এডিটার'স মেইলবক্স: মার্কিন নির্বাচন আর লালমনিরহাট হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন

ডাক যোগে পাঠানো ভোট বা 'পোস্টাল ভোট' গণনা চালিয়ে যাবার দাবিতে বিক্ষোভ, নিউ ইয়র্ক, ০৪/১১/২০২০

ছবির উৎস, Erik McGregor

ছবির ক্যাপশান, ডাক যোগে পাঠানো ভোট বা 'পোস্টাল ভোট' গণনা চালিয়ে যাবার দাবিতে বিক্ষোভ।
Published

এ সপ্তাহের সব চেয়ে বড় খবর কী, সেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে অনেক হৈচৈ হয়েছে, তবে এই কলাম লেখার সময় পর্যন্ত পরিষ্কার না কে জয়ী হবেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প না জো বাইডেন, - যদিও পাল্লাটা মি. বাইডেন-এর দিকেই বেশি ভারি বলে মনে হচ্ছে।

আজ শুরু করছি মার্কিন নির্বাচন নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন খুলনার বয়রা থেকে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম:

''মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জ বুশ এবং আল গোর এর সময় কালক্ষেপণ করে হলেও এক ভোটের ব্যবধানে ফলাফল এর নজির আছে। উইনার টেকস অল,পপুলার ভোট, পোস্টাল ভোট,আরো কত রীতি রয়েছে। শতাব্দীর চেষ্টায় এটাকে জটিল ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলা হয়েছে। যা খুবই বিরল। তবুও বিশ্লেষকগণ শুধুই ক্রিকেটের মতো অনিশ্চিত, ধোঁয়াশার কথা বলে যাচ্ছেন আপনাদের রিপোর্টগুলোতে। তবে কি মার্কিন রাজনীতির কালচার পাল্টে গেছে না অন্য কিছু?''

আমার মনে হয় না মার্কিন নির্বাচনের কালচার পাল্টে গেছে মি. ইসলাম। সে দেশের রাজনৈতিক পদ্ধতি অন্য যে কোন দেশ থেকে ভিন্ন। নির্বাচন ব্যবস্থা এবং আইন একেক রাজ্যে একেক রকম, যার ফলে নানা রকমের আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে এবারের জটিলতার কারণ হচ্ছে বিশাল সংখ্যক মানুষ ডাক যোগে ভোট দিয়েছেন, যেটা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন। যেহেতু কোন প্রার্থী পরিষ্কার ভাবে বিজয়ী হতে পারেননি, সব কিছুই হাতে গোণা পাঁচ-ছটি রাজ্যের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে, তাই এই লক্ষ লক্ষ ডাক ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোট জালিয়াতির কোন প্রমাণ মি. ট্রাম্প দেখাতে পারেননি, কিন্তু সেই অভিযোগ তুলেই তার সমর্থকরা ডাক ভোট গণনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

নিহত শহীদুন নবীর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার চেয়েছে।

ছবির উৎস, TAUDIDUNNABI

ছবির ক্যাপশান, নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল-এর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার চেয়েছে।

মার্কিন নির্বাচন প্রসঙ্গে আরেকটু পরেই ফিরছি। তার আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কয়েকটি চিঠি নেয়া যাক।

সম্প্রতি বাংলাদেশের লালমনিরহাটে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা এবং পরে লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''ঘটনাটি আমি টিভিতে দেখিনি, কারণ সহ্য করতে পারব না। অনেকগুলো অনলাইন মিডিয়ায় দেখলাম নিহত ব্যক্তি একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তাছাড়া এটা একটা পাগলের পক্ষেও বোঝা সম্ভব, যে মানুষটি মসজিদে নামাজ আদায় করলেন, তিনি আর যাই করুন কোরআন অবমাননা করতে পারেন না। আমার মাথায় আসছে না, এতগুলো মানুষ কীভাবে পশুর চেয়েও অধম হতে পারল।

''একজন মানুষকে জীবন্ত পিটিয়ে মেরে তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দিতে পারে যারা, তারা কোন মুখে সৃষ্টিকর্তার কাছে যায়, আমার বোধগম্য নয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম, এই শান্তির ধর্মকে যারা হিংসাত্মক ঘটনার মধ্যে দিয়ে কলুষিত করছে, তারাই এর বড় শত্রু বলেই আমি বিশ্বাস করি।''

লালমনিরহাটের ঘটনা অনেককেই হতবাক করে দিয়েছে মি. সাঈদ। ভদ্রলোক যদি ধর্মীয় বিষয়ে কোন আইন ভঙ্গ করে থাকে, তাহলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া উচিত ছিল। পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পারতো আসলেই ধর্ম অবমাননার মত কোন ঘটনা ঘটেছিল কি না। অভিযুক্ত শহিদুন্নবী জুয়েলও আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ পেতেন। সেটাই হত আইন-সম্মত কাজ। কিন্তু শুধু একটি গুজবের ভিত্তিতে - এবং ধর্মের নামে - মানুষ কীভাবে এত হিংস্র হয়ে যেতে পারে, তা আসলেই বিস্ময়কর এবং এ'ধরণের সহিংসতা সমাজ থেকে কীভাবে দূর করা যায় তা নিয়ে সরকার এবং সমাজের চিন্তাবিদদের ভাবতে হবে।

থেমিস ভাস্কর্য, বাংলাদেশ হাইকোর্ট, ঢাকা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দলবদ্ধ সহিংসতার কোন বিচার না হবার কারণে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠছে বলে মনে করেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

এ'বিষয়ে আরো লিখেছেন নরসিংদী সদর থেকে ওয়ারেছ আলী খান:

''ইসলাম ধর্মের একজন সাধারণ অনুসারী হিসেবে লালমনিরহাটের ঘটনাটি আমার মধ্যে নিদারুণ মর্মপীড়ার উদ্রেক ঘটিয়েছে। ইসলাম ধর্মের কোথাও এরূপ হত্যাযজ্ঞ সংঘটনের বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত আছে বলে আমার জানা নাই। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা একেবারে নতুন নয়। ইতোপূর্বেও ভিন্ন ইস্যুতে এ ধরনের মানবিকতা বিবর্জিত নেতিবাচক ঘটনা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

''তাই, এমন দলবদ্ধ সহিংসতা ও পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের বিপজ্জনক প্রবণতা রোধে সামাজিকভাবে জনমত গঠনের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক। পাশাপাশি, সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ বিচারের মাধ্যমে উগ্র আচরণ নির্ভর গোষ্ঠীবদ্ধ এই অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চায়ন করা হলে, তা অনুরূপ নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।''

এই বিষয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক একই সেন্টিমেন্ট প্রকাশ করেছেন:

'ধর্মের অবমাননার অভিযোগে' এ ধরনের নৃশংসতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যে মধ্যযুগীয় মানসিকতা কাজ করেছে, তাতে যেকোনো ব্যক্তির জীবন আকস্মিকভাবে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে পারে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর জন্য সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সমাজের মানুষকে সর্বতোভাবে চেষ্টা করতে হবে।

''এ ধরনের দলবদ্ধ সহিংসতা কোনো কারণে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এসবের বিরুদ্ধে সমাজের জনমত সংগঠিত করার লক্ষ্যে যেমন সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন, তেমনই অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীদের আইনানুগ ভাবে বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করাও একান্ত জরুরি।''

আপনারা দু'জন গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিক তুলে ধরেছেন মি. খান এবং মি. ইসলাম। এ'ধরনের হত্যাকাণ্ড যারা ঘটায়, তারা সচরাচর বিচারের মুখোমুখি হয় না। এর ফলে তারা নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে দেখা শুরু করে। যে অজুহাতেই দলবদ্ধ ভাবে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করা হোক না কেন, এই প্রবণতা রোধে সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের প্রয়োগ, দুটোই প্রয়োজন।

ভিয়েনায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত একজনের স্মরণে একটি রেস্টুরেন্টের সামনে মানুষ মোমবাতি জ্বালাচ্ছে।

ছবির উৎস, JOE KLAMAR

ছবির ক্যাপশান, ভিয়েনায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত একজনের স্মরণে একটি রেস্টুরেন্টের সামনে মানুষ মোমবাতি জ্বালাচ্ছে।

সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশে হামলা নিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''সাম্প্রতিক সময়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রর ইসলাম ধর্ম নিয়ে করা মন্তব্য এবং নবীর কার্টুন নিয়ে পরপর বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা হয়ে গেল। কিন্তু, কানাডা ও অস্ট্রিয়ায় যে সন্ত্রাসী হামলা দুটি হলো, সেগুলোর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে তা পরিষ্কার নয় বিবিসি নিউজ বাংলাও পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। কানাডার হামলায় বলা হয়েছে হামলাকারী মধ্যযুগীয় পোশাক পরে ছিল মধ্যযুগীয় পোশাক বলতে নির্দিষ্ট করে কী বুঝানো হয়েছে? কোন ধর্মীয় পোশাক? তাছাড়া অস্ট্রিয়ার হামলাতেও কারা কী কারণে জড়িত তা বলা হয়নি। সংবাদগুলো কেমন গোলমেলে ও অন্ধকার হয়ে গেল না?''

অনেক সময় হামলার সাথে সাথে বোঝা যায় না সেটা সন্ত্রাসী হামলা নাকি কোন একক ব্যক্তির কাজ। যে হামলার পেছনে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতবাদ রয়েছে বা আক্রমণ যদি কোন আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নির্দেশে বা তাদের অনুপ্রেরণায় হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোকে সন্ত্রাসী হামলা বলা হয়। কানাডার ঘটনার সাথে সেরকম কোন মতবাদ বা আন্তর্জাতিক যোগসাজশ পাওয়া যায়নি, সে কারণে ঘটনাটা অভ্যন্তরীণ অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কিন্তু ভিয়েনায় যে হামলা চালিয়েছে, তাকে অস্ট্রিয়ার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিতভাবে ইসলামিক স্টেট-এর সাথে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে, ফলে সেই ঘটনাকে ইসলামী সন্ত্রাস বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

কানাডার কুবেক সিটির পুরনো অংশে হামলার পর পুলিশ এলাকা বন্ধ করে দেয়, ০১-১০-২০২০।

ছবির উৎস, ANNE-SOPHIE THILL

ছবির ক্যাপশান, কানাডার কুবেক সিটির পুরনো অংশে হামলার পর পুলিশ এলাকা বন্ধ করে দেয়।

আর মধ্যযুগীয় পোশাক কোন ধর্মীয় পোশাক নয়। মধ্যযুগ বলতে বোঝায় ইউরোপে ৫ম শতাব্দী থেকে ১৪শ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত। তখন ইউরোপে যে ধরনের পোশাক পরা হত, তাকেই মধ্যযুগীয় পোশাক বলা হবে।

ফ্রান্সের ঘটনা আর বাংলাদেশে সহিংসতার যোগসূত্র নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষিরার পাটকেলঘাটা থেকে মুহাম্মদ আব্দুল মাতিন:

''সরকারের একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী বলেছেন, ফ্রান্সে ইসলাম এবং ইসলামের নবীর কার্টুন নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের প্রতিবাদে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে। কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে কোন কোন গোষ্ঠী গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং পর পর দু'টি ঘটনায় লালমনিরহাট ও কুমিল্লায় সে ধরনের তথ্য সরকার পেয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন, যে ফ্রান্সে ইসলামের নবীর কার্টুন নিয়ে মন্তব্য করায় পৃথিবীর সকল মুসলিম দেশে প্রতিবাদ মিছিল হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু ঐ বিষয় নিয়ে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির সামঞ্জস্য কি?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. মাতিন। গুজব ছড়িয়ে বা সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া খবর দিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাংলাদেশে আগেও ছড়ানো হয়েছে। তার জন্য ইউরোপে কোন বিতর্কের প্রয়োজন হয়নি। কাজেই, লালমনিরহাটের হত্যাকাণ্ড বা কুমিল্লার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সাথে ফ্রান্সের ঘটনার যোগসূত্র আছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটা আদৌ যৌক্তিক কিনা, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।

জো বাইডেন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প আর জো বাইডেনের মধ্যে কে আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা বাড়ছে

ফিরে যাচ্ছি মার্কিন নির্বাচন প্রসঙ্গে। এবার লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:

''মার্কিন নির্বাচন নিয়ে বিবিসি বাংলার বেশকিছু প্রতিবেদন দেখলাম। রিপাবলিকান প্রার্থী ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অনেক হাঁকডাক হম্বিতম্বি করেছেন কিন্তু কোন যুদ্ধে জড়াননি, এটা তার বড় সাফল্য। তবে চীনের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ যেকোনো অস্ত্র যুদ্ধকে হার মানিয়েছে। তাছাড়া, তিনি করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, বর্ণবাদকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন, ইমিগ্রান্টদের খেপিয়ে তুলেছেন এবং নিশ্চয়ই এসব বিষয়ই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।''

অনেক বিষয়ই মি. ট্রাম্পের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবার কথা ছিল মিস ফেরদৌসি এবং পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তার শেষ রক্ষা হয়তো হবে না। কিন্তু এত সব বিতর্কের পরও, মি. ট্রাম্প ২০১৬ সালের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ আমেরিকার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক তাকে সমর্থন করেছে।

চীনের বিপ্লব দিবসে একজন দর্শক, ০১/১০/২০২০।

ছবির উৎস, HECTOR RETAMAL

ছবির ক্যাপশান, নির্বাচনের পর আমেরিকার সাথে চীনের কী সম্পর্ক হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

নির্বাচনের পরে মার্কিন-চীন সম্পর্ক কেমন হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''নির্বাচনে যিনিই জয়লাভ করুন, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তিনি কি কোনো পরিবর্তন আনতে পারেন? চীন এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জো বাইডেন যিনিই আসুন, তিনি চীনের ব্যাপারে কি কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবেন?''

বেশ কয়েক বছর হল আমেরিকা ইউরোপ থেকে সরে এশিয়াকে তাদের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে মি. সরদার। চীনকে তারা একটি উঠতি পরাশক্তি হিসেবে দেখছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন রাশিয়া না, চীনই এখন মার্কিন আধিপত্যর প্রতি সব চেয়ে বড় হুমকি। চীনকে মোকাবেলা করা আমেরিকার সামরিক এবং পররাষ্ট্র নীতির প্রধান লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।

তবে চীন এখন অত্যন্ত শক্তিশালী, উৎপাদনশীল, প্রযুক্তি সম্পন্ন এবং পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত একটি দেশ। তার বিরুদ্ধে বেশি কঠোর পদক্ষেপ নিলে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকিও থেকে যায়। কাজেই, আমার মনে হয় আমেরিকা চীনকে অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দিক থেকে চাপে রাখবে ঠিকই, কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা হয়তো জারি করবে না।

ভিডিওর ক্যাপশান, আমেরিকা নির্বাচন ২০২০: যে প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে থাকেন

বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ভাল লেগেছে জানিয়ে লিখেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল:

''মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কে সামনে রেখে বিবিসি বাংলা তার ওয়েবসাইটে "মার্কিন নির্বাচন স্পেশাল " শিরোনামে যে ফিচার প্রকাশ করেছে তা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। কারণ সারা পৃথিবীতে এই নির্বাচনকে বিশেষ ভাবে বিবেচনা করা হয়। আর এই নির্বাচন পদ্ধতিও অন্যরকম। আর আপনারা যে ফিচার লেখাগুলো প্রকাশ করেছেন তা আমাদের জানার পরিধি বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে। যেসব তথ্য উঠে এসেছে তা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেক কাছে লাগে। ধন্যবাদ বিবিসি বাংলাকে।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি. খলিল। আমাদের ওয়েবসাইটে ফিচারগুলো নির্বাচনের বেশ আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে এসেছে, তাদের পাঠক সংখ্যা তত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের পরিবেশনা আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল।

এবারে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিস আক্তার:

''নয় বছরেও শেষ হয়নি দেশের নয় কোটি নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কাজটি। আমি নিজেও তা এখন পর্যন্ত পাইনি। যতদূর জানি, ২০১১ সালে নেওয়া এ প্রকল্পটি ছিল পাঁচ বছর মেয়াদি। প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে করা হয়েছে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। চার বছর মেয়াদ বাড়ানোর পরও তা নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হচ্ছে না। কিন্তু ভোক্তারা আর বিড়ম্বনার শিকার হতে চান না, কারণ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই কার্ডের গুরুত্ব অনেক। সে কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে এ কাজে এগিয়ে আসবে, এটাই দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মত আমার প্রত্যাশা থাকবে।''

কোন সন্দেহ নেই মিস আক্তার যে, এনআইডির কাজটি বিশাল একটি আয়োজন। কয়েক কোটি নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্ট কার্ডে পরিণত করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু নয় বছর সত্যিই বিশাল সময়। সব কার্ডধারী তথ্য, ছবি ইত্যাদি যেহেতু কর্তৃপক্ষের কাছেই আছে তাই সেসব তথ্য ডিজিটাল পন্থায় স্মার্ট কার্ডে স্থাপন করতে নয় বছর লাগার তো কথা নয়। আশা করি আপনার মত এখনো যারা অপেক্ষা করছেন তারা শীঘ্রই কার্ড পেয়ে যাবেন।

স্টুডিওতে খবর পরিবেশন করছেন মিজান খান (ডান দিকে) আর মোয়াজ্জেম হোসেন।
ছবির ক্যাপশান, স্টুডিওতে খবর পরিবেশন করছেন মিজান খান (ডান দিকে) আর মোয়াজ্জেম হোসেন।

সব শেষে, বিবিসির সাথে নিজের সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম:

''আমি ২০০৫ সাল থেকে চাচার এফএম ব্যান্ডের রেডিওতে বিবিসি শুনি। আমি তখন পঞ্চম শ্রেণিতে। সব খবর বুঝতাম না কিন্তু শুনতে খুব ভাল লাগত। বিশেষ করে সংবাদ উপস্থাপনার ধরনটা খুব ভাল লাগত যা এখনও ভাল লাগে। চাচার এখন অনেক বয়স হয়ে গেছে তবুও সময় পেলেই বিবিসি নিয়ে চাচার সাথে এখনও আমার অনেক আলাপ হয়।

''বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা অনেকেই আমাকে মজা করে মাঝে মাঝে "বিবিসি " বলে ডাকে। বিষয়টি আমিও বেশ উপভোগ করি। বন্ধুদের সাথে একসাথে আড্ডাই বসলে বিবিসি নিয়ে অনেক আলাপই হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিসেবে বিবিসির সত্য,নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনা আমার অনেক ভাল লাগে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বিবিসি তার এই নীতিতে অটল থাকবে।''

আপনার চিঠি পড়ে অনেক ভাল লাগল মি. ইসলাম। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, বিবিসিতে যতই পরিবর্তন আসুক না কেন, নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিবিসি তার নীতিতে অটল থাকবে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

পলাশ চন্দ্র রায়, বোদা, পঞ্চগড়।

শাহীন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

শিবাজী মন্ডল, কচুয়া, বাগেরহাট।

মোহাম্মদ মুজাহিদ, ঢাকা।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছ, খুলনা।