আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
করোনা ভাইরাস: সংক্রমণের 'পিক' পেরিয়ে এসেছে ভারতের দুই প্রধান শহর?
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
- Published
ভারতে মোট শনাক্ত করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা প্রায় বারো লাখ ছুঁতে চললেও দেশের দুটি প্রধান শহর দিল্লি ও মুম্বাই এরই মধ্যে সংক্রমণের 'পিক' পেরিয়ে এসেছে বা ছুঁয়ে ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করছেন।
দেখা গেছে দিল্লিতে সোমবার থেকে ও মুম্বাইতে মঙ্গলবার থেকে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের চেয়েও নিচে নেমেছে– যে ঘটনা গত বেশ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার ঘটল।
মুম্বাইতে ''করোনা হটস্পট'' বলে বহু ঘিঞ্জি বস্তি এলাকাও এখন ধীরে ধীরে ভাইরাসমুক্ত হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে বলা হচ্ছে।
দেশের অন্যান্য বহু অংশেই অবশ্য সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত – এবং ভারতের এক এক জায়গায় ''পিক'' যে এক এক সময়ে আসছে তা নিয়েও বিশেষ দ্বিমত নেই।
বস্তুত ভারতের যে মেট্রো শহর ভারতে প্রথম অঘোষিত ''করোনা ক্যাপিটালে''র তকমা পেয়েছিল, সেটা ছিল দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই।
কিন্তু ধীরে ধীরে সেই খেতাব চলে আসে রাজধানী দিল্লির কব্জায়, দিল্লির করোনা সঙ্কট কার্যত সরকারের হাতের বাইরেই চলে যায়।
কিন্তু মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে দেখা গেছে, তার আগের চব্বিশ ঘন্টায় দিল্লিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা মাত্র ৯৫৪জন।
দিল্লিতে এই সংখ্যা হাজারের নিচে নেমে আসার ঘটনা প্রায় পঞ্চাশ দিনের ভেতর প্রথমবার ঘটল, আর তাতে অনেক বিশেষজ্ঞই একটা রূপোলি রেখা দেখছেন।
গ্রাম বা ছোট শহরে সংক্রমণ কম হবে?
ভারতের প্রিমিয়ার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এইমসের অধিকর্তা রণদীপ গুলেরিয়ার কথায়, "আমার ধারণা দেশের বেশ কিছু জায়গা এর মধ্যেই সংক্রমণের পিক স্পর্শ করে ফেলেছে।"
বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:
"এর অন্যতম অবশ্যই দিল্লি, কারণ সেখানে নতুন কেস হু হু করে কমছে। তবে কয়েকটা রাজ্যে কেস আবার বাড়ছেও, সেখানে পিক আসতে এখনও কিছুটা দেরি হবে।"
"তবে মুম্বাই বা দিল্লির মতো শহরে যেখানে বহু ক্ষেত্রে পাঁচ-ছজন মানুষকেও গাদাগাদি করে একটা ঘরে থাকতে হয় সেখানে যেভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, আমার ধারণা গ্রামীণ এলাকায় বা ছোট, টিয়ার-টু বা টিয়ার-থ্রি শহরে সংক্রমণ অতটা উদ্বেগজনক হবে না।"
এখনও পর্যন্ত ভারতে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন মহারাষ্ট্রে, তবে সেই রাজ্যের রাজধানী মুম্বাইয়ের পরিস্থিতি কিন্তু ক্রমশ উন্নতির দিকেই যাচ্ছে।
গত চব্বিশ ঘন্টায় মুম্বাইতে নতুন কেস পাওয়া গেছে ৯৯৫টি, আর শহরের যে ধারাভি বস্তিতে প্রথম করোনা হানা দিয়েছিল সেখানেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণেই বলেই জানা যাচ্ছে।
এশিয়ার বৃহত্তম ও ঘিঞ্জি এই বস্তি যেভাবে করোনাভাইরাস রুখেছে, সেই ''ধারাভি মডেলে''র উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।
বৃহনমুম্বাই পুর কর্পোরেশনের সহকারী কমিশনার কিরণ দীঘাওকর বিবিসিকে বলছিলেন, "আসলে আমরা ধারাভিতে যত বেশি সম্ভব মানুষকে স্ক্রিন করেছি এবং সন্দেহভাজন আক্রান্তদের সোজা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছি।"
"এই জন্য আমরা এলাকার বহু স্কুল-কলেজ, স্পোর্টস কমপ্লেক্স বা বিয়েবাড়ির হল অধিগ্রহণ করে সেখানে কোয়ারেন্টিন সেন্টার বানিয়েছি।"
"এটা বিরাট পার্থক্য গড়ে দিয়েছে যে তারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে ছিলেন, হোম কোয়ারেন্টিনে নন।"
'ভারতে মৃত্যুর হার অনেক কম'
তবে এতদিন ভারতে করোনা মোকাবিলার মূল ফোকাস এই দুই শহরে থাকলেও এখন ব্যাঙ্গালোর, সুরাট, পুনে, গুয়াহাটি বা কলকাতার মতো আরও নানা শহরে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বলছেন, বিশাল দেশ ভারতের এক একটা রাজ্য যেন আলাদা এক একটা ছোট দেশের মতো আচরণ করছে – এবং ফলে দিল্লি-মুম্বাইয়ের তুলনায় বহু জায়গাতেই ''পিক'' আরও পরের দিকে আসবে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো শামিকা রাভির মতে, এই পটভূমিতে ভারতের জন্য বড় ভরসার কথা এদেশে সেরে ওঠার হার খুবই ভাল – আর মৃত্যুর হারও অনেক কম।
মিস রাভির কথায়, "এই বার্তাটা এখন দেওয়া খুব জরুরি যে বেশির ভাগ করোনা আক্রান্তই কিন্তু সেরে উঠছেন আর দ্রুতই সেরে উঠছেন।"
"মোটামুটি সারা দুনিয়ার জন্যই এটা সত্যি – তবে ভারতের জন্য খুব বড় বাড়তি আশার কথা হল এখানে মৃত্যুর হারও অনেক কম।"
"প্রতি দশ লক্ষ জনসংখ্যায় ভারতে মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র বিশ বা একুশ – যেখানে বেলজিয়ামে সেই একই সংখ্যা নশোর কাছাকাছি। পশ্চিম ইউরোপে, স্পেন, ফ্রান্স বা ইতালির চেয়ে এখানে ভারতের অবস্থা অনেকগুণে ভাল," বলছেন শামিকা রাভি।
তবে দিল্লি বা মুম্বাইয়ের মতো দেশের প্রধান শহর যদি সংক্রমণের পিক ছুঁয়েও ফেলে থাকে, গোটা দেশের পিক আসতে এখনও প্রায় মাসখানেক সময় লাগবে বলে একাধিক গবেষণায় পূর্বাভাস করা হয়েছে।
নানা গাণিতিক মডেলের ভিত্তিতে অন্তত দুটি গবেষণা বলছে গোটা দেশের পিক আসবে ২১ থেকে ২৩শে আগস্ট নাগাদ, যখন ভারতে অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা হবে সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখের মতো।
আর এখন সারা দেশে অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৪ লক্ষ ১১ হাজারের চেয়ে একটু বেশি।