করোনা ভাইরাস: 'ঈদের আগের আমেজ নেই তবে উদযাপন থেমে নেই'

পশ্চিম ইয়র্কশায়ার ব্র্যাডফোর্ডের ব্র্যাডফোর্ড গ্র্যান্ড মসজিদ।

ছবির উৎস, PA Media

ছবির ক্যাপশান, ব্র্যাডফোর্ড এবং ব্ল্যাকবার্নের মুসলিম নেতারা "ঈদ শুরুর দুই ঘন্টা আগে" সরকারের কঠোর নিয়ম জারির সমালোচনা করেছেন।
Published

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে উত্তর ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় এক বাড়ির লোকজনকে আরেক বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নতুন করে এই "শেষ মুহূর্তের" লকডাউন নিয়ম জারির কারণে, "ঈদের আমেজ চলে গেছে", সেখানকার একজন মুসলিম নেতা বলছেন।

ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিল অফ মসজিদের সভাপতি জুলফি করিম বলেছেন, এমন সময়ে এ ধরণের ঘোষণায় মুসলমান কমিউনিটির লোকজন ক্ষুব্ধ হয়েছেন ঠিকই - তবে তিনি এটাও বলেছেন যে অনেকের পরিকল্পনা হয়তো বাতিল করতে হচ্ছে, কিন্তু ঈদ উদযাপন বন্ধ হচ্ছে না।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন একই পরিবারের সদস্য যদি আলাদা বাড়িতে থাকেন তাহলে তারা একে অপরের সাথে দেখা করতে আরেকজনের বাড়িতে যেতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে দেশটির সরকার বলেছে কোভিড -১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ করে বাড়তে থাকায় এমন "তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ" নেয়ার প্রয়োজন ছিল।

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে ঈদ উল আজহার উৎসব উদযাপন শুরু হয়েছে। যেটা শেষ হবে সোমবারে।

মুসুল্লিরা মসজিদে যাচ্ছেন।

ছবির উৎস, PA Media

ছবির ক্যাপশান, ঈদ উদযাপন ম্লান করে দিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে সরকার।

মিঃ করিম বলেন: "ধরুন এটা বড়দিনের সময় এবং আপনাকে এ ধরণের একটি খবর পেতে হল।"

"বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের একসাথে দেখা সাক্ষাত হওয়াই ঈদ উদযাপনের দিনের একটি প্রধান অংশ - এদিন সবাই একজন আরেকজনের বাসায় যায়, একসাথে সবাই দাওয়াত খায়, উপহার ভাগাভাগি করে।"

তিনি আরও যোগ করেন: "আমরা খুব হতাশ হয়েছি, কারণ আমরা আমাদের নাতি নাতনিদের জন্য খেলনা কিনেছি। আমাদের ভাগ্নে ও ভাগ্নিদের বার্মিংহাম থেকে আমাদের বাড়িতে আসার কথা ছিল, তবে এই নিষেধাজ্ঞার জন্য তারা এখন আসবে না।

"আমরা আমাদের ঈদের সমস্ত পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছি।"

তবে অনেক মুসলমানের ঈদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেলেও ঈদের উদযাপন থেমে থাকবে না বলেও তিনি মনে করেন।

এমন উৎসবের সময়ে সরকারের নতুন বিধিমালা আরোপের সমালোচনা করেছেন ব্ল্যাকবার্নের কাউন্সিলর সায়মা আফজাল।

"সরকার এই সিদ্ধান্ত দিতে এত দেরি করল কেন? ঈদের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এমন ঘোষণা দেয়ায় মানুষ তাদের পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে কোন সময়ই বলতে গেলে পায়নি।" , তিনি বলেন।

"আমার এই ঘোষণা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু যে সময়ে ঘোষণাটা দেয়া হয়েছে সেটা ভালো লাগেনি, এটি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।"

"শুধু মুসলমান নয়, প্রতিটি সম্প্রদায়কে এই শেষ মুহূর্তের ঘোষণা বেকায়দার মধ্যে ফেলেছে।"

ইমাম ক্বারি অসীম

ছবির উৎস, Qari Asim

ছবির ক্যাপশান, ইমাম ক্বারি অসীম মুসলমানদের ঘরে বসে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান জানান।

লিডসের সিনিয়র ইমাম ক্বারি অসীম ঘরে বসে ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে "নিরাপদে থাকার" জন্য অনুরোধ করেছেন।

"কোভিড -১৯ প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে ব্রিটেনে বসবাসরত কৃষ্ণাঙ্গ, এশীয়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই আমাদের অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা দরকার," তিনি বলেন।

"হজ পালনকে কেন্দ্র করে এই প্রথমবারের মতো বিধিনিষেধ আরোপ করায় মুসলমান সম্প্রদায়ের অনেকের মধ্যেই হতাশা দেখা দিয়েছে। তবে আমরা একা নই। অন্যান্য ধর্মীয় বিশ্বাসীদেরও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আমরা আশা করি সবার এই আধ্যাত্মিক ত্যাগ কোভিড -১৯কে পরাস্ত করতে আমাদের সবাইকে সক্ষম করে দেবে।"

তিনি বলেন, তিনি চান না যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক যাতে "ইসলামোফোবিয়া" বা ইসলামের প্রতি ভীতি/বিদ্বেষ জন্মাতে পারে। ঈদ উদযাপন শুরু হওয়ার সাথে সাথে কিছু গোষ্ঠী বিদ্বেষমূলক ব্যাখ্যা দিয়ে মুসলমানদের শোষণ করার চেষ্টা করবে"। তাই ঈদ উৎসব উদযাপনের সময় সবাইকে সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মসজিদে নামাজ আদায় করছেন মুসুল্লিরা।

ছবির উৎস, Qari Asim

ছবির ক্যাপশান, নতুন বিধিতে মসজিদগুলোয় নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ঈদ উদযাপনকে বাধাগ্রস্ত করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্রিটেনের স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক। এই নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্রেটার ম্যানচেস্টার, পূর্ব ল্যাঙ্কাশায়ার এবং পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের কিছু অংশ স্থবির হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেছেন: " এসব অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়কে আমি হৃদয় থেকে অনুভব করি, কারণ আমি জানি ঈদ উদযাপন তাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

"আমি স্থানীয় মুসলিম নেতৃবৃন্দ, দেশের সব ইমামদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত থাকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উদযাপনের উপায় খুঁজে বের করতে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন।"

আরও পড়তে পারেন: