এডিটার'স মেইলবক্স: পুলিশের অপরাধ আর পুলিশ হত্যা নিয়ে প্রশ্ন, ভাইরাস নিয়ে দুশ্চিন্তা

রায়হান

ছবির উৎস, FAMILY HANDOUT

ছবির ক্যাপশান, পুলিশ হেফাজতে নিহত রায়হান
Published

সম্প্রতি বাংলাদেশে পুলিশকে ঘিরে, বা পুলিশ বাহিনীর দু'জন সদস্যকে ঘিরে অনেক আগ্রহ দেখা দিয়েছে, যদিও দুটি ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সে'সব ঘটনা নিয়ে আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন সন্দ্বীপের ওসমানিয়া থেকে মুহাম্মদ শামিমুল হক মামুন:

''সোমবার দুপুর নাগাদ ফেসবুকে, সিলেটের রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এস.আই আকবর গ্রেফতারের বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়। বিবিসি বাংলার সান্ধ্য অধিবেশন প্রবাহে সিলেটের স্থানীয় সাংবাদিকের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। আমি খুবই হতাশ হলাম এভাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাধারণ মানুষের হাতে ধরা পড়ে হাতে পায়ে রশি বাঁধা অবস্থায় নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে দেখে।

''স্বাধীনতার ৫০ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে আমাদের পুলিশকে এভাবে দেখতে হবে ? বিশ্বের আর কোনো দেশের পুলিশের অবস্থা এমন কিনা আমার জানা নেই।''

এক দিক থেকে আপনি ঠিকই বলেছেন মি. হক। পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী, সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যারা বিশাল অবদান রাখে। তাদের একজন সদস্যকে এরকম অবস্থায় পড়তে দেখে অনেকেরই খারাপ লাগবে। কিন্তু বিষয়টি অন্য দিক দিয়ে দেখেন। এই এস আই আকবরে বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে তার হেফাজতে থাকা একজন যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলছেন রায়হানকে পাবলিক ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনি দিয়েছিল। কিন্তু আকবর পালিয়ে যাবার চেষ্টা করার কারণেই জনমনে সন্দেহ জেগেছে যে তিনি দোষী।

আনিসুল করিম

ছবির উৎস, Bangladesh Police

ছবির ক্যাপশান, নিহত আনিসুল করিম ছিলেন বিসিএস ৩১তম ব্যাচের একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু না, কিন্তু হাসপাতালে একজন পুলিশ রোগীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা মানুষকে রীতিমত হতবাক করে দিয়েছে। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''রাজধানীর আদাবরে একটি মানসিক হাসপাতালে একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে হাসপাতালটির একজন পরিচালক সহ এগারোজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাইন্ড এইড নামের এ হাসপাতালটিতে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য দরকারি কোনো কাগজপত্র নেই বলেও জানা গেছে।

''হাসপাতালে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় পুলিশও বেশ দ্রুত এ্যাকশনে চলে গিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটলে পুলিশকে কখনোই এতোটা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়না। কাজেই পুলিশ বাহিনীকেও বিষয়টি ভাবতে হবে, প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।''

বিষয়টা সত্যি ভয়ানক মি. সরদার। একটি মানসিক রোগের হাসপাতালে একজন রোগী কীভাবে এরকম অমানবিক আচরণের শিকার হয়? যেখানে রোগীদের আনা হয় মানসিক সমস্যা নিয়ে, সেখানে তো সব চেয়ে বেশি যত্ন, সমবেদনা এবং সহানুভূতির সাথে চিকিৎসা করার কথা। সে রোগী পুলিশ না দোকানদার, সেটা মুখ্য বিষয় না। পুলিশ এখানে দ্রুত এ্যাকশন নিয়েছে যেটা সবাই স্বাগত জানাবে। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী হত, তা জানা কঠিন কারণ হাসপাতালে রোগীকে পিটিয়ে হত্যার কোন ঘটনা আগে কখনো ঘটেছিল কি না, তা আমার জানা নেই।

গণপিটুনি

ছবির উৎস, lakshmiprasad S

ছবির ক্যাপশান, গণপিটুনির প্রবণতা বেড়েই চলছে, যার ফলে সংঘটিত হচ্ছে বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড

গণপিটুনি বা সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ডর বিষয়ে আরো লিখেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ মাসুদ রানা:

''গণপিটুনি ও প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা এবং এসব ঘটনায় জনতার নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারী,মানসিক রোগী, প্রতিবন্ধী,বৃদ্ধা সহ নিরীহ মানুষ গণপিটুনির শিকার হচ্ছেন। মানুষ ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে। অপরাধ হচ্ছে কিন্তু অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা দিনদিন ভয়াবহ হচ্ছে। এসব থেকে উত্তরণের উপায় কী?''

আমি আপনার শেষ মন্তব্যর সাথে দ্বিমত পোষণ করবো মি. রানা। আপনি যখন বলবেন বিচারহীনতার কারণে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে, তখন কিন্তু এই ধারণা সৃষ্টি হতে পারে যে আপনি এ'ধরণের সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ডর পক্ষে একটি যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। আমার মতে কোন কিছুই এই ধরণের বর্বরতার পক্ষে যুক্তি হতে পারে না। আপনি বলতে পারেন, এটা একটা ব্যাখ্যা, যুক্তি না। কিন্তু যারা এই কাজে লিপ্ত তারাও এই একই ব্যাখ্যা দেবেন এবং সেই ব্যাখ্যা যতদিন না আগাগোড়া প্রত্যাখ্যান করা হবে, ততদিন এই প্রবণতা চলতে থাকবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি মোকাবেলা করতে গিয়ে বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডকে একটি ব্যাখ্যা হিসেবে দাঁড় করানো উচিত না বলেই আমার মনে হয়।

নূর হোসেন যেন ছিলেন এক জীবন্ত পোস্টার, তাকে ঘিরেই ভিড় করছিল জনতা

ছবির উৎস, Dinu Alam

ছবির ক্যাপশান, নূর হোসেন যেন ছিলেন এক জীবন্ত পোস্টার, তাকে ঘিরেই ভিড় করছিল জনতা

এবারে বিবিসি বাংলায় নূর হোসেন নিয়ে একটি প্রতিবেদন নিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''গত ১০ই নভেম্বর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত নূর হোসেনের মৃত্যু নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পড়লাম। অনেকে এ ধরনের তথ্যপূর্ণ প্রতিবেদন থেকে আসল ঘটনা জানতে পারবেন। তবে আমার প্রশ্ন, এ সময় এসে এ ধরণের তথ্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করার কারণ কী? বর্তমানের কোন বিশেষ পরিস্থিতিকে কি নির্দেশ করা হয়েছে?''

সব প্রতিবেদনের জন্য কোন বিশেষ কারণ বা উদ্দেশ্যর প্রয়োজন হয় না মি. শামীম উদ্দিন। এগারো তারিখ নূর হোসেনের মৃত্যু দিবস ছিল, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেই দিনের স্মরণে জানা-অজানা তথ্য দিয়ে, সহকর্মী মোয়াজ্জেম হোসেনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

ভারতের পার্লামেন্টে কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভারতের পার্লামেন্টে কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরী

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্ম নিয়ে আলোচনা সব সময় একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। কিন্তু তারপরও ধর্ম নিয়ে ঘটনা থেমে নেই। সে বিষয়ে লিখেছেন ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে সাব্বির আহমেদ:

''এ'মাসের তিন তারিখ মঙ্গলবার প্রবাহ অনুষ্ঠানে শুনলাম, ভারতের কংগ্রেস বিবৃতি দিয়ে বিজেপিকে বলছে, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাথে কথা বলতে। কিন্তু আমি বুঝলাম না, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের এত মাথা ব্যথা কেন? তাদের দেশে যখন গো রক্ষার নামে নিরপরাধ মানুষগুলোকে পিটিয়ে মারা হয় বা মুসলিম বিরোধী আইন যখন করা হয়, কই, তখন তো বাংলাদেশের রাজনীতিকরা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোন কথা বলে না। তাহলে, তারা কেন আমার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলবে? তারা কি চক্রান্ত করে আমার বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী দেশ হিসেবে তুলে ধরতে চায়?''

ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই মি. আহমেদ। কিন্তু গত কয়েক বছর হল, ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্বার্থে বাংলাদেশকে জড়িয়েছে। কথাটা অপ্রিয় হলেও সত্য যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় হয়ে গেছে। আমাদের রিপোর্টে বিস্তারিত পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

বিজেপি ভারতের হিন্দুদের বোঝাতে চায় তারা হিন্দুত্ব কায়েম করবে এবং গোটা অঞ্চলের, বিশেষ করে বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষা করবে, যে কারণে সম্প্রতি তারা নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করেছে। এই রাজনীতির খেলাতে এখন কংগ্রেস অন্যভাবে খেলতে চাইছে। তবে আরেকটি কথা আছে। বর্তমান দুনিয়াতে কোন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আর তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে গণ্য হয় না।

কুমিল্লার মুরাদনগরে হামলার শিকার একটি বাড়ি
ছবির ক্যাপশান, কুমিল্লার মুরাদনগরে হামলার শিকার একটি হিন্দু পরিবারের বাড়ি

এ বিষয়ে আরো লিখেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:

''সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন - নির্যাতন যেন বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে, বাক স্বাধীনতার নামে মহানবী (সা:)-র ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ পৃথিবীর সব দেশের মুসলমানদের আহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। তাছাড়া ধর্ম নিয়ে উত্তেজক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার ও প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার দৃশ্যত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে মনে হয় না। ধর্মকেন্দ্রিক এসব ঘটনা তো রাজনীতি বহির্ভূত নয়। এসব ঘটনা কি শুধুই পুনরাবৃত্তি ঘটবে?''

শুরুতেই যেটা বলেছি মি. রহিম, ধর্ম অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় এবং এই বিষয়ে মানুষ ঠাণ্ডা মাথায় যুক্তি দিয়ে আলোচনা করতে চায় না, বিপরীত মতবাদ মেনে নিতে চায় না, এবং নিজ ধর্মের প্রতীকগুলোর কোন অসম্মান তারা সহ্য করতে পারে না। ইউরোপের ক্রিশ্চিয়ান সমাজের কয়েক শতাব্দী লেগেছে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অমানবিক অত্যাচারের অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসতে। দক্ষিণ এশিয়ায় সে ধরনের কোন সংস্কার বা সাংস্কৃতিক জাগরণ হবে কি না, তা দেখার বিষয়।

ভারতের ছত্তিসগড়ে মাওবাদী বিদ্রোহীদের সাথে বিবিসি বাংলার সাংবাদিক শুভজিত বাগচী।
ছবির ক্যাপশান, মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চলে: ভারতের ছত্তিসগড়ের জঙ্গলে মাওবাদী বিদ্রোহীদের সাথে বিবিসি বাংলার সাংবাদিক শুভজিত বাগচী।

পরের চিঠি লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''সম্প্রতি আমাদের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে দলিত সম্প্রদায়ের এক হিন্দু মেয়ের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয় এবং পুলিশ পরে জনতার বিক্ষোভের মুখে দীপ্তি রানী নামে সেই মেয়েকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে। গত তেসরা নভেম্বর প্রবাহ ও পরিক্রমায় এ নিয়ে বিবিসি বাংলা'র সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোলের একটি রিপোর্টও প্রচার করা হয়।

''মূল ঘটনার দিন অজ্ঞাত কারণে পার্বতীপুরের স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাটি এড়িয়ে যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আমি মনে করি। এরপর খবরটি তেমন কোন সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারও হয়নি। বিবিসি বাংলা কি কোন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট করে? নাকি আপনাদের সংবাদ সংগ্রহের আরও অন্য কোন ভিন্ন মাধ্যম আছে? আর এই রিপোর্টটি করার সময় কোন তথ্যের ভিত্তিতে কিংবা করার সময় কার কার সাথে কথা বলেছিলেন?''

আপনি যেহেতু কাদির কল্লোলের রিপোর্ট শুনেছেন মি. ইসলাম, তাহলে জেনেছেন যে বিবিসিতে মূল ঘটনা নিয়ে কোন রিপোর্ট করা হয়নি। কাদিরের রিপোর্ট ছিল পার্বতীপুর এবং কুমিল্লার ঘটনার প্রেক্ষিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিবাদ এবং আলাদা আইন প্রণয়নের দাবি নিয়ে। আমরা কোন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট করি না। একাধিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং তা যাচাই করা হয়, যেমন পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় সাংবাদিক, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তি বা তাদের পরিবার ইত্যাদি। অর্থাৎ যে ঘটনা বা গল্প নিয়ে যারা তথ্য দিতে পারবে এবং যারা ঐ তথ্য সত্যায়িত বা নিশ্চিত করতে পারবে, তাদের সাথেই কথা বলা হয়।

বই

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বছরের শুরুতে শিশুরা নতুন বই পেলেও বেশি দিন স্কুলে যাবার সুযোগ হয়নি।

এবারে করোনাভাইরাস নিয়ে একটি চিঠি, পাঠিয়েছেন ঢাকার মানিকগঞ্জ থেকে অরবিন্দ রায়:

''যেখানে দেশের সবকিছু স্বাভাবিক। পিকনিক স্পট, হাটবাজার, খেলার মাঠ, শপিং মল সবই খোলা। এসব জায়গায় শিক্ষার্থীদের অবাধ বিচরণ। শহর গ্রামে চলছে অস্বাভাবিক কোচিং, টিউশন বাণিজ্য। যেখানে শিক্ষার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বন্ধ, সেখানে শিক্ষার অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া চালু রেখেছে সরকার। এইচ এস সি পরীক্ষা করোনার জন্য না নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার যৌক্তিক কেন ব্যাখ্যা থাকতে পারে না।

''যেখানে ইউরোপের অনেক দেশেই দ্বিতীয় দফায় লকডাউন জারি করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে, সেখানে আমাদের দেশে সবকিছু খোলা রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা বিবিসির কাছে কতটা যুক্তিযুক্ত মনে হয়?''

এ'ধরনের কোন বিষয়ে বিবিসির নিজস্ব কোন মতামত নেই মি. রায়। আপনাদের চিঠির প্রেক্ষিতে আমি বিষয়বস্তুর ছোট একটি বিশ্লেষণ দিতে চেষ্টা করি বা লেখক যে মতামত প্রকাশ করেন তার বিপরীতে কোন মতামত আছে কি না তা দেখার চেষ্টা করি। মাঝে মধ্যে সামাজিক কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমার নিজস্ব ব্যাখ্যা তুলে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু কোন সরকারি সিদ্ধান্ত বা নীতিমালা নিয়ে বিবিসির নিজস্ব মতামত নেই।

মাস্ক পরে বাংলাদেশের নারী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মাস্ক পরে বাংলাদেশের নারী: দ্বিতীয় ঢেউ-এর অপেক্ষায়?

আরো লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিছ আক্তার:

''বিশেষজ্ঞদের মত আমার নিজেরও ধারণা আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। শীত মৌসুমে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বা কেমন প্রস্তুতি আছে, তা দেশবাসী হিসেবে বিবিসি বাংলা'র মাধ্যমে আমি জানতে চাই। যতদূর দেখছি, শীতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দৃশ্যমান কোন প্রস্তুতিই চোখে পড়ছে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল বা জেলা পর্যায়ে করোনার চিকিৎসা সেবাও নেই বললেই চলে। আমাদের মত সাধারণ মানুষের সামর্থ্য নেই বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার।''

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কী তা নিয়ে বিবিসি বাংলায় ২৩শে সেপ্টেম্বর বিস্তারিত একটি রিপোর্ট ছিল মিস আক্তার। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বেশ নড়বড়ে, সে কথা ঠিক, তবে সরকার দ্বিতীয় দফা মহামারি সম্পর্কে সজাগ আছে বলেই মনে হয়। তাদের পদক্ষেপগুলো কাজে দিবে কি না, বা পাবলিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলবে কি না, সেটা অবশ্য আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। আমাদের রিপোর্ট পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

এখনো হার মানেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, এখনো হার মানেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এবারে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে বাক-বিতণ্ডা নিয়ে একটি চিঠি, পাঠিয়েছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

'' যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে ''ভোট জালিয়াতির পাঁচটি অভিযোগ তদন্ত করে যা পেয়েছে বিবিসি,'' এই শিরোনামের প্রতিবেদনটি বিবিসি বাংলা ওয়েবসাইটে মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। প্রতিবেদনটিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে এক সময় নিজেকেই নির্বাচিত ঘোষণা করেন, তার প্রতিপক্ষ নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানানো থেকেও বিরত রয়েছেন।

''ডোনাল্ড ট্রাম্প যা করেছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল, নজিরবিহীন ও গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমার প্রশ্ন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের নির্বাচনে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটে, তবে তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো এদের কাছ থেকে কী শিখবে এবং এটা কি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য ভুল বার্তা নয়? তাছাড়া, ট্রাম্প যদি ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান, তখন কী ঘটবে?''

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে বলে মনে হয় না মি. রহমান। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে আইন এবং প্রক্রিয়া খুব শক্তিশালী। আপনি খেয়াল করবেন, প্রেসিডেন্টের দাবি সত্ত্বেও ভোট গণনা থেমে থাকেনি। জো বাইডেনের পক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত হবার পর পরই মিডিয়া মি. বাইডেনকে জয়ী বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট কী বললেন না বললেন, তাতে কিছু আসে যায় না। 

মি. ট্রাম্পও কিন্তু আইনের পথেই ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করছেন। যা কিছু হবে আইন অনুযায়ী হবে, এবং নতুন প্রেসিডেন্ট ২০শে জানুয়ারি শপথ নেবেন। হয়তো তৃতীয় বিশ্বের লোকজন এই শিক্ষা নিতে পারেন যে, আইন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্বাধীন এবং শক্তিশালী হয়, তবে রাজনীতি যত নোংরাই হোক না কেন, সব কিছু নিয়ম মাফিকই হবে।

জো বাইডেন: প্রেসিডেন্ট হবার জন্য জানুয়ারি ২০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জো বাইডেন: প্রেসিডেন্ট হবার জন্য জানুয়ারি ২০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এ বিষয়ে আরো লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

''আলোচিত মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্প ৭ কোটি ভোট পেয়েছে আর বাইডেন ৭ কোটি ৪০ লক্ষ। অনেকে মি. ট্রাম্পকে বর্তমান যুগের ভয়ংকর প্রেসিডেন্ট বলে থাকে। যদিও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জো বাইডেন জিতেছেন, তবে মি. ট্রাম্প এখনও পরাজয় স্বীকার না করে বলেছেন তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। এর ফলে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকার সম্ভাবনা কতটুকু? আর যদি শেষমেশ হেরেও যান, তবে জনপ্রিয়তার কারণে ২০২৪ সালে নির্বাচনে ফিরে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. ইসলাম, চার বছর ক্ষমতায় থাকার পর মি. ট্রাম্প সাত কোটি ভোট পেয়েছেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনের চেয়ে ৭০ লক্ষ ভোট বেশি পেয়েছেন। কাজেই তিনি যে মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে আইনের মারপ্যাঁচে তিনি ক্ষমতায় রয়ে যেতে পারবেন কি না, তা আমার জানা নেই। গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ভোটের ফলাফল বাতিলের জন্য আদালতে তাদের প্রচুর কারচুপির প্রমাণ হাজির করতে হবে। সে প্রমাণ তাদের আছে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।

আমাদের সম্প্রচার নিয়ে একটি প্রশ্ন, পাঠিয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে মশিউর রহমান মিনু: 

''কিছু ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এ আপনাদের খবর গুলো লাইভ শুনা যায়। এগুলো কি আপনারা চালিয়ে থাকেন? এগুলো কি আপনাদের নজরে আছে? না কেউ নিজস্ব ভাবে চালায়? তবে আমার উপকার হয়। রেডিওতে সময়মত না শুনলে পরে ইউটিউব থেকে শুনেনি।''

আপনার উপকার হয় বলেই তো আমরা কিছু বলি না মি. রহমান। কিন্তু না, এই চ্যানেলগুলো আমরা পরিচালনা করি না, আর যারা করেন তারা আমাদের অনুমতি নিয়ে করেন না। কাজেই, বলা যেতে পারে তারা যা করছেন তা আইনসম্মত না। তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথা আমরা এখনো ভাবছি না, তবে ভবিষ্যতে ভাবা হতে পারে।

আফগান ক্রিকেট তারকা রশিদ খানের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বিবিসি বাংলার স্পোর্টস রিপোর্টার রায়হান মাসুদ
ছবির ক্যাপশান, আফগান ক্রিকেট তারকা রশিদ খানের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বিবিসি বাংলার স্পোর্টস রিপোর্টার রায়হান মাসুদ

আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে একটি প্রশ্ন করেছেন খুলনার দিঘলিয়া থেকে মোহাম্মদ মুজাহিদ:

''কোভিড_ ১৯ মহামারির কারণে সারা বিশ্বে সকল ধরনের খেলাধুলা বন্ধ ছিল। তাই বিবিসি বাংলাতে খেলার খবর প্রচার হয় নাই। কিন্তু এখন আবার আগের মতো ক্রিকেট, ফুটবল সহ অন্যান্য খেলা শুরু হয়েছে। তাই বিবিসি বাংলার কাছে অনুরোধ এখন থেকে যেন খেলার খবর প্রচার করা হয়।''

আমরাও তাই ভাবছি মি. মুজাহিদ। ইউরোপে ফুটবল পুরো দমে চলছে, কিছু দিন আগে আইপিএল ক্রিকেটও হয়ে গেল। কাজেই রেডিওতে স্পোর্টস বুলেটিন পুনরায় শুরু করার সময় হয়ে গেছে। আশা করছি আগামী মাসের শুরুতেই আবার চালু করা যাবে।