আমেরিকার নির্বাচন ২০২০: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল অনুমোদন ও গুরুত্বপূর্ণ সেনেট নির্বাচনের ফলের দিকে তাকিয়ে আমেরিকানরা

Published

গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা আজ কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে বসতে যাচ্ছেন।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের এই যৌথ অধিবেশনে পপুলার ভোটের ভিত্তিতে ইলেকটোরাল কলেজের দেয়া ভোটগুলো গোনা হবে এবং তা চূড়ান্তভাবে প্রত্যয়ন করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে গত তেসরা নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় প্রত্যয়ন করতে কংগ্রেসের এই অধিবেশনের কয়েক ঘন্টা আগেই ওয়াশিংটন শহরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকরা বড়ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ করছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নির্বাচনে এখনো তার পরাজয় স্বীকার করেননি। তিনি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন এবং কিছু রিপাবলিকান সেনেটর জানিয়েছেন, তারা এই নির্বাচনী ফল অনুমোদনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানাবেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের এই আপত্তি প্রায় নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কংগ্রেসের এই অধিবেশনের আগে ''আমেরিকাকে বাঁচাও'' বলে তার হাজার হাজার সমর্থকের সমাবেশে বক্তৃতা দেবেন।

মি. বাইডেনের বিজয়ের অনুমোদন সত্যায়িত করার বিরুদ্ধে এ সমাবেশের আয়োজন করেছে মি. ট্রাম্পের সমর্থকরা । এর পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশও হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল গার্ডের কয়েকশ সদস্যকে মোতায়েন করা হচ্ছে।

কংগ্রেসের অধিবেশন সাধারণত: সংক্ষিপ্ত এবং একান্তই আনুষ্ঠানিক হলেও এবার কয়েকজন রিপাবলিকান ওই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি তোলার পরিকল্পনা করেছেন। ওই নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি হয়েছে বলে মি. ট্রাম্প যে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন - তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন তারা।

কংগ্রেসের এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তবে মি. ট্রাম্প তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন যেন তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন আটকে দেন।

তবে সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মি. পেন্সের এরকম কিছু করার ক্ষমতা নেই।

জর্জিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভোট

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের দুটি সেনেট আসনের জন্য মঙ্গলবার যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে- তার ফলাফল নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ শুরু করেছেন মি. টাম্প।

আরও পড়তে পারেন:

চিরাচরিতভাবে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য বলে পরিচিত জর্জিয়ার এই দুটি আসনের মধ্যে একটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন বলে পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে এবং শেষ খবর পর্যন্ত অন্যটিতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে জানা যাচ্ছে।

ভোটগণনা এখনো চলছে, তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রথমটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেভারেন্ড রাফায়েল ওয়ারনক - রিপাবলিকান কেলি লোফলারকে পরাজিত করেছেন।

তার বিজয় চূড়ান্ত হলে তিনিই হবেন এ রাজ্য থেকে নির্বাচিত হওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সেনেটর।

দ্বিতীয় আসনটিতে ডেমোক্র্যাট জন অসফ তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেভিড পারডিউএর চাইতে এগিয়ে আছেন।

এ দুটি আসনের ফলাফলের বিরাট রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে কারণ, দুটিতেই ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তারাই কার্যত সেনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যাবে এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য তার নির্বাচনী এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে।

গত কিছুদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নভেম্বরের নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয়কে উল্টে দেবার নানা চেষ্টা ছাড়াও আরো একটি কাজ করে যাচ্ছিলেন, তা হলো জর্জিয়ায় সেনেট নির্বাচনে যাতে রিপাবলিকান দুটি আসনেই জেতে সে জন্যে জোরেশোরে প্রচার চালানো।

এ থেকে ব্যাপারটার গুরুত্বের একটা আভাস পাওয়া যায়। কারণ এ দুটি সেনেট আসনে জেতা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দুই দলের জন্যই অত্যন্ত জরুরি।

রিপাবলিকানদের সেনেটে বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং এ দুটির অন্তত: একটি জিতলেই তাদের সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ থাকবে। আর অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের দুটি আসনেই জিততে হবে।

তাহলে ১০০ আসনের সেনেটে উভয় দলেরই ৫০টি করে আসন হবে। কিন্তু যেহেতু আগামী ভাইস প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট কমালা হ্যারিস, তাই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির সময় তিনিই টাই-ব্রেকিং ভোটটি দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের জিতিয়ে দিতে পারবেন।

এর ফলে বাইডেনের পক্ষে তার নির্বাচনী এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়ন করতে সিনেটের অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচি, মন্ত্রিসভা ও বিচারবিভাগের নিয়োগ - এগুলো তখন তিনি সেনেটে পাস করিয়ে নিতে পারবেন।

তা ছাড়া দুটি আসনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই তাদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হবে, যা ২০০৯এ বারাক ওবামার শাসনকালের পর আর ঘটেনি।

জর্জিয়ার ফলাফল এবং পাশাপাশি ওয়াশিংটনে কি ঘটে সেদিকেও আজ আমেরিকানদের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে।