আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রোহিঙ্গা গণহত্যা আর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
সম্প্রতি মিয়ানমারের দু'জন সৈন্য স্বীকার করেছে দেশের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা গ্রামবাসীর ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তারা দ্য হেগ-এ অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারেন।
সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''নয়ই সেপ্টেম্বর "রোহিঙ্গা সঙ্কট: গণহত্যার স্বীকারোক্তি দেয়া মিয়ানমারের দুই সৈন্য কোথায়?" শীর্ষক প্রতিবেদনটি বিবিসি বাংলা ওয়েবসাইটে পড়লাম। প্রতিবেদনটি পড়ে মনে হল ছাই চাপা আগুনের মতো সত্যকে লুকিয়ে রাখা যায় না। রোহিঙ্গা সঙ্কটকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই অত্যন্ত চতুরতার সাথে মোকাবেলা করছে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একের পর এক প্রতারণা ও প্রপাগান্ডার আশ্রয় নিচ্ছে। আর এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তথাকথিত গণতন্ত্রের ধারক বলে পরিচিত অং সান সু চি।
''উপরোক্ত দুজন সৈন্যের স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করেছে, রোহিঙ্গা গণহত্যার দায় মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী কোন ভাবেই এড়াতে পারবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিৎ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালতে অং সান সু চি ও তার সহযোগী সেনা প্রধানের বিচারের পাশাপাশি মিয়ানমারের সরকারের উপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা সঙ্কটের ফলপ্রসূ সমাধান করা।''
কঠোর চাপের কথা সবাই বলেন মি. রহমান, কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে না কেউ সেই ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে ইচ্ছুক। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালতে যদি মিয়ানমারের শীর্ষ স্থানীয় সামরিক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। কিন্তু তারপরও চীন খুব সহজে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতি সংঘের কোন কার্যকর হস্তক্ষেপে রাজি হবে বলে মনে হয় না।
এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে:
'ঐতিহাসিক রায়'
ঢাকার এক আদালত সম্প্রতি একটি রায় দিয়েছে, যেটাকে ঐতিহাসিক বললে হয়তো ভুল হবে না। পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর বিচার এবং তার জন্য শাস্তি বাংলাদেশে আগে কখনো হয়েছিল কিনা তা আমার জানা নেই।
সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বুধবার ৯ই সেপ্টেম্বর সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশে আইনের শাসনের এক বিশেষ দিন। কেননা, পুলিশি নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন-২০১৩ পূর্ণাঙ্গতা পেল সেদিনের আদালতের রায়ের মধ্যে দিয়ে। পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর জন্য দায়ী পল্লবী থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শকসহ পাঁচজনকে যে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তাদের অপকর্মের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে তা সত্যিই আইনের শাসনকে কিছুটা হলেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
''যদিও রায় ঘোষিত হয়েছে নিম্ন আদালতে, তবুও আশা করবো উচ্চ আদালতও আপিলের ন্যায্য রায় ঘোষণা করবেন। দোষী সাজা পাক, নির্যাতিতা ন্যায্য বিচার পাক।''
এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন এবং হত্যা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে। সাধারণ মানুষ তো বটেই, সন্দেহভাজন অপরাধীরও অধিকার আছে নির্যাতনের শিকার না হবার। পুলিশের জবাবদিহিতার জন্য এবং দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একটি পদক্ষেপ হিসেবে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই রায়ের মাধ্যমে নিম্ন আদালত সেই পদক্ষেপকে জোরদার করেছে। কিন্তু এই একটি মামলা যাত্রার শুরু মাত্র।
এ বিষয়ে আরো লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রশিদের মৃত্যুর পর বিচার বহির্ভূত হত্যা নিয়ে যতোটা আলোচনা হচ্ছে, বোধকরি আগে কখনো এমন হয়নি। এর পর যুগান্তকারী "পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু" এর রায় ব্যাপারটিকে আরো জোরালো করে তুলেছে। এই রায়ের মাধ্যমে এটা অন্তত পরিষ্কার যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না। সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমি খুবই আশাবাদী এবার হয়ত এই ঘৃণ্য পথ থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব।''
আপনি দুটো ঘটনাকে একই সূত্রে দেখেছেন যেটা মনে হয় অনেকের মনেই আশার সঞ্চার করবে মি. সাঈদ। আমার মতে শুধু দু'একটি মামলায় শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না, কারণ হেফাজতে নির্যাতন বাংলাদেশে এতই প্রচলিত যে সেটা প্রায় সংস্কৃতির পর্যায়ে চলে গেছে। এখানে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে আমূল সংস্কার এবং নতুন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। আটক করা মানুষ যেই হোক না কেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন বিষয়ে বা ঘটনার ওপর তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কমিটিগুলোর রিপোর্ট জানার অধিকার কি জনসাধারণের নেই? জানতে চেয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া থেকে মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন:
''রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন একজন নাগরিক হিসেবে জানা বা জানতে চাওয়া কোন্ পরিমাপের মানবাধিকার? বাংলাদেশে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে, যেমন দুর্ঘটনা, হত্যা, ধর্ষণ, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন বা সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কখনও একটি, আবার কখনও দুই বা ততোধিক কমিটি গঠন করা হয়।
''সেই সকল গঠিত কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রাপ্ত তথ্য বা সুপারিশমালা জানালেও দেশের মানুষের কাছে তা কখনওই প্রকাশ করা হয় না। আবার সুপারিশ বা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তাও জানার উপায় নেই। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জনসমক্ষে এ সকল তথ্য প্রচার করতে কতটা দায়বদ্ধ?''
সাধারণত: বিভিন্ন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট-এ যা আছে তা জানার অধিকার জনগণের থাকারই কথা মি. হোসেন। ব্যতিক্রম হতে পারে যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় কোন অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় জড়িত থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে মনে হয় বিষয়টি উল্টো হয়ে গেছে - অর্থাৎ, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট একেবারেই প্রকাশ করা হয় না, যেন পাবলিকের জানার কোন অধিকার নেই। হয়তো এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ বা জনমতের চাপের প্রয়োজন হবে।
নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণ
আরেকটি তদন্তের দিকে মানুষের নজর থাকবে, আর সেটা হচ্ছে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের একটি মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ২৫ জন নিহত হবার ঘটনা নিয়ে। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে একটি মসজিদে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির পর মসজিদে নামাজিদের নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যাপক ভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। কর্তব্যে অবহেলার জন্য তিতাস কোম্পানি এরই মধ্যে তাদের আট জন কর্মকর্তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছে। যাদের কর্তব্যে অবহেলার জন্য এত গুলো মানুষকে প্রাণ দিতে হল, তাদের সাময়িক ভাবে বরখাস্ত বা চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াই কি যথেষ্ট? ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাটা খুবই জরুরি বলেই আমার মনে হয়।''
সাময়িক বরখাস্তটা সবে শুরু মি. সরদার, শেষ নয়। তবে এর পরে যদি কোন দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের বিচারের মুখোমুখি না করা হয়, তাহলে বোঝা যাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। সবাই নিশ্চয়ই আশা করবেন যে তদন্ত স্বচ্ছ হবে, যাতে সত্য উদঘাটন হবে এবং দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে।
আমাদের রেডিওতে দুটি বিষয়ের খবর ছিল না বলে অভিযোগ করে লিখেছেন কুমিল্লার লাকসাম থেকে জিতেন্দ্র কুমার মজুমদার:
''দু'হাজার চার সালের ২১শে অগাস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ওপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। তার ১৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে আপনারা কোন খবর প্রচার করেননি, শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে দিয়েছেন। এতে বিবিসির পুরনো শ্রোতা হিসেবে আমি মর্মাহত হয়েছি। সেদিন যদি বঙ্গবন্ধু কন্যা মারা যেতেন তাহলে এটা ১৫ই অগাস্টের অসমাপ্ত কার্য সমাপ্ত হত এবং বাংলাদেশে অন্ধকার নেমে আসতো। এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ বার্ষিকীর খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে কিন্তু আপনারা শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে দিয়ে দায় সেরেছেন।''
আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণ এক মত মি. মজুমদার, যে গ্রেনেড হামলার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির একটি। তবে আমরা বিগত ১৬বছরে এই ঘটনা ঘিরে অনেক প্রতিবেদন, সাক্ষাৎকার, আলোচনা ইত্যাদি প্রচার করেছি। বার্ষিকী হিসেবে আমরা সাধারণত ৫, ১০, ১৫, ২০, ২৫ ইত্যাদি বছরগুলোকে গুরুত্বের সাথে নেই। কিন্তু প্রতি বছর কোন ঘটনার বার্ষিকী একই গুরুত্বের সাথে কাভার করা হয় না। তাছাড়া, ওয়েবসাইটে দেয়া মানে দায় সারা নয় - ইদানিং রেডিও শ্রোতার চেয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে পাঠক বেশি।
মি. মজুমদার আরেকটি খবর নিয়ে অভিযোগ করেছেন:
''পঁচিশে অগাস্ট মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত বীর উত্তমের মৃত্যুর খবর বিবিসি সংবাদে প্রচারিত হয়নি, শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছছিল। ওয়েবসাইট কতজন দেখে আপনারা তা ভালো করে জানেন। আর যারা রেডিওতে বা এফএম রেডিওতে মোবাইলে শোনেন তারা এ খবরটি জানতে পারেনি। আমি মনে করি এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি আপনারা অসম্মান করেছেন যা বিবিসির মত একটা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা কখনো আশা করিনি।''
আপনার অভিযোগ আমি গ্রহণ করতে পারছি না মি. মজুমদার। আগেই যেটা বললাম, আমাদের ওয়েবসাইট এখন রেডিওর শ্রোতা সংখ্যার চেয়ে বেশি পাঠক আকর্ষণ করছে। বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইটে খবর দিয়ে সেটা আমাদের ফেসবুক পাতায় শেয়ার করলে রেডিও শ্রোতা সংখ্যার চেয়ে বেশি মানুষের কাছে খবরটি পৌঁছায়।
বিবিসি বাংলা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুমারজিৎ মাইতি:
''এই বিবিসি নিউজ বাংলা সংস্থাটি বাংলা ভাষা-নির্ভর সংবাদসংস্থা, নাকি শুধুমাত্র বাংলাদেশ নির্ভর সংবাদসংস্থা? এটি সমগ্র পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য, নাকি শুধুমাত্র বাংলাদেশের বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য? বিবিসি নিউজ বাংলার অনেক কার্যক্রম দেখে মনে হয় এই সংবাদসংস্থা শুধুমাত্র বাংলাদেশ-নির্ভর, তাই কৌতুহলবশত প্রশ্ন।''
আমাদের সার্ভিসের নাম যেহেতু বিবিসি বাংলা মি. মাইতি সেটা থেকেই বোঝা যায় আমরা ভাষা-ভিত্তিক সার্ভিস, দেশ-ভিত্তিক না। আমরা গোটা বিশ্বের খবর প্রচার করি, যদিও মনোযোগ বেশি থাকে বাংলাদেশ এবং ভারতের ওপর। তবে বর্তমানে আমাদের রেডিও শ্রোতা সংখ্যা প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশে, অনলাইনের পাঠক প্রায় ৭০ শতাংশ বাংলাদেশের আর ২০ শতাংশ ভারতের, ফেসবুকেও একই চিত্র। বাংলাদেশে আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের ভাল চাহিদা রয়েছে। তবে আমরা লক্ষ্য করছি ভারত থেকে প্রচুর দর্শক আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে আসছেন। ভারতে আমাদের দু'জন সংবাদদাতা আছেন, তাছাড়া অন্যান্য বিভাগ যেমন বিবিসি হিন্দি বা মারাঠির প্রতিবেদন, ভিডিও ইত্যাদি আমরা অনুবাদ করে প্রচার/প্রকাশ করি।
তবে এখানে লম্বা একটি ইতিহাস আছে। আপনি হয়তবা জানেন, ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বিবিসির দুটো বাংলা অনুষ্ঠান হত - একটি ভারতীয় শ্রোতাদের জন্য আর একটি পাকিস্তানি শ্রোতাদের জন্য। কিন্তু ১৯৬৯ সালে দুটো অনুষ্ঠানকে একত্রিত করা হয়। তবে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কারণে বিবিসি বাংলার সাথে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শ্রোতাদের যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সেটা ভারতীয় শ্রোতাদের সাথে কখনো হয়নি। তারপরও ১৯৯০ দশকেই ভারতে বিবিসির চাহিদা কমতে থাকে, সম্ভবত সেখানে কেবল্ টেলিভিশন চালু হওয়ার কারণে। আর বাংলাদেশে আমরা এফ এম সম্প্রচারের সুবিধা পাওয়ায় সেখানে রেডিও শ্রোতাও অনেক দিন ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল, যেটা ভারতে হয়নি কারণ সেখানকার সরকার বিদেশী সংবাদ মাধ্যমকে এফএম-এ সম্প্রচার করার অনুমতি দেয়নি।
রাতের রেডিও অধিবেশন পরিক্রমায় অনুষ্ঠান পুন:প্রচারের অভিযোগ তুলে লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে তাপস প্রামাণিক:
''পরিক্রমাতে অধিকাংশ সময়ে প্রবাহে প্রচারিত খবরের পুনরাবৃত্তি হয়। এবং বাকি সময়টুকু পুরানো আর্কাইভের অনুষ্ঠান চালানো হয় কেন? রাতের অধিবেশন পরিক্রমাতে পুরনো ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান গুলি যেমন নতুন দিগন্ত, বিজ্ঞানের আসর, প্রীতিভাজনেসু কাকলি ইত্যাদি ফিরিয়ে আনা যায় নাকি?''
আপনার কথাটা আংশিক সত্য মি. প্রামাণিক। সন্ধ্যার প্রবাহ থেকে অনেক খবর রাতের পরিক্রমায় পুন:প্রচার হয় ঠিকই, কিন্তু খবরের পরে সব দিনই পুরনো আর্কাইভের অনুষ্ঠান চালানো হয় না। শুধু মাত্র রবিবার ইতিহাসের সাক্ষী আর্কাইভ থেকে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু বাকি ছয় দিন তো তা করা হচ্ছে না।
শুক্রবার থাকছে বিশেষ প্রতিবেদন, শনিবার আলোচনা অনুষ্ঠান, সোমবার লাইভ ফোন-ইন, মঙ্গলবার সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা, বুধবার আবার লাইভ ফোন-ইন, বৃহস্পতিবার ফোন-ইন-এর পুন:প্রচার। প্রীতিভাজনেসু ফিরে আসলে ফোন-ইন-এর পুন:প্রচারও বন্ধ হয়ে যাবে। আর আপনার প্রশ্নের জবাবে বলবো, দু:খিত, যে ফিচার গুলো বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো ফিরিয়ে আনার কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মাকামে মাহমুদ চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী।
বাপ্পী গোলাম, ঢাকা।
নাজমুল হক,বরিশাল।
হোসেন মোহাম্মদ জাকির, সিঙ্গাপুর।
আরিফুল ইসলাম,পাইকগাছা, খুলনা।
বাধন সাহা, ঢাকা।
মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি, কপিলমুনি, খুলনা।
মাহবুবুর রহমান মামুন, দারিয়াপুর, গাইবান্ধা ।