আমির খান এর এরদোয়ান বিতর্ক, করোনা ভ্যাক্সিন আর রোহিঙ্গা নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, Emine Erdogan/Twitter
করোনাভাইরাস মহামারি এখনো গোটা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে, বিশেষ করে ভারতে প্রভাব বিস্তার করছে। কিন্তু এর মধ্যে অন্য ধরনের ঘটনা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
যেমন, সম্প্রতি ভারতে অভিনেতা আমির খানকে 'দেশদ্রোহী' আখ্যায়িত করে হিন্দুত্ববাদীদের প্রচারণা। সে বিষয় দিয়ে আজকে শুরু করছি, লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বেশ কয়েকদিনের থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের স্ত্রীর সঙ্গে বলিউড তারকা আমির খানের সাক্ষাৎ নিয়ে আরএসএস-এর ক্ষোভ বিষয়ক সংবাদ বিবিসি নিউজ বাংলায় পড়েছি। পড়ে অবাকই হয়েছি আবার একটা সত্য খুঁজে পেয়েছি। দুই ধর্মীয় উগ্রবাদী শাসক মোদী ও এরদোয়ান আর তাদের অনুসারীদের আচরণ এমনই হবে। ভারতের মোদী যেমন মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির বানিয়েছেন, তেমনি তুরস্কের এরদোয়ান গির্জা বা জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তর করেছেন।
''এমন উগ্রবাদী এবং ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টিকারী শাসক এবং তাদের অনুসারীরা একে অপরকে দেখতে পারবে না সেটাই স্বাভাবিক। আর এটাও স্বাভাবিক যে আরএসএস আমির খানকে দেশদ্রোহী তকমা দিবেই। তবে এমন উগ্রবাদী শাসকের স্ত্রী'র সঙ্গে আমির খান দেখা না করলেও পারতেন। কারণ তিনি একজন উগ্রবাদীর শাসনামলে ভারতে বসবাস করছেন। নতুবা তাঁকে ঝামেলা সহ্য করতে হবে।''
তুরস্কের সরকার হায়া সোফিয়াকে মসজিদ বানালেও, ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কিন্তু ভেঙ্গে ফেলা হয়নি। কিন্তু তারপরও অনেকের আশঙ্কা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি থেকে সরে আসবেন, যদিও ব্যাপারটা খুব সহজ হবে না। আর ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে গণতন্ত্র থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু মুসলিমরা যেভাবে কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছেন, তাতে সে দেশ ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে তা বলা মুশকিল।
গত ২৫ তারিখ ছিল বাংলাদেশে নতুন করে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী আসার তৃতীয় বার্ষিকী। সে বিষয়ে কয়েকটি চিঠি এসেছে, প্রথমটি লিখেছেন রাজবাড়ী সদর থেকে শাওন হোসাইন:
''পঁচিশে অগাস্ট বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় রোহিঙ্গা শিশু নাঈমকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। নাঈমের মা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার জন্ম দেন। শিশু নাঈমের বয়স এখন তিন বছর কিন্তু সে ক্যাম্পের বাহিরের জগত সম্পর্কে কিছুই জানে না। তার বাবা মা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। এই তিন বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এমন হাজারো নাঈমের জন্ম হয়েছে কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আসলেই কি কেউ কিছু ভাবছে? গত তিন বছরে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে কয়েকটি বৈঠক ছাড়া দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। এই সংকটের সমাধান কোথায়?''
সবার মত আমারও মনে হয় সংকটের সমাধান একটাই - সম্মানের সাথে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন, যেখানে তারা পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবেন। কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদেরকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ এবং এখনো পর্যন্ত তাদের বাধ্য করতে যে ধরনের চাপ প্রয়োজন, তা প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে, অসহায় জীবন যাপন করছেন রোহিঙ্গারা আর ধৈর্য হারাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় মানুষ।

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
আরো লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:
''মানবতার সেবায় বাংলাদেশ সরকার ১০ লাখের ও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়েছে, এমনকি স্থানীয় সাধারণ মানুষেরা তাদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্যও করেছে । তিন বছর পূর্ণ হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তারা আর মিয়ানমারে ফিরে যাবে কি না। শুরুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বেশ তৎপর ছিল, এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া একটি মামলাও করে । কিন্তু নিজ বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া নিয়ে শক্তিধর মুসলিম দেশগুলো জোরালো ভাবে যদি এগিয়ে আসতো তাহলে অবশ্যই এর সমাধান হতো।''
এটা ঠিক বলেছেন মি. ইসলাম, যে শক্তিধর মুসলিম দেশগুলো সেভাবে এগিয়ে আসে নি। কিন্তু মিয়ানমারকে বাধ্য করার মত ক্ষমতা কোন মুসলিম দেশের আছে বলে আমার মনে হয় না। পশ্চিমা বিশ্ব বেশ কয়েক বছর মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, কিন্তু তারা সে পথে আবার যেতে চাইছে না।

ছবির উৎস, NICOLAS ASFOURI
এবারে ভিন্ন কিন্তু পুরনো প্রসঙ্গে যাই - করোনাভাইরাস। ভ্যাক্সিন নিয়ে প্রশ্ন করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রচেষ্টা। এই বিষয়টিতে ২৭শে অগাস্ট বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রবাহে আবুল কালাম আজাদ এর খুবই প্রাসঙ্গিক একটি প্রতিবেদন দেখলাম। চীনা ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়েল-এর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগটি নিশ্চয়ই ভালো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, চীন তার ভ্যাকসিন-এর ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে ঠিক কী কারণে? এ ট্রায়েল কি ঝুঁকিপূর্ণ? এ ট্রায়েল থেকে বাংলাদেশ কি আদৌ লাভবান হবে?''
চীন শুধু বাংলাদেশকে বেছে নেয়নি মি. সরদার। চীনের কয়েকটি গবেষণা সংস্থা ভ্যাক্সিন তৈরির কাজ করছে, এবং তাদের তিনটি ভ্যাক্সিন এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভ্যাক্সিন পরীক্ষা সে দেশেই করতে হবে যেখানে সংক্রমণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। সে কারণে চীন নিজ দেশে তাদের ভ্যাক্সিন পরীক্ষা করতে পারবে না, কারণ তারা অত্যন্ত সফল ভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করেছে।
চীনে তৈরি ভ্যাক্সিন এই মুহূর্তে আরব আমিরাত, আর্জেন্টিনা এবং পেরুতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ব্রিটেনে তৈরি একটি ভ্যাক্সিন ভারতসহ কয়েকটি দেশে পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাশিয়া তাদের ভ্যাক্সিন নিজেদের ৪০ হাজার নাগরিকের ওপর পরীক্ষা করছে। চীন ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছে তারা তাদের প্রতিবেশী এবং আফ্রিকার দেশগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাক্সিন সরবরাহ করবে।
গত এপ্রিল মাস থেকেই রেডিওর প্রীতিভাজনেষু অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শ্রোতা-পাঠকের চিঠি পত্রের জবার এই এডিটার'স মেইলবক্সেই দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সন্তুষ্ট নন বিলকিস আক্তার, যিনি লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে:
''করোনা ভাইরাস পরবর্তী প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হতে চলল - অথচ প্রীতিভাজনেষু রেডিওতে প্রচারের কোন নাম-গন্ধ এখন পর্যন্ত নেই। এর খুব একটা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বিবিসি বাংলা আজও দিতে পারেনি। তাই প্রীতিভাজনেষুর কাছেই জানতে চাই - শুধুমাত্র এই একটি অনুষ্ঠান ছাড়া রেডিও বা টেলিভিশনে আপনারা বাংলা বিভাগের আর কি কি অনুষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন? পরিশেষে বলবো, বিবিসি বাংলা'র সম্পাদক সাবির মুস্তাফাকে আমি প্রীতিভাজনেষুতে ভীষণ ভীষণ মিস করি। এই বিগত পাঁচ মাসে আপনার বৈচিত্র্যপূর্ণ কণ্ঠ শুনতে না পেরে লবণ ছাড়া তরকারি যেমন, ঠিক তেমনি বিবিসি বাংলা'র খবর কিংবা সম-সাময়িক বিষয়গুলোও আমার কাছে তেমনটাই মনে হয়েছে।''
আমার কণ্ঠ আপনি মিস করছেন জেনে বেশ ভালই লাগলো মিস আক্তার। সত্যি কথা বলতে, আমি নিজেও রেডিওর প্রীতিভাজনেষু মিস করছি। আগামী দু'এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রীতিভাজনেষু আবার শুরু করার আশা রাখছি।

ছবির উৎস, Simona Granati - Corbis
আমার কণ্ঠ থেকে যাচ্ছি নারী কণ্ঠের বিষয়ে। আমাদের রেডিও ফোন-ইন অনুষ্ঠান নিয়ে অভিযোগের জবাব আগেও এই কলামে দিয়েছি। এবারে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''আমি প্রায়ই লক্ষ্য করছি, ফোন-ইন এ বিবিসি বাংলা আর আমাদের মত পুরাতন শ্রোতাদেরকে প্রাধান্য দেয় না। কারণ সপ্তাহে প্রায় ৩ টি ফোন-ইন এ এসএমএস করেও আমাকে আর ফোন করা হয় না। অথচ আগে একটি ফোন-ইনেই নিয়মিত অংশগ্রহণের সুযোগ পেতাম। আর যেসব ফোন-ইন এখন হয় তার প্রত্যেকটিতেই পুরুষ বিদ্বেষী মনোভাব আমরা লক্ষ্য করি। এর কারণ প্রায় ৯৫ শতাংশ নারীদের অংশগ্রহণ। এতে করে অনুষ্ঠানটি শুনতে বর্তমান খুবই বিরক্ত লাগে।''
এখানে নতুন বা পুরাতন শ্রোতা বলে কিছু নেই মি. ইসলাম। যারা আমাদের অনুষ্ঠান শোনেন তারাই আমাদের শ্রোতা। তাদের কারা নতুন আর কারা পুরাতন, তা বোঝার কোন উপায় আমাদের নেই। তবে আমরা চেষ্টা করি ফোন-ইন অনুষ্ঠানে নতুন কলারদের জায়গা দিতে - অর্থাৎ আগে যারা সুযোগ পান নি, তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। আর পুরুষ-বিদ্বেষের অভিযোগ আমি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। অনুষ্ঠানে নারী পুরুষের সমান উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য আমরা ফোন-ইনে বেশি করে নারীদের স্থান দিচ্ছি, তবে সেটা ৯৫ শতাংশ নয়। আমাদের লক্ষ্য অনুষ্ঠানের বাকি অংশের মত ফোন-ইনেও নারী পুরুষের সমতা আনা। আর বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ যেহেতু নারী, তাদের কণ্ঠস্বরে বিরক্ত না হয়ে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়াই ভাল হবে!

ছবির উৎস, SOPA Images
এবারে আমাদের অনুষ্ঠানে ভারত প্রসঙ্গ নিয়ে দুটো চিঠি, প্রথমে লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে তাপস প্রামাণিক:
''ভারতে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করে। কিন্তু প্রতিটি গণমাধ্যমেই তাদের টার্গেট শ্রোতা-দর্শকের কথা মাথায় রেখে কোন না কোন রাজনৈতিক দল, জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মের হয়ে খবর প্রচার করে। আর সরকারি গণমাধ্যম? সেটা তো কেবল মাত্র সরকারি প্রচার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা হিসেবে এক সময় বিবিসি হিন্দির খবরের উপর অনেকটাই নির্ভর করতাম, কোন এক অজানা কারণে সেটিও বন্ধ। এখন আমরা নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ খবর পেতে সম্পূর্ণরূপে বিবিসি বাংলার উপরেই নির্ভরশীল। কিন্তু দুটি অধিবেশনের কোনটিতেই ফাইভ পার্সেন্ট এর উপরে ভারতীয় খবর থাকে না, ভারতেও কোটি কোটি মানুষ বাংলাভাষী, তাদের জন্য অন্তত প্রতিদিন কিছুটা ভারতীয় খবর রাখুন এটাই আমার অনুরোধ।''
ভারতে যে কোটি কোটি বাংলাভাষী আছেন তা অবশ্যই ঠিক। কিন্তু ভারতে আমাদের রেডিও শ্রোতা বহু আগে থেকেই কমতে শুরু করে - আমি বলব, ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। বর্তমানে খুবই কম। তবে ইদানিং, আমাদের ওয়েবসাইট এবং বিশেষ করে ইউটিউব চ্যানেলে ভারতীয় পাঠক-দর্শকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খবর দিল্লি এবং কলকাতায় আমাদের দু'জন সংবাদদাতা প্রতি দিনই পরিবেশন করছেন।

ছবির উৎস, NurPhoto
পরের চিঠি লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাহুল বর্মণ:
'' কলকাতায় এবং বাংলাদেশে কি বিবিসি বাংলা'র একই অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়? আর যদি একই খবর প্রচারিত হয়েই থাকে,তাহলে কলকাতার খবর এতো কম প্রচারিত হয় কেন? তাছাড়া ফোন-ইন, সোশাল মিডিয়ার বিশেষ করে ফেসবুকের খবর, লাইভ টকশো সবই বাংলাদেশ কেন্দ্রিক কেন? কলকাতায় কি আপনারা এগুলো পরিচালনা করেন না?''
আমাদের অনুষ্ঠান কোন শহর-ভিত্তিক না মি. বর্মণ। তাই আমি বলবো, না কলকাতার জন্য আমরা কোন অনুষ্ঠান করি না। একই অনুষ্ঠান শর্টওয়েভে দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় অংশ জুড়ে শোনা যায়। বাংলাদেশে ১০টি শহরে এফএম তরঙ্গে সেগুলো প্রচারিত হয়। আমাদের শ্রোতা সংখ্যার সিংহভাগ বাংলাদেশে, সেখানে আমাদের সাংবাদিক সংখ্যা বেশি এবং স্টুডিও সুবিধাও আছে। তাই ফোন-ইন, আলোচনা ইত্যাদি অনুষ্ঠান সেখান থেকে করা হয়।
শেষ করছি একটি অভিযোগ দিয়ে, পাঠিয়েছেন ঢাকার বনশ্রী থেকে এমদাদুল হক বাদশা:
''আমি প্রায় ৫৫ বছর যাবত বিবিসির ভক্ত, কিন্তু ইদানিং ফোন-ইনে এস এম এস পাঠালে কোন যোগাযোগ করা হয় না কেন তা বুঝতে পারছিনা। সম্ভবত আমি আপনাদের সাম্প্রতিক দু'একজন জন উপস্থাপক সম্পর্কে কিছু অপ্রিয় সত্য কথা বলেছিলাম, যা হয়তো আপনারা সহ্য করতে পারেননি। কিন্তু বিবিসির কাছ থেকে তো এমন বিমাতৃসুলভ আচরণ শ্রোতারা আশা করে না। যদি আমার সমালোচনায় কেউ আহত হয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি সত্যকে পছন্দ করি বিধায় তা বলে ফেলি।''
সত্যকে আমরাও পছন্দ করি মি. হক, সেজন্য এই চিঠি-পত্রের আসরে প্রচুর সমালোচনামূলক চিঠির জবাব দিয়েছি। সমালোচনার ভিত্তি নড়বড়ে হলেও জবাব দিয়েছি। আপনি কবে কোন উপস্থাপকের সমালোচনা করেছিলেন তা আমার মনে নেই, কিন্তু এটুকু বলতে পারি কোন সহকর্মীর সমালোচনা আমি সব সময় স্বাগত জানাই, এবং তার জের ধরে তাদের কাজকর্ম উন্নত করার চেষ্টা করা হয়। তবে উপস্থাপককে সমালোচনা করার জন্য কাওকে ফোন-ইনে নেয়া হবে না, এরকম কথা কিন্তু আমার কাছে হাস্যকর মনে হচ্ছে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি, কপিলমুনি, খুলনা।
খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সান্তাহার, নওগাঁ।
রবি ভূঞা, মালেশিয়া।
আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা।
কাজী সাঈদ, ঝিনাইদহ।
মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।










