আল জাজিরা নিয়ে 'একপেশে' আর চীন-ভারত নিয়ে দ্বিচারিতার অভিযোগ

ছবির উৎস, KARIM JAAFAR
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
বাংলাদেশে একটি বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনার মনে হচ্ছে কোন শেষ নাই, আর তা হল দেশের সেনাবাহিনী প্রধান এবং তার ভাইদের নিয়ে কাতার-ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরার প্রতিবেদন।
সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের একজন আইনজীবী আল জাজিরার প্রধান সম্পাদক মোস্তেফা স্যোয়াগসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলার আবেদন করে। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''গণ মাধ্যমে জানলাম যে চার জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় আদালত এই আবেদনের পক্ষে মামলাটি গ্রহণ করে নাই। আমি জানতে চাই, সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যদি যদি আল জাজিরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চায়, সে আইনি পদক্ষেপ নেবার সুযোগ থাকবে কিনা?''
সুযোগ না থাকার তো কোন কারণ নেই মি. বিল্লাল। তবে তাকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে, এই প্রতিবেদনের কারণে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বা এমন কোন জনস্বার্থ এখানে বিঘ্নিত হয়েছে যাতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে সরকারের অনুমোদন লাগবে বলে আমার মনে হয় না। অনুমোদনের প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্রদোহ'র মামলাটায়।

ছবির উৎস, ULLSTEIN BILD/GETTY IMAGES
সেই অনুসন্ধানমূলক ভিডিওর প্রযোজকের সাক্ষাৎকার নিয়ে বিবিসি বাংলায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল, এবং সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন:
''আল-জাজিরার অনুষ্ঠানটি নিয়ে আপনাদের প্রতিবেদনটি পড়লাম। আল-জাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন ছিল, সেগুলো নিয়ে আপনারা তাদেরকে মুখোমুখি করেছেন, সেটা বেশ ভালো কথা। কিন্তু সরকারের জবাবদিহিতা কোথায়? এখানে তো সেনাবাহিনী প্রধানের স্পষ্ট ভূমিকা ছিল তাঁর ভাইদের পালিয়ে যাওয়ায় সহযোগিতা করার মধ্যে।
''তথ্যপ্রমাণ ভিত্তিক হওয়া সত্ত্বেও একটা তথ্যেরও সরকারি কোনো জবাবদিহিতা নেই। বরং যারা এতো ঝুঁকি নিয়ে এই তথ্য-প্রমাণ গুলো উপস্থাপন করলো তাদেরকেই আজকে গলা চেপে ধরা হচ্ছে। এটা কি বাক স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করা নয়? বিবিসির কাছ থেকে একতরফা একটি প্রতিবেদন আমরা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।''
আমাদের যে প্রতিবেদনের কথা আপনি বলছেন মি. হোসাইন, সেটাকে আপনি কেন এক তরফা বলছেন তা বুঝতে পারছি না। এই প্রতিবেদনে অনেকের মনের প্রশ্নগুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং আল জাজিরার প্রযোজক তাদের নিজেদের কথা ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেয়েছেন। আর জবাবদিহিতা তো সবারই আছে, সেখানে মিডিয়া কেন বাদ যাবে? আমরা তো প্রতিনিয়ত আপনাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি, জবাব দিচ্ছি।

একই বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার মগবাজার থেকে মোহাম্মদ জাকির হোসেন:
''গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি রেডিওতে প্রচারিত প্রতিবেদনটি শুনলাম। কিন্তু প্রতিবেদনটি আমার নিকট একপেশে মনে হয়েছে। কারণ উক্ত প্রতিবেদনে যাদের সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়েছে তারা সবাই সরকারের লোক। ভিন্ন মতাবলম্বী বা নিরপেক্ষ কারো সাক্ষাৎকার নেয়া উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যদিও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ এর মন্তব্য প্রচার করা হয়েছে কিন্তু উনিও একপেশে কথা বলছেন বলে আমার মনে হয়েছে।''
আপনি যে প্রতিবেদনের কথা বলছেন মি. হোসেন, সেটা ছিল আল জাজিরার অনুসন্ধান নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে, তার ওপর। সেই প্রতিবেদনে তো আওয়ামী লীগের লোকদের কথাই থাকার কথা। প্রতিবেদন প্রচারের আগেই স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছিল যে প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আওয়ামী লীগের মনোভাব যাচাই করা।

এবারে বিবিসি বাংলার বিরুদ্ধে চীন সম্পর্কিত খবর এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভারত থেকে অর্ক রায়:
''গত বছর ১৫ই জুন লাদাখের গালওয়ান সীমান্তে ভারত ও চিনের সেনাদের মাঝে রক্তক্ষয়ী এক সংঘর্ষ হয়। তাতে ভারত স্বীকার করে যে তাদের ২০জন সেনা শহীদ হয়েছে। কিন্তু চীন তাদের কতজন সেনা নিহত হয়েছে সেটা জানাতে অস্বীকার করে। অবশেষে আজ চীনের সরকারি পত্রিকা স্বীকার করল সেদিন তাদের ৪জন সেনা নিহত হয়েছে। এবং তাদের নামও প্রকাশ করে চীন সরকার।
''সেদিন বিবিসি বাংলা ভারতের ২০জন সেনা নিহত হবার কথা ফলাও করে প্রচার করলেও আজ যখন চীন সরকার তাদের সেনা নিহত হবার কথা স্বীকার করল সেটা নিয়ে বিবিসি বাংলা মৌনব্রত পালন করল। সেদিন বিবিসি বাংলা ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভারতের সেনা নিহত হবার খবরটি প্রকাশ করলেও আজ বিবিসি বাংলার পেজে চীনের সেনা নিহত হবার খবরটি দেখতে পেলাম না। বিবিসি বাংলার এই ধরণের দ্বিচারিতার কারণ কি?''
এখানে কোন দ্বিচারিতার হয় নি মি. রায়। গত শুক্রবার চীন কর্তৃপক্ষ জানায় গালওয়ান সংঘর্ষে তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছিল। খবরটি সেদিন সন্ধ্যা বেলায় বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠান প্রবাহতে প্রচার করা হয়। তবে হ্যাঁ সেটা আমাদের অনলাইনে যায় নি। পুরনো ঘটনার ছোট কোন আপডেট আমরা সব সময় অনলাইনে দেই না, যদি না সেই নতুন তথ্য মূল ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। চীনের চার জন সৈন্য মারা যাবার কথা জুন মাসের ঘটনায় কোন গুনগত পরিবর্তন এনে দেয় নি। তবে কয়েকদিন পরে যখন প্যাংগং লেক থেকে দু'দেশের সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে তখন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন করা হয় যেখানে প্রেক্ষাপট হিসেবে জুন সংঘর্ষে দু'দেশের হতাহতের কথা উল্লেখ করা হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
ভারত এবং বাংলাদেশের আরেক প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন সন্দ্বীপের ওসমানিয়া থেকে মুহাম্মদ শামিমুল হক মামুন:
''সেনা বাহিনী অং সান সূ চি সরকারকে উৎখাত করার পর গত তিন সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের রাজপথে গণবিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশটিতে সরকারি কর্মকর্তা - কর্মচারী, শিক্ষক, বাস চালক,গার্মেন্টস কর্মী থেকে শুরু করে পুলিশ সদস্যরাও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এ গণবিক্ষোভ আমার মনে অস্বস্তিকর একটি প্রশ্নের ও জন্ম দেয়।
''দু'হাজার সতেরো সালে যখন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সংঘবদ্ধভাবে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে জোর করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়, তখন কোথায় ছিল সমাবেশ, কোথায় ছিল প্রতিরোধ,আর কোথায় ছিল বিক্ষোভ প্রতিবাদ ? আমি খুব হতাশ এসব দেখে।''
বিষয়টি হতাশ হবার মতই মি. হক। ঠিক এই কথাই পশ্চিমা বিশ্বে অনেকে বলছেন, গণতন্ত্রের দাবীতে যারা আজ সরব, তারা রোহিঙ্গা নির্যাতনের সময় এত নীরব ছিলেন কেন? কারণটা বোঝা হয়তো খুব কঠিন না। সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালায় যখন অং সান সু চি ক্ষমতায়, কিন্তু তিনি সেটা থামান নি, বরং আন্তর্জাতিক আদালতে সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গেয়ে এসেছেন। অর্থাৎ মিয়ানমারের বৃহত্তম জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তিও রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিতে নারাজ।

ছবির উৎস, Getty Images
রোহিঙ্গা বিষয়ে আরেকটি চিঠি। ভাসান চরে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিবিসি বাংলায় যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:
''ভাসান চরে রোহিঙ্গা সম্পর্কিত একটা প্রতিবেদন পড়লাম বিবিসি বাংলার ওয়েব সাইটে । চিকিৎসা ব্যবস্থা সংকটের কারণে হালিমার প্রসব বেদনার মত কষ্টের কথা এবং সেখানে শরণার্থীদের জীবিকা নির্বাহে অসুবিধা, ও নানা রকম অসন্তোষের কথা জানতে পারলাম। কিন্তু ভাসান চরে সরকার কয়েক দফায় রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করছে। তাহলে এই হালিমার মতো নারীদের এবং জটিল রোগীদের তাড়াতাড়ি নিরাময় পেতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে সরকারের আরও নজর দিতে হবে।''

ছবির উৎস, Getty Images
এ বিষয়ে আরো লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''ভাসান চর নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন পড়লাম। অনেক সমস্যার বর্ণনার মধ্য প্রতিবেদনের একটা অংশ দেখলাম "দ্বীপটিতে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন অসুস্থ শরণার্থীরা। তাদের চিকিৎসা এবং ঔষধ-পথ্যের ন্যূনতম সুযোগও সেখানে নেই বলে জানিয়েছেন তারা।"
''আমার মাথায় একটা ব্যাপার কিছুতেই আসছে না, যেখানে বড় বড় অট্টালিকা তৈরি করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের জন্য, সেখানে চিকিৎসার নূন্যতম ব্যবস্থা রাখা হয়নি, এটা কিভাবে সম্ভব? আমি মনে করি রোহিঙ্গারা যে অভিযোগ করেছেন তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে রোহিঙ্গাদের জন্য এত কিছু করেও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের বদনামের পাল্লাটাই ভারী হবে।''
ভাসান চর নিয়ে বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে বলেই মনে হয় মি. ইসলাম এবং মি. সাঈদ। সরকার চাচ্ছে এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে ভাসান চরে স্থানান্তর করতে, এবং সেজন্য ঐ দ্বীপে আবাসন ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আবাসন যতই ভাল থাকুক, ভাসান চরকে অনেকেই একটি বন্দী শিবির হিসেবে দেখছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা না হয় সরকার উন্নত করবে এবং জীবিকা অর্জনও হয়তো সহজ হয়ে উঠবে, কিন্তু বন্দীশালা ভাবটা না কাটানো পর্যন্ত ভাসান চর রোহিঙ্গাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না।

বিবিসি নিয়ে একটি প্রশ্ন করে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:
''গত সপ্তাহে অন্য একটি গণমাধ্যমে শুনতে পেলাম চীনে বিবিসি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে জিম্বাবুয়েতেও হলুদ সাংবাদিকতার জন্য বিবিসিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এটি সত্য কিনা জানাবেন। যদি সত্য হয় তাহলে কি অপরাধে তা করা হলো এবং তা বিবিসি বাংলায় প্রচারিত হলো না কেন, জানালে বাধিত হবো।''
সম্প্রতি ব্রিটেনের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ চীনা টেলিভিশন চ্যানেল সিজিটিএন-এর লাইসেন্স বাতিল করেছে। ফলে সিজিটিএন আর বিট্রেনে সম্প্রচার করতে পারবে না। সম্ভবত তার প্রতিশোধ হিসেবেই চীনা সরকার বিবিসির টেলিভিশন এবং রেডিও সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। এই খবর আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। আর অনেক বছর আগে ব্রিটেনের সাথে জিম্বাবুয়ের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের প্রবল বাক-বিতণ্ডার মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশটি বিবিসিকে নিষিদ্ধ করে।
করোনাভাইরাস-এর টিকা নিয়ে প্রকাশিত কনটেন্ট ভাল লেগেছে জানিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েব সাইটে "টিকাদানে আপনার দেশ ও বাদবাকি দেশগুলোর অবস্থান কোথায়" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়ছিলাম। সবচাইতে বেশি ভাল লেগেছে "ভ্যাক্সিন বিতরণের অগ্রগতি জানতে হলে নিচে সে দেশ বা অঞ্চলের নাম দিন" শীর্ষক সার্চ অংশ থাকায়। এই অংশটির মাধ্যমে খুব সহজে বিভিন্ন দেশের অবস্থান জানা যাচ্ছে। প্রতিবেদনের মাঝে এরকম অপশন থাকায় পাঠকরা নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। ধন্যবাদ বিবিসি নিউজ বাংলাকে।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মি. শামীম উদ্দিন, পরিবেশনাটি আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো।

ছবির উৎস, Getty Images
ক্রিকেটার সাকিব আল-হাসান যে বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় তারকা বা সেলেব্রিটি, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সেজন্য তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনারও শেষ নেই। তাকে ঘিরে নতুন একটি বিতর্ক নিয়ে লিখেছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ:
''সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেট এর জন্য একটি আশীর্বাদ, এটা মানার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই ট্যাগটা কাজে লাগিয়ে সাকিব এখন প্রায়ই আমাদের ক্রিকেটকে বিপদে ফেলে দিচ্ছে বলে আমার মনে হয়। কারণ, সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর সাথে টেস্ট সিরিজে তার অনুপস্থিতিতে আমরা হোয়াইট ওয়াশ হয়েছি। সামনে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা ট্যুর। এর মধ্যে সে ছুটি চেয়েছে পিতৃত্বকালীন ছুটির জন্য। এটা মানা যায়। তবে আইপিএল এর জন্য শ্রীলঙ্কা ট্যুরে ও সে ছুটি চাচ্ছে! এটা কোন কথা হলো? সব মিলিয়ে সাকিব আল হাসান যেন একটা স্বার্থপরতার নাম।''
আপনি সাকিব আল-হাসানের বড় ফ্যান, সেজন্যই হয়তো এত রাগ করেছেন। কিন্তু দলকে রক্ষা করার সব দায়িত্ব তার ঘাড়ে চাপাচ্ছেন কেন? অন্যরা কী করছে? দলের যে ১১জন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলেছে, তাদের ব্যর্থতার কারণেই তো বাংলাদেশ হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে।
জাতীয় দলের ডিউটি ফেলে আইপিএল এ যাওয়া উচিত কী উচিত না, সেটা বিতর্কের বিষয় এবং ফলাফল নির্ভর করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে সাকিবের কী ধরনের চুক্তি আছে, তার ওপর। এখন, সাকিব যদি নিজের কথা না ভাবেন, তাহলে ভাববে কে? তার নিজের এবং পরিবারের ভবিষ্যতের কথাও তো তাকে ভাবতে হবে।
আজ শেষ করছি নতুন একজন পত্রলেখকের চিঠি দিয়ে, লিখেছেন শিমুল অভি, তবে কোথা থেকে লিখেছেন সেটা বলেন নি:
''এটা আমার প্রথম লেখা চিঠিটি, পড়লে অনেক খুশি হবো। আমি সপ্তম শ্রেণি থেকে বিবিসির খবর শুনি অনেক ভালো লাগে। বিবিসি আজও একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থার নাম। আশা করি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।''
প্রথমবারের মত চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ শিমুল অভি। আমরা নিশ্চিত যে বিবিসি বাংলা সব সময় তার সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করে যাবে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
আহসান হাবিব রাজু , গুড়িয়াদহ, লালমনিরহাট।
বিদর্শন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম।
মুশফিকুর রহান ওলিউল্লাহ, পীরগঞ্জ, রংপুর।
ডালিম কুমার, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
মুকুল সরদার, দাকোপ, খুলনা।
মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।
শাহীন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।
মনিরুল হক রনি, সাভার সরকারি কলেজ, ঢাকা।









