আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বাড়ি থেকে কাজ করেও কীভাবে পদোন্নতি পাবেন
আমাদের মধ্যে অনেকেই এখনও বাড়ি থেকে কাজ করছেন, অফিসে বসে কাজ না করা সত্ত্বেও আপনি কীভাবে পদোন্নতি পাওয়ার আশা করতে পারেন?
আপনার বসের নজরে আসার জন্য এবং আপনার সহকর্মীদের থেকে নিজেকে আলাদা প্রমাণ করার সর্বোত্তম উপায় কী?
বিক্রয়কর্মী জন বলেছেন যে আপনি আপনার ম্যানেজারকে যে ইমেইলগুলো পাঠিয়েছেন সেগুলোকে আপনার একটি শিল্প হিসাবে বিবেচনা করতে হবে যা নিখুঁত হওয়া দরকার।
"যদি আপনি বাসা থেকে কাজ করেন, তাহলে আপনি যখন আপনার বসকে ইমেইল করবেন তখন কেবল জরুরি কথাটুকু লিখেই শেষ করবেন না, বরং ওই ইমেইলে চেষ্টা করুন আপনার বিস্তৃত জ্ঞান প্রকাশ করতে," ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি এমনই পরামর্শ দিয়েছেন, যিনি তার পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি।
"আপনি যে নিজেকে প্রদর্শন করছেন সেটা যদি আপনি আপনার বসকে না জানাতে চান, তাহলে আপনাকে সূক্ষ্ম হতে হবে।"
"তারপর আপনি যখন বসের কাছ থেকে কোন ইমেইল পান, বা জুম মিটিংয়ে অংশ নেন, তাহলে আপনাকে বসের লেখা বা বলার ভঙ্গি বিশ্লেষণ করতে হবে।
আপনি যদি বাড়ি থেকে কাজ করেন এবং পদন্নোতি পেতে চান তবে আপনার নিজেকেই উদ্যোগী হতে হবে।
যদি আপনার কয়েকজন সহকর্মী এখনই অফিসে থেকে কাজ করেন তাহলে আপনার প্রচেষ্টায় আরও জোর লাগবে।
আপনাদের হয়তো মনে আছে বিভিন্ন ম্যাগাজিনের পরামর্শ কলামগুলোয়, বয়ফ্রেন্ড বা বান্ধবী কীভাবে পাবেন, এমন নানা ধরণের টিপস থাকতো।
এভাবে বিভিন্ন বই, সংবাদপত্র এবং ইন্টারনেট ফোরামে দেখতে পারেন যে আপনি হাসি, নম্রতা এবং চাটুকারিতা দিয়ে কীভাবে আপনার বসকে পদন্নোতি দেয়ার ব্যাপারে সম্মত করতে পারেন।
এবং তারপরে আপনি যা চান সেটা নিয়ে সরাসরি কথা বলুন, কারণ আপনি না চাইলে পাবেন না। অনেকটা প্রথম প্রেমে পড়ার মতো।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঘরে বসে কাজ করা অবস্থাতেই যদি আপনি আপনার পদবি এগিয়ে নিতে চান তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে বেশ চ্যালেঞ্জিং।
আরো পড়তে পারেন:
কারণ, আপনি যদি আপনার রান্নাঘরের টেবিল বা স্টাডি থেকে কাজ করেন, আপনি আপনার বসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না, প্রতিদিনের মিটিংয়ে তার সাথে দেখা হচ্ছে না বা করিডোরে দেখা হওয়ারও কোন সুযোগ নেই।
এবং আপনার বসের দৃষ্টিকোণ থেকে, তিনি সহজে এটাই বলবেন যে কেউ অফিসে কতটা কঠোর পরিশ্রম করছে, আর বাড়িতে যারা কাজ করছেন তাদের ব্যাপারে ধারণা থাকে যে তারা নিশ্চয়ই বাচ্চাদের সাথে খেলছেন অথবা মজাদার রান্নাবান্না করছেন।
ওয়ার্ক ফাউন্ডেশন থিংক ট্যাঙ্কের জ্যেষ্ঠ পলিসি উপদেষ্টা মেলানিয়া উইলকেস বলেছেন যে বাড়ি থেকে যারা কঠোর পরিশ্রম করছেন তাদের উচিৎ বসের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা।
"আমরা অনেক কর্মীকে একাধিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেখেছি যেগুলো তারা এই মহামারির আগে করেনি," তিনি বলেন, "সুতরাং এটা যেন সবার নজরে সেটা নিশ্চিত করুন এবং লিখিত রাখুন, একটি ইমেইলের মাধ্যমে হলেও"
মিসেস উইলকেস যোগ করেন যে বাড়ি থেকে যারা কাজ করছেন তাদের নিশ্চিত হওয়া দরকার যে তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এইচআর পলিসি বা মানবসম্পদ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যেমন নিয়মিত সবার কাজের ফলাফল নিয়ে আলোচনা।
"আপনার কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে আপনার লাইন ম্যানেজারের সাথে নিয়মিত মিটিং করা উচিত। যেটা আপন অফিসে কাজ করা অবস্থায় করতেন।"
"এতে করে যেটা হবে, আপনি কীভাবে ভাল কাজ করছেন এবং আপনি কি করতে চান সে ব্যাপারে আপনার ম্যানেজার আগে থেকেই অবগত থাকবেন। পদন্নোতির পথে এটি আপনার মূল চাবিকাঠি।"
অ্যালায়েন্স ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুলের সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক শ্যারন ক্লার্কও একই কথা বলেছেন। তার মতেও, ঘরে বসে যারা কাজ করছেন, তাদের কাজের সাফল্য বসের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
"যেকোন কাজে খাপ খাইয়ে নেয়া এবং উদ্ভাবনী চিন্তা যে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের জন্য [নতুন করোনাভাইরাস বিশ্বে] খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই সৃজনশীল হওয়া এবং নতুন নতুন আইডিয়া আপনার এগিয়ে যাওয়ার পথে অনেক গুরুত্ব রাখে," তিনি বলেন, "সুতরাং আপনার আইডিয়াগুলো সামনে রাখার চেষ্টা করুন যাতে আপনি স্বীকৃতি পেতে পারেন।"
পদোন্নতি পেতে কয়েকটি টিপস:
•ইমেইল, ফোন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে আপনার বসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।
•আপনি কত কাজ করছেন সেটা তাকে জানান।
•আরও দায়িত্ব নিতে চাইলে সেটা তার সাথে কথা বলে চেয়ে নিন।
•ভালো ভালো আইডিয়া সামনে রাখুন।
•আপনার কাজের বার্ষিক মূল্যায়নটা সাথেই আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
•আপনার প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান এইচআর নীতি অনুসরণ করে কিনা, সেটা নিশ্চিত হন।
বস বা ম্যানেজারদের দায়িত্ব কী?
বসদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে কোন কোন কর্মচারী বাসা থেকে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং ভালভাবে কাজ করছেন।
"একজন ম্যানেজার হিসাবে, কর্মীরা ঘরে বসে ভালভাবে কাজ করছে কিনা তা আমি কীভাবে বলব?" আইনি সংস্থা পিনসেন্ট ম্যাসনসের অংশীদার অ্যান সামন বলেছেন "ম্যানেজারদের আরও তথ্য পাওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে, যেন তারা কীভাবে সব চলছে, কে কী করছে, জানতে পারেন।"
সর্বোপরি, যদি কর্মচারীরা হঠাৎ করে আবিষ্কার করেন যে যারা শুধুমাত্র অফিসে বসে কাজ করেছেন তারাই সমস্ত পদোন্নতি পাচ্ছেন এবং যারা বাড়িতে থেকে কাজ করেছেন তারা কেউ পাননি, তাহলে বস হিসেবে আপনার বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ উঠতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক অ্যান ডেভিস বলেছেন যে, ঘরে বসে কাজ করা কর্মীরা কতটা ভালো পারফর্ম করছেন সেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা বসের দায়িত্ব।
"যদি আপনার অফিসে এমন লোক থাকেন যারা বাড়িতে থেকে কাজ করছেন, তাহলে আপনি তাদের কাজ কিভাবে নিরীক্ষণ করবেন, সেটা ঠিক করুন। এবং তারা কীভাবে কাজ করছে তা মূল্যায়নের কিছু মানদণ্ড থাকতে হবে," তিনি বলেন। "আপনি যখন কাউকে পদোন্নতি দেবেন তখন কেউ যদি আপনার বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ আনে। আপনি যেন আপনাকে ন্যায্য অবস্থান প্রমাণ করতে পারেন।
অধ্যাপক ক্লার্ক বলেছেন যে বসদের মনে রাখতে হবে যে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য তারা সেরা কর্মচারীকেই খুঁজছেন।
"কোন কর্মীরা সত্যিকারে চেষ্টা করে যাচ্ছে, কঠোর পরিশ্রম করছে তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য ম্যানেজারদেরও খাটতে হবে" তিনি বলেন। "যদি আপনি ম্যানেজার হিসেবে সত্যিই আপনার প্রতিষ্ঠানে মধ্যে কোনও পরিবর্তন আনতে চান, তবে অফিসের কাজে অবদান রাখছে এমন প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করার সক্ষমতা আপনার থাকতে হবে।"
তবে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে নিজ বাড়িতে অফিস করা, বিক্রয়কর্মী জন এখনও চিন্তিত যে তাঁর যেসব সহকর্মী অফিসে যাওয়া অব্যাহত রেখেছেন তারা বেশি সুবিধা পাবে।
তিনি বলেন, "যদি আমার কাজ এবং আমার যে সহকর্মী অফিস করছেন তার কাজ একই মানের হয়ে থাকে। তবে তার পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। কারণ অফিসে প্রতিদিন তার বসের সাথে দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে। তাই তার সুযোগটাই বেশি।"
"এই পদোন্নতির সাথে কেবল ভাল কাজ করার স্বীকৃতি জড়িত না। অনেক সময় আমি বাসায় থাকার কারণে কোন ভুল হলে সেই দোষ আমার ঘাড়ে চাপানো সহজ। অফিসে অনেক সময় পরিস্থিতি ভালো যায়, আবার খারাপও যায়। আর অফিস তো টিম ওয়ার্কের বিষয়। এবং আপনি যদি বসের সাথে অফিসে থাকেন, তারপরে যদি কোন কিছু ভুল হয়ে যায় তবে আপনি সহজেই বলতে পারবেন, 'এটা জনের দোষ ছিল।'