মুশতাকের মৃত্যু আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্ন

Published

চলতি সপ্তাহে একটি খবর অনেককে নাড়া দিয়েছে, আর সেটা হল কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক হয়ে তিনি প্রায় ১০ মাস কারাবন্দী ছিলেন, যে সময়ে তার জামিনের আবেদন আদালত ছয় বার প্রত্যাখ্যান করে।

এই আইনের সমালোচনা করে কয়েকটি চিঠি এসেছে। প্রথমে লিখেছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে মারিয়া ইসলাম কিবতিয়া:

''বাংলাদেশ সরকার নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন'-এর মত একটি কালো আইন তৈরি করেছে। যাতে সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলতে ভয় পায়, আর যদি কেউ বলেও ফেলে তাহলে তার অবস্থাও লেখক মুশতাক কিংবা কার্টুনিস্ট কিশোরের মতোই হবে।

''এখন আমার প্রশ্ন হল, বাংলাদেশ নামে গণতান্ত্রিক দেশ হলেও, যেহেতু শেখ হাসিনা একক ভাবে দেশ চালাচ্ছেন এবং সকল উন্নয়নের কৃতিত্ব নিচ্ছেন, তাহলে খারাপগুলোর দায়ভার কেন নিচ্ছেন না? সরকারের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হওয়া মুশতাক আহমেদ-এর মৃত্যুর সকল দায় তো সরকারেরই নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।''

এই মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে আমরা জানি মিস ইসলাম। আশা করা যায় সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি থাকলে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তার সুবিচার করা হবে। কারাগারে একজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হতেই পারে, সেটা অবশ্যই সত্য। কিন্তু এখানে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, লেখালেখির অভিযোগে আটক ব্যক্তি কেন জামিন পেলেন না।

তবে শুক্রবার ঢাকার দুটো পত্রিকায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের যে সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে, সেখান থেকে জানা গেছে মুশতাক আহমেদকে বন্দী অবস্থায় নির্যাতন করা হয়েছিল। নির্যাতনের কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটা তদন্তের বিষয় হওয়া উচিত, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এ বিষয়ে ছোট একটি প্রশ্ন করেছেন নওগাঁর মান্দা থেকে সুলতান মাহমুদ সরকার:

''ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হওয়া লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কী মেসেজ পাচ্ছে? বাংলাদেশে কি মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে?''

মেসেজ তো একটা আছেই মি. সরকার, তবে এই মুহূর্তে মেসেজটা খুব একটা সুখকর না। মেসেজটা হচ্ছে, বাংলাদেশে এমন একটা আইন আছে যেটার রকমারি ধারা ব্যবহার করে আপনার বাকস্বাধীনতা শুধু না, আপনার ব্যক্তিস্বাধীনতাও হুমকির মুখে ফেলা যায়। মুশতাক আহমেদের বেলায় যেটা দেখা গেল, এমনকি আদালত পারে না উনার মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখতে। তবে হয়তো এই ঘটনার পর আইনে সংস্কার করা হবে এবং আদালতও নড়েচড়ে বসবে।

এ বিষয়ে আরো লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে আটকাবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু আমার মনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাঁর লেখার কারণে হয়তো কারও স্বার্থে আঘাত লেগে থাকতে পারে। একটি সভ্য সমাজে তাঁর লেখার নিরপেক্ষ বিচার-বিশ্লেষণ হবে এবং রাষ্ট্র দুর্নীতি দূরীকরণে ব্যবস্থা নেবে, সেটাই কাম্য।

''কারাগারে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় মুশতাক আহমেদের মৃত্যু আমাদের সেই আস্থায় বিরাট ফাটলের সৃষ্টি করলো। আইনটি প্রণয়নের সময় থেকেই মানবাধিকার কর্মী ও মুক্তমনা মানুষরা এই আইনের বিরোধিতা করে আসছিলো। সবার শঙ্কা ও উৎকণ্ঠাকে সত্য প্রমাণিত করে অনবরত সেই আইনের অপব্যবহার চলছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।''

কোন আইনের অপব্যবহারই মেনে নেয়া যায় না মি. ইসলাম, তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যেহেতু মানুষের মুক্ত চিন্তার অধিকার এবং বাকস্বাধীনতার প্রতি একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই তার অপব্যবহার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বেশি মাত্রায় কলুষিত করছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন অপব্যবহারের বিষয়টি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার, তবে একথা এখন বলতেই হবে যে, এই আইনটি এখন অনেকের চোখেই ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

এই আইন সংশোধনের ওপর জোর দিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের কথা বলছে বাংলাদেশে সরকার। এই আইন নিয়ে প্রথম থেকেই লেখক, সাংবাদিক ও প্রকাশকের আপত্তি ছিল। তার একটাই কারণ, এই আইনের অপপ্রয়োগ করে স্বার্থান্বেষী মহল স্বার্থ লুটবে।

''আমি মনে করি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্লাসফেমি আইনের মতোই অপপ্রয়োগ হবে। কেননা, ধর্মানুভূতিতে আঘাত ও রাষ্ট্রবিরোধী তথা সরকার বা ব্যক্তিগত অনুভূতি ক্ষুণ্ণ হওয়া ডিজিটাল প্লাটফরমে আপেক্ষিক মাত্র। আর তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে গত দুই বছরে এই আইনের অপপ্রয়োগ দেখে। তাই দ্রুত এই আইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে সংশোধন করা উচিত।''

ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে অনেক ক্ষতিকর কাজ হয় তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. শামীম উদ্দিন, এবং সেগুলো থেকে মানুষের আইনগত নিরাপত্তারও প্রয়োজন আছে। তবে আপনি যেটা বলছেন, এই আইনের অপব্যবহার হচ্ছে এবং সেটা জনমনে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাকস্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে এই আইন সংশোধন করার সদিচ্ছা ক্ষমতাসীনদের আছে কি না।

একই বিষয়ে আরো লিখেছেন রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:

''মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ হতে পারে, এমন আশংকা থাকার পরেও এই আইনটি পাশ করা হয়েছে । এই আইনের যে কোনো রকম সুফল নেই , সে কথাও কিন্তু মোটেও ঠিক নয়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে, অনেকেই এই আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধ করার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। অনেক নিরপরাধ সাধারণ নাগরিক শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে বলির পাঠা হচ্ছে, এর দায়ভার সরকার নিবে কি?''

সরকারের প্রণয়ন করা আইনের অপব্যবহার হলে তার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে বলেই তো আমার মনে হয় মি. রহমান। অন্তত এটুকু আশা করা যায় যে, এই আইন এবং এ পর্যন্ত তার প্রয়োগ সরকার গভীর ভাবে পর্যালোচনা করে, সেটা এমনভাবে সংশোধন করবে যাতে তাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না যায়। তবে আগেই যা বলেছি, সংশোধন করতে যে সদিচ্ছার প্রয়োজন তা কি এই সরকারের আছে?

এবারে আমাদের খবর পরিবেশনা নিয়ে একটি অভিযোগ, পাঠিয়েছেন রাজশাহী থেকে মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব:

''গত মঙ্গলবার বিএনপির সমাবেশ নিয়ে বিবিসি বাংলার সংবাদে আমি একমত হতে পারলাম না। সেই দিন সাধারণ জনগণ পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছে। সকালে কিছু অটোরিকশা চললেও ভাড়া তিন গুন, দুপুরের পরে পরাই ফাঁকা শহর। এরপরও সংবাদ প্রচার হচ্ছে বিএনপি অভিযোগ করেছে যানচলাচল বন্ধ। এমন সংবাদ প্রচার করলে আমরা বিবিসির ওপর ভরসা করবো কেমন করে। সত্য সংবাদ প্রচারে সাহসী হবে এবং দেখে সংবাদ প্রচার করবেন তাহলে ভরসা বাড়বে।''

আপনি একমত হতে পারছেন না জেনে দুঃখিত মি. রহমান। তবে শুরুতে উপস্থাপক বলেছিলেন, পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে বিএনপি অভিযোগ করেছে, কারণ তারা সে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারপর আমরা যখন স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ার আলীর সাথে কথা বলি, সেখানে পরিষ্কার হয়ে যায় পুলিশ কীভাবে বাধা দেবার চেষ্টা করেছিল। কাজেই সেদিন রাজশাহীর চিত্র কী রকম ছিল, তা বেশ ভাল ভাবেই চলে আসে বলে আমার মনে হয়।

বিএনপির সমাবেশ নিয়ে আরেকটি চিঠি লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:

''সম্প্রতি খুলনা ও রাজশাহীতে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সড়ক পরিবহগুলো বন্ধ করে দেওয়া হল, যাতে ওই দলের নেতাকর্মীরা সমাবেশ স্থলে যেতে না পারে। খুব কৌশলে সরকার কাজটি করলো। আর দায় চাপানো হল পরিবহ মালিকদের উপর। যারা ভুক্তভোগী হল, তারা ওইসব এলাকার সাধারণ যাত্রী বা জনসাধারণ। আওয়ামী লীগ সাধারণ গণমানুষের দল, মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের কাছ থেকে এহেন আচরণ আমরা কখনোই মেনে নিতে পারি না।''

বিরোধীদলের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দেয়াটা যে গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির পরিপন্থী, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না মি. পোদ্দার। বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, অনেকেই তাকে কর্তৃত্ববাদ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তবে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি, শক্তিশালী গণমাধ্যম এবং নাগরিক আন্দোলনের ইতিহাস আছে, তাই পূর্ণ গণতন্ত্র ফিরে আসার সম্ভাবনা সব সময়ই থাকে।

এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে দু'একটি চিঠি। আমাদের ক্রিকেট পরিবেশনা নিয়ে আপত্তি তুলে ছোট মেইল করেছেন পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহীন তালুকদার:

''সাথিরা জাকির জেসি কি বিবিসি বাংলার সাথে চুক্তিবদ্ধ? প্রায়ই শুনি তার সাক্ষাকার। তার তো কোন বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার নাই। নারীবাদ বা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী কিনা বিবিসি।''

এটা পশ্চিমা সংস্কৃতি বা নারীবাদের বিষয় না মি. তালুকদার। বিশ্বের কোন নারী ক্রিকেটারেরই অনবদ্য ক্যারিয়ার নেই, কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারী ক্রিকেট বেশ নতুন ঘটনা। কিন্তু তাই বলে কি তারা ক্রিকেট পুরুষের চেয়ে কম বোঝেন? অবশ্যই না। একই যুক্তি খাটে সাকিরা জেসির বেলায়ও। তার ক্রিকেট বিশ্লেষণের জন্যই আমরা নিয়মিত জেসির সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকি। মূল কথা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখন আর পুরুষদের একক ক্ষেত্র নয়, কাজেই ধারাভাষ্য বা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের উপস্থিতির প্রয়োজন আছে।

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে এডিটার'স মেইলবক্স পোস্ট করা হলেও প্রীতিভাজনেষু পোস্ট করা হয় না। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিবিসি বাংলা যেহেতু অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে, তাই এই পেজে প্রীতিভাজনেষু পোস্ট করা যেতে পারে। আপনারা হয়তো বলবেন, এডিটার'স মেইলবক্স তো দেওয়া হচ্ছে, তাহলে আবার প্রীতিভাজনেষু কেন? আমি বলবো, পড়ে নেওয়া আর আপনাদের কণ্ঠে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর শোনা দুটোর মধ্যে বেশ পার্থক্য আছে।''

আপনার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ মি. সরদার। এক সময় সন্ধ্যার রেডিও অনুষ্ঠান প্রবাহ সরাসরি ফেসবুকে প্রচার করা হত। কিন্তু সেটাতে আমরা আশানুরূপ ফল পাইনি। যার ফলে সেটা বন্ধ করতে হয়েছিল। আমার ধারনা প্রীতিভাজনেষুর অডিও ফেসবুকে দিলে তার পরিণতি একই হবে। কাজেই না, প্রীতিভাজনেষু রেডিও অনুষ্ঠান, সেখানে রাখাই ভাল।

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''আন্দামান সাগরে ভাসমান একটি নৌকা থেকে ৮১ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উদ্ধার করার পর ভারত সরকার এখন তাদের আবার বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চাইছে। বাংলাদেশ যেখানে ১০ লক্ষাধিক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে সেখানে ভারত মাত্র ৮১ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় দিতে পারছে না। যদি তাদেরকে পাঠাতেই হয়, তবে তাদেরকে মিয়ানমার পাঠানো হোক, কারণ তারা তো বাংলাদেশের নাগরিক নয়, শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে মাত্র।''

আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী মি. রহমান, কেউ বেআইনিভাবে একটি দেশে প্রবেশ করলে, সে যেদেশ থেকে এসেছে, তাকে সেই দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এখানে বলা যেতে পারে যে, মানবিক কারণে ভারতের উচিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মানবিক মানদণ্ডে পরিচালিত হয় না। সব দেশই প্রথমে নিজের স্বার্থ দেখে, এটার কোন ব্যতিক্রম নেই, হবেও না।

এবারে করোনাভাইরাস নিয়ে লিখেছেন সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি: 

''করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্কুল-কলেজ আগামী ৩০শে মার্চ থেকে খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে ২৪শে মে থেকে। এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শুরু হওয়া চলমান পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী ঈদের পর খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হল, সেখানে তার দুই মাস আগেই কিভাবে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হল, তা বোধগম্য নয়।''

শুধু বাংলাদেশ নয় মি. হক, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছে। অনেক দেশ স্কুল-কলেজ খুলে দিয়ে কয়েক সপ্তাহ পর আবার বন্ধ করে দিয়েছে। আর যেহেতু বিশ্বে একটি মহামারি চলছে, তাই পরীক্ষা নেয়া বা বিশ্ববিদ্যালয় খোলা ইত্যাদি সিদ্ধান্ত কোন আন্দোলন বা দাবির মুখে হতে পারে না। সব সিদ্ধান্তই ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই নিতে হবে, অন্য কিছু না।

সব শেষে, আমাদের একটি ভিডিও নিয়ে চিঠি, লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:  

''ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানদের নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি ভিডিও প্রতিবেদন দেখলাম। অত্যন্ত হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া প্রতিবেদনের জন্য বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছিনা। আসলে বিচ্ছেদ নামক এই ছোট শব্দটা বোধকরি পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টদায়ক শব্দ। আর এটা যদি এমন দুজন মানুষের মধ্যে হয়, যাদের সন্তান রয়েছে, যে সন্তান বিচ্ছেদ হওয়া দুইজনকেই সমভাবে চায় বেঁচে থাকার জন্য, তাহলে তো সেটা আরো হৃদয় বিদারক। আশা করব যারা এখনো বিচ্ছেদের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন, তারা ফিরে আসবেন। অন্তত সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও কম্প্রোমাইজ করার চেষ্টা করবেন।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি. সাঈদ, ভিডিওটি আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদের ভাল লাগল। তবে সত্যি কথা বলতে, যখন দু'জনের সম্পর্ক এতই খারাপ হয়ে যায় যে এক বাসভবনে থাকা অসম্ভব, তখন হয়তো বিচ্ছেদই ভাল। কারণ সন্তানের সামনে সারাক্ষণ ঝগড়া-ঝাটি করলে তা সন্তানের মনে আরো খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মাসুম বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা, খুলনা।

মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, কাউনিয়া, বরিশাল সদর।

মোহাম্মদ মুজাহিদ, দিঘলিয়া, খুলনা।

মুঈন হুসাইন, টেকাকাশিপুর, সাতক্ষীরা।

মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।