আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
পরীমনি ও নারী বিদ্বেষ, ভারতের গোরক্ষক আর বাংলাদেশের চা শ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
গত সপ্তাহে বড় ঘটনা ছিল ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা পরীমনির ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, মামলা, গ্রেফতার। কিন্তু এই ঘটনাকে ঘিরে যেসব মন্তব্য আমরা সোশাল মিডিয়াতে দেখলাম, তাতে নারী বিদ্বেষী একটি মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অনেকেই আসল অপরাধ এবং অভিযুক্তকে আড়াল করে উল্টো ভিকটিম নারীকেই দোষারোপ করলেন, সোশাল মিডিয়াতে তার চরিত্র হনন করার চেষ্টা করলেন।
ঘটনা পরবর্তী এই দিকটা বিশ্লেষণ করে বিবিসি বাংলায় একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করা হয় গত শুক্রবার আমাদের রাতের অনুষ্ঠানে।
সে বিষয়ে কয়েকটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''পুরো প্রতিবেদনে আলোচকরা সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় অসংগতি কিংবা রাষ্ট্রীয় আইনের দুর্বল প্রয়োগকে দোষারোপ করলেও, ধর্মীয় বক্তাদের লাগামছাড়া নারী বিদ্বেষী ওয়াজ মাহফিলকে তারা দোষারোপ করেন নি।
''প্রতিবেদক শেষের দিকে ধর্মীয় ওয়াজের বিষয়টি তুলে ধরলেও কোন আলোচকই সে বিষয়টি কেন উল্লেখ করলেন না, জানি না।
''তবে, আমার মনে হয় শুধু সামাজিক মাধ্যম না, অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীকে দোষারোপ কিংবা নারী বিদ্বেষ উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণগুলোর বড় কারণ হলো ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলে ধর্মের নামে নারীকে নিয়ে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া।''
আপনার পর্যবেক্ষণের সাথে আমি একমত মি. শামীম উদ্দিন, যে ওয়াজ মাহফিলের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়নি। হয়তো ওয়াজ মাহফিল ধর্মীয় সভা এবং এখানে মানুষের বিশ্বাস আর অনুভূতি জড়িত আছে, হয়তো সে কারণে আলোচকরা সতর্ক ছিলেন।
তবে কোন অজুহাতেই নারী বিদ্বেষ সৃষ্টি করা ঠিক না, কারণ এর ফলে নারীদের ওপর মানসিক এবং শারীরিক আক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ'ধরণের বক্তব্য অপরাধ প্রবণতা আরো উস্কে দিতে পারে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
পরীমনির লাইফস্টাইল কি ইস্যু?
তবে ভিন্ন কারণে আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে লিখেছেন রাজশাহী থেকে মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব:
''আঠারো তারিখের প্রবাহ অনুষ্ঠানে বিশেষ প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে শুনলাম। এই প্রতিবেদনে যাদের মতামত নেওয়া হয়েছে তাঁরা সবাই নারী। এই প্রতিবেদনে কি একজন পুরুষ মানুষের মতামত নেওয়া উচিত ছিল না?
''আর পরীমনির বিষয়ে বলা হয়েছে তার ফেসবুক পোস্টে কত কী মতামত পড়লো । এই মন্তব্যগুলো বলার আগে তার লাইফ স্টাইল সম্পর্কে ও পূর্বের জীবন কাহিনি তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত ছিল নয়কি? আমি কোন নারী বিদ্বেষী না। পর্দা করলে সকল নারী নিরাপদে থাকবে।''
আপনার প্রথম কথাটা ঠিক মি. রহমান। আমাদের প্রতিবেদনে দু'একজন পুরুষ থাকলে ভাল হত। তবে প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ছিল পরীমনির ঘটনা ঘিরে যে নারী বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখছি, তার কারণ খতিয়ে দেখা।
প্রতিবেদনে সব কিছু ভাল মতই আলোচনায় এসেছে, সেখানে পুরুষ আলোচক না থাকায় খুব একটা ক্ষতি হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তবে আপনার চিঠির বাকি অংশের সাথে আমি একমত নই, কারণ পরীমনির লাইফ স্টাইল এখানে আলোচ্য বিষয় না।
পরীমনির ওপর হামলা হয়েছে, পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে তার চরিত্র হনন করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেটাই হল মূল বিষয়। সেখান থেকে দৃষ্টি অন্য দিকে নেয়ার জন্য ভিকটিমকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা আমরা বুঝি।
তার লাইফস্টাইল তার নিজস্ব ব্যাপার, তিনি কোথায় যাবেন, কী করবেন, সেগুলো তার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয়। কিন্তু লাইফ স্টাইলের দোহাই দিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অধিকার তো কারও নেই।
যৌন চাহিদা
একই বিষয় লিখেছেন ঠাকুরগাঁও থেকে মোহাম্মদ আইয়ুব আলী:
''সম্প্রতি নায়িকা পরীমনিকে নিয়ে অনেক সমালোচনা ও গুজব চলছে ফেসবুক ইউজারদের মধ্যে। কিছু তার বিপক্ষে আর কিছু পক্ষে। এই নিয়ে বিবিসি বাংলা সংবাদ করল বেশ গুরুত্ব ভাবে।
''প্রশ্ন হল, কিছু লোকে বলছে সে একজন নারী হয়ে গভীর রাত্রে কেন নাইট ক্লাবে যাবে, কেউ আবার কোটিপতি ব্যবসায়ীদের সম্মানীয় চোখে দেখছে। আমার কথা হল, যে কারো জীবনে যৌন চাহিদা থাকতে পারে এবং থাকা উচিত।
''কিন্তু তাই বলে জোরপূর্বক সেটা আদায় করা যায় না। সমাজে কিছু লোক মনে করে, আমার টাকা আছে, আমার ক্ষমতা আছে, আমাকে কে ঠেকায়?''
ভাল কথা বলেছেন মি. আলী। নারী বা পুরুষ, সবারই যৌন চাহিদা আছে, সে চাহিদা মেটানোর জন্য তারা সঙ্গী খুঁজে নেয়, পারস্পারিক সম্মতি ক্রমেই তাদের সম্পর্ক হয়। সেটাই সভ্য সমাজের নিয়ম।
কিন্তু অনুমতি ছাড়া কারো ওপর নিজেকে চাপিয়ে দেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। যৌন হামলা বলুন বা ধর্ষণ চেষ্টা বলুন, নারী বা পুরুষের ওপর আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ অবশ্যই প্রয়োজন।
ভারতে মুসলিম হত্যা নিয়ে কী হচ্ছে?
এবারের ভিন্ন ধরণের অপরাধ নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ভারতের ত্রিপুরায় তিনজন মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী।
''এমন রোমহর্ষক ঘটনা এই আধুনিক যুগে ঘটে, এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তাও আবার এই করোনাকালীন ভয়াবহতার মধ্যে?
''তথাকথিত গোরক্ষক, যারা জীবন্ত মানুষ মারে, তারা কি ওই নামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? কখনো কি তারা মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে না?
''তাছাড়া এতে কি সরকারের কোন দায় নেই? ভারতে এমন ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটলেও বিচারের ব্যাপারে পরিসংখ্যান কি বলছে? বর্তমান ঘটনায়ও তো এখন পর্যন্ত কোন গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি কাউকে।''
বিগত পাঁচ-ছয় বছরে, গরু রক্ষার নামে মানুষ হত্যা ভারতে একটি বড় ধরনের অপরাধে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সেটা প্রতিরোধ করার জন্য যে ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন সেটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
এর ফলে গোরক্ষকরা আরো উৎসাহ পাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। এখানে যে একটি বড় জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার চরম ভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
তরুন সমাজ কি বেপরোয়া?
ভারতের নিপীরিত জনগোষ্ঠী থেকে বাংলাদেশের উদীয়মান বেপরোয়া এক জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গে যাই। দেশের শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে মারিয়া কিবত্বীয়া ইসলাম:
''শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে, নৈতিকতার প্রসার ঘটায়। তবে বাস্তবচিত্র হচ্ছে, বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জ্ঞান প্রজ্ঞায় সবার চেয়ে এগিয়ে থাকার চেয়ে, দুঃসাহসী এবং বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে।
''তাহলে এই শিক্ষার মূল্য কোথায়? আর এই যে দুঃসাহসী,বেপরোয়া জেনারেশন তৈরি হচ্ছে, এসব প্রতিকার বা প্রতিরোধের উপায় কী?
''এসব বিষয়ে দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের কাছে প্রশ্ন করলে,উনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারকে দোষারোপ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন বা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চান।
''কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তন বা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের দ্বারা কি তৃণমূলে এসব নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?''
কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী করতে পারে ঠিকই। কিন্তু রাজনৈতিক আর সামাজিক নেতৃত্ব যে দিক-নির্দেশনা দেবে তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে।
দেশের নেতৃত্ব যদি গণতান্ত্রিক রীতি বা আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়, বা দেশে যদি দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয়া হয়, তখন শিক্ষিত এবং দক্ষ তরুণ সমাজ বেপরোয়া হবেই।
তবে সব কিছুর মূলে হচ্ছে পরিবার। একজন তরুণের মানসিকতা, তার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় অল্প বয়স থেকেই এবং সেখানে তার পরিবারের সংস্কৃতির প্রতিফলন থাকে বলে আমার বিশ্বাস।
চা শ্রমিকদের কথা
বাংলাদেশের একটি জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশা অনেক সময় আলোচনায় আসেনা, আর তারা হল দেশের চা শিল্পে শ্রমিকরা। চা শ্রমিকদের নিয়ে লিখেছেন মৌলভীবাজার থেকে রিপন রুদ্র পাল:
''বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে চা-শ্রমিকেরা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু তাদের জীবন মানের কোন উন্নতি হচ্ছে না।
''বছরের পর বছর মালিক পক্ষ চা ব্যবসার মাধ্যমে ধনী থেকে অতি ধনীতে পরিণত হচ্ছেন কিন্তু চা-শ্রমিকের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। এক কথায় বলতে গেলে, চা-বাগানের মানুষের মৌলিক চাহিদাই ঠিকঠাক পূরণ হচ্ছে না।
''বাগান মালিকদের বিভিন্ন সংগঠন শ্রমিকদের জীবন মান উন্নতির জন্য অনেক কথা বলছেন কিন্তু আসলে শ্রমিকদের জীবনের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।
''বিবিসি বাংলাকে অনুরোধ করব আপনারা চা-শ্রমিকদের জীবন নিয়ে একটি গবেষণা ধর্মী প্রতিবেদন করেন।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. পাল। বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের জীবন জীবিকা নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবেদন প্রচার করার প্রয়োজন আছে।
তবে শুধু বর্তমান সময়ে তাদের জীবন নিয়েই নয়, চা শ্রমিকদের যে অনন্য একটি ইতিহাস এবং সংস্কৃতি আছে, সেগুলো অনুসন্ধান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুসন্ধানের কথায় যখন আছি, আপনাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিশ্চয়ই মনে আছে?
এ'সপ্তাতে বিবিসিতে একটি দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে ১০০ কোটি ডলার প্রায় হাতিয়ে নিয়েছিল।
রিজার্ভ চুরির দুর্ধর্ষ গল্প
বিবিসি বাংলায় রিপোর্টটি পড়ে লিখেছেন ঢাকা গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''প্রতিবেদনটি নিশ্চয়ই দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল এবং এজন্য বিবিসিকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে প্রতিবেদনটি পড়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ঘটনাটি বেশ লোমহর্ষক এবং হ্যাকাররা বেশ অভিজ্ঞ ও সুচতুর ছিল।
''তারা দীর্ঘদিন ধরে বেশ পরিকল্পনা করে এ দুর্ধর্ষ কাজে হাত দিয়েছিল। এ ঘটনাটি থেকে আমরা যারা ব্যাংক কর্মী তাদের অনেক কিছু শেখার ও পূর্ব সতর্কতা অবলম্বনের সুযোগ আছে।
''যেমন ঐ রিজার্ভ কেলেঙ্কারির পর থেকে আমি অফিসে অচেনা কোন ইমেইল ওপেন করি না এবং সাথে সাথে ডিলিট করে দেই।
''এছাড়া, কোন একাউন্টে হঠাৎ অস্বাভাবিক কোন লেনদেন হলে সাথে সাথে তার উৎস খুঁজি, অপরিচিত ও ঠিকানাবিহীন কোন লোকের হিসাব খুলি না।
''তবে প্রতিবেদনটির পাদটীকা দেখে আমার মনে একটি প্রশ্ন জেগেছে, আর সেটা হল প্রতিবেদনটি কী বিবিসির নিজস্ব অনুসন্ধান, নাকি এফবিআই-এর অনুসন্ধান?''
লেখক পরিচিতি দেখে নিশ্চয়ই বুঝেছেন তারা বিবিসির সাংবাদিক নন। জেফ হোয়াইট একজন বিশেষজ্ঞ এবং লেখক, আর জঁ এইচ লি একজন প্রাক্তন সাংবাদিক, বর্তমানে গবেষক।
তারা বিবিসির জন্য অনুসন্ধানী রিপোর্টটি লিখেছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে তারা তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে এফবিআই-এর রিপোর্ট ছিল অন্যতম একটি সূত্র।
আপনি যদি বিবিসি নিউজের ওয়েবসাইটে যান, সেখানে এই ল্যাযারাস হ্যাকিং গ্রুপ নিয়ে ১০ পর্বের পডকাস্ট দেখতে পাবেন। প্রতিটি পর্ব উত্তর কোরিয়ার এই হ্যাকাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে, যার মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির গল্পটা।
বিবিসির অনুষ্ঠানে খবরের ঘাটতি
এবারে বিবিসিকে নিয়ে লিখেছেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থেকে মোহাম্মদ ফরহাদ রাজু:
''মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে বলে বিবিসি বাংলাকে এত ভালোবাসি আমি। বিবিসির কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন আছে।
''প্রথমত, বিবিসি বাংলা অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে শর্ট ওয়েভের কথা বলা হয়। কিন্তু এই শর্ট ওয়েভের মান ভালো নয়। এটি উন্নত করা যায় কি?
দ্বিতীয়ত, বিবিসি বাংলার সন্ধ্যা বেলার অধিবেশনের অনুষ্ঠানসমূহ, রাতের অধিবেশন পরিক্রমায় পুনরায় শোনানো হয়। তাহলে কি আমরা ধরে নেব বিবিসি বাংলা, কয়েকটা খবরের উপরেই খবর পরিবেশন করে থাকে?
''বিশ্বের সাথে সাথে বাংলাদেশেও কত অজানা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে তার উপরে বিবিসির কোন চোখ পড়ছে না। এইসব বিষয়গুলো আমার মত শ্রোতাদেরকে হতাশ করছে।''
শর্ট ওয়েভ-এর মান উন্নত করার জন্য যা করা সম্ভব, বিবিসি তা সবই করে মি. রাজু। যখনই কোন অঞ্চলে খারাপ রিসেপশনের খবর আসে, বিবিসির ইঞ্জিনিয়াররা সেটা তদন্ত করে দেখেন।
তবে সব সময় রিসেপশন ভাল করা সম্ভব হয় না।
আর হ্যাঁ, রাতের অনুষ্ঠান পরিক্রমায় সন্ধ্যা বেলার অনুষ্ঠান থেকে বেশ কিছু আইটেম পুনঃ প্রচার করা হয়। কারণ, দুই অধিবেশনের মধ্যে মাত্র আড়াই ঘণ্টার পার্থক্য এবং এই সময়ে যেমন নতুন খুব একটা কিছু ঘটে না।
আবার নতুন করে কোন প্রতিবেদন তৈরি করাও যায় না।
কিন্তু আমরা জানি, পরিক্রমার অনেক শ্রোতা আছেন যারা সন্ধ্যার প্রবাহ শুনতে পান না। কাজেই তাদের জন্য সবই নতুন। কোনটাই রিপিট না।
বিবিসি আজও এক নম্বর
বিবিসি নিয়ে আরেকটি চিঠি, লিখেছেন ভারতের ছত্তিসগড় থেকে আনন্দ মোহন বাইন:
''বিবিসি অনেক বছর ধরে শুনছি ,খবর দেওয়ার তরীকা অন্য বেতার কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে মাঝে মাঝে এমন কিছু বিষয় নিয়ে এতো বেশি খবর হয়, সেখানে একটু খারাপ লাগে।
''তবে খবর পরিবেশনায় বিবিসি আজও এক নম্বর পজিশন ধরে রেখেছে।''
বিবিসির সংবাদ আপনার ভাল লাগে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো, মি. বাইন।
কোন কোন বিষয়ে আমরা হয়তো বেশি রিপোর্ট করি। কিন্তু সেগুলো ঘন ঘন ঘটে বলেই বোধহয় বেশি রিপোর্ট হয়।
আপনি যদি নির্দিষ্ট করে বলেন যে, কোন বিষয় নিয়ে আমরা বেশি খবর করি যার জন্য আপনার খারাপ লাগে, তাহলে আমি আরো বিস্তারিত জবাব দিতে পারবো।
বিবিসি কি মুসলিম বিরোধী?
তবে সবাই বিবিসির রিপোর্টিং নিয়ে সন্তুষ্ট নন, যেমন ইরান প্রসঙ্গে বিবিসির রিপোর্টিং নিয়ে অভিযোগ করে লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:
''আমি একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি, বিবিসি ইরানের যেকোনো বিষয়ে যত বেশি নেতিবাচক, কট্টর ও সমালোচক, ইসরায়েল, ইহুদী জাতি বা পশ্চিমাদের বিষয়ে তত বেশি ইতিবাচক, উদার ও বলিষ্ঠ।
''এতে মুসলিম বিদ্বেষী বা মুসলিম শাসন বিরোধী একটি ভাব আর পক্ষান্তরে ইসরায়েল বা ইহুদীদের প্রতি সহানুভূতির ভাব সুস্পষ্ট। এর কারণ কী?
''বিবিসি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিসেবে সকলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি, কারও প্রতি বৈষম্য বা বিভাজন সৃষ্টি নয়, এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার কথা।''
ইরানের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বা অন্যান্য প্রতিবেদন আপনার কাছে নেতিবাচক মনে হতে পারে মি. রহমান, কিন্তু সেটা কখনোই বিবিসির উদ্দেশ্য না।
সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ছিল, আর যিনি নির্বাচিত হয়েছেন তাকে নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে, বিশেষ করে ১৯৮৮ সালে কয়েক হাজার রাজবন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যাপারে তার ভূমিকা নিয়ে।
এগুলো বিবিসির রিপোর্টে যুক্তিসঙ্গত কারণেই তুলে ধরা হয়েছে।
মুসলিম দেশ বা খ্রিষ্টান দেশ বলে কথা না, সব ক্ষেত্রেই বিবিসির রিপোর্টিং হয় ঘটনা নিয়ে। যেটা ভাল, সেটা ভাল, যেটা খারাপ সেটা খারাপই।
অনেক মুসলিম দেশের শাসন ব্যবস্থা স্বৈরতান্ত্রিক বা কর্তৃত্ববাদী, অনেক দেশ সন্ত্রাসে জর্জরিত, এগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরলে শুনতে নেতিবাচক মনে হয়, কিন্তু তার জন্য তো বিবিসিকে দায়ী করা যায় না।
আন্দোলনের ভয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ?
আবার ফিরে আসি সাময়িক প্রসঙ্গে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''ছাত্র আন্দোলনের ভয়ে করোনার অজুহাত দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা বন্ধ রাখা হয়েছে! এটা দিনের আলোর মতই পরিষ্কার।
''কিন্তু প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশু ও কিশোরদের নিয়েও কেন এত ভয়? এরাও কি কোন দলবাজির সাথে জড়িত? নাকি সরকার বিরোধী রাজনীতি করে তারা?
''শিশু ও কিশোরদের শিক্ষা, মেধা ও মননশীলতাকে ধ্বংস না করে সকল স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় অতি শীঘ্রই খুলে দিন।''
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে যত শীঘ্র সম্ভব খোলা প্রয়োজন, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. ইসলাম।
কিন্তু সমস্যা হল, বাংলাদেশে স্কুল-কলেজের অবকাঠামোর যে হাল, তাতে কি সব কিছু নিরাপদে খোলা যাবে?
সরকার ভয় পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেটা সম্ভবত করোনার ভয়, বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীরা আক্রান্ত হলে দায়-দায়িত্ব যেহেতু সরাসরি সরকারের ঘাড়ে গিয়েই পড়বে।
ব্যাটারি রিক্সার বিদায় স্বাগতম?
পরের চিঠি ঢাকা শহরের একটি বিষয় নিয়ে, লিখেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ:
''বর্তমানে ঢাকা শহরে মানুষের চলাচলের যানবাহনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিক্সা একটি ভয়ানক যানবাহন।
''এই রিক্সার স্পিড এত থাকে যে রিকশাওয়ালা নিজেই তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না, যখন রাস্তা খালি থাকে। তার গতি এত থাকে যে, মোটরসাইকেলকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
''তিন বছর আগে আমার মা ব্যাটারিচালিত রিক্সা থেকে পড়ে তাঁর বাম হাতটা কার্যত অচল হয়ে গেছে।
''এ সকল রিক্সা বাতিল করে প্যাডেল চালিত রিক্সা বাধ্যতামূলক করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তাতে অন্তত রিক্সার গতি কম থাকবে। তা না হলে সামনে এর ঝুঁকিগুলো দিনকে দিন বৃদ্ধি পাবে।''
আগে সব সময় জানতাম ঢাকা শহরের সব চেয়ে ভয়ানক যানবাহন হচ্ছে বাস আর ট্রাক।
বেপরোয়া ড্রাইভিং, যান্ত্রিক ত্রুটি ইত্যাদি কারণে এই দু'ধরণের বাহনের নিচে পরে অনেক মানুষ মারা গেছে। কিন্তু কেউ কখনো ঢাকার রাস্তা থেকে বাস বা ট্রাক নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেয় নি।
ব্যাটারি-চালিত রিক্সা বিপজ্জনক ঠিকই, কিন্তু সেটা কি যান্ত্রিক কারণে, নাকি রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণের অভাবে? যদি দ্বিতীয়টি হয়, তাহলে রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া যেত, আর প্রথমটি হলে যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক না করা পর্যন্ত সাময়িক ভাবে নিষিদ্ধ করা যেত।
ব্যাটারি-চালিত রিক্সা পরিবেশ বান্ধব, অন্যদিকে প্যাডেল রিক্সা তার চালকের জন্য অমানবিক। ব্যাটারি চালিত রিক্সাকে নিরাপদ করে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে আমার মনে হয়।
বিবিসির কালচার পরিবর্তন
সব শেষে, বিবিসিকে নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন, লিখেছেন খুলনার বয়রা থেকে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম:
''এক সময় চিঠি লিখলে বিবিসি বাংলা থেকে অনেক উপহার পাঠানো হতো। বই, ক্যালেন্ডার, সিডি, নিদেনপক্ষে অনুষ্ঠান সূচি। সে সব প্রীতি স্মারক, প্রীতি উপহার পেয়ে প্রীতিভাজনেসু শ্রোতারা প্রীতিসিক্ত হতেন। প্রযুক্তি পাল্টে গেছে, সে সব কালচারও উঠে গেছে।
এখন আপনাদের ওয়েব পেজে অনেক কিছু থাকলেও প্রীতির সম্পর্ক ধরে রাখবার বা জোরালো করবার মতো ফ্রিকোয়েন্সি, দিন ভিত্তিক বিষয়সূচির কোন উল্লেখ আদৌ নেই। এমনটা কেন?''
আপনার চিঠি পড়ে বুঝতে পারছি সেসব দিনগুলি আপনি মিস করছেন। সত্যি বলতে, আমরাও মিস করি।
কিন্তু আপনি যে উপহার সামগ্রীর কথা বলছেন, সেগুলো দেয়া হতো মার্কেটিং বিভাগ থেকে। প্রায় ১৮ বছর আগে তারা এ'ধরণের প্রমোশনাল কর্মকাণ্ড বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আর ওয়েবসাইটে এক সময় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি দেয়া হত কিন্তু এখন তার আর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়
সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পাড়, রংপুর
মোহাম্মদ আব্দুল্লা আল মামুন,বদরগঞ্জ, রংপুর।
মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।
মোস্তাফিজ রহমান, রংপুর।
মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।