আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: ভাস্কর্য, প্রশাসন আর রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্কে সম্প্রতি মতামত রেখেছেন দেশের প্রশাসনিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা, যা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন সন্দ্বীপের ওসমানীয়া থেকে মুহাম্মদ শামিমুল হক মামুন:
''বারোই ডিসেম্বর বিবিসি বাংলার প্রবাহের প্রধান খবরে বাংলাদেশে সরকারি আমলাদের ২৯টি ক্যাডার এর নজিরবিহীন এক সমাবেশ থেকে পুলিশ বাহিনীর প্রধান বেনজির আহমেদ বলেন, আমার দেশের স্বাধীনতা,আমার দেশের সংবিধান, আমার রাষ্ট্র, আমার রাষ্ট্রের জনক, নো বডি কেন টাচ দেম।
আমি মনে করি আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশ সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। বিচারকদের চেতনা হবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। নাগরিক সমাজে বিবদমান নানা পক্ষের মানুষ বিবাদ মীমাংসার জন্য আদালত ও প্রশাসনেরই শরণাপন্ন হয়। তারাই যদি কোন এক পক্ষ নিয়ে এ'জাতীয় সমাবেশ করে তাহলে অন্য পক্ষের কথা কে শুনবে ?
দেশে কোন নাগরিক সংবিধান বিরোধী কাজ করলে, সংবিধান সমুন্নত রাখতে তাদের আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু সেটি না করে কী দাবি নিয়ে তারা সমাবেশ করলেন? উনত্রিশটি ক্যাডার কর্মকর্তা কার বিরুদ্ধে মাঠে নামলেন? তারা কার কাছে দাবি জানালেন? কাকে হুমকি দিলেন? কাকে প্রতিপক্ষ বানালেন?''
সরকারি কর্মকর্তাদের সভা নিয়ে আপনি যে প্রশ্নগুলো করেছেন, সে সব প্রশ্ন অবশ্যই তোলা যায় মি. হক, কিন্তু সেগুলোর উত্তর যে আমার কাছে আছে তা আমি বলবো না। তবে এটুকু বলা যায়, তারা শেখ মুজিবের ভাস্কর্য সরানোর দাবিটাকেই রাষ্ট্রর আদর্শের পরিপন্থী বলে গণ্য করছেন, এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে তার বিরুদ্ধে মতামত তুলে ধরাকে তাদের দায়িত্ব মনে করছেন। আপনি এখানে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, কিন্তু আমার মনে হয় তারা সেভাবেই বিষয়টি দেখছেন।
যারা ভাস্কর্য সরানোর দাবি করছেন, তারা আদালত বা প্রশাসনের শরণাপন্ন হবেন বলে আমার মনে হয় না, কারণ তারা তাদের দাবির পক্ষে ধর্মীয় অনুশাসনের কথা বলছেন। অন্যদিকে যারা এই দাবির বিরোধিতা করছে, তারা বাঙালি জাতীর সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যর পাশাপাশি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের কথা বলছেন। তবে এটা ঠিক, গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর, এবং সম্ভবত ২৯টি ক্যাডারের সদস্যরা ভাস্কর্য বিরোধীদের একটি সতর্ক বার্তা দিতে চেয়েছেন।
প্রশাসনের সেরকম একটি ভূমিকা আশা করে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরির ক্ষেত্রে বিরোধিতা করছেন তারা কি জানেন না বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। যেমন- তুরস্ক, ইরান, ইরাক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন ইত্যাদি। অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে ভাস্কর্য থাকলে, বাংলাদেশে থাকবে না কেন? কেনই বা বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক উঠবে?
''আমার মতে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে ক্ষত-বিক্ষত করার এ এক গভীর ষড়যন্ত্র। আশা করছি, ভাস্কর্য-বিরোধী অপতৎপরতা প্রতিহত করতে প্রশাসনের জোর নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি এখানকার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনও সোচ্চার হয়ে উঠবে।''
প্রশাসন অবশ্যই সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, আইন-সম্মত ভাবে কাজ করবে, সেটাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হল ,সরকার কী ধরণের সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ঝুঁকি কতটুকু। তবে বিষয়টা শুধু শেখ মুজিবের ভাস্কর্য নিয়েই না, মি. ইসলাম, এখানে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ দিক-নির্দেশনাও মিশে আছে।
যুক্তিসঙ্গত কারণেই সবার দৃষ্টি এখন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকে, তারা কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তার দিকে। সেখানে একটি গোঁজামিলের আভাস পাচ্ছেন ঢাকার শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হেফাজতের আলোচনা হয়ে গেল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন সংবিধান পরিপন্থী কোন দাবি মানা হবে না এবং ধর্মকেও অবমাননা করা হবে না। অথচ, হেফাজতের প্রধান দাবি ভাস্কর্য নির্মাণ করা যাবে না, আর ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলাম ধর্ম বিরোধী।
''তাহলে কি সরকার হাই কোর্ট চত্বরের গ্রীক দেবীর ভাস্কর্যের ন্যায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ অন্যত্র করে তাদের দাবি অনুযায়ী মুজিব মিনার তৈরি করে দিবেন? সরকারকে মনে রাখা উচিত বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করে একমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার লোভে হেফাজতের সাথে আপোষ, কোন মঙ্গল বয়ে আনবে না।''
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাস্কর্য বিষয়ে হেফাজতের সাথে আলোচনার কথা বলেছে ঠিকই মি. শামীম উদ্দিন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ই ডিসেম্বর তার ভাষণে এ'বিষয়ে কোন আপোষের বিন্দুমাত্র আভাস দেননি। তাহলে সরকার কোন দিকে যাচ্ছে তা বলা সহজ না। সরকার অনড় হলে হেফাজতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, সে ব্যাপারে তারাও কোন কথা বলছেন না। দেখে মনে হচ্ছে, দু'পক্ষই অপেক্ষা করছে অন্য পক্ষ কী করে, সেটা দেখার।
তবে রংপুরের পার্বতীপুর দোলাপাড়া থেকে মোহাম্মদ লিয়াকত আলী বলছেন, পুরো জিনিসটাই একটি সরকারি ফাঁদ:
''যেহেতু বাংলাদেশে এখন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে, ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বর্তমান সরকারকে গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। আমার মনে হয়, একারণে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে।
''বাংলাদেশের আলেম ওলামাকে উসকে দিয়েছে যাতে তারা বিদেশী দূতাবাসকে বোঝাতে সক্ষম হয় তারা যদি গণতন্ত্র বা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয় তাহলে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হতে পারে। আর বাংলাদেশে কিছু আলেম আছে যারা রাজনীতি একটু কম বোঝে। তারা কী করলো? তারা সরকারের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে বসলো। সরকারও এখানে জিতে গেল।''
আপনার কথা কিছুটা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মত শোনাচ্ছে মি. আলী। হেফাজতে ইসলামীর নেতারাই কিন্তু শেখ মুজিবের ভাস্কর্যকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। সরকারও নিশ্চয়ই জানে যে, এখানে আপোষ করার মানে হচ্ছে, বাংলাদেশের ভাস্কর্যসহ গোটা চারুকলা শিল্পে মুক্ত চিন্তা বিকাশের ক্ষেত্র মারাত্মক ভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। কাজেই এই বিতর্ক কোন ষড়যন্ত্রের অংশ, একথা প্রমাণ ছাড়া বলা ঠিক হবে না।
ভাস্কর্য নিয়ে বিবিসি বাংলার রিপোর্টিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, তবে তিনি কোথা লিখছেন তা জানান নি:
''বর্তমানে ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সহ সারাদেশ সরগরম। তবে বিবিসি তথাকথিত কিছু সচেতন মানুষ নিয়ে ভাস্কর্যর পক্ষে মত ব্যক্ত করেন। তবে বিবিসির উচিত বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের দাবি একটিবার হলেও সেটা বিবেচনা করা উচিত। বিবিসি যেসব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে থাকে তাদের ধর্ম সম্বন্ধে বিশেষ কোনো ধারণা নেই। তাদের পাশাপাশি একজন ইসলামী বিশেষজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত।''
আমাদের সব রিপোর্টেই ইসলামী সংগঠনগুলোর বক্তব্য তুলে ধরা হয় মি. আলম। কিন্তু মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যর সাথে তাদের বক্তব্যর জন্য বহু চেষ্টা করেও কেউ কথা বলতে রাজি হন নি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ওপর ইসলামী সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া চেয়েও কেউ কথা বলতে চান নি। তবে আমরা কোন কোন বিশেষজ্ঞর সাক্ষাৎকার নেই যাদের ইসলামী জ্ঞান হয়তো নেই, কিন্তু তাদেরকে এই বিতর্কের রাজনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়।
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। একটি মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''হবিগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানকে পাবার মামলায় হেরে যাবার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম। যেহেতু স্ত্রী তার স্বামীর সাথে না গিয়ে বাবা মায়ের সাথে যেতে চেয়েছেন, আদালত সেভাবেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। প্রশ্ন হল, এমন স্পর্শকাতর বিষয়গুলো কি শুধুমাত্র আদালতের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া যুক্তিসঙ্গত, নাকি কাউন্সেলিং-এর মত পথও বিবেচনায় আনা যেতে পারে? তাছাড়া এমন বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিতে আরো সংবেদনশীল হওয়ার সুযোগ আছে কি?''
এটা খুবই জটিল বিষয় মি. সাঈদ। বাংলাদেশে মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নিয়ে অনেক মানুষই ভোগেন কিন্তু তাদের চিকিৎসার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায় না বলেই মনে হয়। পারিবারিক অশান্তি বা সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার মত ঘটনা প্রতিরোধে পেশাদারী কোন কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা বা সেবা আছে কি না, তাও আমি জানি না। তবে ডিভোর্স বা বাচ্চা কার সাথে থাকবে, এসব বিতর্কর মীমাংসা করতে আদালতে যাওয়া বিরল ঘটনা না। বিরল হচ্ছে আত্মহত্যার ঘটনাটি।
ভারতের একটি প্রসঙ্গ নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''সম্প্রতি ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের জন্য দাবি তোলা হয়েছে। বাংলাদেশেও মাঝে-মধ্যে এমন দাবি ওঠে। রবি ঠাকুরের লেখা গান বলেই হয়তো বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের দাবি তোলেন কেউ কেউ। কিন্তু ভারতে এমন দাবি কেন তোলা হচ্ছে ঠিক বুঝতে পারি না। বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে দেশের জাতীয় সংগীতে পরিবর্তন আনার দাবি হাস্যকর বলেই মনে হয়। তারচেয়েও বড় কথা "জন গন মন" গানের চেয়ে খুব প্রাসঙ্গিক গান আর কী হতে পারে ভারতের জাতীয় সংগীত?''
ভাল বিষয়ের অবতারণা করেছেন মি. সরদার, তবে বাংলাদেশের জন্য হয়তো খুব একটা প্রাসঙ্গিক না। যাই হোক, 'জনগনমন' নিয়ে অনেক দিন ধরেই ভারতে একটি বিতর্ক আছে। কেউ কেউ মনে করেন, গানটি ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জকে বন্দনা করে লেখা, যে কারণে তারা সেই গানকে স্বাধীন প্রজাতন্ত্রর জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে উপযুক্ত মনে করেন না। তবে অনেকেই সেই ধারণা সঠিক নয় বলে দাবি করে বলেছেন, ১৯১১ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের যে সভায় গানটি প্রথমে 'ভারত ভাগ্য বিধাতা' হিসেবে গাওয়া হয়, সেই সভায় ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জ-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল এবং তার বন্দনা করে অন্য একটি গান গাওয়া হয়।
বিভ্রান্তির কারণ হচ্ছে, পরের দিন কয়েকটি পত্রিকা 'ভারত ভাগ্য বিধাতা'কেই বন্দনাসূচক গান বলে অভিহিত করেছিল। তবে বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়াম সোয়ামি গানটি বদলাতে বলছেন না, তিনি গানের কয়েকটি লাইনে পরিবর্তন আনতে চাইছেন যেটা আরো বিস্ময়কর একটি দাবি।
আর বাংলাদেশে যারা জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তন চান তারা কিন্তু অন্য যুক্তি দেখান। তাদের মতে রবীন্দ্রনাথ গানটি ১৯০৫ সালে লিখেছিলেন ব্রিটিশদের বঙ্গ ভঙ্গ নীতির প্রতিবাদে। তখন বঙ্গ ভঙ্গের ফলে পশ্চিম এবং পূর্ব বঙ্গ আলাদা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশ যেহেতু সেই পূর্ব বঙ্গের ওপর ভিত্তি করেই গঠন করা হয়েছে, তাই তারা মনে করেন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে 'আমার সোনার বাংলা' উপযুক্ত না। কিন্তু জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের দাবি বাংলাদেশে খুব একটা সুবিধা করতে পেরেছে বলে মনে হয় না।
তবে আমার মনে হয়, যখন একটি ঐতিহাসিক গান, যেটা একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছিল, সেটাকে আধুনিক স্বাধীন দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন মতবিরোধ বা বিতর্ক হতেই পারে। সেই মতবিরোধ মুক্তচিন্তা এবং বাক স্বাধীনতার আলোকেই মূল্যায়ন করা উচিত।
এবারে ভিন্ন বিষয়ে যাই। সরকারি হেফাজত থেকে তরুণদের পলায়ন নিয়ে লিখেছেন সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি:
''সম্প্রতি যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে আট জন কিশোরের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পূর্বে এ কেন্দ্র থেকে কিশোরদের পালানোর নজিরও রয়েছে। চলতি বছরের অগাস্ট মাসে এ কেন্দ্রে কর্মচারীদের নির্যাতনে ৩ জন কিশোরের মৃত্যুর মতো জঘন্য ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে।
''অন্যদিকে গত ৪ ডিসেম্বর ফরিদপুর সেফ হোম থেকে ৭ জন তরুণী পালানোর ঘটনাও গণমাধ্যমে এসেছে। আবার কারাগারের মতো সুরক্ষিত জায়গা থেকে কয়েদি পালানোর ঘটনাও ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি। এভাবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা এ সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার বিষয়কে কি প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে না?''
আপনি নিশ্চয়ই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রর সাথে কারাগারের তুলনা করছেন না মি. হক? কারাগারে কঠোর নিরাপত্তা থাকাই বাঞ্ছনীয়, কিন্তু একই কথা কি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের জন্য প্রযোজ্য? আর একটি সেফ হোম থেকে যখন তরুণী পালিয়ে যায়, তখন আমাদেরকে নিশ্চয়ই প্রশ্ন করতে হবে, কী হচ্ছিল ওখানে, যা তরুণীদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করে? আমার মনে হয় এখানে নিরাপত্তার চেয়ে কেন্দ্রগুলি পরিচালনার ধরনটা তদন্ত করা দরকার।
এবারে একটি মৌসুমি চিঠি। শীতের মৌসুমে সড়ক-মহাসড়কে ঝুঁকি যে অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়, সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিছ আক্তার:
''প্রতি বছর শীতকালে নানা ধরনের ভোগান্তি আর দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় জনসাধারণকে। শীতকালে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে চারপাশ। কখনও কখনও স্বল্প দূরত্বে থাকা কোনো কিছু স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। কিছু কিছু সড়কে বাতি জ্বালানো থাকলেও সেগুলো খুব বেশি কাজে আসে না। ফলে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে প্রায়শই দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। এ ছাড়া শীতে সড়কে চুরি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধকর্মও বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রে চালকদের অধিক সচেতন থাকা দরকার। এর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এবং অপরাধ দমনে সড়ক-মহাসড়কে প্রশাসনিক টহল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অবশ্যই বৃদ্ধি করতে হবে।''
গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন মিস আক্তার। বিশ্বের সব দেশেই শীতের সময় সড়ক বিপজ্জনক হয়ে উঠে - কোথাও কুয়াশার কারণে, আবার কোথায় বরফ-এর কারণে। সেখানে অবশ্যই উচিত যানবাহনের গতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং গাড়ির লাইট, ব্রেক সব ঠিক আছে কি না সেটা নিয়মিত চেক করা। তবে, এখানে বড় অংকের জরিমানা বা লাইসেন্স বাতিলের শাস্তি না থাকলে অনেকেই নিয়মের তোয়াক্কা করবে না।
আমাদের নিজস্ব পরিবেশনার একটি দিক নিয়ে লিখেছেন খুলনার বয়রা আবাসিক এলাকা থেকে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম:
''বিবিসি এখন শুধু শুনি না,দেখি ,পড়ি উপভোগ করি। প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট আসল ছবি তো থাকছেই, তাছাড়া ইমাজিনারী আইটেমগুলোকেও অদ্ভুত সব প্রতীকী ছবি দিয়ে স্পষ্ট করে তোলা হয়। তবে কখনো কখনো এশীয় কালচারের ভাব-ব্যঞ্জনায় ইউরোপীয় ছবি দেওয়া হয়। যুতসই ছবি সংযোজন কী প্রতিবেদকের নিজস্ব কৃতিত্ব না সম্পাদকীয় বিভাগের?''
ওয়েবসাইটে ছবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং আমরা চেষ্টা করি প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে ছবি ব্যবহার করতে। কিন্তু আপনি যেমন বলছেন, অনেক সময় সেটা হয়ে উঠে না। এটা আমাদের ব্যর্থতা। ছবি প্রাথমিক ভাবে প্রতিবেদকই বাছাই করেন কিন্তু পরবর্তীতে যিনি পাতা প্রকাশ করেন, সে ছবি বদলানোর ক্ষমতা তার থাকে।
সব শেষে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে আরেকটি চিঠি, লিখেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী:
"বিবিসি যে বুধবারে ফোন ইন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করলো,কেন যে বুঝলাম না,করোনা কি পৃথিবী থেকে কি গেছে? তাহলে বিবিসি থেকে যে ফোন ইন অনুষ্ঠান গুলো হয়, গ্রামের মানুষ অনেক কিছু জানতে পারছে।বর্তমানে সোমবারে ও বুধবারে ফোন ইন অনুষ্ঠান দুইটি ছিল খুব গুরুত্বর্পূণ।''
আমি আপনার সাথে একমত মি. চক্রবর্তী যে, ফোন-ইন দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খেলা-ধুলার একটি ফিচার আমাদের ফিরিয়ে আনতেই হল। তাছাড়া, সোমবারের ফোন-ইন বাদ পড়ছে না, কাজেই সবাই করোনাভাইরাস বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে তাদের প্রশ্ন আমাদের অতিথির কাছে করতে পারেন।