এডিটার'স মেইলবক্স: সিনেমায় পুলিশ নিয়ে বিতর্ক আর করোনাভাইরাস নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, EPA
মুক্তচিন্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরেই উদ্বেগ বাড়ছে। কিন্তু এবার এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পুলিশ।
সম্প্রতি পুলিশ একটি চলচ্চিত্রের পরিচালক এবং অভিনেতাকে গ্রেফতার করেছে। তাদের অপরাধ? একটি সিনেমায় তারা পুলিশকে নেতিবাচক ভাবে তুলে ধরেছেন।
সে বিষয়ে প্রথমে লিখেছেন ঢাকা থেকে তাঞ্জিলুর রহমান:
''সম্প্রতি পুলিশের নেতিবাচক চরিত্র চিত্রায়িতের জন্য গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। অথচ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই, বিশেষ করে যেসব জায়গায় শিল্পের স্বাধীনতা আছে, সব জায়গাতেই সিনেমা, টিভি সিরিজ ইত্যাদি জায়গায় পুলিশের নেতিবাচক ভূমিকা প্রায়ই দেখা যায় এমনকি বাংলাদেশেও এরকম নজির বেশ আছে। আসলে আমাদের দেশে বিরোধী দলকে তো নিঃশেষ করে দেওয়া হয়েছেই, এখন যাও একটু আধটু মুক্তচিন্তা চর্চার সুযোগ আছে, তাও বর্তমান সরকার তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. রহমান, পুলিশের ভেতরে যে অনৈতিক, বেআইনি এমনকি অমানবিক কাজ করার মত লোক আছে, তা অনেক দেশেই সংবাদ এবং শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তাতে রাষ্ট্র উপকৃত হয়, পুলিশ বাহিনী উপকৃত হয়। সমালোচনা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে, শুধু এই কথা না ভেবে, আত্ম-বিশ্লেষণ করে নিজেদের দুর্নীতি মুক্ত করা দীর্ঘ মেয়াদে পুলিশের জন্য - এবং সমাজের জন্য উপকার বয়ে আনবে। আমি বলব, সংবাদ এবং শিল্পের স্বাধীনতা যে কোন সমাজের জন্য আশীর্বাদ, অভিশাপ নয়।

তবে বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি:
''সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া "নবাব এলএলবি" নামক সিনেমায় পুলিশের বলা একটি কুরুচিপূর্ণ সংলাপের সূত্র ধরে সিনেমাটির পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট অভিনেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে যেমন রুদ্ধ করেছে, তেমনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে এমন অশ্লীল, অশ্রাব্য ও অসামাজিক সংলাপ সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র শিল্পকেও কলঙ্কিত করেছে।
''প্রচলিত সকল সিনেমার ক্ষেত্রে সেন্সরবোর্ডের সনদপত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, "আই থিয়েটার" নামক একটি অ্যাপে মুক্তি দেওয়ার কারণে এ সিনেমার ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হতে হবে। অন্যথায় সরকারকে চলচ্চিত্র শিল্পে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে টুটি চেপে ধরে রুদ্ধ করার দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে। নতুবা নতুন করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পের হারিয়ে যাওয়া অশ্লীলতার পুনরুজ্জীবন দেখতে হবে।''

ছবির উৎস, EPA
এখানে সরকারকে কঠোর হওয়ার মানেটা কী, আমি ঠিক বুঝলাম না মি. হক। বাক স্বাধীনতার অর্থ হল, অন্যের কাছে অপ্রিয়, এমনকি অশ্রাব্য মনে হতে পারে, এমন কথা বলতে পারা এবং সেটা বলে কোন হুমকির মুখে না পড়া। আমি 'নবাব এলএলবি' সিনেমাটি দেখিনি, কিন্তু যত টুক জেনেছি, ধর্ষণের শিকার একজন নারীর সাথে পুলিশের পাশবিক ব্যবহার তুলে ধরতে যে ধরনের সংলাপ দরকার, সে ধরণের সংলাপ ব্যবহার করা হয়েছে।
সেই সংলাপ আপনার কাছে অশ্রাব্য এবং অশ্লীল মনে হয়েছে, কিন্তু সেজন্য কী কারো বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত? তাহলে শিল্পের স্বাধীনতার কোন মূল্য থাকবে কি? আমার তো মনে হয়, আপনি যখনি সংবাদ মাধ্যম বা শিল্পে অশ্লীলতা নামক অজুহাতে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করবেন, তখনি মুক্তচিন্তার পরিসর কমে আসবে।
হয়তো সময় এসেছে, বাংলাদেশে সিনেমার সেন্সরের পরিবর্তে বয়স-ভিত্তিক সার্টিফিকেট পদ্ধতি চালু করার, যাতে যেসব ফিল্মে কথিত অশ্লীল সংলাপ বা দৃশ্য আছে সেগুলো শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকরাই দেখতে পারবে। সার্টিফিকেট দেখে আপনিও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন সিনেমাটি আপনি দেখবেন কি দেখবেন না।

ছবির উৎস, Getty Images
সিনেমায় কথিত অশ্লীলতার চেয়ে বহুগুণ ভয়াবহ বিষয়ে এবার যাই। করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ এখন বেশ জোরে-সোরে ইউরোপ এবং আমেরিকায় চলছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে ব্রিটেনে শনাক্ত হওয়া নতুন ধরনের করোনাভাইরাস।
এ'বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''করোনা ভাইরাস জীন সিকুয়েন্স বা মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় তার বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করার ফলে নতুন ভাবে উদ্বেগ বেড়েছে। আমরা প্রথমে যুক্তরাজ্যে এই ভাইরাসের অস্তিত্বের খবর পাই, তারপর বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে। কথা হচ্ছে এই ভাইরাসে যুক্তরাজ্যে আক্রান্তের হার এবং হাসপাতালগুলোতে যেভাবে ভিড় বাড়ছে তাতে কি মহামারি আগের চাইতে ভয়ংকর হতে পারে? বাংলাদেশে এই ভাইরাস দেখা দিলেও মানুষের ভেতরে সচেতনতা তো বাড়েই নি, বরং কমেছে। তাই মানুষের এই উদাসীনতা নিয়ে বেশ শঙ্কায় আছি।''
আপনির ঠিকই বলেছেন মি. শামীম উদ্দিন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই দ্বিতীয় অধ্যায় আসলেই উদ্বেগজনক। ব্রিটেনে এখন রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, এবং বুধবারেই প্রায় পুরো দেশকে কার্যত লকডাউনে দেয়া হয়েছে। তবে চীন থেকে ব্রিটেন পর্যন্ত সব দেশেই আমরা যেটা দেখলাম, এই মহামারী মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা ছিল সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বিষয়টি যত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে, যত গুরুত্বের সাথে জনগণকে তথ্য দিয়েছে এবং যত কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগ করেছে, ততই তারা মহামারী নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। মানুষ যখন দেখে সব কিছু স্বাভাবিক ভাবে চলছে এবং সরকার তেমন উদ্বেগ প্রকাশ করছে না, তখন তারাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাকে প্রয়োজনীয় মনে করে না।

ছবির উৎস, Getty Images
করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার যা ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে লিখেছেন রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:
''করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বন্ধ। অনলাইনে ক্লাস চললেও, সেটি যে স্বাভাবিক শিক্ষা পদ্ধতির পুরোপুরি বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি ,সে কথা এখন মানতেই হবে। আমি ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। অনলাইন ক্লাসে আমি নিজেও অভ্যস্ত নই । শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নূতন বছরের ছুটি আর বাড়ানো উচিত হবে না বলে আমি বা আমার মত হাজারো শিক্ষার্থী মনে করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদে বিভিন্ন কল কারখানা,অফিস,আদালত সহ সব প্রতিষ্ঠানই যে যার মতো চলছে। তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, "করোনা ভাইরাস কি শুধু স্কুল কলেজ গুলোতেই সংক্রমণ ঘটায়?"
বিষয়টি যে অত্যন্ত জটিল, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. ওলিউল্লাহ। এত দীর্ঘ সময় স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের যে ভয়ানক ক্ষতি হচ্ছে, তা সরকার কিভাবে পুষিয়ে নিতে পারবে? বলা মুশকিল। কিন্তু একই সাথে, সরকার হয়তো ভাবছে সব খুলে দিলে লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়ে এবং তাদের পরিবার নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে বাংলাদেশে যেহেতু অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সবাই গ্রহণ করতে পারে না, তাই যত শীঘ্র সম্ভব স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়বে বলে মনে হয়।

ছবির উৎস, Reuters
করোনাভাইরাস নিয়ে আরেকটি চিঠি, ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান লিখেছেন ইরান নিয়ে:
''বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় ২৯শে ডিসেম্বর প্রকাশিত " মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরানে নিজস্ব টিকা দিয়ে মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই" শীর্ষক খবরটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারি শুরু হওয়ার পর হতে ইরানে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে মারা গেছে এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক চিত্র।
''আসলে মহামারী করোনা ভাইরাসের এ চরম ক্রান্তিকালে যেখানে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন, সেখানে যত বড় শত্রুই হোক, ইরানের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে মার্কিন সরকার প্রমাণ করেছে তারা মুখে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বললেও, আসলে তারা খুবই নিচু প্রকৃতির মূল্যবোধ ধারণ করে।
''আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক অতি জরুরী টিকা আমদানি করতে পারছে না, যা অত্যন্ত অমানবিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্বেষমূলক আচরণের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। আমেরিকার মিত্র দেশগুলোও এক্ষেত্রে নীরব। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, মহামারীর সময় এ ধরণের আচরণ কোন ক্রমেই কাম্য নয়।''
আমেরিকা যেহেতু বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বিশাল প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম, তাই তারা যখন কোন দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেটা সেই দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়। তবে অন্যের সমালোচনার কারণে আমেরিকা তার ইরান নীতি পরিবর্তন করবে বলে মনে হয় না। ইরানের সাথে আমেরিকার বিবাদ সেই ১৯৭৯ সাল থেকে, যখন ইসলামী বিপ্লবীরা তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল করে তাদের কূটনীতিকদের প্রায় দু'বছর আটক করে রেখেছিল। আমেরিকা সেই অপমান ভুলতে পারে নি, এবং তেহরানের সাথে তাদের সম্পর্ক সব সময় সেই অভিজ্ঞতার আলোকে করা হয় বলে আমার মনে হয়।

ছবির উৎস, Reuters
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে করোনাভাইরাসের মত আরেকটি ব্যাধি মহামারী আকারে চলছে দীর্ঘ দিন ধরে, আর সেটা হল নারী বিদ্বেষ। সে বিষয়ে লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিস আক্তার:
''ঘরে-বাইরে সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে আজ নারীরা। শিক্ষায়-দীক্ষায় নারীদের এগিয়ে যাওয়া চোখে পড়ার মত। কিন্তু তারপরও ঘরের বাইরে নতুন নতুন হয়রানি, যৌন হয়রানি কিংবা শারীরিক-মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয় আমাদের। কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায় সর্বক্ষেত্রেই তির্যক চাহনি, বাঁকা হাসি, বিদ্রূপ যেন আমাদের পিছু ছাড়ছেই না। কিন্তু কেন?
''আমার মনে হয়, নারীদের যে আচরণগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে সেটা একটা সাবলীল আচরণ। কিন্তু পুরুষরা সেটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে চায় না। পুরুষরা মেয়েদেরকে একটা নির্দিষ্ট আচরণিক গণ্ডির মধ্যেই দেখতে পছন্দ করে। এর বাইরে যদি কোনো মেয়ে কোনো আচরণ করে তখন সেটা তারা মেনে নিতে পারেন না। এমনকি আমাদের দেশে যারা নাগরিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত তারাও এটা মেনে নিতে চান না। কিন্তু আমরা মেয়েরা কি সেই সনাতনী পুরনো ধাঁচেই চলতে থাকবে? সেটাতো হতে পারে না।''
অবশ্যই হতে পারে না মিস আক্তার। নারী-বিদ্বেষ অনেক পুরুষের মনে একটি জটিল রোগের মত বসে আছে। এক সময় পশ্চিমা বিশ্বেও এরকম অবস্থা ছিল। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির সাথে আইন করে নানা ধরনের নারী বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে সমান অধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কাজ এখনো চলছে। স্কুলে বাচ্চাদের অল্প বয়স থেকে একে অপরকে সম্মান করতে শিক্ষা দেয়া হয়। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে নারী বিদ্বেষী বা হয়রানী মূলক আচরণ রোধে বিভিন্ন নিয়ম করেছে। বাংলাদেশেও এরকম বহুমুখী প্রচেষ্টা দরকার।

এবারে ভারতের একটি প্রসঙ্গে আসি, লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় স্ত্রীকে ডিভোর্সের নোটিস পাঠিয়েছেন একজন ভারতীয় এমপি, যিনি বিজেপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে তার নির্বাচনে জেতার ক্ষেত্রে স্ত্রীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বেশি। এহেন স্ত্রীকে যিনি ত্যাগ করতে পারেন শুধুমাত্র মতের বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য, তিনি কি করে অন্য একজন সাধারণ মানুষের দ্বিমত সহ্য করবেন?''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. সাঈদ। হয়তো ভিন্ন মত নিয়ে এই বিজেপি এমপির কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তিনি জমিদারী স্টাইলে পরিবারের ভেতরে সবাইকে, বিশেষ করে স্ত্রীকে, তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। তাই ঘরের বাইরে যে যা রাজনীতিই করুক না কেন, তিনি ঘরের ভেতরে দ্বিমত বা প্রতিপক্ষ দলের রাজনীতি বরদাস্ত করবেন না। তাকে কী বলে অভিহিত করা যায়, তা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।

যাই হোক, এবারে দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশের দু'জন কিংবদন্তী নেতাকে নিয়ে দুটো চিঠি, প্রথমে লিখেছেন ফরিদপুরের মধুখালী থেকে কামাল হোসাইন:
''বর্তমানে চলছে মুজিব বর্ষ। এটি এখন বৃদ্ধি পেয়ে আগামী বছরের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। বিবিসি ২০০৪ সালে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচনে শ্রোতাদের মাঝে জরিপ চালিয়ে ছিল। চলতি মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আমার অনুরোধ, যারা সেদিন বঙ্গবন্ধু কে ভোট দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচন করেছিলেন, তাদের নাম, উপজেলা, জেলা সহ তালিকা প্রকাশ করার জন্য। যদিও সেসময় মেইল ছিল না, তাই তালিকা আছে কি না সেটাও জানি না। তবে যদি থাকে তাহলে আশাকরি প্রকাশ করবেন।''
সেরকম কোন তালিকা নেই মি. হোসাইন। আর থাকলেও আমরা সেটা প্রকাশ করতে পারতাম না, কারণ কারো কাছ থেকেই নাম ঠিকানা প্রকাশ করার অনুমতি নেয়া হয়নি। তাছাড়া, কারা ভোট দিয়েছিলেন, তাদের নাম দিয়ে কী হবে? আপনার মত তারা সবাই বিবিসি বাংলার শ্রোতা ছিলেন। তারা রেডিওতে জরিপের ঘোষণা শুনো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাদের বাছাই করা পাঁচ জনের নাম ক্রমানুসারে লিখে চিঠি এবং পোস্ট কার্ডের মাধ্যমে আমাদের পাঠিয়েছিলেন। আমরা তাদের ভোট অনুযায়ী কুড়ি জন শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকা তৈরি করি।

ছবির উৎস, Getty Images
সেই শ্রেষ্ঠ বাঙালি তালিকার পাঁচ নাম্বার স্থানে ছিলেন ভারতীয় ব্রিটিশ-বিরোধী নেতা সুভাষ চন্দ্র বোস। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি:
''নেতাজী সুভাস বোস সমগ্র জীবন জেল জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছেন। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের আগ মুহূর্তে নেতাজী হারিয়ে যান। এই বিষয়ে আমরা নানা রকম কথা শুনতে পাই। কোন কোন গবেষক দাবি করেন, নেতাজী বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আবার অন্যরা বলেন ভিন্ন কথা। আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যম বিবিসি বাংলার আর্কাইভ অনেক সমৃদ্ধ। আমি আশা করি নেতাজী কিভাবে মারা যান, তার সঠিক তথ্য বিবিসি বাংলা প্রচার করবে।''
সুভাষ বোস নিয়ে অনেক প্রতিবেদনই অতীতে প্রচার করা হয়েছে মি. বিল্লাল, কিন্তু বিমান দুর্ঘটনা ছাড়া অন্য কোন ভাবে তার মৃত্যু সম্পর্কে কোন তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। ভারতে অনেক গবেষক আছেন যারা এখনো তাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সময় ছিল, ভারতে অনেকে ভাবতেন বা আশা করতেন যে সুভাষ বোস বেঁচে আছেন। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ শেষের ৭৫ বছর পর সেই আশা ধরে রাখা একেবারেই অবাস্তব।
এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে দু'একটি চিঠি। প্রথমে লিখেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে শফিকুল ইসলাম:
''কিছু দিন ধরে বিবিসি বাংলার রাতের অধিবেশন পরিক্রমায় বিশ্ব সংবাদে মাসুদ হাসান খান,(বিশ্ব সংবাদ পড়ছি)কথাটি ধীরলয় ভাবে বা থেমে থেমে পড়ার মতো করে বলে। এটা কি বিবিসি বাংলার নতুনত্ব,না কি ভাষাতত্ত্বের উচ্চারণে নতুন মাত্রা?''
দুটোর কোনটাই না মি. ইসলাম। বিশ্ব সংবাদ বুলেটিন একটু ধীর লয়ে বলার স্টাইল বিবিসির অনেক দিনের প্রচলিত। মূল অনুষ্ঠান উপস্থাপনের সময় মাসুদ যে গতি এবং ভঙ্গিতে কথা বলেন, তা থেকে বিশ্ব সংবাদের পাঠ অবশ্যই ভিন্ন হতে হবে। সেজন্যই তিনি একটু ধীর লয়ে শুরু করেন।
পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার মানিকগঞ্জ থেকে অরবিন্দ রায়:
''বিবিসিতে ২৫ শে ডিসেম্বরের প্রবাহ, পরিক্রমা শুনে হতাশ হলাম। বিবিসি বাংলা ঈদ-উল ফিতর বা ঈদ-উল আযহার দিনে প্রচারিত প্রবাহ, পরিক্রমায় শুরুতেই সঞ্চালক শ্রোতাদের ঈদ মোবারক জানিয়ে থাকে। কিন্তু অন্য কোন ধর্মের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনে প্রচারিত প্রবাহ, পরিক্রমায় কোন ধরনের শুভেচ্ছা জানানো হয় না। এক্ষেত্রে কি সঞ্চালকের ধর্মীয় পরিচয়/বিশ্বাস অনুযায়ী শুভেচ্ছা জানানো হয় নাকি সংখ্যা গরিষ্ঠের ধর্ম বিবেচনা করা হয়?''
আপনি কথাটা ঠিক বলেন নি, মি. বায়। বিবিসি বাংলায় আমরা সাধারণত ঈদ, দুর্গা পূজা, বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকি। তবে এ'বছর ২৫শে ডিসেম্বর ভুলবশত: সেটা হয়নি।
সব শেষে নতুন একটি দিবস চালু করার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর এক যোগে সকল মানবজাতির পক্ষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে 'কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দিবস' পালন করার প্রস্তাব জানাচ্ছি আমি। মানুষের মাঝে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করাই হবে এর মূল লক্ষ্য। এজন্য বিভিন্ন দিবসের ন্যায় হিংসামুক্ত বিশ্ব সম্প্রীতি দিবসও পালন করা যেতে পারে।''
আমি লক্ষ্য করছি, আপনি দিনটাকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণার দাবীও জানান নি মি. ইসলাম। সেটা জানালে হয়তো অনেক বেশি সমর্থন পেতেন। কিন্তু ছুটি ছাড়া আরো একটি দিবস পালনের জন্য কত আগ্রহ থাকবে, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। যাই হোক, নতুন দিবসের অগ্রিম শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোরাদাইর, গোপালগঞ্জ।
গোলাম মুকতাদির বাপ্পি, ঢাকা।
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
মুকুল সরদার, দাকোপ, খুলনা।
শাহীন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।
আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা, খুলনা।
শাহ আলম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
মোহাম্মদ রেজাউল রহিম, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।








