এডিটার'স মেইলবক্স: শেখ মুজিবের ভাস্কর্য আর সাকিব আল-হাসানের পূজা নিয়ে প্রশ্ন

সাকিব আল-হাসান

ছবির উৎস, Ashley Allen - CPL T20

ছবির ক্যাপশান, সাকিব আল-হাসান
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

বর্তমান সময়ে সাকিব আল-হাসান সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত তারকা। তার নামের আগে পরিচিতি হিসেবে ক্রিকেটার শব্দটি জুড়ে দেয়ারও আর কোন প্রয়োজন হয়না। এখন সেই সাকিব আল-হাসানকে ঘিরে শুরু হয়েছে ভিন্ন ধরনের একটি বিতর্ক।

সে বিষয় দিয়েই আজ শুরু করছি, প্রথম লিখেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ মাসুদ রানা:

''পবিত্র স্থানে সব ধর্মের মানুষই যেতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি সাকিব আল হাসান কলকাতায় কালী পূজা উদ্বোধন করা নিয়ে বেশ হৈচৈ পড়ে গেছে। সাকিব আল হাসান কালী পূজা উদ্বোধন যদিও করে থাকেন কিন্তু তিনি তো আর পূজা করেননি বা পূজা করতে কলকাতা যাননি। তাহলে বাংলাদেশে কথিত কিছু হুজুগে পাবলিক ফেসবুক লাইভে এসে এই বিশ্বসেরা ক্রিকেটারকে দা দেখিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয় কীভাবে? দেশ, জাতি তথা রাষ্ট্রের সম্পদ এরকম একজন বিশ্বসেরা ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা কোথায়?''

হয়তো নিরাপত্তা নেই বলেই সাকিব আল-হাসান পূজার অনুষ্ঠানের যাবার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন মি. রানা। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে ঐ পূজা অনুষ্ঠান তিনি উদ্বোধন করেননি, ওখানে একজন অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন। পূজা প্যান্ডেলের ছবি দেখেই বোঝা যায়, তিনি সেখানে একজন সম্মানিত অতিথি ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এটা নিয়ে আদৌ কেন বিতর্ক হল? বাংলাদেশে মুসলমানরা সব সময় পূজা দেখতে যান, তা নিয়ে কোন বিতর্ক থাকে না। পশ্চিমবঙ্গে পূজা আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হয় যেখানে ধর্মীয় আচারের সাথে সামাজিক উৎসবের দিক থাকে আরো বড়। সেখানে যেকোন ধর্মের মানুষ উৎসবে অংশ নিতে পারেন। তা নিয়ে বিতর্কই বা হবে কেন?

পূজা উদযাপন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের সঙ্গে সাকিব আল হাসান

ছবির উৎস, SUBROTO ACHARJEE

ছবির ক্যাপশান, পূজা উদযাপন অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করছেন সাকিব আল হাসান

এ প্রসঙ্গে আরো লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''বিবিসি বাংলা'র মাধ্যমে যতদূর জানতে পেরেছি, ফেসবুকে হত্যার হুমকি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা বিভাগ থেকে সাকিব আল হাসানের জন্য ব্যক্তিগত সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সাকিবকে হুমকি দেওয়ায় আমাদের প্রশাসনও তীব্রভাবে নড়েচড়ে উঠেছে।

''এ প্রসঙ্গে আমার অভিমত হল, দেশে যারাই একটু ভালো করে, বিশ্বে একটু পরিচিত লাভ করে, দেশকে রিপ্রেজেন্ট করে তাদেরকে যেকোন ভাবে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামানো হচ্ছে আমাদের কাজ। সাকিব বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। এই নিরাপত্তাটা তিনি অনেক আগে থেকেই ডিজার্ভ করেন। কোথাকার কোন তালুকদার ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার জন্য হুমকি দিলো - সে কি জানতো এরপর তার জন্য কারাগার অপেক্ষা করছে?''

আমার কেন জানি মনে হয় মি. ইসলাম, যিনি রামদা উঁচিয়ে হুমকি দিয়েছেন, তিনি ভাবতেও পারেননি তাকে এত দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। অনেকের মত হয়তো তিনিও ভেবেছেন ফেসবুকে এরকম কাজ করে পার পাওয়া যায়। যাই হোক, প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে ঠিকই, কিন্তু যে বিতর্ক সৃষ্টি হল সেটা থেকে সাকিব আল-হাসান কীভাবে বের হয়ে আসবেন সেটাই প্রশ্ন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগ্রামের ভাস্কর্য

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, মানব প্রতিকৃতিসহ ভাস্কর্য বাংলাদেশে বিরল নয়।

বাংলাদেশে আরেকটি বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, এবং তা হল ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধের দাবি নিয়ে। এ বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য/মূর্তি নিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলো যে প্রতিবাদ জানিয়েছে তা স্বাভাবিক। কারণ, তারা সেটাই অনুসরণ করে। তবে কথা হচ্ছে জাতির পিতা বাংলাদেশের স্থপতি'র ভাস্কর্য বাংলাদেশে স্থাপন করা হবে কি হবে না, তার সিদ্ধান্ত নিবেন তারই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আপনাদের প্রতিবেদনে সরকারের যে অস্বস্তির কথা বলা হয়েছে তা কতটুকু সত্য তা প্রকাশ পাবে খুব শিগগিরই।

''কেননা, আওয়ামী লীগে কালো সাপ প্রবেশ করেনি, বরং আওয়ামী লীগ জঙ্গল থেকে সাপ ঘরে নিয়ে এসেছে এবং তার লালন পালনও করছে। তার ফলও ক্রমে ক্রমে পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের চার মূলনীতিতে পরিবর্তনেও তারা হস্তক্ষেপ করবে সেটা সময়ের অপেক্ষায়। অতএব, আওয়ামী লীগ শুধু নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদেরও কাল হয়ে দাঁড়াবে এ গোষ্ঠী।''

সরকার যে অস্বস্তিতে আছে, তা বোঝা গেল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদেরের সতর্ক মন্তব্যে। তিনি ভাস্কর্য সরানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করেননি, সেই দাবির নিন্দাও জানাননি। শুধু বলেছেন তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে আমার মতে ভাস্কর্য সরানোর দাবি এখানেই থেমে থাকবে না। ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক ভাস্কর্য আছে যেখানে মানব প্রতিকৃতি রয়েছে। কাজেই, সরকার এখানে আদর্শ-ভিত্তিক অবস্থান নেবে, নাকি রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই বলে দেবে ভবিষ্যতের ঘটনাবলী কোন দিকে যাবে।

বুশ হাউসে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়: (বাঁ দিক থেকে) মিজান খান, সাবির মুস্তাফা, মানসী বড়ুয়া, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং জেসমিন আহমেদ।
ছবির ক্যাপশান, বুশ হাউসে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়: (বাঁ দিক থেকে) মিজান খান, সাবির মুস্তাফা, মানসী বড়ুয়া, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং জেসমিন আহমেদ।

অনেক দিন বিরতির পর চিঠি লিখেছেন খুলনা থেকে মুনির আহম্মদ। চিঠির শেষাংশে তিনি একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করেছেন যেটার উত্তর দেয়া জরুরি বলে আমার মনে হয়:

''আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে হয়তো আমরা সামনে কোনও একটা সময় এফএম ব্যান্ডে বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠান শুনতে পারবো না। কারণ সম্প্রতি বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠানে শর্টওয়েভ ফ্রিকুয়েন্সি প্রচার করছেন। এতদিন যা প্রচার করেননি। আমি অনেকবার অনুরোধ করেছি শর্টওয়েভ মিটার ব্যান্ড বেতারে প্রচারের জন্য, কিন্তু আপনারা গুরুত্ব দেননি। বুঝেছিলাম বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠানের বেতার সম্প্রচার হয়তবা রেডিও থেকে হারিয়ে যাবে, যেমন হারিয়ে গিয়েছে মস্কো রেডিও, ডয়েচে ভেলের বাংলা অনুষ্ঠান।

''তবুও আপনারা এখনও রেডিওতে আছেন এটাই আমাদের সৌভাগ্য। কিন্তু এতদিন পরে আবার আপনাদের শর্টওয়েভ ফ্রিকুয়েন্সি প্রচার আমার কাছে একটু হলেও আশংকার জন্ম দিয়েছে। ব্যয় সংকোচন বা প্রচার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হয়তো আপনারা বাংলাদেশ বেতারের সাথে এবারের চুক্তি শেষ হবার পরে আর নবায়ন করবেন না। তাই আগে ভাগেই শ্রোতাদের কাছে শর্টওয়েভ ফ্রিকুয়েন্সি জানিয়ে রাখছেন। জানিনা আসল কারণ কি। তবুও আমার আশংকা যেন মিথ্যা হয় এটাই কামনা করছি।''

অনেক দিন পরে লিখেছেন দেখে ভাল লাগছে মি. আহম্মদ। তবে আপনার ধারণা সঠিক নয়। বাংলাদেশে এফ এম সম্প্রচার বন্ধ করার কোন পরিকল্পনা বিবিসির নেই। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, প্রতি বছর শর্টওয়েভ ফ্রিকুয়েন্সি দু'বার পরিবর্তন হয়, মার্চ এবং অক্টোবর মাসে। তখন আমরা কয়েক সপ্তাহের জন্য পরিবর্তিত তরঙ্গগুলো শ্রোতাদের জানিয়ে দেই। এবারও কোন ব্যতিক্রম হয়নি।

তবে অনেক কিছু নির্ভর করবে শ্রোতা সংখ্যার ওপর। রেডিওর যদি শ্রোতা না থাকে, তাহলে সম্প্রচার করে কী লাভ হবে?

বারাক ওবামা

ছবির উৎস, Joe Raedle

ছবির ক্যাপশান, বারাক ওবামা

এবার তাকাই বহির্বিশ্বের দিকে। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আত্মজীবনী নিয়ে সোমবার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল তা নিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''আসলে বারাক ওবামার সাক্ষাৎকারে একটি উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও বর্ণবাদী এ বিভাজন শুধু আমেরিকায় নয়, ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতেও প্রবলভাবে একই ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরমতসহিষ্ণুতার অভাবে বাড়ছে দলাদলি, রেষারেষি ও প্রতিহিংসা। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে তার চিরাচরিত প্রথা ও রীতিনীতি। এর জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিশীলিত গণতন্ত্র ও সহনশীলতা। মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ। গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলছে এর স্বাভাবিক ছন্দ। মনে হয় যেন, লাইনচ্যুত ট্রেন। এর থেকে বের হওয়ার উপায় বের করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল কিভাবে এবং এর জন্য দায়ী কে?''

আপনি ঠিকই বলছেন মি. রহমান, এ'সবের চিহ্ন বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মানুষ যে পুরোপুরি হতাশ তা বোঝা যায় প্রদত্ত ভোট সংখ্যার করুণ চিত্র দেখে। আর যখন একজন মানুষকে ধর্ম অবমাননার গুজবে পিটিয়ে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়, তখন ঘৃণা এবং অসহিষ্ণুতা যে কোন পর্যায়ে গেছে তা পরিষ্কার হয়ে আসে। এর জন্য কোন একজন ব্যক্তি বা দল বা গোষ্ঠীকে দায়ী করা যাবে বলে মনে হয়না। কারণ, অসহিষ্ণুতা এখন সমাজের সকল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং বাক স্বাধীনতার অধিকার শর্তহীন ভাবে রক্ষা না করলে ঘৃণা এবং সহিংসতার সুযোগ সব সবসময়েই রয়ে যাবে।

ফাইল ফটো
ছবির ক্যাপশান, ২০১৩ সালে ঢাকায় দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ছে একটি বাস---ফাইল ফটো

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কি আবার শুরু হতে যাচ্ছে? ঢাকায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেখে অনেকে তাই মনে করছেন। সে বিষয়ে লিখেছেন নরসিংদী সদর থেকে ওয়ারেছ আলী খান:

''এমন সংঘবদ্ধ নাশকতার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও জননিরাপত্তার জন্য সাংঘাতিক হুমকিস্বরুপ। উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের পর প্রায় ৫ বছর বিরতিতে ফের সাধারণ জনতাকে রাজপথে নতুন করে এমন ঘৃণ্য তৎপরতার সাক্ষী হতে হল। বাসে আকস্মিক অগ্নিসংযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েকদিনে তীব্র রাজনৈতিক বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ের তরফ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আরোপের ঘটনাও ঘটেছে। এই অপচেষ্টার নেপথ্য উদ্দেশ্য যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থকরণ কিংবা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন হয়ে থাকে, তাহলে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কাম্য।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. খান, গত পাঁচ বছর এ'ধরনের নাশকতার ঘটনা দেখা যায়নি। তাহলে হঠাৎ আবার হল কেন? এটাই বড় প্রশ্ন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যদি তদন্ত করে জানতে পারে কারা এর পেছনে ছিল, তাহলে তাদের উদ্দেশ্য জানাও সম্ভব হবে। তবে এটুকু বলা যায় যে, বাস পোড়ানোই আগুন দেবার উদ্দেশ্য ছিল না, তার পেছনে অন্য, সম্ভবত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল।

বিবিসি প্রবাহ অনুষ্ঠান থেকে স্ক্রিন শট।

ছবির উৎস, Sabir Mustafa

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের উপকূলে অনেক কৃষক জীবিকার জন্য জেলে হয়েছেন।

এবারে আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহর একটি রিপোর্ট নিয়ে একটি চিঠি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে তাফসির বাবুর প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী কয়েক দশকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল যদি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তাহলে এই অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত বিশ্বের দেশ গুলোর কাছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো কি ক্ষতি পূরণ দাবি করতে পারবে বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোকে বাধ্য করা যাবে?''

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ যদি বাস্তুহারা হয়, তাদেরকে উন্নত বিশ্বে পুনর্বাসন করা যাবে বলে মনে হয় না মি. সরদার। তবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সম্মেলনগুলোতে যে দর কষাকষি হয়, তাতে এই বিষয় নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হয়তো ক্ষতিপূরণ পাবে না, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সাথে খাপ খাইয়ে নেবার জন্য আর্থিক সাহায্য তারা পাবে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতি সংঘের পরবর্তী সম্মেলন কপ২৬ আগামী বছর নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষার্থী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, স্কুল-পড়ুয়া ক'জন অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে?

এবারে করোনাভাইরাস নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন টাঙ্গাইলের সরকারী ম্যাটস থেকে বিলকিছ আক্তার, যিনি একজন শিক্ষার্থী:

''করোনা ভাইরাস সংক্রমণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়বে বলে আশঙ্কা করছি আমি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রচলিত পাঠদান বন্ধে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও আমরা শিক্ষার্থীরা।

''বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শহরের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করছে, গ্রামের বেশিরভাগই এই সুবিধার বাইরে। সরকার টেলিভিশনে রেকর্ড করা ক্লাস সম্প্রচার করছে ঠিকই, কিন্তু সেখানেও উপস্থিতি ভালো নয় বলেই মনে হয়। যখন পরিবেশ অনুকূল হবে, তখন বিদ্যালয় খুললে সকল শিক্ষার্থীকে কি এক সাথে ফেরত পাওয়া যাবে? এমতাবস্থায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রণোদনা প্যাকেজ থাকা জরুরি।''

স্কুল-কলেজ আবার কখন কীভাবে খোলা হবে, সেটা সরকারের জন্য আসলেই বড় চ্যালেঞ্জ মিস আক্তার। কিন্তু লকডাউনের কারণে কোন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার যেমন তাদের প্রণোদনা দেয়, তেমনি প্রায় এক বছর স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখায় ছাত্র-ছাত্রীদের যে বিশাল ক্ষতি হয়েছে, সেটা কীভাবে পুষিয়ে নেয়া যায় তা ঠিক করা সরকারেরই দায়িত্ব। কিন্তু কোন সন্দেহ নেই যে, সব চেয়ে বেশি চাপ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপরে এসেই পড়বে।

সংক্রমণ হার কমে আসার পর সম্প্রতি বাংলাদেশে আবার বাড়তে দেখা গেছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সংক্রমণ হার কমে আসার পর সম্প্রতি বাংলাদেশে আবার বাড়তে দেখা গেছে

করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে আরো লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

''বাংলাদেশে দুই মাস পর করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন এর সংখ্যা বেড়েই চলছে । ইউরোপ ও আমেরিকাসহ পশ্চিমা অনেক দেশে এই শীতের মৌসুমে কোভিড -১৯ সংক্রমণের কারণে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও প্রতিদিন হু হু করে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের বাংলাদেশে এই শীত মৌসুম সময়ে কঠোর লকডাউন না করে, কর্তৃপক্ষের উচিত জনগণের কাছে সচেতনতামূলক বার্তা দেয়া। রাস্তায় মানুষের মুখে মাস্ক না থাকলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত দেশের সকল স্থানে মাস্ক পরার নিয়ম নিশ্চিত করা।''

এটা লক্ষণীয় বিষয় মি. ইসলাম যে, ইউরোপ যখন আবার লকডাউনে গেছে, বাংলাদেশ সেই পথে হাঁটতে চাইছে না। একদিকে সরকার দেশের মানুষকে আর্থিক বিপর্যয়ে মুখে ঠেলে দিতে চাইছে না। অন্যদিকে, লকডাউন দিয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দেবার মত অবকাঠামো বা আর্থিক ক্ষমতা হয়তো সরকারের নেই। কাজেই, জনগণ যদি নিজ থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে না চলে, তাহলে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

করোনাভাইরাস

ছবির উৎস, SOPA Images

ছবির ক্যাপশান, নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।

করোনাভাইরাস নিয়ে আরো লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''বাংলাদেশের মত এত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশে করোনাভাইরাস তেমন কিছুই করবেনা, সেটা মনে করাটাই বোকামি। এখন করোনা হু হু করে বাড়তে পারে শুধুমাত্র সিজনাল কারণে। শীত মৌসুমে প্রচুর মানুষ ঠান্ডায় ভোগার জন্য করোনা এবং সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার পার্থক্য বুঝতে পারবে না। তাছাড়া শীতের আবহাওয়া করোনা বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখে বলেই ধরে নেওয়া হয়। যাই হোক, সরকার এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই অভিশপ্ত ভাইরাস থেকে মুক্তির কোন পথ নেই বলেই মনে হচ্ছে।''

ঠিকই বলেছেন মি. সাঈদ, সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। কিন্তু সেরকম কিছু আপনার চোখে পড়েছে কি? বেশ কিছু দিন ধরে আমার মনে হচ্ছিল সবাই হয়তো হাল ছেড়ে দিয়েছে। হয়তো আমি ভুল বুঝেছি এবং শীঘ্রই মানুষ স্বাস্থ্য বিধি মেনে, অর্থাৎ মাস্ক পরে এবং দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করবে এবং সরকার দেশের স্বাস্থ্য কর্মীদের পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা পোশাক দেবে যাতে তারা নির্ভয়ে হাসপাতালে সেবা দিতে পারেন। আশা করতে তো কোন দোষ নেই?

এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে একটি প্রশ্ন পাঠিয়েছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের শীবগঞ্জ থেকে নূর মোহাম্মদ:

''গত ১৬ই নভেম্বরের পরিক্রমা অনুষ্ঠানে ড.কাজী সাইফুদ্দিন বীন নুর এর ফোন-ইন অনুষ্ঠানটি আমার খুব ভালো লেগেছে। এ'রকম অনুষ্ঠান বিবিসি নিয়মিত চালিয়ে যাবে এটাই আশা করছি। আর একটি বিষয়, রাত সাড়ে দশটা হতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা অর্থাৎ ২১ ঘণ্টা বিবিসির কোন অনুষ্ঠান হচ্ছে না এই ২১ ঘণ্টার ভিতরে বিশ্বের অনেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। আর ২১ ঘণ্টা পর আর একটি অনুষ্ঠান কেন জানি বেমানান মনে হচ্ছে। আমি প্রায় সময় অনলাইনে থাকি তারপরও বিবিসির সকালের অনুষ্ঠানগুলিকে মিস করি। আমি জানি না বিবিসির নীতিমালায় কী আছে, তবে আমি আশা করছি বিবিসি সকালের যে কোন একটি অনুষ্ঠান ফেরত আনবে।''

সকালের রেডিও অনুষ্ঠান ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খুবই কম মি. মোহাম্মদ। এর কারণ হচ্ছে, রেডিও শ্রোতা সংখ্যা অনেক দিন ধরেই নিম্নগামী এবং সেখানে পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এখন খবর এবং বিনোদন, দুটোর জন্যই ডিজিটাল প্লাটফর্মকে ব্যবহার করছে। কাজেই আমাদের যা সীমিত সম্পদ আছে সেটা দিতে হবে সেদিকেই।

অনুষ্ঠান নিয়ে আরকটি প্রশ্ন, পাঠিয়েছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী: 

''প্রথমে তো বলবো বিবিসি সব অনুষ্ঠান প্রচার করছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো যে, শিল্পীর সাথে গানে গানে আড্ডা অনুষ্ঠানটি আর কি প্রচার হবে না? খেলা-ধুলা অনুষ্ঠানটি প্রচার হতে যাচ্ছে, তাহলে কি গানে গানে আড্ডা অনুষ্ঠানটি প্রচার হতে পারে না?''

দুটি ভিন্ন বিষয় মি. চক্রবর্তী। স্পোর্টস এর জন্য আমাদের আলাদা একজন সাংবাদিক নিয়োজিত আছে, এবং তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন এই বুলেটিন তৈরি করবেন। কিন্তু আমাদের গান-গল্প অনুষ্ঠানটি ছিল সাপ্তাহিক এবং সেটার জন্য কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নিয়োজিত ছিলেন না। তবে হ্যাঁ, গান-গল্প ফিরিয়ে আনা হবে না, এরকম কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা নেই নি। বলা যায় না, ভবিষ্যতে হয়তো আবার ফিরিয়ে আনা হতে পারে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক

মশিউর রহমান মিনু, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য, মালদা, পশ্চিমবঙ্গ।

মোস্তাফিজুর রহমান, গংগারামপুর,খুলনা।

ডালিম কুমার, দেবীগঞ্জ ,পঞ্চগড়।

পলাশ চন্দ্র রায়, মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ, পঞ্চগড়।

মারিয়া কিবত্বীয়া ইসলাম, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা।

মনোজ কুমার বিশ্বাস, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।