এডিটার'স মেইলবক্স: আটকে পড়া ভারতীয় আর মৃত মুসলিমের দাহ নিয়ে প্রশ্ন

পেট্রাপোল সীমান্তে আনুষ্ঠানিক পতাকা মহড়া, ২০-১০-২০১৯।

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, পেট্রাপোল সীমান্তে আনুষ্ঠানিকতা বহাল আছে কিন্তু মানুষ পারাপার বন্ধ
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

এক দিকে করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ, অন্যদিকে লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীন উত্তেজনা। এই দুটি বিষয়ের দিকে আমাদের পাঠকদের মনোযোগ ছিল সব চেয়ে বেশি।

কিন্তু এর মধ্যে বাংলাদেশে অনেক ভারতীয় নাগরিক আটকে থাকার বিষয়টি আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নিয়ে এসেছি। মার্চ মাসে করোনাভাইরাসের কারণে ভারত-বাংলাদেশ স্থল সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হলে অনেক ভারতীয় দেশে ফিরতে পারেন নি।

আজ শুরু করছি এ'বিষয়ে দুটি চিঠি দিয়ে, প্রথমটি লিখেছেন রাজা মল্লিক যিনি কলকাতার বাসিন্দা কিন্তু বাংলাদেশে আটকে গেছেন:

''আমি তিন মাস হলো ভারত থেকে এসে বাংলাদেশে আটকে গেছি। আমার মা-বাবা খুব অসুস্থ, তাদের দেখার কেউ নেই, আর আমার হাতে টাকা পয়সাও নেই। আমি কলকাতায় না ফিরতে পারলে কিছু একটা দুর্ঘটনা হয়ে যেতে পারে। আমি খুব খারাপ অবস্থায় আছি। পেট্রাপোল সীমান্ত খুলে দিলে চলে যেতে পারি। সবার কাছে আছে আবেদন রইলো।''

প্রবাহ টেলিভিশনের রিপোর্ট:

ভিডিওর ক্যাপশান, বেনাপোল স্থল বন্দরে পণ্য পরিবহন ছাড়া সব কার্যক্রম তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে

বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে মি. মল্লিক। এ'বিষয়ে আমাদের টেলিভিশন প্রতিবেদন তৈরি করার সময় ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। আশা করি ভারত সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে শীঘ্রই সীমান্ত দিয়ে মানুষ চলাচলের অনুমতি দেবে।

পরের চিঠি লিখেছেন শিবগঞ্জ থেকে বিকাশ দাস:

''আমার অভিযোগ হচ্ছে, বাংলাদেশে অনেক মানুষ করোনার কারণে আটকে রয়েছে, যেমন আমার বাড়িতে পাঁচ মাস ধরে ছয়জন রয়েছে। কিন্তু দেখেন, ইন্ডিয়াতে লকডাউন নেই, বর্ডারে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে, অথচ মানুষ পারাপার হচ্ছেনা। কিন্তু এই লোক গুলোর ঘরবাড়ি ইন্ডিয়াতেই পড়ে আছে। কী হবে তাদের? তাহলে কি তারা তাদের বাড়ি যেতে পারবেনা? সরকার কোনো ধরনের কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা। তাহলে তারা কি না খেয়ে মরে যাবে?''

আগের চিঠির উত্তরে যা বলছিলাম মি. দাস, পরিস্থিতি খুবই মর্মান্তিক রূপ ধারণ করছে। হয়তো বাংলাদেশ এবং ভারত, দু'দেশের সরকারই ভাবছে তারা স্থানীয় পরিচিত লোকজনের কাছ থেকে আশ্রয় এবং সেবা পাচ্ছেন। সেজন্য এটাকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছে না। তবে আপনার মত অন্যান্যরাও যদি তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন,তাহলে বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর জঙ্গি বিমান লাদাখের আকাশে টহল দিচ্ছে, ২৬-০৬-২০২০।

ছবির উৎস, TAUSEEF MUSTAFA

ছবির ক্যাপশান, ভারতীয় বিমান বাহিনীর জঙ্গি বিমান লাদাখের আকাশে টহল দিচ্ছে।

এখানে পাঠকদের জানিয়ে রাখি, এ'সপ্তাহে বেশির ভাগ চিঠিই আমাদের কাছে পৌঁছায় নি। গত সপ্তাহের শেষে আমাদের মেইল বক্স ভর্তি হয়ে গিয়েছিল কিন্তু প্রায় পুরো সপ্তাহ সেটা খালি করা হয়নি। যার ফলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যেসব মেইল এসেছে তার সবই বাউন্স করেছে। বিষয়টি বেশ বিব্রতকর, তার জন্য আমরা দু:খিত।

যাই হোক, এবার চীন-ভারত সীমান্ত প্রসঙ্গে লিখেছেন চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:

''সাম্প্রতিককালে একটি দেশের ভৌগলিক সীমানা নিয়ে অন্য আর একটি দেশের ভৌগলিক সীমা রেখার দাবি ক্রমশ দু'দেশের মধ্যে যুদ্ধের দামামা প্রায়শই বেঁধে যায়। এবং এর থেকে সৃষ্ট উত্তেজনা পার্শ্ববর্তী দেশের মধ্যে খানিকটা হলেও প্রভাব ফেলতে দেখা যায়। সাড়ে চার হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাসে মাত্র দু'শ বছর এ পৃথিবীতে যুদ্ধ ছিল না। তবুও মানুষ কেন যুদ্ধ চায়? আর যুদ্ধ দিয়ে আদৌও কোন সমস্যার সমাধান তো হয়নি বরং সম্পদ ও প্রাণহানির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখতে হয়েছে। এতকিছুর পরেও কি বলতে হবে যে যুদ্ধ অনিবার্য?''

আপনি নিশ্চয়ই চীন আর ভারতের মধ্যে যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব নিয়ে বলছেন? পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে দু'পক্ষের কেউ যুদ্ধ চায়না। চাইবেই বা কেন? দু'দেশই তাদের অর্থনীতির উন্নয়ন করে নিজেদের সম্পদ গড়ে তুলতে চাইছে যাতে তাদের বিশাল জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধির মুখ দেখে। দারিদ্র বিমোচনে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চীন ভারত থেকে অনেক এগিয়ে। কিন্তু যুদ্ধ বাঁধলে দু'দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দু'দেশই চাইছে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে।

চীনা সৈন্যদের কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, ১৬-০৬-২০২০।

ছবির উৎস, Barcroft Media

ছবির ক্যাপশান, চীনা সৈন্যদের কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

ভিন্ন ধরণের প্রশ্ন রেখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:

''ভারত-চীন সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হল। ভারত নিহতের সংখ্যা বললেও চীন বলেনি। এটা কীসের ইঙ্গিত বলে বিশ্বনেতারা মনে করেন, তা কিন্তু বিবিসি বাংলার প্রবাহে আসেনি। বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধান অথবা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা কী ভাবছেন তা তুলে আনা দরকার। বিবিসি বাংলার ভাবনা কি?''

বিশ্ব নেতারা কিন্তু এ'বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন নি। এমনকি চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংও সরাসরি এ নিয়ে কোন কথা বলেন নি। মনে হচ্ছে চীন চাইছে না যে এই সংঘাত ঘিরে আরো উত্তেজনা বাড়ুক। তাই তাদের মুখপাত্র মূলত ভারতকে সংযত হবার আহ্বান জানিয়েছে এবং হঠকারী কোন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ভারতের যেহেতু অনেকে মারা গেছেন, আহত হয়েছেন এবং অনেক সৈন্য চীনের হাতে বন্দী হয়েছিলেন, তাই নরেন্দ্র মোদীর ওপর চাপ ছিল জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য কিছু কড়া বক্তব্য দেয়া। আমার মনে হয় বেশিরভাগ মানুষই চাইবেন এই কড়া ভাবটা শুধুমাত্র বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

ভিডিওর ক্যাপশান, ভারত - চীন সেনা সংঘর্ষ: গালওয়ান উপত্যকা নিয়ে দুদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধের কারণ কী?

ভারতের সাথে অন্যান্য দেশের উত্তেজনা নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকু সরদার:

''চীন-ভারত উত্তেজনা কমতে না কমতেই নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে পাকিস্তানের সাথে। অন্য দিকে ভুটান এবং নেপালের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়েও বিবাদে জড়িয়েছে ভারত। একটার পর একটা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে কেন ভারত এভাবে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে? কি করতে চাইছে আসলে ভারত? ভারতের এ ধরনের আচরণে উপমহাদেশে কি নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হতে পারে?''

নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের সম্ভাবনা তো সব সময়ই আছে মি. সরদার। এখানে সমস্যা হচ্ছে ভারত বিশাল একটি দেশ এবং তার চারপাশ ঘিরে রয়েছে তার তুলনায় অনেক ছোট ছোট প্রতিবেশী। বৃহৎ রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় ছোট প্রতিবেশীর সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে সম্পর্ক গড়তে পারে না, এবং ছোট দেশগুলো বিকল্প পথ খোঁজে।

আমরা লক্ষ্য করছি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপাল এবং ভুটান চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা আগে থেকেই ছিল আর বাংলাদেশ দু'দেশের সাথেই ভাল সম্পর্ক রেখে মাঝপথে চলার চেষ্টা করছে। গোটা দক্ষিণ এশিয়া যাতে পুরোপুরি ভারত-বিরোধী না হয়ে যায়, সেজন্য দিল্লি তার বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তন আনবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

শ্রীলংকার মুসলিমদের অভিযোগ, করোনাভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ নিয়ে তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শ্রীলংকার মুসলিমদের অভিযোগ, করোনাভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ নিয়ে তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে

এবার যাই করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে। শ্রীলঙ্কার একটি ঘটনা নিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''তেইশে জুন বিবিসি বাংলার ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত "করোনা ভাইরাস: শ্রীলংকায় মৃত মুসলিমদের এখন কবর হচ্ছে না, হচ্ছে 'দাহ'" শীর্ষক খবরটি পড়ে বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি। ধর্মাচারে বিশ্বাস ও তা পালন করা প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার এবং এটা কোনভাবেই কোন রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক কারও উপর চাপিয়ে দিতে পারে না। মুসলমানদের ধর্মীয় বিধান মতে মৃতদেহ দাহ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কখনো কোনো জটিল পরিস্থিতিতেও মুসলমানের মৃতদেহ পোড়ানো হয়নি। এমন কোনো ইতিহাস ও ঘটনাও নেই। মৃতদেহ দাহ করাকে এক প্রকার অঙ্গহানি ও নির্যাতন মনে করে মুসলমানরা।

''কিন্তু শ্রীলঙ্কান সরকার "মৃত দেহ কবরস্থের পরিবর্তে দাহ" করার মতো একটি অতি সংবেদনশীল বিষয় যেভাবে সংখ্যালঘিষ্ঠ মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে, তা একদিকে যেমন অনভিপ্রেত, অন্যদিকে তেমনি চরম নিন্দনীয় এবং কোনভাবেই গ্রহণ করা যায় না। আমি মনে করি, শ্রীলঙ্কা সরকারের উচিত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা এবং ধর্মীয় নির্দেশনা মেনে কবরস্থ করা।''

আমার মনে হয় সবাই আপনার সাথে একমত হবেন মি. রহমান, যে সবাইকেই তাদের নিজের বা পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী সৎকার করা উচিত। আমাদের রিপোর্ট পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

ভিডিওর ক্যাপশান, বাংলাদেশে মহামারি সংক্রান্ত পূর্বাভাস ব্যর্থ হলো যে কারণে

প্রথমবারের মত চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মৃণাল কান্তি রায়:

''বাংলাদেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তাদের চিকিৎসা কোথায় কিভাবে হচ্ছে আমরা জানিনা। সরকারি হাসপাতালে এই বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা আদৌ সম্ভব নয়। আবার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচও খুব বেশি। এখন সাধারণ মানুষ করোনা পজিটিভ হলে কোথায় কিভাবে চিকিৎসা নেবেন এ বিষয়টিতে কিছু প্রতিবেদন প্রচারের অনুরোধ জানাচ্ছি।''

সেরকম প্রতিবেদন আমরা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি মি. রায়। একই সাথে হাসপাতালে গিয়ে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তির কথা আমাদের অনুষ্ঠানে বার বার আসছে। অনেক ভুক্তভোগীর কথা শুনে মনে হয় যেখানে চিকিৎসা পাবার কথা ছিল, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। হয়তো হাসপাতালগুলোর ধারণক্ষমতা থেকে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গেছে। এই আশঙ্কা অনেকেই করছেন। এখন সবাই আশা করছে সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ করে ধারণক্ষমতা বাড়াবে।

তবে আরেকটি জিনিসও মনে রাখতে হবে। সব দেশেই কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সিংহভাগ নিজ বাসায় থাকেন, হাসপাতালে যান শুধুমাত্র যাদের উপসর্গ অত্যন্ত জটিল রূপ নেয়, বিশেষ করে যাদের অন্যান্য রোগ আছে এবং শ্বাসকষ্ট প্রকট হয়ে যায়।

ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের কারণে এখন ঢাকার বাইরে‌ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচুর রোগী শনাক্ত হচ্ছে
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের কারণে এখন ঢাকার বাইরে‌ও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচুর রোগী শনাক্ত হচ্ছে

পরের চিঠি লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার বলরাম:

''করোনার কারণে শুরুতেই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সাধারণ ছুটির মোড়কে কার্যত লকডাউন দেওয়া হয়। আবার তা তুলে নেওয়া হয়। জোন ভিত্তিক লকডাউনের নামে সীমিত আকারে সব কিছু খুলে দেওয়া হয়। সেই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় সহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।

''মাসের পর মাস এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোটি কোটি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের টিভি বা অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্প মূলত কোনো কাজেই আসছে না বা আসবে না বলে আমি মনে করি। আচ্ছা, অন্য প্রতিষ্ঠানের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও কি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে চালু করা যায় না? হয়তো অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন না। কিন্তু যে অজুহাতে অন্য সবকিছু চালু করা হলো, সে একই অজুহাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন প্রয়োগ করা হচ্ছে না। নইতো সবকিছুই বন্ধ রাখা হোক।''

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখন খোলা উচিত হবে, তা নিয়ে অনেক দেশের সরকারই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছে মি. কুমার। ভাইরাস শিশুদের মধ্যে সংক্রমিত হলে সেটা তারা বাসায় নিয়ে আসবে, পিতা-মাতা এমনকি বয়স্ক আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে সেটা ছড়িয়ে যেতে পারে যার ফল হবে ভয়ানক। প্রাপ্তবয়স্করা যেভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবেন, দূরত্ব বজায় রাখবেন, ছোট বাচ্চাদের কাছ থেকে সেটা কোন ভাবেই প্রত্যাশা করা যায় না। সেজন্য সব সরকারই চাইছে সংক্রমণ একেবারে নিম্ন পর্যায়ে গেলেই স্কুল কলেজ খুলতে।

স্কুল খোলার আগে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় সব দেশের সরকার।

ছবির উৎস, SOPA Images

ছবির ক্যাপশান, স্কুল খোলার আগে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় সব দেশের সরকার।

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার কয়রা থেকে রাজন মণ্ডল:

''বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। যে লকডাউন ব্যবস্থাটা এখন কঠোর ভাবে জোরদার করা উচিত ছিল সেটা কার্যত আগেই দায়সারা ভাবে করা হয়েছে। এইরূপ পরিস্থিতিতে কি সরকারের সারা দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন কার্যকর করার পরিকল্পনা আছে কি না? আর থাকলেও সেটি কতটা বাস্তবায়ন হবে বলে ধারণা করা যায়?''

সরকারি মুখপাত্রের কথা-বার্তা শুনে তো মনে হয় সরকার আর দেশব্যাপী লকডাউন করতে চাইছে না। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, লকডাউন ফেব্রুয়ারির শেষে বা মার্চের শুরুতে করা উচিত ছিল। দেরীতে শুরু করা লকডাউন তেমন কার্যকর হয়নি। কিন্তু পুনরায় দেশব্যাপী লকডাউন করলে যে অর্থনৈতিক ধাক্কা আসবে, সেটা সামলানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের আছে কি না, সেটাও বিবেচনার বিষয়। এখন সরকার সম্ভবত স্থানীয় লকডাউনের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবে।

এলাকাবাসীরা বলছে ব্রিজটি নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার না করায় নতুন অবস্থায়ই ভেঙ্গে পড়ে ব্রিজটি।
ছবির ক্যাপশান, এলাকাবাসীরা বলছে ব্রিজটি নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার না করায় নতুন অবস্থায়ই ভেঙ্গে পড়ে ব্রিজটি।

আমাদের অনুষ্ঠানে প্রচারিত প্রতিবেদনের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''এ'মাসের ১৯ তারিখে বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের একটা ব্রিজ/কালভার্ট উদ্বোধন/চালু হবার আগেই ভেঙ্গে পড়ার খবর গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হলো। গুরুত্ব সহকারে বলছি এ জন্য যে বিবিসি বাংলার আধা ঘণ্টার অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছাড়া সাধারণ ইস্যু প্রচার করা হয় না। আমার প্রশ্ন এই কালভার্টের খবর প্রচার কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

''সরেজমিনে না দেখে কক্সবাজারের এরকম সাধারণ একটা সংবাদ গুরুত্ব দিয়ে সত্যতা যাচাই করে প্রচার করা হলো কেন? গুরুত্বটা আমি খুঁজে পাচ্ছি না এ কারণে যে, এই দুর্নীতি অনিয়মের স্থাপনা বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই হয়ে আসছে। রডের বদলে বাঁশ দেয়া, সিমেন্টের বদলে বা বালির বদলে মাটি দেয়া এমনকি জন-সংযোগহীন বিলের মাঝখানেও কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে এই দেশে। তাহলে হঠাৎ করে একটা সংবাদ কেন প্রচার হলো বুঝছি না।''

এক দিক থেকে আপনার কথাটা ঠিক মি. শামীম উদ্দিন যে, বাংলাদেশে এ'ধরণের ত্রুটিপূর্ণ স্থাপনা বা দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। কিন্তু খবরটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কারণ হচ্ছে, কালভার্টটি উদ্বোধন হবার আগেই ভেঙ্গে গেছে, আর সব চেয়ে মজার বিষয়, স্থানীয় প্রশাসনের কেউ জানে না কে বা কারা এই কালভার্ট তৈরি করেছিল। কিছুটা ভুতুড়ে ব্যাপারের মত। আমাদের ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদনটি প্রায় ১৪ হাজার বার পড়া হয়েছে, কাজেই এটা নিয়ে মানুষের মনে যে কৌতূহল আছে, তা প্রমাণিত।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক

নাজমুল হুদা, ঢাকা।

মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, রংপুর।

মোহাম্মদ আল-আমীন কবির, ঢাকা।

মাকামে মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

মাসুম নুর, ঢাকা।

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ, সাটুরিয়া,মানিকগঞ্জ।

সালাউদ্দিন সরকার, ঢাকা।