পাসপোর্ট, ইসরায়েল, বিবিসি আর কোভিড নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
বিবিসি বিশ্বের সব চেয়ে বড় এবং বিশ্বাসযোগ্য মিডিয়া প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সম্প্রতি বিবিসি নিজেই সংবাদের বিষয়বস্তু হয়েছে, যেখানে কিছু সাংবাদিক এবং সম্পাদকের বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ছাব্বিশ বছর আগে বিবিসির সাংবাদিক মার্টিন বশির প্রিন্সেস ডায়ানার একটি সাক্ষাৎকার নেন, যেটাকে বলা হয় ব্রিটিশ মিডিয়া ইতিহাসের সেরা সাক্ষাৎকারগুলোর একটি। এই সাক্ষাৎকারেই প্রিন্সেস ডায়ানা ইঙ্গিত দেন তার স্বামী, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বড় ছেলে যুবরাজ চার্লস সব সময়ই আরেকজন নারীর সাথে সম্পর্ক রেখেছেন।
কিন্তু একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তর রিপোর্টে এখন বলা হয়েছে যে, মার্টিন বশির জালিয়াতি করে, ডায়ানার ভাইকে ভুয়া কাজগপত্র দেখিয়ে সাক্ষাৎকার নেবার রাস্তা ঠিক করেছিলেন।
সে বিষয়ে একটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি, লিখেছেন ঢাকা থেকে রিথি সুমাইয়া:
''সাংবাদিক কি প্রয়োজনে অসত্য তথ্য দিয়ে কোন ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা সংগ্রহ করতে পারেন? মার্টিন বশিরের নেয়া প্রিন্সেস ডায়ানার সাক্ষাতকারের বেশ আগে থেকেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের কিছু অসংগতি ও অসহযোগিতার টুকরো কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যা প্যানোরামার সেই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে বিস্তারিতভাবে। রাজপরিবারের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মানসিক স্বাস্থ্য, হতাশা ও বিষাদকে উপেক্ষা করে ভুক্তভোগী প্রিন্সেসকেই যেখানে দায়ী করে, তা সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে রাখার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তা তুলে আনাটা কী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে?''

আপনার প্রশ্নের সরাসরি কোন হ্যাঁ বা না উত্তর নেই মিস সুমাইয়া। কোন অন্যায়কে জনসমক্ষে প্রকাশ করা অপরাধ বলে আমি মনে করি না, তবে সব কিছুই নির্ভর করবে ঘটনা প্রকাশ করা জনস্বার্থে কতটুকু প্রয়োজন, তার ওপর। এবং সেটা করতে গিয়ে নিরীহ কোন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে কি না, তার ওপর।
প্রিন্সেস ডায়ানার ক্ষেত্রে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর বিবিসি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে রাজ পরিবারের কাছে, বিশেষ করে প্রিন্সেস ডায়ানার দুই ছেলের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। সাক্ষাৎকারটি পাবার জন্য মার্টিন বশির যে অসৎ পন্থা ব্যবহার করেছিলেন তা বিবিসি কর্তৃপক্ষ সমর্থন করে না। তবে ১৯৯৫-৯৬ সালে যখন প্রথম অভিযোগ তোলা হয়, তখন বিবিসির কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে প্যানোরামা অনুষ্ঠানের সম্পাদক, বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি।
সাক্ষাৎকারটি যে যুগান্তকারী একটি ঘটনা ছিল, তা সবাই বুঝতেন এবং সেজন্য তারা বিবিসির সাংবাদিকতাকে দোষারোপ করতে চাননি। কিন্তু একজন বিচারকের নেতৃত্বে তদন্তে যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, এখানে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছিল, তখন বিবিসি সব দোষ স্বীকার করে নিয়েছে।
এখন এমন অভিযোগও উঠেছে যে ২৬ বছর আগে বিবিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানা সত্ত্বেও জালিয়াতির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তদন্ত রিপোর্টে এই কথা প্রকাশ পাবার পর বিবিসি নিউজের তৎকালীন প্রধান টনি হল ন্যাশনাল গ্যালারিতে তাঁর বর্তমান চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিবিসি এখন নতুন করে তার সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং কাজের ধরন পর্যালোচনা করবে।
আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, bdspn/Getty
এবারে যাই বহুল আলোচিত আরেকটি বিষয়ে, আর তা হল বাংলাদেশ পাসপোর্ট-এ নিষেধাজ্ঞা থেকে ইসরায়েলের নাম তুলে নেয়ার ঘটনা। প্রথমে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টে 'ইসরায়েল ব্যতীত সকল দেশের জন্য এই পাসপোর্ট বৈধ' লেখা থেকে 'ইসরায়েল ব্যতীত' শব্দ দুটি তুলে দেওয়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 'ইসরায়েল ব্যতীত" এই অংশটুকু তুলে দিলে যা থাকে তাহলো "সকল দেশের জন্য এই পাসপোর্ট বৈধ''। সুতরাং ইসরাইল তো খুশি, বিবৃতি দিতেই পারে। পরিবর্তিত পাসপোর্ট নিয়ে যে কেউ যে কোন দেশে ভ্রমণ করতে পারেন বলেই তো উল্লেখ থাকছে। তাহলে একজন পাসপোর্টধারী কিভাবে বুঝবেন যে তার জন্য কোন নির্দিষ্ট দেশ নিষিদ্ধ? বলা হচ্ছে পাসপোর্টকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার জন্য এই পরিবর্তন। তাহলে তো প্রশ্ন আসতেই পারে, আমাদের পাসপোর্ট কি আগে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ছিলনা?''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. সাঈদ। কোন পাসপোর্টের মান, তাতে কী লেখা আছে বা না আছে, তার ওপর নির্ভর করে না। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান, অন্য দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি কি না, বেআইনি অভিবাসনের প্রবণতা ইত্যাদি সব বিষয় বিবেচনা করেই পাসপোর্টের শক্তি নির্ধারণ করা হয়। সেজন্য মালয়েশিয়ার পাসপোর্টে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা লেখা সত্ত্বেও তাদের পাসপোর্ট-এর র্যাঙ্কিং প্রথম কুড়িটি দেশের মধ্যে থাকে। আপনার প্রথম প্রশ্নের কোন উত্তর এখনো সরকার থেকে পাওয়া যায়নি - অর্থাৎ পাসপোর্টে যদি লেখা না থাকে, তাহলে মানুষ কী করে জানবে ইসরায়েলে যাওয়া নিষেধ? যদি শাস্তি পেতে হয়, তাহলে কোন আইনের বলে এই শাস্তি দেয়া হবে, সেই প্রশ্নেরও কোন জবাব নেই।
পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আব্দুর রহমান জামী:
''ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ এখনই কেন নেয়া হল? আরব বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর মতো ভবিষ্যতেও কি বাংলাদেশ ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে? এ ঘটনা কি তার একটি উপলক্ষ?''
ঘটনা প্রবাহ আমি যতটুকু বুঝেছি মি. রহমান, তা থেকে মনে হয় পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েলের নাম বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত জেরুসালেম এবং গাযায় নতুন সর্বশেষ সংঘাত শুরু হবার আগে নেয়া হয়েছিল। কারণ নূতন পাসপোর্ট ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই অনেক আগেই নিতে হয়েছিল। কাজেই এই উদ্যোগ সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নেয়া হয়েছে, এ কথা বলা ঠিক হবে বলে আমার মনে হয় না। আর বাংলাদেশ ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে কি না, সে প্রশ্নের জবাব নীতি-নির্ধারকরাই দিতে পারবেন। এখন পর্যন্ত তারা বলছেন না, কিন্তু ভবিষ্যতে সেটা হ্যাঁ-তেও পরিণত হতে পারে।

ছবির উৎস, Getty Images
এই ঘটনা নিয়ে ঢাকায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নিয়ে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম:
''আমরা বাংলাদেশিরা শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিলাম, আছি, থাকবো। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের পাসপোর্ট করতে গিয়ে একটি লাইন মুছে ফেলা হয়েছে। এনিয়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত এক সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বসলো। এটা একেবারেই সমর্থন করা যায় না। কারণ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আমরা ঠিক করবো, অন্যকোনো দেশের রাষ্ট্রদূতেরা নয়।''
আপনি হয়তো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের প্রতি ন্যায়বিচার করছেন না মি. পোদ্দার। বাংলাদেশের কোন সিদ্ধান্ত যদি কোন দেশের স্বার্থ স্পর্শ করে তাহলে ঢাকায় সে দেশের রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করতেই পারেন। যেহেতু তিনি সে দেশের প্রতিনিধি এবং নিজ দেশের মনোভাব তুলে ধরাই তার কাজ। তবে হ্যাঁ, নেতিবাচক মন্তব্য জনসমক্ষে না তুলে ধরে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সাথে একান্ত বৈঠকে দেয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাল হত।

ছবির উৎস, Getty Images
পাসপোর্ট নয়, বিবিসির পরিবেশনায় ভাষার ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ করেছেন মাদারীপুরের কেন্দুয়া থেকে মোহাম্মদ রাসেল শিকদার:
''ইসরাইল ফিলিস্তিনি যুদ্ধের খবর প্রচারের সময় বিবিসি বাংলা হামাসকে অনেকবার উগ্রবাদী সংগঠন বলছে। ইসরাইলী সেনাদের হাতে অনেক নারী ও শিশু নিহত হয়েছে। ইসরাইলী সেনাদের উগ্রবাদী না বলে বিবিসি বাংলা কোন কারণে হামাসকে উগ্রবাদী সংগঠন বলছে? নাকি বিবিসি বাংলা পশ্চিমা নীতির প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছে?''
আমরা কোন দেশের সেনাবাহিনীকে কোন পন্থী বা বাদী বলে আখ্যায়িত করি না মি, শিকদার। তাদেরকে সেদেশের সেনাবাহিনী হিসেবেই সম্বোধন করি। তবে হামাস বা অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিকে আমরা তাদের আদর্শ, নীতি, কর্মপন্থা ইত্যাদির ভিত্তিতে ডানপন্থী, বামপন্থী, উগ্রবাদী, উদারপন্থী, মধ্যপন্থী ইত্যাদি বলে থাকি। হামাস যেহেতু একটি সশস্ত্র বাহিনী এবং তারা ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি চায়, তাই তাদেরকে উগ্রবাদী হিসেবেই বর্ণনা করা হয়।

ছবির উৎস, Barcroft Media
এবারে আমাদের ওয়েবসাইটে রোজিনা ইসলাম-এর গ্রেফতার পরবর্তী বিষয়ে একটি বিশ্লেষণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে আফরোজা সোমার চমৎকার ও সময়োপযোগী প্রতিবেদনটি পড়লাম। প্রতিবেদনটিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক ভূমিকা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি শক্তিশালী ভিত্তি ও রক্ষাকবচ। এই ভিত্তিকে যত বেশি মজবুত করা যাবে দেশ পরিচালনা ততই স্বচ্ছ হবে। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও অপরিহার্য। যে গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করবে, সেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আবার সেই সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসাবে শক্তিশালী গণমাধ্যম রক্ষা করা সরকারেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য।''
আপনার সাথে সবাই নিশ্চয়ই একমত হবেন মি. রহমান, গণতন্ত্রের জন্য একটি স্বাধীন গণমাধ্যম আবশ্যিক। একই সাথে সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও জরুরি। এই দুটো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র নিছক একটি শ্লোগানে পরিণত হয়, আর সেটাও হয় মূল্যহীন একটি শ্লোগান।

ছবির উৎস, Getty Images
এবার আসি করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ না খোলার বিষয়ে। লিখেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে মোহাম্মদ ফরহাদ রাজু:
''গত বছর মার্চ মাসের মধ্য থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, এবং সেগুলো খোলার কোন নাম গন্ধ নেই। আমাদের জন্য সরকার কি কিছুই করতে পারবে না? তাহলে কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সময় কি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যায়? আসলে সরকার চাচ্ছেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হোক। এতে সরকারের কোনো লাভ নেই।''
একই বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বাংলাদেশে নতুন করে শুরু হওয়া এক সপ্তাহের লকডাউনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য সব কিছুই সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়েছে। সব কিছু যখন খোলা তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ থাকবে? এরই মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে সারা দেশে থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। সামগ্রিক ভাবেও করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যৌক্তিক হবে কি না সেটিও বিবেচনার বিষয়।''
আপনার দুটি প্রশ্নে বৈপরীত্যের আভাস পাচ্ছি মি. সরদার। আপনি কি চাইছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক, না কি বন্ধ থাকুক? আমার তো মনে হয় শিক্ষা মন্ত্রী সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। সব খুলে দিলেও স্কুল-কলেজ কেন বন্ধ, আবার নতুন সংক্রমণের মাঝে খুলে দেওয়া উচিত না, বিপরীতমুখী এই দুই ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মাথায়।

ছবির উৎস, Getty Images
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে খোলা যায়, তার এটি রূপরেখা প্রস্তাব করে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি আবারও ১২ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। সবকিছু খোলা রেখে আর কত এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে? এ প্রসঙ্গে আমার প্রস্তাব হল,প্রতি ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অর্ধেক করে ২টা ব্যাচ করে এক দিন পর পর, অর্থাৎ প্রতি ব্যাচকে সপ্তাহে ৩ দিন ক্লাস করানো যেতে পারে। এতে করে প্রতি ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রতি ক্লাসের সময়ের মধ্যেও একটা গ্যাপ থাকবে এবং এর ফলে অনেকদিন ধরে ক্লাসে অনভ্যস্ত হয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীরাও ক্লান্তি বোধ করবে না বলেই দৃঢ় বিশ্বাস।''
আপনার প্রস্তাবটা মন্দ না মি. ইসলাম। তবে এখানে শিক্ষকদের ভূমিকা হয়তো ভেবে দেখা দরকার। ক্লাস ছয় দিনই নিতে হবে, প্রতি দিন যদি দু'দফা ক্লাস নিতে হয়, তাহলে শিক্ষকদের ওপর অসম্ভব বাড়তি চাপ পড়বে। কিন্তু যাই হোক, অনেক রকম আইডিয়া নিয়ে সরকারের ভাবা উচিত।

ছবির উৎস, বিবিসি বাংলা
এবারে কোয়ারান্টিন বিষয়ে একটি চিঠি, পাঠিয়েছেন কাতারের দোহা থেকে মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন:
''পৃথিবীর অনেক দেশেই ফুললি ভ্যাক্সিনেটেডদের ব্যাপারে নির্দেশনা শিথিল করা হলেও, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন থেকে আসা অনেক শ্রমিক ফুললি ভ্যাক্সিনেটেড থাকার পরও, তাদেরকে কেন দেশে ফিরে হোটেল কোয়ারান্টিনের নামে হয়রানি করা হচ্ছে? তা একটু অনুসন্ধান করে হোটেল বাণিজ্য বন্ধ করে প্রবাসীদের কষ্টে উপার্জিত অর্থের অপচয় রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আপনার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।''
বাধ্যতামূলক হোটেল কোয়ারান্টিনের পক্ষে অনেক যুক্তি আছে মি. হোসেন। তবে তিন দিনের কোয়ারান্টিনে আদৌ কোন কাজ হয় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। আমার জানা মতে, কোয়ারান্টিন ১০ দিনের হতে হয়, যদি তার মাঝে পাঁচ বা সাত দিন পরে পরীক্ষা করে নেগেটিভ হলে আগে চলে যেতে দেয়া যায়। সেদিক থেকে বাংলাদেশের নিয়ম বেশ শিথিল বলতে হবে। কিন্তু আপনি ফুললি ভ্যাক্সিনেটেড-এর ব্যাপারে যা বলছেন সেটা পুরোপুরি সঠিক না। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, যদিও কিছু কিছু দেশ পর্যটকদের ক্ষেত্রে ভ্যাক্সিনেশনকে কোয়ারান্টিন এড়ানোর একটি রাস্তা হিসেবে চালু করেছে।
আমাদের একটি পরিবেশনা নিয়ে প্রশ্ন করে লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে সালমা আক্তার:
''গরমে অসুস্থ হওয়া থেকে বাঁচতে করণীয় বিষয় প্রতিবেদনে বলেছেন, ফ্যানের নিচে পানির বালতি রাখতে। আর এর ভিতর লিখেছেন এটা ঘরকে কিছুটা ঠাণ্ডা করে। আমার বুঝে আসলো না পানির বালতি রাখলে ঘর কিভাবে ঠাণ্ডা হবে। আশাকরি বুঝিয়ে দিবেন।''
অনেকটা এয়ার কুলারের মত কাজ করে, মিস আক্তার। ফ্যানের বাতাস পানির ওপর দিয়ে আসলে কিছুটা ঠাণ্ডা হয়। যেমন, নদী বা লেকের পাড়ে দাঁড়ালে বাতাসটা কিছুটা শীতল হয় পানির প্রভাবে, তেমন।
আমাদের একটি ভিডিও নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে লিখেছেন পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে মোহাম্মদ শাহীন তালুকদার:
''বাইকার বধুর খবরটি বিবিসি বাংলা সামনে নিয়ে এসে সমালোচিত হয়েছে। সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বিবিসি বাংলার। আদৌ এটার দরকার ছিল কি?''
আপনি ভিডিওটি পছন্দ করেননি জেনে দু:খিত হলাম মি. তালুকদার। তবে আমি আপনার সাথে এক মত নই। বাইকার বধুর খবরটি আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে নি। বরং, আমরা লক্ষ্য করছি, বাইকার বধূ ভিডিওটি নতুন করে প্রমোট করার ফলে আরো অনেকে সেটা দেখতে আগ্রহী হয়েছে।

ছবির উৎস, obaidul Quader Facebook
আমাদের অনুষ্ঠানে একজনের অনুপস্থিতি অনুভব করছেন খুলনার পাইকগাছার আরিফুল ইসলাম:
''অনেক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রীর সাথে নানা রকম বিষয় নিয়ে একান্ত কথা বলেন আপনারা যেমন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ইত্যাদি। আবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির সহ বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের লোকদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎকার সংবাদ শুনতে খুবই ভালো লাগে । কিন্তু আমি বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর সাক্ষাৎকার কখনও শুনি নি। ওনার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় না কেন? এই প্রশ্নটা মাথায় সব সময় ঘুরপাক খায়।''
কারণ একটাই মি. ইসলাম। ওবায়দুল কাদের সাক্ষাৎকার দিতে চান না। তিনি কোন প্রশ্নের জবাব দিতে চান না। আর তিনি না চাইলে আমাদের করার কিছু থাকে না।
পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার সাভার থেকে মোহাম্মদ মাসরুল আহসান:
''বিবিসির প্রত্যেক সংবাদকর্মীর উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই বিবিসির ফোন-ইন, পূর্বে গৃহীত সাক্ষাৎকার অথবা কারও সরাসরি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করলে বিবিসি কর্মকর্তার কথা স্পষ্ট বোঝা গেলেও যার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয় তার কথা বোঝাই যায় না। বিবিসির এই ত্রুটি নিরসনের কোন উপায় আছে কি?''
বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক মি. আহসান। পনেরো কুড়ি বছর আগে আমরা যখন টেলিফোনে অর্থাৎ ল্যান্ড লাইনে সাক্ষাৎকার নিতাম তখন কিন্তু বেশিরভাগ সময় বেশ ভাল লাইন পাওয়া যেত। কিন্তু এখন ফোন-ইন অনুষ্ঠানে সব কলই আসে মোবাইল ফোনে যাদের বেশির ভাগ লাইন থাকে নিম্ন মানের। আমাদের করার কিছুই থাকে না। তবে সরাসরি সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি অতিথিকে স্কাইপ বা ওয়াটসএ্যাপ-এর মাধ্যমে কথা বলতে কারণ সেগুলোর মান মোবাইল ফোনের চেয়ে অনেক ভাল।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পার, রংপুর
মুহাম্মদ শামিমুল হক মামুন, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।
মুঈন হুসাইন, টেকাকাশিপুর, সাতক্ষীরা।
মোবারক হুসাইন,মাতুয়াইল যাত্রবাড়ি।
কামরুজ্জামান সরকার, সদর, লালমনিরহাট।
মুহাম্মদ মেহেদী হাসান, ফুলবাড়ি, দিনাজপুর।










