এডিটার'স মেইলবক্স: ভ্যাক্সিনে ভয়, শিক্ষার ক্ষতি আর ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, মানসী বড়ুয়া
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
- Published
করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন দেবার কর্মসূচি বাংলাদেশে শুরু হয়েছে বুধবার থেকে। কিন্তু ভ্যাক্সিন নিয়ে সংশয়, সন্দেহ আর বিতর্ক যেন যাচ্ছে না। একই সাথে ভ্যাক্সিন নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য এই বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।
এ নিয়েই লিখেছেন গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে মো. জিল্লুর রহমান:
"বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় ২৬শে জানুয়ারি ২০২১ "গবেষণা: এখনি টিকা নিতে রাজি মাত্র ৩২% মানুষ; বাকীদের অনাগ্রহের কারণ কী" শীর্ষক খবরটি পড়লাম। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের এক জরিপে দেখা যাচ্ছে দেশের ৩২ শতাংশ মানুষ টিকা কার্যক্রম শুরুর সাথে সাথে টিকা নিতে আগ্রহী। আগ্রহী আরও ৫২ শতাংশ মানুষ আছেন, তবে তারা ঠিক এ মুহূর্তেই টিকা নিতে রাজি নন। খবরটি খুবই হতাশার ও উদ্বেগজনক।
"সম্প্রতি এ টিকা নিয়ে সরকারি আর বিরোধী দল পরস্পরের মধ্যে ঠেলাঠেলি শুরু করেছে। কে কাকে আগে টিকা দিবে। সরকারি দল হোক আর বিরোধী দল হোক, তারা কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। এখন তারা যদি ঠেলাঠেলি করে তাহলে তো জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় শুরু হবেই। এতে কোন সন্দেহ নেই। এ মুহূর্তে তাদের দায়িত্বশীল আচরণ ও বক্তব্য প্রদান করতে হবে। তাছাড়া, আমাদের দেশের অনেক লোক এমনিতেই ভারতের টিকা সম্পর্কে সন্দেহ, সংশয় ও নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। তাই আমি মনে করি সাধারণ মানুষকে ভয় ও সংশয় কাটিয়ে আস্থায় আনতে হলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে পরীক্ষামূলকভাবে আগে টিকা দিলে সাধারণ মানুষের ভয় ও সংশয় অনেকটা কেটে যাবে।"
আপনি ঠিকই বলেছেন এই ভ্যাক্সিনকে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে তা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইকে পেছনের দিকেই ঠেলে দেবে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বা তারকাদের আগে টিকা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের দৃষ্টান্ত বেশ কিছু দেশেই আমরা দেখেছি। তবে এটাও ঠিক যে কোন টিকা বাজারে আনার আগে সেগুলো নানা ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তবেই সেই টিকাকে নিরাপদ বলে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তারপরেও বেশি মানুষ যাতে টিকা নেয়, সেজন্য জনসাধারণের আস্থা অর্জনকেই এখন বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
আরও পড়তে পারেন:
ভ্যাক্সিন বিতর্কের অন্য একটি দিক তুলে ধরেছেন ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
"বাংলাদেশ সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ এই সংশয় তৈরির পেছনে যতই বিএনপিকে দোষারোপ করুন না কেন, আসলে ব্যাপারটা তা নয়। ব্যাপারটা হল- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টিকা নেয়ার পর নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া, ভারতের যে টিকা বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে এবং সরকার আমদানি করেছেন তারও নানা ঘটনা আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি।
"জনসাধারণের মাঝে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- যেখানে ভারত সরকার মুক্তিযুদ্ধ বাদে অন্য কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সাহায্যে করেনি এমনকি তিস্তার পানির হিস্যা দিতে পারলো না স্বাধীনতার এত বছর পরও সেখানে তাদের কাছ থেকে বৃহৎ কুট স্বার্থ ছাড়া বিপদমুক্ত টিকার উপহার কিভাবে আশা করবো?"
কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া টিকা থেকে হতেই পারে। তবে সাধারণত সেগুলো হালকা ধরনের প্রতিক্রিয়া বলেই এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে। মৃত্যুর খবর যেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলোর কারণও যে ভ্যাক্সিন সেটা এখনও প্রমাণিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন কোন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে সবার জন্যই এই টিকা নিরাপদ। ভারতের দেয়া উপহার এবং বাংলাদেশের কেনা টিকা -অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট শুধু উৎপাদন করছে। এগুলো কিন্তু ভারতের আবিষ্কার নয়।
তবে টিকা নিয়ে অসুস্থ হবার খবর ছড়ানোয় অনেকে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে ভয় পাচ্ছেন দ্রুততম সময়ে এই টিকা বাজারে ছাড়ার কারণে। টিকা নিয়ে সংশয় এমনকি ভারতের ভেতরেও রয়েছে। তবে ব্রিটেন, ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, চীনসহ অনেক দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ টিকা নিয়েছে, এবং তাদের মাঝে সেরকম উল্লেখযোগ্য কোন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া যেহেতু লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, তার থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, যে পাঁচটি টিকা বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো নিরাপদ।

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে খুলনার কপিলমুনি থেকে লিখেছেন মোহম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
"বাংলাদেশে করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ আছে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ছাত্রদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য অনলাইন ক্লাস করা ও এ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়েছে। বিষয়গুলি ভাল। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ প্রযুক্তি নির্ভর লেখাপড়ার সুবিধা কতটুকু গ্রহণ করতে পেরেছে ? গণমাধ্যমে জানলাম সকল কিছু বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল কলেজ খুলে দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছেন সরকার। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই । গণমাধ্যমে জেনেছি আমাদের প্রতিবেশি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খুলে দেওয়া হয়েছে । তাহলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে বাধা কোথায়?"
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ফেব্রুয়ারি থেকে সীমিত পরিসরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দীর্ঘ সময় অনলাইন ও সংসদ টিভিতে ক্লাস চললেও ডিভাইস এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় বহু শিক্ষার্থীর কাছে সেই সেবা পৌঁছায়নি। বেসরকারি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী দূরশিক্ষণে অংশই নিতে পারেনি। স্কুল বন্ধ থাকায় ক্লাস পরীক্ষা আর মূল্যায়নের যেসব বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেসব নিয়েও নানা রকম অভিজ্ঞতার কথা শোনা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা অন্তত ৬০টি নির্দেশনা প্রস্তুত করেছে। সেগুলো মেনে পাঠদানই এখন হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে লিখেছেন মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:
"গত ২৪শে জানুয়ারি বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন পড়ে জানতে পারলাম যে, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেবার পর দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারলেও অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন স্কুলে যেতে পারবে । স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে শিক্ষামন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি । তবে এই অবস্থা দীর্ঘদিন বহাল রাখা ঠিক হবে না । কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পূর্বের শ্রেণির অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলোও শেখা হয়ে ওঠেনি।
"তাই এই শিক্ষাবর্ষে পড়ালেখার ঘাটতি পুরণ করার জন্য সরকারকে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে । দুঃখজনক হলেও সত্য যে দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনভিজ্ঞ অদক্ষ শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত হয় । আমার প্রশ্ন হচ্ছে , করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার যে ভয়ানক ঘাটতি রয়ে গেছে , অনভিজ্ঞ আর অদক্ষ শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সেই ঘাটতি আদৌ কি কখনো পূরণ করতে পারবে?"
আপনার আশংকা হয়ত অমূলক নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এবং দূর শিক্ষণের সুযোগ বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিতে না পারায় শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রমে পেছিয়ে পড়েছে বহু ছাত্রছাত্রী। শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অভিভাবকরাও অনেকেই বলছেন এই মহামারি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার আরো আকর্ষণীয় এবং সবার সাধ্যায়ত্ত করা উচিত।
পাশাপাশি শিক্ষকদেরও এধরনের পাঠদানের উপযুক্ত করে তোলা এখন খুবই জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মহামারির কারণে যেসব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘাটতি পূরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বিতর্কিত এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে সম্প্রতি প্রচারিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে দাকোপ, খুলনা থেকে লিখেছেন মুকুল সরদার:
"শেখ মুজিবুর রহমান সবচেয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রচলন করে যা বাকশাল নামে পরিচিত। এই বাকশাল নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য এতদিন জেনে এসেছি কিন্তু কাদির কল্লোলের বিশেষ প্রতিবেদন থেকে বাকশাল প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা গেলো।
''যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশে নানা সংকট বিশেষ করে একদিকে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, অর্থনৈতিক সংকট অন্য দিকে সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির তৎপরতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বাকশাল গঠনের মতো বিতর্কিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছিল বলেই অনেকে মনে করেন। ধন্যবাদ জানাচ্ছি বিবিসি বাংলাকে বাকশাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টিতে বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করার জন্য। একই সাথে কাদির কল্লোলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে প্রতিবেদনটিকে সমৃদ্ধ করে তোলার জন্য।"
অনুষ্ঠানটি আপনার কাছে তথ্যসমৃদ্ধ লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল। কাদির কল্লোলকে আপনার ধন্যবাদ পৌঁছে দেব।

আরও পড়তে পারেন:
খেলার খবর নিয়ে দুটি অভিযোগের চিঠি এবার। প্রথমটি প্রবাহ অনুষ্ঠানের খবর নিয়ে লিখেছেন সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা থেকে শফিকুল ইসলাম:
"গত ২৫শে জানুয়ারি বিবিসি বাংলার সান্ধ্য অনুষ্ঠান প্রবাহে খেলা খবরে, রায়হান মাসুদ বিভিন্ন খেলার নিউজগুলো পড়ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ সম্পর্কে কিছুই বলা হলো না, অথচ আপনাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ সম্পর্কে বলা হলো। আমার প্রশ্ন হলো, বিবিসি বাংলা এর দ্বারা কি শ্রোতাদের ইউটিউবমুখী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে?"
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার অনুষ্ঠান চলার সময় বাংলাদেশের খেলা যেহেতু চলছিল তাই খেলার খবরে ফলাফল দেয়া সম্ভব হয়নি। ম্যাচ শেষ হবার পর ইউটিউবে খেলা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। আমরা তো চাই শ্রোতারা একইসাথে আমাদের বেতার অনুষ্ঠান যেমন শুনবেন, তেমনি ইউটিউবেও আমাদের অনুষ্ঠানগুলি দেখবেন। ইউটিউব দেখার সুযোগ যদি আপনার থাকে তো বিবিসির অনুষ্ঠান ইউটিউবে দেখতে বাধা কোথায়?
পরের চিঠিটি লিখেছেন কর্মকারপাড়া, শেরপুর, বগুড়া থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম:
"গত ২০শে জানুয়ারি বুধবারের রাত্রিকালীন অধিবেশন পরিক্রমায় খেলাধুলা বিষয়ক ফিচার অনুষ্ঠান শুনলাম। প্রতিবারের মতো এবারো দুই উপস্থাপকের খুনসুটির মজার আলোচনা শোনার জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু শোনার পর রীতিমত অবাক ও হীনমন্যতায় ভুগতে লাগলাম। সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম ও তাদের ঐতিহাসিক বিজয়কে ছোট করে বেশ তাচ্ছিল্যের সাথে দেখা হলো। একজন দেশপ্রেমিক ও বাংলাদেশের তুখোড় সাপোর্টার হিসেবে এটা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। কোনো দেশকে ছোট করা বা খাটো করা, এটা যে কোনো মিডিয়ার সম্প্রচার নীতিমালা বিরোধী। বিবিসির মতো দায়িত্বশীল মিডিয়ার কাছে আমরা এটা কোনো ভাবেই আশা করতে পারি না।"

ছবির উৎস, LAKRUWAN WANNIARACHCHI/AFP via Getty Images
কোন দেশ বা কোন দলকে ছোট করার অভিযোগটা কিন্তু মেনে নিতে পারলাম না মি. পোদ্দার বলরাম। খেলাধুলার ওই অনুষ্ঠানে একজন উপস্থাপক বাংলাদেশ টিমের সাফল্যের দিক এবং খেলোয়াড়দের শক্তিমত্তার দিকগুলো নিয়ে যেমন কথা বলেছেন, তেমনি দ্বিতীয় উপস্থাপক টিমের দুর্বলতার জায়গাগুলো তুলে ধরেছেন। কোন দলের দুর্বলতার দিকগুলো বিশ্লেষণ করা মানে দলকে খাটো করা নয়। বরং বস্তুনিষ্টভাবে দলের অবস্থান মূল্যায়নই ছিল ওই আলোচনার লক্ষ্য। হয়ত তাদের উপস্থাপনা হালকা মেজাজের হওয়ায় এই বিশ্লেষণ আপনার কাছে তাচ্ছিল্যের মত শুনিয়েছে।
ফিরে আসছি আবার করোনাভাইরাসের টিকা প্রসঙ্গে। দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় থেকে ছোট একটি প্রশ্ন করেছেন দিপক চক্রবর্তী:
"আমরা অনেক কষ্টকরে ভ্যাকসিন পেলাম ভারতের কাছ থেকে। কিন্ত এখন অনেক আলোচনা ও অনেক কথা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো যে ঢাকায় যদি করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন নিয়ে এতো আলোচনা হয়, তাহলে বাকি জেলাগুলোতে কি হতে পারে?"
এই ভ্যাক্সিন নিয়ে আপনার এলাকায় মানুষ কী বলছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কী? তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশে শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে টিকা নেবার ব্যাপারে আগ্রহ বেশি রয়েছে। গবেষকরা বলছেন শহরের চেয়ে গ্রামে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কম এবং সে কারণে গুজব ও নেতিবাচক প্রচারণাও সেখানে তুলনামূলক কম বলেই গ্রামের মানুষের মধ্যে টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ বেশি বলে মনে করছেন তারা।

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images
এবারের প্রশ্ন আমাদের এক সহকর্মীর নামকে ঘিরে। তালগাছিয়া, ঝালকাঠি থেকে তার বিভ্রান্তি নিয়ে লিখেছেন শহীদুল ইসলাম:
"চব্বিশে জানুয়ারি প্রবাহে বিবিসির মোয়াজ্জেম হোসেন বললেন, এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ঘটনাবলী শোনা যাক সহকর্মী ফয়সাল তিতুমীর এবং পারমিতা পাল-এর কাছে, কিন্তু পারমিতা তার নামের শেষে হিম যোগ করেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে তার আসলে সঠিক নামটি কি, পারমিতা হিম নাকি পারমিতা পাল? আশা করি বিবিসি বাংলা উত্তর দিবেন।"
সহকর্মী পারমিতা জানিয়েছেন তার প্রথম নাম পারমিতা এবং পারিবারিক পদবী পাল। তার ডাক নাম হিম। তার বাবা মা পদবী যোগ না করেই সব মেয়েদের নাম রেখেছিলেন, কিন্তু স্কুলের টিচাররা এসএসসির রেজিস্ট্রেশনের জন্য পারিবারিক পদবী যোগ করেই তার নাম সরকারি খাতায় তোলেন। সেই থেকে অফিসিয়ালি খাতা-পত্রে তার নাম পারমিতা পাল। কিন্তু ব্যবহারিক জীবনে তিনি পারমিতা হিম নামটি ব্যবহার করেন যেমন তার বই, ওয়েবসাইট, বা সাংবাদিকতার কাজে।
প্রীতিভাজনেষু নিয়ে বাগিয়া, কাউনিয়া,বরিশাল থেকে মো. সাইদুর রহমান লিখেছেন
"করোনা মহামারির মধ্যে শ্রোতাদের চিঠিপত্রের অনুষ্ঠান প্রীতিভাজনেষু বিশেষ কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু এর আগে প্রচারিত প্রীতিভাজনেষু অনুষ্ঠানে একজন নিয়মিত শ্রোতার অনুভূতি বা মতামত স্বকন্ঠে প্রচার করা হতো যা করোনা পরবর্তী সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইদানিং এমনিতেই শ্রোতারা কম চিঠিপত্র লিখছে, তাই আমি মনে করি শ্রোতার অনুভূতি বা মতামত স্বকন্ঠে প্রচার করলে শ্রোতারা অনেকটা অনুপ্রাণিত হবে এবং এতে অনেকেই চিঠি লিখতে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।"
শ্রোতাদের স্বকণ্ঠে মতামত আবার ফিরিয়ে আনার কথা অবশ্যই ভেবে দেখা যেতে পারে, তবে আমরা আশা করব সেটা না হলেও চিঠি লিখতে আপনারা আগ্রহী হবেন এবং আপনাদের মতামত, প্রশংসা, সমালোচনা সবকিছুই আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন।
এবারে কিছু প্রাপ্তিস্বীকার:
শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।
আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা, খুলনা।
মোহাম্মদ রেজাউল রহিম, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
কাজী সাঈদ, ঝিনাইদহ।
মুতাছিম নয়ন, চাঁদখালী, পাইকগাছা, খুলনা। আপনি লিখেছেন প্রীতিভাজনেষু অনুষ্ঠানে দুজন উপস্থাপকের কেউ-ই একবারও চিঠি লেখার ঠিকানা বলেন না। তাই অনেকেই চিঠি লিখতে পারেন না। আপনি জানেন ডাকে চিঠি পাঠানোর কোন ব্যবস্থা আমাদের নেই। ইমেলে আমাদের কাছে লেখার ঠিকানা bengali@bbc.co.uk।










