বই উৎসব হচ্ছে না, বই বিতরণ হবে যে পদ্ধতিতে

বই বিতরণ উৎসব ২০২০।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সামনের বছর বই বিতরণ উৎসব হচ্ছে না।
Published

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বাংলাদেশে এবার কোন বই উৎসব না হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ ২০২১ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

এখন পর্যন্ত স্কুল কলেজ না খুললেও পাঠ্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই বই বিতরণ করার কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশে ২০১০ সালের পর থেকে প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হতো।

কিন্তু করোনাভাইরাস বদলে দিয়েছে প্রায় এক দশক ধরে চলে আসা এই নিয়মের।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এবারে সমাবেশ করে কোন বই উৎসব হচ্ছে না।

একই দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই না দিয়ে সেটা ভিন্ন আঙ্গিকে বিতরণ করা হবে।

পরীক্ষা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ১৭ই মার্চ মাস বন্ধ আছে ক্লাস ও পরীক্ষা।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে এ বছর প্রতিটি শ্রেণীর বই বিতরণের জন্য তিন দিন করে সময় দেয়া হবে।

অর্থাৎ ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম- এই চারটি শ্রেণীতে সপ্তাহে তিন দিন করে মোট ১২ দিনে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে।

একেকটি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা তিন দিনে ভাগে ভাগে এসে বইগুলো নিয়ে যাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বলে দেয়া হবে যে কোনদিন কারা এসে বই সংগ্রহ করবে।

এছাড়া প্রাথমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে তাদের অভিভাবকদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের।

তিনি বলেন, "প্রত্যেক ক্লাসের জন্য তিন দিন বরাদ্দ থাকবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের তিনটা গ্রুপে ভাগ করে দিবে। একেকটি গ্রুপ একেক দিনে স্কুলে এসে বই নিয়ে যাবে। তবে প্রাথমিকে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে না। তাদের অভিভাবকরা স্কুলে এসে বই নিয়ে যাবে। এতে জনসমাগম হবে না। বই বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা হবে।"

ভিডিওর ক্যাপশান, বিদেশে উচ্চশিক্ষা বৃত্তির জন্য কিভাবে আবেদন করবো?

এ বছর বিনামূল্যে প্রায় চার কোটি ১৭ লাখ শিক্ষার্থীদের মোট সাড়ে ৩৪ কোটি বই দেয়া হবে।

এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পাঁচটি ভাষায় প্রাক প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার বই দেয়া হবে।

সেইসঙ্গে প্রায় ৯ হাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করা হবে।

স্কুলগুলো এরিমধ্যে তাদের শিক্ষার্থীদের সংখ্যার হিসেবে বই বুঝে পেয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়মে বছরের প্রথম দিন থেকে বিতরণ কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার শিমুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সামসুল হক।

তিনি জানান, মানিকগঞ্জ সদর শিক্ষা অফিস থেকে তার স্কুলে ২১শে ডিসেম্বর সব বই পৌঁছে যায়। বইগুলো তারা অফিস কক্ষে তুলে পরবর্তী কয়েকদিন শ্রেণী অনুযায়ী ভাগ করা হয়।

ইতোমধ্যে মসজিদে মাইকিং করে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বই বিতরণের বিষয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, "প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যেকয়টি বই দেয়া হবে সেগুলো আলাদা আলাদা সেট করে, লাল ফিতা দিয়ে আমরা বেঁধে রেখেছি। আমাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। ১৭০ জনের মতো। তারপরও আমরা ৬ দিনে বই বিতরণ করবো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ৬টা বুথ থেকে শিক্ষার্থীরা বই নিয়ে যাবে।"

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারনে স্কুল বন্ধ থাকায় বাসায় বন্দি শহরের শিক্ষার্থীরা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারনে স্কুল বন্ধ থাকায় বাসায় বন্দি শহরের শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা এখন পর্যন্ত খোলেনি।

মহামারীর কারণে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা এবং এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেছে। পরীক্ষা ছাড়াই প্রমোশন দেয়া হয়েছে সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের।

বই উৎসব উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি জানুয়ারিতে স্বাভাবিক না হলে স্কুল বন্ধ রাখা হবে। তবে ডিজিটাল মাধ্যমে ক্লাস চলবে।