করোনা ভাইরাস: কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ ১১২ জনের মৃত্যু

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে মোট মারা গেছেন ১১২ জন।
এর আগের তিনদিন ধরেই প্রতিদিন ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মোট ১০ হাজার ৪৯৭ জনের মৃত্যু হলো।
বাংলাদেশে গত তিনদিনের মৃত্যুহার বিবেচনা করলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে প্রতি ১৫ মিনিটে একজনের মৃত্যু হচ্ছে। এপ্রিল মাসের মৃত্যু হার বিবেচনা করলে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এই মাসে প্রতি ১৮ মিনিটে একজনের মৃত্যু হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড শনাক্ত হয়েছেন ৪,২৭১ জন আর বাংলাদেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা ৭ লাখ ২৩ হাজার ২২১ জন।
২৪,১৫২টি নমুনা পরীক্ষা করে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৬,৩৬৪ জন আর মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ২১ হাজার ৩০০ জন।
প্রতি ১০০টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৭.৬৮ শতাংশ।
শনিবারই বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি।
''মহামারি সর্বোচ্চ মাত্রার সংক্রমণের দিকে এগোচ্ছে'' বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান সতর্কবাণী উচ্চারণের পরদিনই বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান জানা গেল।
শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, ''নতুন শনাক্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। বিশ্বজুড়ে প্রতি সপ্তাহে নতুন শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা গত দুইমাসে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।''

ছবির উৎস, Bangladesh Health Department


বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন যাবত করোনাভাইরাসে মৃত্যু এবং শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে চলছে।
গত বছরের মার্চের ৮ তারিখে দেশটিতে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে কাউকে শনাক্ত করার তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ।
এরপরের দুই মাস দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা তিন অংকের মধ্যে থাকলেও সেটা বাড়তে বাড়তে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
এরপর বেশ কিছুদিন দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা কমতে কমতে এক পর্যায়ে তিনশ'র ঘরে নেমে এসেছিল।
তবে এ বছর মার্চের শুরু থেকেই শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সাথে বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও।
যদিও গত কয়েকদিনে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে এসেছে।
চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হাসপাতালগুলোর ওপর যে হারে চাপ বাড়ছে, তাতে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।








