চীন-ভারত মারামারি আর তুর্কী নাটক এরতুগ্রুল নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের শিলিগুড়িতে চীন-বিরোধী বিক্ষোভ, ১৭-০৬-২০২০।

ছবির উৎস, DIPTENDU DUTTA

ছবির ক্যাপশান, ভারতে এখন চলছে চীন-বিরোধী বিক্ষোভ
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ভারত কাতর। চীন মহামারি থেকে বের হয়েছে মাত্র মাস দু'য়েক হলো, কিন্তু নতুন সংক্রমণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এই বিপর্যয়ের মাঝেও দু'দেশের সীমান্ত বিতর্ক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। ভারত স্বীকার করেছে তাদের অন্তত ২০জন সৈন্য এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। চীনা বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির কোন নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায় নি।

এই সীমান্ত সংঘাত নিয়ে বিবিসি বাংলার খবরকে পক্ষপাতদুষ্ট মনে করছেন ভারতের পাঠক অর্ক রায়:

''ভারত-চীন সংঘর্ষ নিয়ে বিবিসি বাংলা চীনের পক্ষ অবলম্বন করেছে। ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর ভারতের সেনাবাহিনী মিডিয়ায় জানায় ২০জন ভারতীয় সেনা ও ৪৩জন চীনা সেনা নিহত হয়েছে। ভারতের সেনার মিডিয়া ব্রিফিংটি পাওয়ার সাথে সাথে বিবিসি বাংলা নিউজ করে। কিন্তু বিবিসি বাংলা ভারতের ২০জন সেনা নিহত হবার খবরটি ফলাও করে প্রচার করলেও চীনের ৪৩জন সেনা নিহত হবার ঘটনা একদম চেপে যায়। অথচ তারা খবরটি ভারতীয় সেনার মাধ্যমেই পেয়েছে।

''চীনের সরকারি পত্রিকা গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদক টুইট করে চীনা সেনা নিহত হবার খবরটি স্বীকার করেছে। কিন্তু তাও বিবিসি বাংলা খবরের একটি অংশ প্রকাশ করলেও ইচ্ছাকৃত ভাবে অপর অংশটি এড়িয়ে যায়। এতেই বোঝা যায় বিবিসি বাংলা সবসময় যেভাবে ভারত বিরোধী মনোভাব নিয়ে কাজ করে সেটাই বজায় রেখেছে।''

আপনার তথ্যে বেশ কিছু ভুল আছে মি. রায়। মঙ্গলবার যখন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, তখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তিনজন সৈন্য নিহত হবার কথা বলেছিল। আমরা সেটাই প্রচার করেছিলাম। ভারতের সময় রাত সাড়ে ন'টার পর জানা গেল ভারতীয় সেনা বাহিনী বলছে তাদের ২০জন সৈন্য মারা গেছে। আমরা স্টোরি আপডেট করি। কিন্তু ভারতীয় সেনা বাহিনীর তরফ থেকে কখনোই কোন চীনা সৈন্য নিহত বা আহত হবার দাবি করা হয়নি। এমনকি ভারতীয় সেনা বাহিনী কোন মিডিয়া ব্রিফিংও করেনি। কুড়ি জন সৈন্য নিহত হবার খবর তারা দিল্লিতে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতাদের ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়েছে।

একটি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা, এএনআই খবর করে যে চীনা সেনা বাহিনীর রেডিও মেসেজগুলো শুনে ধারণা করা হচ্ছে যে ৪৩জন সৈন্য হতাহত হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এএনআই কোন সরকারি বা বেসরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দেয়নি, কাজেই আমরা সেটাকে নিশ্চিত খবর হিসেবে গণ্য করি নাই। তারপরও বুধবারের রেডিও অনুষ্ঠানে এএনআই-এর এই খবরের কথা বলা হয়, যদিও কোন দ্বিতীয় সূত্র এই খবরের সমর্থনে কোন কিছু প্রচার করেনি। ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত করে যা জানা গেছে, সেটা আপনাকে পীড়া দিয়েছে, কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু তার জন্য বিবিসি বাংলাকে দোষারোপ করা অন্যায়।

পার্বত্য অঞ্চলে চীনা সৈন্যদের প্রহরা

ছবির উৎস, Barcroft Media

ছবির ক্যাপশান, পার্বত্য অঞ্চলে চীনা সৈন্যদের প্রহরা

শুধু লাদাখের ঘটনা না, আরো অনেক কিছুর জন্য চীনকে দোষারোপ করছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম:

''শুরু থেকেই চীন অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করে আসছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে চীন সরাসরি বর্বর পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশ্নবিদ্ধ রাষ্ট্র মিয়ানমারকে মদদ দিয়েছে। জাতিগত নিপীড়ন ও গণহত্যায় সহায়তা করেছে। আর এখন প্রতিবেশী ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমি মনে করি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অযথা ঝামেলা না করে প্রতিবেশী সুলভ আচরণ করা উচিত। নতুবা ভূ-রাজনীতিতে অশুভ এক কালোছায়া পড়বে।''

অশুভ কালো ছায়া তো অবশ্যই পড়বে মি. পোদ্দার, কিন্তু শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব দু'দেশেরই। চীন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি, এবং তা করার সম্ভাবনাও খুব কম। আর ১৯৭১ বা মিয়ানমারে চীনের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন, সেখানে চীন নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করেছে। ঠিক ভারতও যেমন নিজ স্বার্থেই মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে।

এক নারী জনপ্রিয় সিরিয়াল এরতুগ্রুল দেখছেন

ছবির উৎস, AFP/GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান, এরতুগ্রুলকে অনেকে আখ্যায়িত করেছে মুসলিম গেম অফ থ্রোনস নামে

এ'বিষয়ে ফিরবো আরেকটু পরে, এবার যাই ভিন্ন প্রসঙ্গে। তুরস্কের একটি নাটক নিয়ে চলছে হৈচৈ। সেই 'ডিরিলিস এরতুগ্রুল' নিয়ে লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে শামিম সরকার:

''তুরস্কের নাটক 'এরতুগ্রুল' নিয়ে পাকিস্তানের তুমুল উৎসাহ, বিতর্ক', এই শিরোনামে প্রতিবেদনটি বেশ ভালো লাগলো। গত রমজান মাস থেকে শুরু হওয়া এই সিরিয়াল শুধু পাকিস্তানে নয় ইউটিউবের দৌলতে ভারতেও বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ফলস্বরূপ এই সিরিয়ালকে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে লোকজনের উৎসাহ বেশ লক্ষ্য করার মতো।''

তবে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ অভিযোগ করছেন, বিবিসি বাংলা উস্কানি দিচ্ছে:

''এরতুগ্রুল নিয়ে বিবিসির নিউজটা পড়ে খুবই মন খারাপ হলো । কারণ এই সিরিয়ালটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা আছে । কিন্তু বিতর্ক তো নেই।আর বিতর্ক যদি থেকেই থাকে তা খুবই সামান্য।সেটি নিয়ে নিউজ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। নিউজে "বিতর্ক" শব্দটি ব্যবহার করে বিবিসি একটি উস্কানিমুলক মন্তব্য করেছে বলে আমি মনে করি।''

বিবিসির রিপোর্টে 'ডিরিলিস এরতুগ্রুল' নিয়ে পাকিস্তানে উৎসাহ উদ্দীপনার কথা সবই তুলে ধরা হয়েছে মি. ওলিউল্লাহ। কিন্তু রিপোর্টে বিতর্কের বিষয়টিও ছিল। আপনার কাছে হয়তো সেটা নগণ্য কিন্তু আমরা সেই দিককে গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ বিতর্কের অস্তিত্ব আছে, সেটা সত্য। এখানে কিছু ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়নি এবং কোন কিছু উস্কে দেয়ারও চেষ্টা ছিল না। বিবিসির রিপোর্ট পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

মাস্ক আছে, কিন্তু সামাজিক দূরত্ব নাই
ছবির ক্যাপশান, মুখে মাস্ক আছে, কিন্তু সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না বেশিরভাগ জায়গায়

এবারে করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে কয়েকটি চিঠি, প্রথমে লিখেছেন ঢাকা থেকে শামসুল করীম খোকন:

''ঈদের পূর্বে ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্রামে যেতে দেয়ার সেই ঘোষণার কারণে যেভাবে দলে দলে মানুষ গ্রামে গিয়ে আবার ঢাকায় ফিরেছে, তা থেকেই এখন কোভিড শনাক্ত সংখ্যা বাড়ছে। এটিকে দায়িত্বশীলতা বলবো না অন্য কিছু?''

ঈদের সময় মানুষ গ্রামে গিয়েছিল বলেই যে কোভিড রোগী বেশি শনাক্ত হচ্ছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না মি. করীম। অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে এ'কথা ঠিক, সংক্রমণ আটকাতে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ অনেক দেরি করেছে, এবং তারপরও বিধিনিষেধগুলো প্রয়োগ করতে পারেনি।

করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:

''বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষক এবং অর্ধ লক্ষাধিক কর্মচারী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বেতনহীন অবস্থায় অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিবিসি বাংলা কেন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করলো না, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। এত বড় একটি বিষয় বিবিসি বাংলার তীক্ষ্ণ চোখের পাশ কাটিয়ে কিভাবে এড়িয়ে যেতে পারে?''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. চৌধুরী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আমরা এখনো কিছু করি নাই। মানুষের জীবন এবং জীবিকার ওপর করোনাভাইরাস এবং সরকারের লকডাউনের প্রভাব নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন করা হয়েছে, এবং শীঘ্রই শিক্ষকদের অবস্থা নিয়ে করা হবে বলে আশা করছি।

ভিডিওর ক্যাপশান, মহামারির ১০০ দিনে কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

তবে শুধু শিক্ষক নয়, অনেক ছাত্রও ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাদিম মাহমুদ:

''ঢাকায় অসংখ্য ছেলেরা মেসে থাকে, এদের অনেকেই টিউশনের টাকা দিয়েই চলে। অনেকেরই বাড়ি থেকে তাদের পড়াশোনার খরচ দেয়ার সামর্থ্য নাই। এখন চার মাস তাদের সকল টিউশনি বন্ধ,কিন্তু তাদের বাসা ভাড়া পরিশোধের জন্য বাড়ির মালিক চাপ দিতে শুরু করেছে। কি করে এই মাসের পর মাস কোনো প্রকার ইনকাম ছাড়া তারা এই বাসা ভাড়া পরিশোধ করবে? আপনারা সমাজের চিত্র তুলে ধরেন তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ এই চিত্রটি তুলে ধরে ঐসকল ছাত্রকে চরম মানসিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন।''

টিউশন বন্ধ হওয়াটা সার্বিক পরিস্থিতির সাথে সম্পৃক্ত, কাজেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসা পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা রয়েই যাবে। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যখন শুরু হয়েছে, তখন টিউশনি না থাকলেও তারা অন্য কাজের সন্ধান করতে পারেন। সেটা কত সহজ হবে তা আমার জানা নেই, তবে বেশি দিন কাজ ছাড়া বসে থাকলে মানসিক অস্থিরতাও তৈরি হবে যেটা শরীরের ওপর প্রভাব ফেলবে। যেহেতু তারা তরুণ এবং শিক্ষিত, তাই আমার মনে হয় বিপর্যয় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে নিজেদেরই উদ্যেগী হতে হবে।

বিবিসি

আবার ফিরে যাচ্ছি লাদাখে ভারত-চীন সংঘর্ষের বিষয়ে। এবার লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''করোনা মহামারিতে সারাবিশ্ব যখন পর্যুদস্ত, তখন এ সংঘর্ষ কোন ক্রমেই কাম্য নয়। ভারত ও চীন উভয়েই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। আমরা যুদ্ধ চাই না, অস্ত্রের ঝনঝনানি চাই না, শান্তি চাই। যুদ্ধ বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া কিছুই করতে পারে না। এ ধরণের সমস্যা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করাই প্রত্যাশিত ও অধিক শ্রেয়। কূটনৈতিক পন্থায় আমরা এ সমস্যার সমাধান চাই।''

আমি নিশ্চিত আপনার সেন্টিমেন্টের সাথে সবাই একমত হবেন। কেউ যুদ্ধ চায়না। কিন্তু সমস্যা হলো, এখানে বিতর্ক হচ্ছে সীমান্তে জমির দখলদারিত্ব নিয়ে। আধুনিক রাষ্ট্র কখনোই জমি হাতছাড়া করতে চায়না, তারা ভৌগলিক অখণ্ডতার ভাবনাকে প্রায় ধর্মীয় আদর্শের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যার ফলে, ঠাণ্ডা মাথায় কোন নাগরিকও জমি নিয়ে আপোষ করার কথা বলার আগে তিন বার ভাবেন। যে কোন সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের জন্য দু'পক্ষকেই আপোষ করার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনায় বসতে হয়। কিন্তু এই সীমান্ত বিতর্কে কেউ আপোষ করার মনোভাব নিয়ে কাজ করছে বলে মনে হয় না।

চীনের জাতীয় দিবসে বেইজিং-এ সামরিক কুচকাওয়াজের একাংশ, ০১-১০-২০১৯।

ছবির উৎস, GREG BAKER

ছবির ক্যাপশান, চীনের জাতীয় দিবসে বেইজিং-এ সামরিক কুচকাওয়াজের একাংশ

কিন্তু যুদ্ধ কি আসলেই লেগে যেতে পারে? প্রশ্ন করে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে গত দেড় মাস ধরেই ভারত ও চীনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি এবং সেনা হতাহতের দিক থেকে বিচার করলে পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটির মধ্যে এখনই যুদ্ধ লেগে যাবার সম্ভাবনা খুবই কম। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা কি একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে?''

বিশ্ব রাজনীতিতে কোন কিছুই উড়িয়ে দেয়া যায় না মি. সরদার, কিন্তু সব কিছু বিবেচনা করে দেখলে মনে হবে পাল্লাটা যুদ্ধ না লাগার দিকেই বেশি ভারি। সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও, চীন এবং ভারতের সম্পর্ক বছরের পর বছর ঘনিষ্ঠ হয়েছে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক দিক দিয়ে। নরেন্দ্র মোদীর ওপর প্রচণ্ড চাপ থাকবে কিছু একটা করার, পাল্টা আঘাত হানার। কিন্তু পুরোপুরি যুদ্ধ শুরু হোক, সেটা তারা কেউ চাইবে না।''

ছোট অভিযোগ করে লিখেছেন ভারতের ছাপরা থেকে প্রশান্ত গোস্বামী:

''চিঠি লেখার জন্য ঢাকার ঠিকানা আছে কিন্তু কলকাতার নেই। কেন? ভারতে বিবিসি বাংলা শোনা হয়না? আপনাদের সার্ভে কী বলে?''

আমাদের সার্ভে বলে ভারতে বিবিসি বাংলার রেডিও শ্রোতা খুবই কম তবে ডিজিটাল অডিয়েন্স বাড়ছে। তবে ঢাকায় কিন্তু আমাদের চিঠি লেখার কোন ঠিকানা নেই, সেটা বহু আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন শুধু ইমেইলের মাধ্যমে চিঠি নেয়া হয়।

সব শেষে, একটি শুভেচ্ছা বাণী, পাঠিয়েছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থেকে এ এইচ এম মামুন রশীদ:

''পৃথিবীর এই কঠিন দুর্যোগকালীন সময়ে আমার প্রিয় মানুষ গুলো কেমন আছেন, বড্ড জানতে ইচ্ছে করছে।

আপনারা কি জানেন...

আমরা শ্রোতারা কতটা ভালবাসি...

কতটা আপন ভাবি আপনাদের.....?

আপনাদেরকে নিজেদের পরিবারের একটা অংশ হিসাবে বিশ্বাস করি।

মাঝে মাঝে মনে হয় আজকে থেকে ২০ বছর আগের দিনগুলো কত ভালো ছিল,

এত ব্যস্ততা, টেনশন, দুশ্চিন্তা ছিল না।

অবারিত স্বাধীনতা ছিল, এখন মনে হয় নিজের মধ্যে নিজেই পরাধীন।

কিন্তু জেনে থাকবেন,

শত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাদের প্রতি কমেনি ভালবাসার কিঞ্চিত পরিমাণ রাগ-অভিমান।

শুধু হয়ে উঠছে না যোগাযোগ, মনের গভীরে আপনাদের প্রতিচ্ছবি,

কণ্ঠস্বরের দোলাচল চলতেই থাকে।

ভালো থাকুন আমার প্রিয় মানুষগুলো,

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে এই ফরিয়াদ।''

আমাদের মঙ্গল কামনা করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মি. রশীদ। আশা করি আপনি সুস্থ এবং নিরাপদ আছেন।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

নাজমুল হাসান, বরিশাল।

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, চাঁদপুর।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ ।

তরিকুল ইসলাম, কামরাঙ্গির চর, ঢাকা।

সেলিনা আহমেদ, কুষ্টিয়া।

শামীম উদ্দিন শ্যামল, ধানমণ্ডি, ঢাকা।

শাহিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মোহাম্মদ এনামুল, পশ্চিম টুটপাড়া, খুলনা।

মাহমুদ শরীফ রাজ, মিঠাপুকুর, রংপুর।