খালেদা জিয়া: করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন, তবে ভালো আছেন - মির্জা ফখরুল আলমগীর

মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া বাড়িতে ফিরে আসেন।

ছবির উৎস, BNP

ছবির ক্যাপশান, মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া বাড়িতে ফিরে আসেন।
Published

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কোভিড-১৯ আক্রান্ত। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

বিকালে একটি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ''দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ, অর্থাৎ তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন তিনি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এর মধ্যেই চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তার কোন টেমপারেচার নেই, তিনি স্টেবল আছেন, ভালো আছেন, অন্য কোন উপসর্গ তার নেই। '

তিনি জানান, শনিবার খালেদা জিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, রবিবার তার ফলাফলে পজিটিভ হওয়ার তথ্য জানা গেছে।

''চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে ফারদার ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই তিনি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্বাবধানে আছেন, তিনি ভালো আছেন।''

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান যেন, সবাই তার মুক্তির জন্য দোয়া করেন।

দুপুরেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছিল খালেদা জিয়া কোভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এমনকি খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার একটি রিপোর্টের কপিও ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে।

তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম প্রধান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছিলেন, শনিবার খালেদা জিয়ার নমুনা সংগ্রহ করেছে আইসিডিডিআর'বি, রবিবার সকালেই মন্ত্রণালয়ের হাতে তার করোনা শনাক্তের প্রতিবেদন পৌঁছেছে।

যদিও দলের সূত্র থেকে এ খবর প্রথমে অস্বীকার করা হয়। কিন্তু মিসেস জিয়ার পরিবারের একজন সদস্যের সঙ্গেও বিবিসির কথা হয়েছে, এবং তিনি বলছেন, খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্ত হবার খবর সত্য।

দুটি দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত খালেদা জিয়া ২৫ মাস জেল খাটার পর গত বছরের ২৫ মার্চ জামিন পান। তিন দফায় তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

২০১৮ সালের ৬ই অক্টোবর কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় খালেদা জিয়া।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০১৮ সালের ৬ই অক্টোবর কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় খালেদা জিয়া।

তাঁর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস, আর্থরাইটিস সহ বিভিন্ন রোগে এখন বয়সের কারণে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যেতে চায় পরিবার, যদি সরকারের তরফ থেকে সেই অনুমতি পাওয়া যায়নি।

খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ শে মার্চ শর্ত সাপেক্ষে সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল।

এর পরদিন ২৫শে মার্চ খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সময় জেল খাটার পর মুক্তি পেয়েছিলেন।

২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলা দায়ের হয়।

দশ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়।

তবে পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে দশ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আরেকটি মামলায় তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: