ৬ মাস মতো লেগে যায়। এদিকে ঢাকায় আমার বাসা ভাড়ার টাকাও মাস গেলে বাকী হতে থাকে।

কারো কাছেই অসহায়ের মতো কোন ধরনের সাহায্য চাই না। এবং আজো অবধি সাহায্য নেইনি। সব চেয়ে বড় কথা, কখনো সাহায্য পাইওনি!

''মহান আল্লাহ আমাদের শক্তি দিয়েছে, আমরা কর্মঠরা কাজ করতে জানি ও পারি। সুতরাং , আমরা শুধু কাজ চাই। তা না হলে মানুষের অত্যন্ত ভয়ংকর পরিণতি হবে।

''এ ভাবেই দেশ শীঘ্রই অচল হয়ে পড়বে। সাধারণ জনগণের পেটে ভাত নেই। সমাজে দেখছি হাহাকার লেগে যাবে। এ ভাবে আসলে চলে না, অথবা চলতে পারে না।''

লকডাউন সেকারণেই অত্যন্ত বিতর্কিত একটি পদ্ধতি মিঃ হুসাইন, বিশেষ করে যেসব দেশে সরকার বেশিরভাগ নাগরিককে আর্থিক সাহায্য দিয়ে সচ্ছল রাখতে পারে না। কিন্তু একই সাথে, যেসব দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল, সেসব দেশে মহামারী ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্যই তখন লকডাউনের প্রয়োজন হয়।

একই বিষয়ে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

''গ্রামে মানুষের জ্বর ব্যাপক আকার রূপ নিয়েছে, অনেকের একবার জ্বর চলে যাওয়ার পর আবার জ্বর আসছে।

''কিন্তু গ্রামে কঠোর বিধিনিষেধ বলে কিছুই নেই। পুলিশ দেখলে সব দোকানপাট বন্ধ। আবার পুলিশ চলে গেলে সবই কিছু খুলে দিচ্ছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাধারণ পোশাকেও টহল দেওয়া উচিত।''

ভাল কথা বলেছেন মিঃ ইসলাম। কিন্তু সাদা পোশাকের পুলিশ কত জায়গায় টহল দেবে? কতক্ষণ ধরে?

শুধু পুলিশের ভয়েই যদি বিধিনিষেধ মানা হয়, সেই বিধিনিষেধ আদৌ টেকসই হবে কি?

আমার মনে হয়, যেখানে যারা দায়িত্বে আছেন - যেমন, দোকানের ম্যানেজার, বা বাসের ড্রাইভার, বা শপিং মলের সিকিউরিটি ইত্যাদি, তাদেরই নিজ নিজ স্থানে বিধিনিষেধ প্রয়োগ করতে হবে।

পুলিশের পক্ষে সব কিছু করা সম্ভব বলে আমার মনে হয়না।

ভ্যাক্সিন কূটনীতি দরকার

এবারে ভ্যাক্সিন নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি: 

''একক কোন টিকা উৎপাদনকারীর কাছ থেকে চাহিদা মাফিক টিকা আমদানি করতে না পারায় সরকার টিকার মিশ্র ব্যবহারের কথা ভাবছেন। যদি টিকার মিশ্র ব্যবহারে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকে, তবে বাস্তবিকপক্ষেই এটি দেশের জন্য ভালো খবর।

''কিন্তু বিশ্বের কোন দেশ যেহেতু এখনো ঢালাওভাবে টিকার মিশ্র ব্যবহার শুরু করেনি, সেহেতু বাংলাদেশে এর ব্যবহার কতটা নিরাপদ হবে, সে প্রশ্ন রয়েই যায়।

''যেখানে বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণের মাঝে এখনো টিকা ভীতি কাজ করছে, বিশেষকরে গ্রামাঞ্চলের ও নিরক্ষর মানুষের মধ্যে এ ভীতি প্রবলভাবে বিরাজ করছে,সেখানে টিকার মিশ্র ব্যবহার তাদেরকে আরও টিকা বিমুখ করে তুলতে পারে।

''তাই টিকার মিশ্র ব্যবহারের চেয়ে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা আমদানি করা যায় সেজন্য সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা উচিত।''

একদম ঠিক কথা বলেছেন মিঃ হক, মহামারি থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য বাংলাদেশের সামনে সম্ভবত একটি রাস্তাই আছে, আর তা হল ব্যাপক টিকা কর্মসূচি।

কিন্তু এই কাজের জন্য যে পরিমাণ টিকা দরকার, তার এক ক্ষুদ্রাংশও বাংলাদেশ সরকার এখনো সংগ্রহ করতে পেরেছে বলে মনে হয় না।

তবে শুধু বাংলাদেশ না, টিকা সংগ্রহ তৎপরতাই এখন বিশ্ব কূটনীতির একটি প্রধান লক্ষ্য। আমার মনে হয় মিশ্র টিকা খুব শীঘ্রই প্রচলিত পদ্ধতি হয়ে যাবে। টিকা উৎপাদক কোম্পানিগুলো সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

বিবিসি বাংলায় ক'জন কাজ করেন?

এবার বিবিসি নিয়ে প্রশ্ন করেছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে মারিয়া ক্কীবতীয়া ইসলাম: 

''আজ আর সপ্তাহের কোন উল্লেখযোগ্য বিষয় নিয়ে লিখছি না। আজ আমার কৌতূহলের পুরোটাই বিবিসি বাংলা বিভাগকে নিয়ে।

''আর তা হল, বিবিসি বাংলা বিভাগে মোট কতজন আছেন, যারা কাজ করেন তারা সকলেই কি স্থায়ীভাবে চাকুরি করেন?

''বিবিসিতে যেসকল পুরুষ কিংবা নারী কর্মী কাজ করেন, তারা সকলেই কি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া গণযোগাযোগ কিংবা সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে পড়ালেখা করেছেন?''

বিবিসি বাংলায় এই মুহূর্তে ৩৪ জন সাংবাদিক কাজ করছেন মিস ইসলাম। তাদের মধ্যে সাত জন লন্ডনে, ঢাকায় ২৫ জন, দিল্লিতে একজন আর কলকাতায় একজন।

তারা সকলে স্থায়ী ভাবেই চাকুরি করছেন, এবং সবারই স্নাতক ডিগ্রি আছে। তবে সবাইকে যে গণসংযোগ বা সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করতে হবে, তেমন কোন কথা নেই।

মেসি প্রেম আর বিবিসি প্রেম

মেসি ভক্তি এবং বিবিসি প্রেম, দুটোর মাঝে মিল খুঁজে পেয়েছেন ঢাকার ধানমন্ডির শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বিবিসি বাংলার ফেসবুক ও ইউটিউবে লিওনেল মেসি ভক্ত এক রিকশাচালকের ভিডিও দেখে ভাল লাগলো। এই ভক্তের কাজকর্ম ও কথাবার্তা শুনে মজা পেয়েছি। সাথে আনন্দও।

''কেননা আমিও আর্জেন্টিনা দলের সাপোর্টার একমাত্র মেসির জন্য।

''অপরদিকে, গত সপ্তাহের প্রীতিভাজনেসুতে বিবিসি প্রেমী একজন শ্রোতার কথা অপর শ্রোতার মেইলে জেনে ভাল লাগলো। এরকম নীরব বিবিসি প্রেমী শ্রোতা প্রচুর আছে।''

মেসির জন্যই যদি আর্জেন্টিনা সমর্থন করেন মিঃ শামীম উদ্দিন, তাহলে মেসি যখন অবসর গ্রহণ করবেন, হয়তো আর দু'তিন বছরের মধ্যেই, তখন আপনি কী করবেন?

আমার মনে হয়, রাজনীতিতে যেমন ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, তেমনি খেলাতেও ব্যক্তির চেয়ে দলকেই বড় করে দেখা উচিত। তবে এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত, বিবিসির দলগত মতামত না।

আর্জেন্টিনা গোপনে হৃদয় চুরি করলো?

তবে শুধু মেসি না, দল হিসেবে আর্জেন্টিনার ভক্ত সরদার আল হাদি হাসান লিখেছেন বাগেরহাটের মংলা থেকে:

''ছোটবেলায় যখন ফুটবলের মৌসুম আসতো, একটা নামই শুনতাম বেশি আর সেটা হল ম্যারাডোনা। তারপর আর্জেন্টিনা।

''এমনটা হওয়ার কারণ হল, আমাদের এলাকায় আর্জেন্টাইন বিশেষ করে ম্যারাডোনার একটা ক্রেজ ছিল।

''সেই থেকে ফুটবল দেখতে বসলেই অন্য যেকোনো টিম ভাল খেলুক না কেন আর্জেন্টিনার খেলার জন্য বসে থাকতাম।

''ফুটবলে এক জীবনে এই আর্জেন্টিনা ম্যারাডোনা, বাতিস্তুতা, ওর্তেগা, মেসি দেখিয়েছে, সেটাই তো যথেষ্ট!

''পাওয়া না পাওয়ার হিসেবে আর্জেন্টিনাকে আমার সমর্থন নয়- প্রথম জীবনে আর্জেন্টিনা গোপনে হৃদয় চুরি করে নিয়ে যাওয়া কিশোরীর মতোই মনে হয় আমার কাছে।''

রীতিমত একটি প্রেম কাহিনি লিখে ফেলেছেন মিঃ হাসান। কিন্তু দুঃখের বিষয়, জায়গার স্বল্পতার কারণে আপনার চিঠি অনেকটাই কাট-ছাঁট করতে হয়েছে।

আশা করি এর ফলে আপনার আর্জেন্টিনা ভক্তিতে কোন আঘাত আসে নাই । কোপা আমেরিকার ফাইনালে আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইলো।

আর বিবিসির নিরপেক্ষতার স্বার্থে একই সাথে অপর ফাইনালিস্ট ব্রাজিলের সমর্থকদের জন্য রইলো সমপরিমাণ শুভেচ্ছা।

সব প্রবাসী শ্রমিক নন

এবারে একটি অভিযোগ। বিবিসির শব্দ চয়ন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন মাস্টার: 

''আমি বিবিসি'র অনলাইন বাংলা সংবাদে দেখলাম, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পেশায় চাকুরীরত,ব্যবসারত, সকল শ্রেণির বাংলাদেশী নাগরিকদেরকে,প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক বলেই আখ্যায়িত করা হচ্ছে,যা মোটেই শোভনীয় নয়।

''কেননা, সাধারণত: শারীরিকভাবে পরিশ্রম যারা করেন তাদেরকেই শ্রমিক বলা হয়।

''কিন্তু বিবিসির প্রতিবেদনে সকল শ্রেণির লোকজনকেই শ্রমিক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আশাকরি বিবিসি ভবিষ্যতে তা সংশোধন করে নেবেন।''

আপনার কথা আমি মেনে নিচ্ছি মিঃ মুসলিম উদ্দিন, যে বিদেশে চাকুরিরত সকল বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক না। আর আমরা যখন ঢালাও ভাবে সবাইকে প্রবাসী শ্রমিক বলি, তখন সেটা প্রকৃত চিত্রর প্রতিফলন হয় না।

সেজন্য আমরা দুঃখিত এবং ভবিষ্যতে শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবো।

তবে এটাও ঠিক যে, সব শ্রমিকই শারীরিক পরিশ্রম করেন না। অনেক কল-কারখানায় শ্রমিক আছেন, যারা মূলত মেশিন চালান বা মেশিনের উৎপাদন তদারকি করেন।

আবার আপনি যদি বাংলাদেশের ওয়েজ বোর্ড দেখেন, সেখানে কিন্তু সাংবাদিকদেরও শ্রমিক হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে।

হাল্কা প্রশংসা

এবার অভিযোগ নয়, বরং আমাদের কিছুটা প্রশংসা করে লিখেছেন রাজশাহী থেকে মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব: 

''আমি লক্ষ্য করেছি, আজ পর্যন্ত বিবিসি বাংলাতে যত চিঠি লিখেছি সব চিঠি যখন পাঠ করা হয়, তখন এমন ভাবে উচ্চারণ করা হয়, মনে হয় আমি পাঠ করছি। আমার মনের মত করে চিঠি গুলো পাঠ করায় পাঠককে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে, আমি লক্ষ্য করেছি চিঠির কিছু অংশ বাদ দিয়ে পাঠ করা হয় । কেন এমনটি করা হয় জানতে পারি?''

অবশ্যই জানতে পারেন মিঃ রহমান। চিঠি বড় হলে কিছুটা ছোট করতেই হয়, যেহেতু আমরা চাই অন্তত ১০-১২টি চিঠি অনুষ্ঠানে নিয়ে উত্তর দিতে।

বারো-চোদ্দ মিনিটের মধ্যে সেটা করতে গেলে বেশি বড় চিঠি নেয়া সম্ভব না। সেজন্যই বেশিরভাগ চিঠি কিছুটা কাট-ছাঁট করতে হয়, তবে চিঠির মূল বক্তব্য ঠিক রেখেই সম্পাদনা করা হয়।

এবারের কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক :

মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

মিনহাজ শেখ, কাউনিয়া, রংপুর।

কামরুজ্জামান সরকার, লালমনিরহাট।

মোহাম্মদ ফরহাদ রাজু, রামগতি, লক্ষ্মীপুর।

শহীদুল ইসলাম, তালগাছিয়া, ঝালকাঠি।

ফয়েজ জামান, হরিপুর, ঠাকুরগাঁও।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম, শেরপুর, বগুড়া।

মাসুম বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।