এডিটার'স মেইলবক্স: নারীর ধূমপান, ভাসানচর আর ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় একজন ধূমপায়ী নারী তার মোবাইল ফোন দেখছেন, ১৩/১১/২০২০।

ছবির উৎস, ADEM ALTAN

ছবির ক্যাপশান, ধূমপায়ী পুরুষের মত ধূমপায়ী নারীও কোন বিরল দৃশ্য না। এই ছবি তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় তোলা।
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

সিগারেট খাওয়ার কারণে একজন নারীকে হেনস্তা করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ে অনেক প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকা থেকে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নোবু:

''ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ধূমপানের কারণে একদল অতি সচেতন লোক নারীটিকে অপমান করছে এবং যাচ্ছেতাই বলছে। তাদের ধারণা নারী হয়ে ধূমপান করা অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ। এভাবে তো একটা সমাজ উচ্ছন্নে যাবে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, পুরুষরা যখন প্রকাশ্য দিবালোকে সিগারেটে সুখ টান মেরে আকাশ বাতাস ধোয়াচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন এই অতি সচেতন লোকগুলো কোথায় থাকে ? নাকি সে একজন নারী বলেই আপনারা এতো উচ্চবাচ্য করতে পারলেন?

''প্রকাশ্য ধূমপানের কারণে সমাজ যদি উচ্ছন্নে যায় তাহলে মেয়েদের চেয়ে এক্ষেত্রে পুরুষরাই বেশি দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস্)- অনুসারে, বাংলাদেশে ধূমপায়ীর বর্তমান সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লাখ। তবে পুরুষের ধূমপানের ফলে নারীদের পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার হার অনেক বেশি। ৩০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী কর্মস্থলে এবং ২১ শতাংশ নারী জনসমাগম স্থলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। অর্থাৎ, ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি নারী।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. ইসলাম। সিগারেট খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং সেটা কারো খাওয়া উচিত না। সেখানে লিঙ্গ বৈষম্য হবে কেন? মেয়েরা বিড়ি খেলে যা হয়, পুরুষরা খেলেও ঠিক তাই হয়। এখানে একজন ধূমপায়ীকে প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য হেনস্তা করা হয়নি। হেনস্তা করা হয়েছে একজন নারীকে, প্রকাশ্যে ধূমপানের সাহস দেখানোর জন্য। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে যে অনেক সময় নেয়, সেটা আবারো প্রমাণিত হল। আর আপনি পরোক্ষ ধূমপানের যে পরিসংখ্যান দিলেন, সেটা চোখ খুলে দেয়ার মত।

হলিউড তারকা লরেন বাকাল, ১৯৫০ এর দশকে

ছবির উৎস, John Engstead

ছবির ক্যাপশান, হলিউড তারকা লরেন বাকাল, ১৯৫০ এর দশকে: যখন সবার জন্য ধূমপান গ্ল্যামারাস ছিল।

এ বিষয়ে আরো লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিছ আক্তার:

''আমি ধূমপানের পক্ষপাতী নই, সেটা পুরুষ হোক কিংবা নারী। কিন্তু এখানে তিনি একজন নারী বলেই লঘু পাপে গুরুদণ্ড পেয়েছেন বলেই মনে হয়। যদি সমালোচনা করতে হয় বা আইনের আওতায় আনতেই হয়, তাহলে সবাইকে একসাথে তা আনতে হবে, হোক সে ছেলে বা মেয়ে। তবে এও ঠিক নারীর সৌন্দর্য নারীত্বের মধ্যেই বিদ‌্যমান, আধু‌নিকতার না‌মে এ ধরনের আচরণ কোনমতেই কাম্য নয়। ত‌বে প্রত্যেকের ব‌্যক্তি স্বাধীনতা‌কে সম্মান কর‌েই বলছি, জনসম্মুখে ধূমপান করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমাদের সমাজ ব্যবস্থার উপর সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত। এ ধরনের কাজ সামাজিক মূল্যবোধ পরিপন্থী এটা ভেবে নারী-পুরুষ সকলেরই উচিত প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে ধূমপান থেকে বিরত থাকা।''

এখানে আইন কোন বিষয় বলে আমার মনে হচ্ছে না মিস আক্তার। এখানে পরিষ্কার ভাবে নারী-বিদ্বেষী আচরণ দেখা যাচ্ছে। পুরুষ ধূমপান করলে সেটা মেনে নেয়া হয়, কিন্তু নারী করলে সেটা ঔদ্ধত্য হিসেবে দেখা হয়। সেজন্য, অনেক তরুণী প্রকাশ্যে ধূমপানকে নিজেদের স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবে দেখে। ধূমপান ক্ষতিকর জেনেও পুরুষতান্ত্রিক এই বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেই অনেক নারী প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। কাজেই, পুরুষের মানসিকতা বদলানো না পর্যন্ত নারীও প্রতিবাদের রাস্তা খুঁজতে থাকবে।

ভাস্কর্য-বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'রাজু ভাস্কর্য'র কাছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ, ০৬/১২/২০২০।

ছবির উৎস, MONIRUL ALAM

ছবির ক্যাপশান, ভাস্কর্য-বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'রাজু ভাস্কর্য'র কাছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ।

গত সপ্তাহের মত এ'সপ্তাহেও কয়েকটি চিঠি এসেছে বাংলাদেশের চলমান ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে। এই বিতর্ক এখন রাজনীতির মাঠে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

সে বিষয়ে প্রথম চিঠি লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যে পাল্টাপাল্টি উত্তপ্ত বিক্ষোভ চলছে, তাতে মনে হচ্ছে দুপক্ষই এই বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। তাছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকার ইতোমধ্যে ভাস্কর্য বিরোধী ইসলামী উগ্রপন্থীদের সাথে আলোচনার বিষয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের বিপক্ষ শক্তি এখন এই দলগুলোই। হয়তো ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের জন্য আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার যতটুকু শক্তি প্রয়োগ করে বিএনপি এবং জামাতকে দমন করেছে, ঠিক ততটুকু ভালোবাসা দিয়ে হেফাজতকে কাছে টেনেছে। এবারও যদি সরকার হেফাজতের কাছে নতি স্বীকার করে তাহলে ভবিষ্যতে সরকারের কলকাঠি নাড়বে এই ইসলামপন্থী উগ্র দলগুলোই। তখন আওয়ামী লীগ ও সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ধসে পড়বে।''

বিষয়টা যে বেশ জটিল তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. শামীম উদ্দিন। যখন হাই কোর্ট ভবনের সামনে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, তখন সেটা স্থানান্তর করে সমঝোতা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আপত্তিটা শুধু দেশের প্রতিষ্ঠাতা-রাষ্ট্রপতির ভাস্কর্য নিয়েই নয়। এখানে মৌলিক ধর্মীয় অনুশাসনের কথা বলা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠিত ভাস্কর্য টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেবার হুমকি দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইবে ঠিকই, কিন্তু সমাধানটা কী হবে? সমঝোতার রাস্তাটা কী? সরকারের ভেতরেও হয়তো এ'বিষয়ে একাধিক মত আছে।

ভাস্কর্য সরানোর দাবীতে ঢাকায় ইসলামপন্থীদের বিক্ষোভ।

ছবির উৎস, MONIRUL ALAM

ছবির ক্যাপশান, ভাস্কর্য সরানোর দাবীতে ঢাকায় ইসলামপন্থীদের বিক্ষোভ।

পরের চিঠি লিখেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ মাসুদ রানা:

''রাজাকার - আলবদররা স্বাধীনতা ঠেকাতে পারেনি, তেমনি ভাবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যও ঠেকাতে পারবে না। কিন্তু কোনটা ভাস্কর্য, আর কোনটা মূর্তি, এ নিয়ে কারো বক্তব্য থাকতেই পারে। এ নিয়ে কোরআন-হাদিসের ব্যাখ্যাও দিতে পারেন কেউ। এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, ব্যাখ্যাটা দিতে হবে ভালো করে জেনে । অতি সামান্য কিছু পড়ে বা এর - ওর কথা শুনে ব্যাখ্যা দেয়ার বিষয় এটা না। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশের আলেম সমাজকে কিছু মানুষ যে ভাষায় আক্রমণ করেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের কথা বলতে হবে কারো বক্তব্য নিয়ে। বক্তব্যের উত্তর দেওয়ার নামে বক্তার চরিত্র হনন বা তাকে হুমকি দেওয়া কতটা যৌক্তিক?''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. রানা, যে কারো বক্তব্যর জবাব শুধু পাল্টা বক্তব্য দিয়েই দেয়া উচিত, হুমকি-ধামকি দিয়ে নয়। অতীতে আমরা দেখেছি, কারো বক্তব্যকে ধর্মের অবমাননা বলে বর্ণনা করে তাদের হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে, অনেককে দেশ ছাড়া হতে হয়েছে। সেটা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি ভাস্কর্যর বিরুদ্ধে কোন ইসলামী বুদ্ধিজীবী কোন বক্তব্য দিলে তাকে আক্রমণের হুমকিও গ্রহণযোগ্য হবে না। মুক্ত চিন্তা এবং বাক স্বাধীনতাকে সম্মান করা একটি সভ্য এবং গণতান্ত্রিক সমাজের লক্ষণ।

ঢাকায় জাতীয় যাদুঘরের সামনে শেখ মুজিবের ভাস্কর্য।

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় শেখ মুজিবের ভাস্কর্যের সামনে এক পরিবারের আনন্দঘন মুহূর্ত।

পরের চিঠি লিখেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতাপ ভট্টাচার্য, তবে তিনি বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন নি:

''ভাস্কর্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারকস্বরূপ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ভাস্কর্য এবং বিশেষ করে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে প্রতিনিয়ত এসব ভাস্কর্যের অবমাননা হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার এবং যত্ন না নেবার দরু নির্মিত ভাস্কর্যসমূহ তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালি ঐতিহ্যের নিদর্শনস্বরূপ দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের পাশাপাশি যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণের আহ্বান করছি।''

এখানে আপনি বাংলাদেশের সরকারি ব্যবস্থাপনার একটি বড় ত্রুটির দিকে আঙুল তুলে ধরেছেন মি. ভট্টাচার্য। এসব স্থাপনা নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ হয়, লোকবল নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তারপর সেটার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়িত্ব কে নেয়? সেখানে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করা আছে কি? তদারকি করার দায়িত্ব কার? এখানে জবাবদিহিতার অভাব আছে বলে আমার মনে হয়।

বিবিসির অফিস প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ লেখক জর্জ অরওয়েল
ছবির ক্যাপশান, মূর্তি না ভাস্কর্য?: বিবিসির অফিস প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ লেখক জর্জ অরওয়েল

একই বিতর্কের জের ধরে ছোট একটি প্রশ্ন করেছেন পটুয়াখালীর মৌকরণ থেকে শাহীন তালুকদার:

''মূর্তি এবং ভাস্কর্য -র সংজ্ঞা নির্ভয়ে বলবেন কী?'

এই দুটি শব্দের অর্থ আপনি কোন নির্ভরযোগ্য অভিধান থেকে দেখে নিতে পারেন মি. তালুকদার।তবে আমার কাছে ভাস্কর্য একটি শিল্পকর্ম, যে শিল্পে কোন প্রাণী বা নিষ্প্রাণ বস্তু বা নকশাকে বিভিন্ন আকারে বানানো হয়। অন্যদিকে, মূর্তি হচ্ছে যে কোন নিষ্প্রাণ বস্তু বা খোদাই করা স্তম্ভ যাকে দেব-দেবী হিসেবে পূজা করা হয় বা যার অলৌকিক ক্ষমতা আছে বলে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ, কোন মূর্তিকে দেবতা গণ্য করে তার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে মূর্তি পূজা। অন্যদিকে, কোন শ্রদ্ধা বা ভালবাসার মানুষ বা প্রাণীকে সম্মান দেখানোর উদ্দেশ্যে তার প্রতিকৃতিকে ভাস্কর্য হিসেবে তৈরি করাটা শিল্পকর্মের পর্যায়ে পড়ে। লন্ডনে বিবিসির অফিসের বাইরেই আছে বিখ্যাত লেখক জর্জ অরওয়েলের বিশাল একটি পাথরে গাঁথা প্রতিকৃতি। এটাকে আপনি মূর্তি বা ভাস্কর্য যাই বলেন, এর কোন ধর্মীয় গুণ বা কার্যকারিতা নেই, এটার সামনে কোন প্রার্থনা বা পূজা করা হয় না। এটা শুধুই একটি শিল্পকর্ম।

ফাইযার-বায়োনটেকের কোভিড ভ্যাক্সিন পরিবহনের জন্য ড্রাই আইস দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে

ছবির উৎস, Remko de Waal

ছবির ক্যাপশান, ফাইযার-বায়োনটেকের কোভিড ভ্যাক্সিন পরিবহনের জন্য ড্রাই আইস দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে

এবার আসি করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে। ভ্যাক্সিন নিয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রা জেনেকা উদ্ভাবিত কোভিড-১৯-এর টিকার তিন কোটি ডোজ আমাদের দেশের সরকার কিনতে যাচ্ছে, যা মানুষকে বিনামূল্যে দেয়া হবে। আমাদের দেশে প্রথম ধাপে কত সংখ্যক মানুষের জন্য টিকা প্রয়োজন, কোন কোন উৎস থেকে তা আসবে - এসব চূড়ান্ত করার পাশাপাশি টিকা হাতে পাওয়ার পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই।

''টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণ কাজে লোকবল, সরঞ্জামসহ সামগ্রিক পরিকল্পনা এখনই ঠিক করে রাখা না হলে, অতীত অভিজ্ঞতায় বলছি পরবর্তী সময়ে পুরো বিষয়টির ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম দেখা দিতে পারে। টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর তালিকা প্রণয়নের পাশাপাশি টিকা প্রদানে বিভিন্ন পর্যায়ের মনিটরিং কমিটি গঠনের কাজটি মোটেও সহজ নয়। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রা জেনেকার ভ্যাকসিনসহ এ বিষয়ক অন্যান্য কার্যক্রমে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।''

বাংলাদেশে ২০০৭ সালের জাতীয় টিকা দিবসে শিশুকে পোলিও টিকা দেয়া হচ্ছে, ০৩/-৩/২০০৭।

ছবির উৎস, Majority World

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে ২০০৭ সালের জাতীয় টিকা দিবসে শিশুকে পোলিও টিকা দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের একটা বড় সুবিধা হচ্ছে মি. ইসলাম, সারা দেশে টিকা প্রদানের অভিজ্ঞতা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আছে। আপনার হয়তো মনে আছে ১৯৯০-এর দশকে এক দিনে লক্ষ লক্ষ শিশুকে পোলিওর টিকা দেয়া হত। করোনাভাইরাস কর্মসূচি আরো ব্যাপক হবে, তবে সেটা এক দিনে এক যোগে করা হবে না। তিন কোটি ডোজে মোট জনসংখ্যার একটি অংশকে টিকা দেয়া যাবে, কাজেই, কাদের অগ্রাধিকার দেয়া উচিত, কীভাবে তাদের কাছে টিকা পৌঁছে দেয়া হবে ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি হয়ে পড়বে।

সম্প্রতি প্রায় দু'হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচর দ্বীপে স্থানান্তর করা হয়। সে বিষয়ে কয়েকটি চিঠি এসেছে, প্রথমটি লিখেছেন সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি:

''হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও ফর্টিফাই রাইটস এর মতো তিনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের আপত্তির মুখে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কাউকে জোর করে ভাসানচরে নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক খবরে জানিয়েছে, শরণার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অনেক রোহিঙ্গাকেই জোর করে ভাসানচরে পাঠানো হচ্ছে। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতি কি রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করবে না? অন্যদিকে ইইউসহ আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীসমূহের সাহায্য প্রদানের অপারগতা ও আপত্তির মুখে এক লাখ রোহিঙ্গাকে অনির্দিষ্ট সময় ধরে খাওয়া-পরাসহ পুরো দায়িত্ব নেয়া সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে নয় কি?''

প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি পুকুর আছে।
ছবির ক্যাপশান, ভাসানচরে প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি করে পুকুর রয়েছে

তিন বছর পার হয়ে গেছে মি. হক কিন্তু তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এক পাও এগোয়নি। কাজেই দীর্ঘসূত্রিতা এমনিতেই হবে, তাদের ভাসানচরে পাঠানোর কারণে নতুন কোন বাধা সৃষ্টি হবে বলে আমার মনে হয় না। বরঞ্চ হয়তো বাংলাদেশ সরকার এই অচলাবস্থা থেকে বের হবার জন্যই ভাসানচরকে ব্যবহার করতে চাইছে। তবে আপনার শেষ কথাটা তো অবশ্যই সত্য ।

প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার ভরন-পোষণ যদি বাংলাদেশকেই করতে হয়, তাহলে তা সরকারের বাজেটের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। অবশ্য সরকার চেষ্টা করবে জাতিসংঘকে বোঝাতে যে মানবিক কারণেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের সাহায্য করা। এখানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দক্ষতা বা তার অভাবের প্রমাণ পাওয়া যাবে।

ভিডিওর ক্যাপশান, রোহিঙ্গা: ভাসানচরে না যেতে ক্যাম্পে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:  

''সানজানা চৌধুরীর প্রতিবেদন থেকে যেমনটা জানা গেছে, রোহিঙ্গারা ভাসানচরের আবাসন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গুলো বরাবরই ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিরোধিতা করছে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর বিরোধিতা করার পক্ষে মানবাধিকার সংস্থা গুলির কিছু যৌক্তিক কারণ হয়তো আছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করতে যতটা তৎপর রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে তাদের মধ্যে তেমন কোনো তৎপরতা কি আছে?''

তারা যে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না, তা নয় মি. সরদার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তারা রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায় ঠিকই, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মিয়ানমার এসব দাবি খুব একটা আমলে নেয় বলে মনে হয় না। ভাসানচরের আবাসন ব্যবস্থা যে কক্স বাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর চেয়ে উন্নত মানের, তা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। সমস্যা অন্য জায়গায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করে ভাসানচর এক ধরণের বন্দী শিবির এবং রোহিঙ্গাদের সেখানে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে।

টরন্টোতে আন্দোলনে সামিল শিখ মহিলারাও

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কানাডার টরন্টোতে ভারতীয় কৃষকদের আন্দোলনের সমর্থনে শিখ মহিলা

এবারে ভারতে চলমান কৃষক আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান: 

''বেশ কদিন যাবত বিবিসির খবরে শুনছি, ভারতে বিতর্কিত তিনটি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকরা গত দশ-বারো দিন ধরে যে তুমুল আন্দোলন করছে, তার প্রতি দুনিয়া জুড়ে প্রবাসী শিখ সম্প্রদায় স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানাচ্ছে। এমনকি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পর্যন্ত ভারতের কৃষক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের দাবিগুলোর প্রতি ইতোমধ্যে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু ভারতের বিজেপি সরকার কৃষক আন্দোলন ও দাবীগুলোকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে। তারা কৃষকদের দাবিগুলো নিয়ে গড়িমসি করছে। বিবিসির কাছে আমার প্রশ্ন, বিজেপি সরকার কেন কৃষকদের দাবিগুলো মানতে চাইছে না? এর কারণ কী?''

বিজেপি সরকার কৃষকদের আন্দোলনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, সে কথা হয়তো সঠিক ননা মি. রহমান। কিন্তু বিজেপি এখানে একটু বেকায়দায় আছে। যে কটি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকরা আন্দোলন করছে, সেগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে এই খাতে কর্পোরেট জগতের ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি করা। এই সংস্কার বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি বড় ব্যবসায়ীদের বন্ধু দল হিসেবে পরিচিত এবং কৃষি খাতে এই সংস্কার তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বিবেচিত হয়। কাজেই তারা চেষ্টা করবে যাতে এখানে কোন ছাড় না দিতে হয়। তবে এই আন্দোলনকে দমাতে হলে বিজেপিকে একটি বড় রাজনৈতিক মূল্যও দিতে হতে পারে।

সব শেষে, আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে একটি চিঠি, পাঠিয়েছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে মারিয়া কিবত্বীয়া ইসলাম:

''নয়ই ডিসেম্বর রাতের পরিক্রমা অধিবেশনে জানতে পারলাম, বিবিসি বাংলার বুধবারের ফোন ইনের পরিবর্তে খেলাধুলা নিয়ে নতুন একটি অনুষ্ঠান শুরু হতে যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহ থেকে। আমি এ পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলতে চাই, এর পাশাপাশি "এ সপ্তাহের সাক্ষাতকার" অনুষ্ঠানটি যদি ফিরিয়ে আনা যেত তবে আরও চমৎকার হত! যেকোন একটি কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বাদ দিয়ে সেটাকে ফিরিয়ে আনা যায় কি-না, তা একটু গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখবেন।''

সমস্যাট সেখানেই মারিয়া কিব্বতীয়া ইসলাম, সব ফিচারই তো সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। কোনটাকে কম গুরুত্বপূর্ণ ভাবা খুবই কঠিন কাজ। বুধবারের ফোন-ইনটা বাদ দেয়া সম্ভব হচ্ছে কারণ সোমবারে ফোন-ইনটা থাকছে, যেখানে করোনাভাইরাস ছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্য বিষয়ে শ্রোতারা প্রশ্ন করতে পারবেন। তবে দেখা যাক, আপনার প্রস্তাব আমরা বিবেচনায় রাখবো।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

আহসান হাবিব রাজু, সুকানদিঘি, লালমনিরহাট।

শাহীন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

গোলাম মুকতাদির, ঢাকা।

আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা, খুলনা।

ডালিম কুমার, দেবীগঞ্জ,পঞ্চগড়।

মিঠুন রায়, ঢাকা, বাংলাদেশ।