সাহেদ, সাবরিনা আর গোটা স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষোভ

পুলিশ হেফাজতে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা চৌধুরী, ১২-০৭-২০২০।

ছবির উৎস, SOPA Images

ছবির ক্যাপশান, পুলিশ হেফাজতে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা চৌধুরী
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

মাঝে মধ্যে বড় ঘটনা থেকে একজন নায়ক বা খলনায়ক বেরিয়ে আসে। গত সাত দিনে কোন নায়কের আবির্ভাব না হলেও, বাংলাদেশে একজন খলনায়ক যে তৈরি হয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

স্বাভাবিকভাবেই, আজকের চিঠি-পত্রের বড় অংশ জুড়ে থাকবে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতাল এবং তার মালিক মোহাম্মদ সাহেদকে নিয়ে মন্তব্য এবং প্রশ্ন।

শুরু করছি খুলনার পাইকগাছা থেকে পাঠানো একটি ইমেইল দিয়ে, লিখেছেন আরিফুল ইসলাম:

''করোনাভাইরাস পরীক্ষা ছাড়া ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৭ই জুলাই রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হল, তার মালিক মোহাম্মদ সাহেদ গ্রেফতার হল। একই বিষয়ে জালিয়াতি করার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ার-এর সাবরিনা চৌধুরী গ্রেফতার হল।

''যখন করোনাভাইরাস নিয়ে দেশ হিমসিম খাচ্ছে, তখন তারা মানবতার সেবা না করে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অর্থের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। তবে এরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, উপযুক্ত কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত । তাহলে আর এই রকম অপরাধ করার সাহস কারো হবে না।''

ঢাকায় আনার পর র‍্যাব কর্মকর্তাদের সাথে মোঃ সাহেদ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় আনার পর র‍্যাব কর্মকর্তাদের সাথে মোহাম্মদ সাহেদ

একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদ ও জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী। করোনা মহামারির এ চরম ক্রান্তিকালেও যে মানুষের জীবন নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারে, তা ছিল অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য ও অকল্পনীয়।

''আলোচিত এদুজনের অপরাধের ধরণ ও প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা, কিন্তু তারা দুজন নিঃসন্দেহে বহু মানুষের জীবন চরম বিপদের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশ বিদেশে তারা দেশের ভাবমূর্তি ও ইমেজ চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত করেছে। তাদের অপরাধ অমার্জনীয় এবং তাদেরকে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।''

চিকিৎসায় প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ছবির উৎস, Regent Hospital Website

ছবির ক্যাপশান, চিকিৎসায় প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

এই ঘটনা নিয়ে আরো উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবসহ সবাইকে চোখে ধুলো দিয়ে, মুখোশ পরে, চাল চালিয়ে, নব উদ্ভাবক নেতাদের সঙ্গে সেলফিবাজি ও তৈলবাজি করে এত দীর্ঘ ইনিংস খেললেন, যা কল্পনাতীত! করোনার সঙ্গে হয়তো পেরে উঠেননি, নাহলে কোথায় গিয়ে ঠেকতো একবার ভাবুনতো? এরা দেশের ভিত ধ্বংস করে দিয়েছেন, বিশ্বে আমাদের দেশকে একঘরে করে ফেলেছেন। এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে এদেশকে নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে।''

আপানরা সবাই একটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, যেটা হল বিচার এবং শাস্তি। এখানে আমার দ্বিমত পোষণ করার কিছু নেই। আইন যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ না করা হয় এবং আইন প্রয়োগের দায়িত্বে যারা আছেন তারা যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেখেও না দেখার ভান করেন, তাহলে অপরাধের প্রবণতা বাড়তেই থাকবে। তবে কোন দলীয় সংশ্লিষ্টতা বা আনুগত্য আমলে না নিয়ে আইন সবার বেলায় সমান ভাবে প্রয়োগ করতে হবে, না হলে আইন বা বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা থাকবে না।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

ছবির উৎস, Bangladesh Health Ministry

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

বিষয়টিকে বৃহৎ প্রেক্ষাপটে দেখে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''রিজেন্ট হাসপাতালের মতো অন্যরাও যে ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? কিসের ভিত্তিতে এসব হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসা বা করোনা শনাক্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছে আমি জানিনা। এই অব্যবস্থাপনার দ্বায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কি কোনো ভাবে এড়াতে পারে? আমার মনে হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করা উচিৎ। সরিষার মধ্যের ভূতই আগে দূর করতে হবে, অন্যথায় এখাতের অব্যবস্থাপনা কোনদিনও দূর হবে না।''

আমার মনে হয় রিজেন্ট এবং জেকেজির ঘটনা শুধু দু'জন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই ঘটনা গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করছে। কীভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতালগুলো সরকারি অনুমোদন পেলো, তাদের ওপর তদারকি কীভাবে করা হয়, সেখানে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা কী এবং আপনি যেটা বলছেন মি. সরদার, করোনাভাইরাস কার্যক্রমে তাদেরকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা হলো, এসব কিছু নিয়েই গভীর তদন্ত দরকার। সন্দেহর তীর এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিকেই থাকবে।

এ অবস্থায় বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী দায়িত্বে বহাল থাকলে তদন্ত কতটুকু নিরপেক্ষ এবং কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ

ছবির উৎস, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ

স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা নিয়ে আরো লিখেছেন রংপুর থেকে মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:

''ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখানে লুকিয়ে থাকার জন্য চুলের রং বদলে,গোঁফ কেটে,বোরকা পরে, নৌকায় চড়ে পালানোর সময় সাহেদকে আটক করার মাধ্যমে একটি নাটকীয়ঘটনার সমাপ্ত করলো র‍্যাব। মহামারি করোনাভাইরাসকে নিয়েও যারা দুর্নীতি আর অনিয়ম করারকাজে ব্যস্ত,তাদেরকে কঠোরভাবে বিচারের আওতায় আনা উচিত ।

''বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে বেহাল দশা, তা বারবার সাধারণ মানুষের সামনে দিনের আলোর মত স্পষ্ট। বরাবরের মত শুধু আশার বাণী না শুনিয়ে বরং এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে স্বাস্থ্যখাতকে পুনরায় ঢেলে সাজানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে আমি মনে করি।''

আমি আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত মি. ওলিউল্লাহ, এই মহামারি সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্য খাতের করুন অবস্থা প্রকাশ করে দিয়েছে। শুধু তাই না, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে কত দুর্নীতিগ্রস্ত, সেটাও ভালভাবেই জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়েছে। আপনি ঠিক কথাই বলেছেন, মানুষ শুধু আশার বাণী শুনতে চায় না, তারা দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়।

ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক হায়া সোফিয়া, ১৫-০৭-২০২০।

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, ইস্তান্বুলের ঐতিহাসিক হায়া সোফিয়া

সম্প্রতি ইস্তান্বুলের ঐতিহাসিক স্থাপনা হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:

''প্রায় দু'হাজার বছরের পুরনো গির্জা আয়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে পরিণত করাকে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যভাবেই নিয়েছি। এর কারণ হিসেবে বলবো, কালের বিবর্তনে ঐতিহাসিক এ স্থানটি অটোমান, রোমান ও মুসলমানেরা পর্যায়ক্রমে শাসন করেছে। কোনরূপ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা না ঘটিয়ে তুরস্ক সরকার যদি ঐতিহাসিক স্থানটিকে ধর্মীয় উপাসনালয়ে পরিণত করে, তাহলে তো দোষের কিছু থাকতে পারে না। সমালোচকদের এ নিয়ে এত মাথা ব্যথা কেন?''

মাথা ব্যথার কারণ হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত তুরস্কের ভবিষ্যৎ পথ নির্দেশনা করছে, যেটা অনেকেই পশ্চাদগামী বলে মনে করছেন। ইস্তান্বুলে অসংখ্য মসজিদ আছে, বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মসজিদগুলোর কয়েকটি সেখানে। ছিয়াশি বছর ধরে যে স্থাপনা যাদুঘর হিসেবে সবার জন্য উন্মুক্ত, সেটাকে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রার্থনার জন্য বরাদ্দ করার মানে হল, তুরস্ক তার আধুনিক যুগের ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে সরে আসছে। সমালোচকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের পর তুরস্কে আরো বেশি ইসলামীকরণ হবে।

হায়া সোফিয়ার মূল কক্ষে খ্রিস্টান ফ্রেস্কো এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি।

ছবির উৎস, OZAN KOSE

ছবির ক্যাপশান, সহাবস্থান: হায়া সোফিয়ার মূল কক্ষে খ্রিস্টান ফ্রেস্কো এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি

হায়া সোফিয়ার খবর পরিবেশন নিয়ে অভিযোগ করে লিখেছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে শুভ্র যিনি শুধু একটি নামই ব্যবহার করেছেন:

''আপনাদের অনলাইনের একটি শিরোনাম, "৮৬ বছর পর ইস্তাম্বুলের হায়া সোফিয়ায় শোনা গেল আজান ধ্বনি"র প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই শিরোনাম উপযুক্ত নয় এবং সেটা ইসলামী উগ্রবাদকে উস্কে দিয়ে তাদের আরো আগ্রাসী হতে উৎসাহ দেবে। এই জায়গায় এক সময় গির্জা ছিল এবং তারপর যাদুঘর। সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দয়া করে এই শিরোনাম বদলে দিন। এই শিরোনাম প্রসঙ্গে আমি বিবিসির সদর দফতরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবো।''

আমাদের শিরোনামকে আপনি উস্কানিমূলক মনে করছেন জেনে আমি দুঃখিত মি. শুভ্র, তবে আপনার অনুরোধ আমি রাখতে পারছি না। শিরোনামে বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল মাত্র, যার অর্থ হল, ৮৬ বছর পর হায়া সোফিয়া পুনরায় মুসলিমদের প্রার্থনাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। হায়া সোফিয়া অবশ্যই একটি গির্জা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে, কিন্তু ১৪৫৩ সালের পর থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত সেটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এখন আবার সেখান থেকে আজানের ধ্বনি আসবে - শিরোনামে সেই বাস্তবতাই প্রতিফলিত হয়েছে, অন্য কিছু না।

চীন প্রেসিন্টে শি জিনপিং-এর সাথে শেখ হাসিনা

ছবির উৎস, Pool

ছবির ক্যাপশান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সাথে শেখ হাসিনা

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গ। ভারত-চীন সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে লিখেছেন ভারত থেকে নিরুপম দত্ত:

''বাংলাদেশ যদি ভারতকে ছেড়ে চীনের দিকে ঝুঁকে, তবে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে। অথচ বাংলাদেশের সরকার চীনের দিকে ঝুঁকে আছে, যার ফল বাংলাদেশের জন্য খারাপ হবে। এই সুযোগে হাসিনা সরকার ভারতের সাথে তিস্তার জল নিয়ে দর কষাকষি করতে পারেন।''

আমার মনে হয় বাংলাদেশ দু'দেশের সাথেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়। শুধু একটি দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। কারণ, ভারত বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চীন বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকার ট্রাফিক বোঝাই সড়ক, ১৪-০৭-২০২০।

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, লকডাউন তুলে নেয়ায় ঢাকার সড়ক আগের রূপ নিয়েছে

করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে, বিশেষ করে আসন্ন ঈদ-উল আজহার সময় পশুর হাটের নিরাপত্তা নিয়ে লিখেছেন রাজবাড়ি সদর থেকে শাওন হোসাইন:

''দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার লকডাউন শিথিল করতে অনেকটা বাধ্য হয়েছে বলা যায়, আর সেই সুযোগে অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামত চলাচল করছে। এদিকে মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাট বসা নিয়ে সরকার দোটানায় পড়েছে।

''কিছুদিন আগেও ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে পশুর হাট বসবে না শোনা গেলেও ঢাকা সিটি কর্পোরেশন পশুর হাটের দরপত্র আহবান করেছে বলে জানা গেছে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন হাট বসলেও সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, কিন্তু করোনাভাইরাস নিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে যে উদাসীন ভাব তাতে করে স্বাস্থ্যবিধি কতটুকু মানা হবে সেটা ভাববার বিষয়।''

বিষয়টি যে উদ্বেগজনক তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. হোসাইন। তবে পশুর হাট বন্ধ রাখতে সরকারি কোন সিদ্ধান্ত হয়নি, যদিও করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেবার জন্য যে জাতীয় কমিটি আছে, তারা ঢাকায় হাট বন্ধ রাখার উপদেশ দিয়েছিল। আমি যত দূর জানি, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কয়েকটি হাট খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু, আপনি যে কথা বলছিলেন, হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচা-কেনা হবে কি-না, সেটাই মূল বিষয়।

বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে বন্যা কবলিত মানুষ নৌকা চড়ে যাতায়াত করছেন।, ১৪-০৭-২০২০।

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে বন্যাকবলিত মানুষ নৌকায় চড়ে যাতায়াত করছেন

করোনাভাইরাস মহামারির সাথে এবার এসেছে বন্যার হুমকি। সে বিষয়ে লিখেছেন রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে মাহামুদুল হাসান:

''বাংলাদেশে গণমাধ্যমগুলো বিশেষজ্ঞদের মতামত ও উদ্ধৃতি দিয়ে সম্ভাব্য একটি বড় বন্যার কথা বলছে। বসে নেই করোনা সংক্রমণও। বন্যা কবলিত এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবন যাপনই যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা বা স্বাস্থ্যবিধি মানা কতটুকু সম্ভব হবে? সরকারি বা বেসরকারিভাবে কি সম্ভব হবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা? যদি সম্ভব না হয়ে থাকে, তবে করোনা সংক্রমণ কি অধিকতর বিস্তার লাভ করবে না এসব এলাকা থেকে?''

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে স্বাভাবিক সময়েই সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে মি. হাসান, আর বন্যার সময় নানা কারণে সে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। সরকার বা বেসরকারি সংস্থা যারা বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছে, বা আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করছে, বা স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে, তাদের একটি বড় দায়িত্ব থাকবে নিজ নিজ জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা।

ঢকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাইরে শিশু সন্তানসহ একজন রোগী, ১৫-০৭-২০২০।

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, করোনার হাতে জিম্মি: কবে মহামারী শেষ হবে, সেই আশায় দিন গুনছে মা ও শিশু

এবার আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু প্রশ্ন। বহুদিন পরে লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিস আক্তার:

''প্রীতিভাজনেষু আগের মত রেডিওতে প্রচার হয় না দেখে লেখারও আর তেমন একটা আগ্রহ জাগে না। বলতে পারেন কোভিড-১৯ দেশে বিস্তার লাভের পর এটাই আমার প্রথম লেখা। দেশের অনেক কিছুই ইতোমধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসলেও বিবিসি বাংলা'র প্রীতিভাজনেষুতে লেগেছে যত সমস্যা বোধহয়!

''আপনারা স্বাভাবিকভাবে সংবাদ পরিবেশন করছেন, কিন্তু প্রীতিভাজনেষু রেডিওতে প্রচারের বেলায় এতটা উদাসীনতা কেন? এত জনপ্রিয় একটা অনুষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন, অথচ একটা দিনও কোন ঘোষণা দিয়ে জানালেন না যে, তা কবে ফিরছে?''

দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে বলে আমাদের মনে হয় না মিস আক্তার। সেজন্য করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের অনুষ্ঠানে যা কিছু করছি তা আরো কিছু দিন অব্যাহত থাকবে। বুধবারের ফোন-ইনটি করা হয় শুধুমাত্র করোনাভাইরাস নিয়ে শ্রোতাদের প্রশ্নের জবাব দেবার জন্য। সেই প্রয়োজনটা যখন থাকবে না, তখন আমরা রেডিও-তে প্রীতিভাজনেষু ফিরিয়ে আনবো।

কিন্তু কেউ বলতে পারছে না কবে নাগাদ করোনাভাইরাসের প্রকোপ শেষ হবে - এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এরকম কোন ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারছে না। সেজন্য কবে প্রীতিভাজনেষু ফিরে আসবে, সে কথা আমরা এখনো বলতে পারছি না।

ভিডিওর ক্যাপশান, কোন ধরণের উপসর্গে ভুগছেন কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠাদের অনেকে? চিকিৎসকেরা কী পরামর্শ দিচ্ছেন?

আমাদের ফোন-ইন অনুষ্ঠানগুলো পছন্দ হচ্ছে না বলে লিখেছেন ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে জাহিন মুমতাহিনাহ:

''বিবিসি বাংলা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বেশ কিছু ফোন-ইনের আয়োজন করেছে এবং আমি লক্ষ্য করেছি ইদানীং ফোন-ইনের মাত্রা বেশ বেশি। এখন ফোন-ইন শুনতে বেশ বিরক্তি লাগে, বিশেষ করে যখন পুনঃপ্রচার হয়। ফোন-ইন কমিয়ে বিজ্ঞানের আসর, কোন সেলেব্রিটির সাক্ষাৎকার কিংবা অন্যকোন ফিচার ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করছি।''

আমাদের ফোন-ইন গুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের জবাব দেয়া এবং শ্রোতাদের মতামত তুলে ধরা। এটাকে আমরা এক ধরনের পাবলিক সার্ভিস হিসেবে দেখছি। এই মহামারি কালে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে শ্রোতাদের নির্ভুল বিজ্ঞানসম্মত তথ্য দেয়া। করোনাসঙ্কট যত দিন চলবে, আমাদের অনুষ্ঠানে সেই বিষয় প্রাধান্য পাবে।''

ইতিহাসের সাক্ষী নিয়ে লিখেছেন খুলনার বয়রা থেকে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম:

''দীর্ঘদিন ধরে বিবিসি নিউজ বাংলা ইংরেজি থেকে অনুবাদ করে ইতিহাসের সাক্ষী প্রচার করছে। মাঝে মাঝে ভাণ্ডারে টান পড়ছে। এর অনেক পর্বই শ্রোতা নন্দিত হয়। ১৯৭৯সালে ঢাকায় বিমান যাত্রীদের জিম্মি করার ঘটনাটি আগামীতে ইতিহাসের সাক্ষীতে আনতে পারলে অনেক শ্রোতা পাঠকের কৌতূহল মিটবে। বাংলা বিভাগ কি এই আয়োজন করবে?''

যদি ইতোমধ্যে করে না থাকি তাহলে ভবিষ্যতে অবশ্যই করবো মি. ইসলাম। আপনার হয়তে মনে আছে ২০১১ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ৪০টি ঘটনা নিয়ে আমরা ইতিহাসের সাক্ষী প্রচার করেছিলাম। সেই সিরিজে ১৯৭১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ছিল। আমার হাতে এই মুহূর্তে সেই তালিকা নেই, তবে যদি প্রচার করা না হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই করা হবে।

পরের চিঠি লিখেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর শিবগঞ্জ থেকে নূর মোহাম্মদ:

''একটা প্রতিবেদন পড়ে বিবিসিকে না লিখে পারলাম না। 'করোনাভাইরাস কি প্রমাণ করল ঈশ্বর শুধুই ভদ্রপল্লির বাসিন্দা?' এই শিরোনামে আফরোজা সোমার প্রতিবেদনটি খুব সুন্দর হয়েছে। বিবিসির মাধ্যমে আফরোজা সোমা আপাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, এত সুন্দর একটা প্রতিবেদন উপহার দেবার জন্য।''

আপনাকেও ধন্যবাদ নুর মোহাম্মদ, আমাদের ওয়েবসাইট ব্যবহার করার জন্য। আপনার শুভেচ্ছা আমি আফরোজা সোমাকে পৌঁছে দিবো।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক।

কাজী সাঈদ, ঝিনাইদহ

মাকামে মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মাসুম নাহিদ, রাজশাহী

আসাদুজ্জামান মাসুদ, গাইবান্ধা

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়. গোপালগঞ্জ

মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুর

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী

এম নাজমুল হোসাইন, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া

রিপন বিশ্বাস, শ্রীপুর, মাগুরা

শামীম উদ্দিন শ্যামল, ধানমন্ডি, ঢাকা

মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি খুলনা