আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
পল্লবী বিস্ফোরণ: থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযুক্তদের কি আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশে ঢাকার পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ রিমাণ্ডে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার আদালত তাদের প্রত্যেকের ১৪দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে।
তবে এই অভিযুক্তদের ঠিক কখন গ্রেফতার করা হয়- এই সময় নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার দু'দিন আগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দু'জনের পরিবার অভিযোগ করেছে।
এই অভিযোগ তদন্ত করার কথা বলেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
অন্যদিকে জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইসিস দাবি করেছে, তারা পল্লবী থানায় ঐ বোমা হামলা করেছে।
পুলিশ আইসিসের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, পল্লবী থানার ঘটনার সাথে জঙ্গী সম্পৃক্ততা তারা পায়নি।
পল্লবী থানায় ওজন মাপার যন্ত্রে লুকানো বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যে তিনজনকে গোয়েন্দা পুলিশ রিমাণ্ডে নিয়েছে, তারা হলেন শহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম এবং মো: মোশাররফ।
ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য ছিল, বুধবার ভোরে তাদের গ্রেফতারের সময় গুলিসহ দু'টি পিস্তল এবং ওজন মাপার যন্ত্র উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছিল এবং সেই ওজন মাপার যন্ত্রে গ্রেফতারকৃতদের লুকিয়ে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার আদালতে রিমাণ্ডের শুনানিতে এই গ্রেফতারকৃতদের আইনজীবীর মুল বক্তব্য ছিল, থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার দু'দিন আগে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলেও ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার বিধান মানা হয়নি।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিরপুরের কালশি এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন যাত্রবাহী বাসের চালক।
তার স্ত্রী জেসমিন আকতার বলেছেন, তার স্বামীকে গত ২৭শে জুলাই বিকেলে সাদা পোশাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ঘটনা তুলে ধরে তারা থানায় জিডি করেছিলেন। কিন্তু বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের অভিযুক্ত হিসাবে দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন।
"ঘটনা হচ্ছে, ২৭ তারিখে বিকাল ৩টা ৫২ মিনিটে এলাকার একটা দোকান থেকে আমার স্বামীকে উঠায়া নিয়া গেছে। এলাকার লোকজন বললো যে, এরা ছিল ডিবি পুলিশের লোক। তারপর আমরা ডিবি অফিসে গেলাম, তারা বললো তারা নেয়নি। তখন আমরা থানায় এলাকাবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী ঘটনা তুলে ধরে জিডি করলাম।"
জেসমিন আকতার আরও বলেছেন, "২৮শে জুলাই আমরা র্যাব-৪ এর অফিসে যাই। সেখানে তারা অভিযোগ লিখে নিয়ে আমাদের তার একটা ডকুমেন্ট দেয়। মানে তিনদিন কোন খবর নাই। হঠাৎ করে বুধবার টিভিতে দেখলাম যে, আমার স্বামীর ছবি। দেখে সবাই কান্নাকাটি। দেখলাম যে, পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণ হইছে, তাতে নাকি সে জড়িত।"
"কথা হচ্ছে, ডিবি ধরে নিয়ে গেলে তাদের কাছে থেকে এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা-এটা কীভাবে সে করলো?"
পুলিশের সাবেক একজন আইজি নুরুল হুদা বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কাউকে আটকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হয়। সেটা করা না হলে তা আইনের লঙ্ঘন হয়।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:
তবে গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেছেন, আগে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা-তা তারা তদন্ত করে দেখবেন।
"এ রকম ঘটনা আমাদের নলেজে নাই। আমরা ২৭ তারিখে কাউকে ধরিনি।ওজন মাপার মেশিনের মধ্যে চারটি বোমাসহ আমরা তিনজনকে ২৯ তারিখ বুধবার ভোরে গ্রেফতার করেছিলাম। এখন যেটা বলা হচ্ছে, আমরা তা তদন্ত না করে বলতে পারবো না।"
ঈদ এবং অগাষ্ট মাস সামনে রেখে জঙ্গী হামলার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে পুলিশের সদর দপ্তর থেকে কয়েকদিন আগেই পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়।
সেই প্রেক্ষাপটে পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের দাবি নিয়েও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলামিক স্টেট দাবি করেছে, তারা পল্লবী থানায় হামলাটি চালিয়েছে এবং ২০১৯ সালের অগাষ্টের পর তারা এখন বাংলাদেশে এই হামলা করলো।
কিন্তু এই দাবি নাকচ করেছে বাংলাদেশের পুলিশ এবং সরকার।
ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেছেন, পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গী সংশ্লিষ্টতা নেই।
"এখন কে কি দাবি করলো, সেটাতো বিষয় না। আমরা তদন্ত করি আমাদের তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এবং ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তিতে। যাদেরকে ধরা হয়েছে, তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাহলে তারা কি চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ ধরণের জঙ্গী সংগঠন করে। তাছাড়া আমরা যাদের ধরেছি, তাদের সাথে কোন জঙ্গী সংশ্লষ্টতা পাইনি। আমাদের তদন্তে এ রকম কিছু পাইনি।"
তিনি আরও বলেছেন, "এটা এখানে লোকাল কিছু ইস্যু এবং ক্রিমিনাল কর্মকাণ্ডের বিষয়। এটা আমরা তদন্তে আবিষ্কার করেছি।"
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দু'দিন ধরে একই ধরণের বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, এখনও জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার তথ্য না মিললেও তদন্তে বিষয়টিতে নজর দেয়া উচিত।
পুলিশের সাবেক আইজি নুরুল হুদা বলেছেন, "পুলিশের অস্বীকার করার পেছনে কোন উদ্দেশ্যমূলক কিছু আছে-তা দেখি না। তবে জঙ্গী সমস্যাটাতো সম্পূর্ণভাবে চলে যায়নি, সেটা যেমন সত্য। একইসাথে বলা যায়, জঙ্গীদের এখন একটা আক্রমণ করার মতো শক্তি নাই।"
গত বুধবার পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণে চারজন পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়।