এডিটার'স মেইলবক্স: মিয়ানমার অভ্যুত্থান, আল জাজিরার অনুসন্ধান আর ভেজাল মদ নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

এ'সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় খবর ছিল মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান এবং অং সান সু চি সরকারের পতন।

সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''সামরিক শাসন কোন দেশের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না। মিয়ানমারে এই সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বেই রোহিঙ্গাদের গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার বলে দাবিদার অং সান সু চি দ্যা হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে সেনাবাহিনীর পক্ষে জোরালো যুক্তি প্রমাণ পেশ করেছে। অথচ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, এখন সে নিজেই সেই সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দী।

''তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, যে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি করেছে, তাদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কোন ক্রমেই আশা করা যায় না। আমি মনে করি, মিয়ানমার যত দ্রুত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যাবে, তত দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান ত্বরান্বিত হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও উচিৎ হবে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার উপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা সঙ্কটের ফলপ্রসূ সমাধান করা।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. রহমান, নির্যাতিত জাতি-গোষ্ঠীর মুক্তির একমাত্র পথই হচ্ছে গণতন্ত্র। কিন্তু মিয়ানমারে বিষয়টি আরও জটিল। অং সান সু চি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কিন্তু তিনি রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি দেখাননি। মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিতে চাইবে বলে মনে হয় না।

অন্য দিকে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে এবং নির্বাচনে গণতন্ত্রকামী ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি পুনরায় ক্ষমতায় আসলে কি তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে চাইবে? মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ইতিহাস সে কথা বলে না।

আরো পড়ুন:

যাই হোক, সেরকমই একটি প্রশ্ন করে লিখেছেন রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:

''সামরিক শাসনের ফলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে গেল । গত তিন বছরে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায়নি । আমি জানতে চাচ্ছি, যে সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের স্বীকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সেই মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে রাজি করাতে পারবে কি?''

মিয়ানমার সেনাবাহিনী স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে, সেটা ভাবার কোন কারণ আমি দেখছি না মি. ওলিউল্লাহ। । অন্যদিকে, রোহিঙ্গারাও কি চাইবে সেনা-শাসিত দেশে ফেরত যেতে? হ্যাঁ, যদি তাদের নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দেয়া হয়, তাহলে অনেক রোহিঙ্গাই নিজ দেশে ফিরতে চাইবে। কিন্তু সেই গ্যারান্টি এমনকি অং সান সু চি-র গণতান্ত্রিক সরকারও দিতে রাজি ছিল না।

তবে অভ্যুত্থানের ফলে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার একটি সম্ভাবনা আছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে হয়তো রোহিঙ্গাদের ভাগ্য খুলে যেতে পারে। দেখা যাক কী হয়।

আরেকটি আলোচিত খবর ছিল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তার দুই ভাইকে নিয়ে কাতার-ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরার অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন। সে বিষয়ে লিখেছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে মারিয়া কিবত্বীয়া ইসলাম:

''সম্প্রতি আলজাজিরার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে প্রতিবেদনটি মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এখানে আমার অভিমত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতেই পারে যে এটা মিথ্যা,বানোয়াট। এমনটা হতেও পারে যে, আলজাজিরার প্রতিবেদনটি আসলেই মিথ্যা। কিন্তু সেটা প্রমাণ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোন যুক্তি বা প্রমাণ দেয়নি।

''আরও একটি জিনিস দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যম সরকারের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছে, কিন্তু আলজাজিরার রিপোর্টটি নিয়ে কেউ কিছু বলছে না। তাহলে আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো কি ভয় পাচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে? এবং এতে করে যে সাধারণ জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে সংবাদ মাধ্যমগুলোর উপর, তা নিয়ে বিবিসি বাংলার অভিমত জানতে চাই।''

এখানে বিবিসির কোন অভিমত নেই মিস ইসলাম। সকল গণমাধ্যম তাদের নিজের অবস্থান, আদর্শ, সম্পাদকীয় নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় তারা কোনটা প্রকাশ করবে, কোনটা করবে না। আল জাজিরা বা অন্য কোন মিডিয়াতে কিছু প্রকাশ হলে যে সেটা নিয়ে লিখতে হবে, এমন কোন কথা নেই।

তবে হ্যাঁ, একথা ঠিক যে কিছু কিছু পত্রিকা আল জাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে লিখতে চেয়েও কোন একটা ভয়ের কারণে তা করেনি। দ্য ডেইলি স্টার এ বিষয়ে একটি সম্পাদকীয় লিখেছে এবং সেখানে তাদের ভয়ের কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর এই সেলফ-সেন্সরশিপের কারণে পত্রিকার ওপর পাঠক আস্থা হারাচ্ছে কি-না, সে প্রশ্নের জবাব আপনিই ভাল দিতে পারবেন, কারণ আপনি একজন পাঠক।

আরো পড়ুন:

বাংলাদেশের দুর্নীতির একটি দিক ফাঁস হয়েছে আল জাজিরার এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। এমন কথা লিখেছেন ঢাকা থেকে তাঞ্জিলুর রহমান:

''আল জাজিরার প্রতিবেদন এখন এক আলোচিত বিষয়। তবে আমার মনে হয় না দেশের বেশির ভাগ মানুষ এতে বেশি বিস্মিত হয়েছে। এত দুর্নীতির পরেও অর্থনৈতিকভাবে দেশের কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যার পুরো কৃতিত্ব এই দেশের মানুষের। আর অর্থনীতি বাদ দিলে অন্য সকল ক্ষেত্রেই আমাদের অবস্থা বেশ খারাপ যা তথাকথিত শক্তিশালী অর্থনীতি আর উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে।''

সে কারণেই অনেকেই উদ্বিগ্ন মি. রহমান। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আন্তর্জাতিকভাবে নজর কেড়েছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আইনের শাসনের অভাব, জবাবদিহিতার অভাব, গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, মানুষের অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার অভাব ইত্যাদি এই উন্নয়নকে কলুষিত করছে। শুধু তাই নয়, অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সার্বিকভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড টেকসই নাও হতে পারে।

বাংলাদেশে যে আরেকটি বিষয় উদ্বেগ সৃষ্টি করছে তা হলো, ভেজাল মদ খেয়ে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মৃত্যু। সে বিষয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''গত এক সপ্তাহে অন্তত তিনটি ঘটনায় এগারো জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন বিষাক্ত মদ পানের ফলে। মজার ব্যাপার হল, মিডিয়ায় এ ধরণের ঘটনাগুলো শুধু খবর হিসেবেই দেখানো হচ্ছে, এটা যে এক ধরণের মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে বা নিচ্ছে, এ নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা বলেই আমার মনে হয়। এক্ষেত্রে কি ধরে নেবো যে এই ঘটনাগুলোই স্বাভাবিক, নাকি আমার উদ্বেগটাই যুক্তিসঙ্গত?''

কোন অস্বাভাবিক মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে গণ্য করা যায় না এবং আপনি যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মি. সাঈদ, সেটাই আমার কাছে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে মনে হয়। অতীতে, স্থানীয় ভাবে তৈরি তারি বা তথাকথিত বাংলা মদ খেয়ে মানুষের মৃত্যুর কথা শোনা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে।

যারা মারা গেছেন বা অসুস্থ হয়েছেন, তারা সম্ভবত বিদেশী মদের বোতলে থাকা ভেজাল মদ খেয়েছিলেন। আমরা যতদূর জানতে পারছি, বিদেশী বা দেশে উৎপাদিত মদের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ ধরণের ভেজাল মদ বাজারে এসেছে, যার ফলে অনেকের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।

পরের চিঠি লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিস আক্তার:

''দোসরা ফেব্রুয়ারির পরিক্রমা অধিবেশনে অটো পাস নিয়ে বিবিসি'র ফেসবুক লাইভটি শুনলাম। এ প্রসঙ্গে আমার নিজস্ব মতামত হলো, যতদূর দেখতে পাচ্ছি, এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অটো পাস নিয়ে নেতিবাচক পোস্টে সয়লাব হয়ে গেছে। মজার ছলে, নেতিবাচক ট্রল দিয়ে, নানাভাবে হেয় করা হচ্ছে ফলপ্রাপ্তদের।

''অথচ এইচএসসি শিক্ষার্থীরা কেউই অটো পাস চাননি। দীর্ঘ দুই বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছিলেন। পরীক্ষায় বসার মাত্র কয়েকদিন আগে কোভিড মহামারির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় তাদেরও পরীক্ষা। এর দায় তো তাদের নয়।''

একদম ঠিক কথা বলেছেন মিস আক্তার। তারা সবাই পরিস্থিতির শিকার। শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই নিশ্চয়ই অত্যন্ত হতাশ হয়েছেন, কারণ তাদের ভাল ফল করার আশা ছিল। এদের মধ্যে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, তাদের জন্য ভর্তি পরীক্ষাটা হয়ে যাবে এইচএসসির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যারা উচ্চ শিক্ষা নিতে চান না, তারা যদি চাকরীর বাজারে বৈষম্যের শিকার হন, তাহলে সেটা হবে খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

আবার ফিরছি দুর্নীতি প্রসঙ্গে। বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য সম্প্রতি কুয়েতে অর্থ এবং মানব পাচারের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি কি এখনও সংসদ সদস্য থাকতে পারেন? প্রশ্ন তুলে লিখেছেন রংপুরের সাতমাথা থেকে মোহাম্মদ মাসুদ রানা খান:

''লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে কুয়েতের একটি আদালত চার বছরের জেল এবং ৫৩ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করেছে। সরকারের কাছে প্রশ্ন, পাপুলের এমপি পদ এখনো শূন্য হয়নি কেন? সে যেহেতু মানব এবং অর্থ পাচারের সাথে জড়িত, সুতরাং সরকারের উচিত তার আসনটি অতি দ্রুত শূন্য ঘোষণা করা।''

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলেছেন মি. খান। আমরা যতদূর জানি, বাংলাদেশ সরকার কুয়েত থেকে অপরাধ এবং সাজার কাগজপত্র পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোন সংসদ সদস্য ফৌজদারী অপরাধে দু'বছরের বেশি কারাদণ্ড পান যেখানে নৈতিক স্খলন ঘটেছিল, তাহলে তার আসন বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু সরকার কারো আসন শূন্য ঘোষণা করতে পারে না বা সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচন ডাকতে পারে না। সে দায়িত্ব সংসদ স্পীকার এবং নির্বাচন কমিশনের।

বাংলাদেশে দুর্নীতির মাত্রা আরও বেড়েছে বলেই অনেকে ধারনা করছেন, যার প্রতিফলন ঘটেছে ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২০ সালের সূচকে। সে বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক: 

''গত ৩০শে জানুয়ারি ফারহানা পারভিনের উপস্থাপনায় দুর্নীতি বিষয়ে বিশেষ আলোচনাটি খুবই ভালো লেগেছে আমার। ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান এবার ১২তম। আগের বছরের তুলনায় দুর্নীতিতে দুই ধাপ অবনতি হয়েছে আমাদের। এটাকে আমার কম বলেই মনে হচ্ছে। আরও নিচের দিকেই অবস্থান হবে ভেবেই নিয়েছিলাম। বক্তৃতা-বিবৃতি-ভাষণে আমরা যতই বাগাড়ম্বর করি না কেন, দেশে যে দুর্নীতি বেড়েছে, এই সূচক তারই প্রমাণ।

''বিশেষ করে করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন জরুরি সেবায় যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে, এবারের সূচকে তার প্রতিফলন রয়েছে। উদ্বেগজনক হলো, দেশে এক ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করে দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়। এর বড় নজির হচ্ছে, কখনো কখনো দুর্নীতির কোনো ঘটনা ঘটলে সরকারের তরফ থেকে তা এড়িয়ে যাওয়া হয় অথবা অস্বীকার করা হয়। রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে এর ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।''

দুর্নীতি যে বাংলাদেশকে গ্রাস করেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না মি. ইসলাম। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, দুর্নীতি কোন একটি রাজনৈতিক দল বা সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। শুধু দুর্নীতির ধরণ বা মাত্রার পরিবর্তন হয় - তার সাথে দুর্নীতির সুবিধাভোগীদের নাম।

দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন আছে, কিন্তু সেটা কতটা স্বাধীন বা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। রাজনীতিকরা দুর্নীতি নির্মূল করতে অঙ্গীকার করছেন, কিন্তু তাদের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ আছে। সাধারণ মানুষ দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে মুক্তি চায়, কিন্তু ঘুষ না দিয়ে তারা অনেক সময় তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি যে শুদ্ধাচারের কথা বলেছেন, সেই শুদ্ধি অভিযান চালাবে কে?

এবারে করোনাভাইরাস নিয়ে একটি চিঠি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকজনকে দেবার পর এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়েছে। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''ভারত থেকে আনা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ সরকার। ভারত থেকে আসা এ টিকা প্রথমে নিয়েছেন রুনু ভেরোনিকা কস্তা। শাহনাজ পারভীন এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেল, মিস কস্তা বেশ ভালো আছেন। আমার মনে হয় সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘসে দিয়েছে ভারত থেকে আনা করোনাভাইরাসের টিকা। কিন্তু হতাশার কথা হচ্ছে এখনো পর্যন্ত মাত্র ৭০ হাজার মানুষ এ টিকা নেবার জন্য নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন। এ টিকা নেবার জন্য কেন মানুষের মধ্যে এতো অনীহা ঠিক বুঝলাম না?''

কারণ অনেক মি. সরদার। যেহেতু বাজারে আসা টিকাগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে, তাই অনেকে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। সেটা শুধু বাংলাদেশে না, বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের মধ্যেই এই অস্বস্তি আছে।

তাছাড়া, বাংলাদেশের অনেকের মধ্যে এক ধরণের ভারত-ভীতি কাজ করে, তাই ভারত থেকে আসা টিকার ওপর তাদের আস্থা কম। তবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিরাপদ এবং এই উপলব্ধি যখন হবে, তখন নেতিবাচক মনোভাব কমে যাবে।

এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে দু'একটি চিঠি। একটি বিষয় নিয়ে বিরক্ত হয়ে লিখেছেন ভোলার চরপোটকা থেকে মোহাম্মদ আব্বাস হোসেন:

''বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠানে খেলাধুলা বিষয়ক সংবাদ প্রচারের পূর্বে যে সিগনেচার টিউনটি বাজানো হয়, সেই ধ্বনিতে বাঁশির শব্দটি বেশ উচ্চই মনে হয়। এতে করে কানে হেডফোন দিয়ে বিবিসির অনুষ্ঠান ওই কয়েকটি সেকেন্ড শুনতে অনেকটা বিরক্তিকর লাগে। বাঁশির শব্দটি একটু কমানো গেলে এমনটি হবেনা। বিষয়টি ভেবে দেখা যায় কি?''

অবশ্যই দেখা যায় মি. হোসেন। সত্য কথা বলতে, বাঁশির শব্দ দিয়ে খেলাধুলার সিগনেচার টিউন সেই পুরনো শর্টওয়েভ যুগের ব্যবস্থা। এটা অনেক আগেই আমাদের বদলানো উচিত ছিল।

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি:

''আমাদের জন্য বিবিসি বাংলার আর কোন বিভাগ চালু আছে কি, যেখানে আমরা লেখা পাঠাতে পারি? আমি সপ্তাহে কয়েকটি বিষয় নিয়ে লিখি কিন্তু প্রচার হয় না বা অনলাইনে একটি বিষয়ে জানতে পারি। কী কারণে?

"দ্বিতীয়ত, গত বছরের আগের দিকে বিবিসি বাংলা আমাদের জানিয়েছিল একটি শ্রোতা সম্মেলন করা হবে, যেখানে শ্রোতারা বিবিসি বাংলার কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিত হওয়া-সহ একে অন্যর সাথে পরিচিত হবার সুযোগ পাবে। এই ধরনের কোন পরিকল্পনা আছে কি?''

না মি. বিল্লাল, শ্রোতা-পাঠকদের চিঠির উত্তর দেবার জন্য রেডিওতে প্রীতিভাজনেষু আর অনলাইনে এডিটার'স মেইলবক্স ছাড়া আর অন্য কোন বিভাগ নেই। প্রতি অনুষ্ঠানে আমরা একজন পত্রলেখকের একটি মাত্র চিঠিই নিই, যাতে অধিক সংখ্যক লেখকের চিঠি অনুষ্ঠানে স্থান দেয়া যায়। তাছাড়া, শুধু মতামত প্রকাশ করার মত কোন শাখা আমাদের ওয়েবসাইটে নেই।

আর শ্রোতা সম্মেলন নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, এবং আমরাও এ ধরণের সম্মেলন করতে আগ্রহী। অবশ্য এখন আর সেটাকে শ্রোতা সম্মেলন বলা যাবে না, যেহেতু বাংলাদেশে এখন রেডিও শ্রোতার চেয়ে টেলিভিশন দর্শক আর অনলাইন পাঠকের সংখ্যা বেশি। নাম যেটাই হোক, আমাদের আগ্রহ আছে, শুধু পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে।

সব শেষে, বিবিসি বাংলার ৮০ বছর পূর্তি সামনে রেখে লিখেছেন খুলনার বয়রা থেকে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম:

''সময়ের হাত ধরে ইতিহাসকে সাক্ষী করে এ বছরই বিবিসি বাংলা সম্প্রচারের আশি বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এটি যেমন গৌরবের,তেমনি ভালো লাগার, আনন্দের। বিয়াল্লিশ বছরে শ্রোতা সংগঠন থেকে স্মরণিকা হয়েছিল। বিবিসি কর্তৃপক্ষ শ্রোতা সম্মেলন করে, স্মরণিকা ছেপে ৫০,৭০ এবং ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেছিল। দু'পক্ষের মিলন মেলায় অনেকেই শরীক হতে পেরেছিলেন। এবার ৮০ বছর পূর্তিতে আপনাদের আয়োজনের ডালিতে কী কী থাকছে?''

আমাদের বার্ষিকী আরও অনেক দূরে আছে মি. ইসলাম, প্রায় নয় মাস। করোনাভাইরাসের কারণে অনেক কিছুই এখন অনিশ্চিত, তাই এত আগে আমরা কোন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি না। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোন সম্মেলন করা হবে কি না। তবে হ্যাঁ, স্মরণিকা প্রকাশ করার চিন্তা-ভাবনা আমরা অবশ্যই করছি, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবার মত পরিস্থিতি এখনো হয়নি।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা, খুলনা।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

মুঈন হুসাইন , টেকাকাশিপুর, সাতক্ষীরা।

গোলাম মুকতাদির,যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

আহসান হাবিব রাজু, গুড়িয়াদহ, লালমনিরহাট।