আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: পাকিস্তানি মডেল নিয়ে গালমন্দ, করোনা ভাইরাস আর লকডাউন নিয়ে দুশ্চিন্তা
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর এখন ভারত এবং বাংলাদেশ, দু'দেশেই চলছে জীবন-জীবিকা পুনরুদ্ধারের কাজ। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী মানুষজন যে প্রকৃতির কাছে কত অসহায়, সেটা আবারো প্রমাণিত হলো। উপকূলবাসীদের আবার তাদের বাড়ি-ঘর, ক্ষেত-খামার নতুন করে গড়ে তুলেতে হবে, এবং আমাদের সংবাদ পরিবেশনার মনোযোগও এখন সেদিকে দিতে হবে।
তবে আজকে শুরু করছি আম্পান কাভারেজে পশ্চিমবঙ্গকে অবহেলা করার একটি অভিযোগ দিয়ে, লিখেছেন রাজশাহীর মালদা কলোনি থেকে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম:
''বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পাঠানো ছবি এবং তথ্য সঠিক ভাবে প্রচার করে বিবিসি বাংলা বাংলাদেশের রেডিও শ্রোতাদের এবং অনলাইন পাঠকদের কাছে একটি সঠিক বার্তা দিতে পেরেছে। বিশেষ করে আম নিয়ে রাজশাহী থেকে আনোয়ার আলীর তথ্যমূলক নিবন্ধ প্রকাশ করে একটি সঠিক বার্তা দিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিবিসি বাংলায় সংবাদ প্রচারে দায়িত্ববোধ থাকলেও ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোন দায়িত্ববোধ নেই। অথচ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি এবং কলকাতাসহ দক্ষিণ ও উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলা সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত।
''বাংলাদেশে ঢাকায় আপনাদের কয়েকজন সংবাদকর্মী থাকার পরও আপনারা দক্ষিণাঞ্চলীয় সাংবাদিকদের পাঠানো রিপোর্ট এবং সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত গাবুরা ইউনিয়নের মানিক হোসেনের সাক্ষাৎকার শোনালেন। অথচ পশ্চিমবঙ্গের বেলায় তেমনটি করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের শ্রোতা ও পাঠকদের প্রতি আপনাদের এরকম আচরণ কেন?''
আপনার মূল বক্তব্যর সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করবো না মি. ইসলাম। আম্পানের মূল আঘাত ছিল পশ্চিমবঙ্গে এবং সেই অনুপাতে আমাদের অনুষ্ঠানে ভারতের ক্ষয়ক্ষতির কাভারেজ সন্তোষজনক ছিল না। তবে আমাদের কলকাতা সংবাদদাতা ঝড়ের পরের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গেলেও, ঝড়-কবলিত এলাকায় প্রথম তিন দিন বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সংযোগ খুব গুরুতর ভাবে ব্যাহত হয়েছিল। এর ফলে, তার সাথে প্রথম দিন কোন যোগাযোগই ছিল না, পরের দিনও কিছুক্ষণের জন্য তাকে টেলিফোনে পেয়ে আপডেট নেয়া সম্ভব হয়েছিল।
এই একই কারণে চারদিন কোন স্থানীয় সাংবাদিক বা বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নেয়া যায় নি (তবে রবিবার রেডিও অনুষ্ঠানে সুন্দরবন অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নেয়া সম্ভব হয়েছিল)। বাংলাদেশে সেই সমস্যা ছিল না, যার ফলে আমরা সাতক্ষীরায় স্থানীয় সাংবাদিকের সাক্ষাৎকার নিতে পেরেছিলাম, সেখান থেকে ভিডিও সংগ্রহ করাও সম্ভব হয়েছিল।
সেই ভিডিওগুলির ই একটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
"ঘূর্ণিঝড় আম্পান: সীমাহীন কষ্টের ঈদ" শিরোনামে বিবিসি বাংলার একটি ভিডিও প্রতিবেদন দেখলাম। তিন মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ভয়াবহ তাণ্ডব আর তার পরবর্তী পুরো দক্ষিণ এলাকার চিত্র ফুটে উঠেছে অত্যন্ত সাবলীলভাবে। এটা আমার কাছে আরও বেশি জীবন্ত মনে হয়েছে, কারণ আমি আমার শৈশব কাটিয়েছি ওই এলাকারই কোন এক প্রত্যন্ত গ্রামে। এখানে একটা কথা না বললেই নয়, প্রত্যন্ত গ্রামগুলোকে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে বড় উপায় হল বড় নদীগুলোর দুই পারে উঁচু রাস্তা তৈরি করা, যেটাকে ওই এলাকার ভাষায় "অব্দা" বলে। আশা করছি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে।''
আমাদের ভিডিও ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো মি. সাঈদ। আপনি যে অব্দার কথা বলছেন, সেটা অবশ্যই বিবেচনার দাবী রাখে, তবে রাস্তাগুলো নির্মাণ নিয়ে দুর্নীতি হলে সবই ভেস্তে যাবে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচীতে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের যাত্রী দেশের শীর্ষস্থানীয় মডেল জারা আবিদকে নিয়ে আমাদের এক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করে লিখেছেন চট্টগ্রাম থেকে মহি উদ্দিন:
''আপনাদের অনলাইনে প্রকাশিত পাকিস্তানের জারা আবিদ নামে একজন মডেলের মৃত্যু সংবাদ বিষয়ের কিছু শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ''জারা আবিদের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় মৌলবাদীরা শত শত কমেন্ট পোস্ট করেন।" আমার প্রশ্ন হলো, ১) আপনারা "ধর্মীয় মৌলবাদী" বলতে কাদের বোঝাতে চাইছেন? ২) আপনারা কীভাবে বুঝতে পারলেন তারা মৌলবাদী? ইসলাম ধর্মের পক্ষে মন্তব্য করছে বলে?
''শত শত কমেন্ট থেকে আপনারা বুঝে নিলেন তারা মৌলবাদী - ব্যাপারটা কি আশ্চর্যের কিছু নয়? উক্ত সংবাদের মন্তব্য করতে বললে শতকরা ৯৯ ভাগ মুসলিমের মন্তব্য মডেলটির বিপক্ষে যাবে। কারণ ওর চলাফেরা ইসলামের বিধান বহির্ভূত। তাই বলে কি আপনারা পুরো জাতিকে মৌলবাদীদের কাতারে ফেলে দিতে পারেন?''
সামাজিক মাধ্যম টুইটারে বিতর্কের প্রকাশ:
আপনার ক্ষোভের কারণটা আমি বুঝতে পারছি মি. মহি উদ্দিন, এবং আমি আপনার সাথে একমত যে 'মৌলবাদী' শব্দ ব্যবহার করা উচিত হয়নি। বিবিসির নীতি অনুযায়ী আমরা কাওকে মৌলবাদী বা সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করি না। অসাবধানতার কারণে মূল ইংরেজি 'religious radicals' কে 'ধর্মীয় মৌলবাদী' বলা হয়েছে। এখানে 'ধর্মীয় উগ্রবাদী' শব্দ দুটো ব্যবহার করা উচিত ছিল।
কিন্তু একজন বিপর্যয়গ্রস্ত নারী সম্পর্কে কূট মন্তব্যকে কি আপনি আসলেই 'ইসলাম ধর্মের পক্ষে'র কথা বলবেন? অনেকেই বলবেন, এ'ধরনের মন্তব্য যারা করেন, তারা ইসলামের পক্ষে না, বরং ইসলামকে খুব নেতিবাচক আলোতে তুলে ধরছেন। কারণ, তাদের মন্তব্যে যে ধরনের উগ্রতা প্রকাশ পেয়েছে, তার সাথে অনেক মুসলমান একমত হবেন না বলেই আমার বিশ্বাস।
সপ্তাহের মাঝ দিকে ঢাকায় শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুনে পাঁচজন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''ইউনাইটেড হাসপাতালে র এই ঘটনার মাধ্যমে আমাদের চিকিৎসা খাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র আমাদের সামনে আরও একবার উঠে এলো। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব হাসপাতালের উপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কি কোনো নজরদারি নেই? কিভাবে চলছে এসব হাসপাতাল, এটি দেখার দায়িত্বটি আসলে কার? ইউনাইটেড হাসপাতালের এ ঘটনা তদন্ত স্বাপেক্ষে হাসপাতাল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং একই সাথে সব হাসপাতালের উপর নজরদারি বাড়ানোটাও খুব জরুরি বলেই আমার মনে হয়।''
আপনি ঠিক বলেছেন মি. সরদার। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক রিপোর্টে অব্যবস্থার একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে তদন্ত কত দূর যাবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদৌ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ আছে। শুধু প্রাইভেট হাসপাতাল না, আমার তো মনে হয়ে বাংলাদেশের গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
এবার আসি করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে। জুন থেকে বাংলাদেশে লকাডাউন তুলে নেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে শঙ্কায় আছেন বাগেরহাটের মোহাম্মদ তৈমুর হুসাইন:
''সরকার তো আমাদের করোনা ভাইরাসকে নিয়ে সামনের পথ চলতে আগ্রহী করছে, কিন্তু তার বাস্তবতা কী? এর নিয়ম কানুনই বা কী? আর এমন একটা ভাইরাসের সাথে চলার মত সক্ষমতা কি আমাদের আছে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি কি তাহলে ফলতে চলেছে? এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে হয়ত বহু মাত্রায় সংক্রমণের হারকে বাড়িয়ে দেবে। তবুও আমরা এটা কখনোই জানতেও পারব না কি ভাবে এ ভাইরাস সঙ্গে নিয়ে চলা যায়? আমার মতে বাংলাদেশ হয়ত খুব শীঘ্রই করোনা ভাইরাসের নতুন হটস্পট হতে চলেছে। যার শিকার হয়ে অনেক প্রাণহানিও হতে পারে।''
অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও লকডাউন তুলে নেয়া হচ্ছে মূলত অর্থনীতিকে আবার সচল করার জন্য মি. হুসাইন। তবে পার্থক্য হচ্ছে, অন্যান্য দেশে সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হবার পরই লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে সংক্রমণের হার এখনো ঊর্ধ্বমুখী, চুড়ায় পৌঁছুতে আরো দেরী আছে। কাজেই আপনার আশঙ্কা একদমই অমূলক নয়। এখন সবাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থেকে, মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, এবং আশা করতে হবে যে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সেবা দিতে, অর্থাৎ রোগী শনাক্ত করতে, চিকিৎসা করতে এবং রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদের খুঁজে পেতে সক্ষম হবে।
লকডাউন তুলে নেয়া প্রসঙ্গে আরো লিখেছেন রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:
''আসলে সরকার পারছেনা লকডাউন পুরোপুরি তুলে দিয়ে করোনা ভাইরাস ঠেকিয়ে রাখতে। পারছেনা পুরো দেশকে লকডাউন করে রেখে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে । বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আমার মনে হচ্ছে "আমাদেরকে হয় না খেয়ে মরতে হবে, নয়তো করোনা ভাইরাসে মরতে হবে। `ব্যক্তিগত সচেতনতাই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার' বলে আমি মনে করি ।''
আমি আপনার সাথে একমত মি. ওলিউল্লাহ, ব্যক্তিগত সচেতনতা ছাড়া এই লড়াই জেতা খুবই কঠিন হবে। কিন্তু সরকারের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা কী ধরণের বার্তা দিচ্ছে - শুধু মুখে নয়, নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে - তার ওপর পাবলিকের ব্যবহার অনেকটা নির্ভরশীল। তাছাড়া, মানুষকে আর্থিক ভাবে সহায়তা করা, নিম্ন আয়ের মানুষ যাতে অনাহারে না থাকে তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য পর্যাপ্ত লোকবল, নিরাপত্তা এবং সরঞ্জাম নিশ্চিত করা ইত্যাদি সবই সরকারের দায়িত্ব যেটা নিষ্ঠার সাথে পালন না করা হলে বিপর্যয় নেমে আসবে।
এই মহামারী নিয়ে কি একটু বেশি আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে? বরিশাল থেকে এইচ এম মোবারাক হোসেন তাই মনে করছেন:
''করোনাভাইরাস নিয়ে বেশি আলোচনার কারণে আমরা অনেকেই খুব বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। যেকোনো সংবাদ মাধ্যমে বেশিরভাগ আলোচনাই করোনা আক্রান্ত এবং করোনায় মৃত্যু সম্পর্কিত । আমার মনে হচ্ছে আতঙ্কটা খুব বেশি ছড়িয়ে গেছে যার কারণে অনেক মানুষ অনেক জায়গায় হেনস্থার শিকার হচ্ছে। আমার জানা মতে বিবিসি বাংলা যথেষ্ট সচেতন ছিল কিন্তু অন্যান্য মিডিয়া, যার প্রভাব বাংলাদেশে বেশি, তারা এদিকটায় খুব একটা খেয়াল করেনি। তবে এখন এই আতঙ্কটা কাটানোর দায়িত্ব আপনাদের সকলের বলেই আমি মনে করি।''
খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন মি. হোসেন। আতঙ্ক, অজ্ঞতা আর কুসংস্কার একটি ভয়ানক মিশ্রণ। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে খবর যেমন করা উচিত, তেমনি মাথায় রাখা উচিত আমরা যেন মানুষকে একে অপরের প্রতি সন্দিহান না করে তুলি। এখানে গণ মাধ্যমকে যেমন অনুসন্ধানী হতে হবে, তেমনি দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে কীভাবে এই দুর্যোগ থেকে মানুষ নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারেন, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়া অত্যন্ত জরুরী। বিবিসির ওপর আস্থার জন্য ধন্যবাদ।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঈদের আগে বাংলাদেশে পরিবহন নিয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন করেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:
''স্বাস্থ্য বিধি সব নাগরিকের জন্য সমান। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক পরিবার নিয়ে বাড়িতে গিয়ে আত্মীয় স্বজনের সাথে ঈদ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাহলে কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি সংরক্ষিত হবে? শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বাড়ি গেলে করোনা সংক্রমণ হবে না, এর বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা রয়েছে কি?''
আপনি একদিক থেকে ঠিকই বলেছেন মি. আহমেদ, ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের বিশেষ কোন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকার কোন যুক্তি নেই। কিন্তু আমার মনে হয় কর্তৃপক্ষ আরেকটি দিক বিবেচনা করেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা ভাড়া করা গাড়িতে শুধু একটি পরিবারের লোকজনই থাকবে, যারা সাধারণত একই বাসায় থাকে। কাজেই, তাদের মধ্যে রোগ সংক্রমণ যে কোন সময় হতে পারে, এক গাড়িতে চলার জন্য বাড়তি কোন ঝুঁকি নেই। কিন্তু গণ পরিবহনে, যেমন কোন বাস বা লঞ্চে অনেক লোক এক সাথে চড়বে, যারা একই পরিবারের লোক না, এমনকি যারা একে অপরকে চেনেনই না। সেখানে অন্য কারো কাছ থেকে রোগ সংক্রমণ হবার ঝুঁকি অনেক বেশি।
তবে সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশে এই মহামারীর কেন্দ্রস্থল হচ্ছে ঢাকা। এই শহর থেকে লোকজন যখন গ্রামে যাবে তখন তারাই গ্রামবাসীর মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। সেজন্য, মহামারীর সময় কোন আক্রান্ত এলাকা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া, সে ঈদ হোক আর যাই হোক, মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
যাই হোক, ঈদ শেষ হয়েছে, আর সরকার এখন গণ পরিবহন খুলে দিচ্ছে, দেখা যাক সেখানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না।
পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব দুই ঈদে মানুষের দলে দলে ঘরমুখো হওয়ার প্রবণতা চিরন্তন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এবারের ঈদ যাত্রা মানুষের জীবনকে ঝুঁকি ও শঙ্কার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এবারের ঈদে নেই কোলাকুলি, নেই করমর্দন, নেই বাইরে ঘোরাঘুরি, নেই ছোটদের হুড়োহুড়ি, নেই গরীব ও দু:স্থদের আনাগোনা, আছে শুধু ভয়, শঙ্কা ও সন্দেহ। গৃহবন্দী ঈদ নয়, যেন দমবন্ধ হওযা এক গুমোট ধোঁয়া। ফেসবুক, জুম, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইমু, মেসেঞ্জার ইত্যাদি না থাকলে হয়তো কারও সাথে যোগাযোগই হতো না। সকলে এ থেকে মুক্তি চায়।''
সবাই এই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তি চায় ঠিকই মি. রহমান, কিন্তু সেটা শুধু ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য নয়। অনেক দেশের মত বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবিকা হারিয়ে পথে বসেছে, যারা জীবনে অন্যের কাছে হাত পাতে নি, তেমন অনেক পরিবার অনাহার থেকে বাঁচার জন্য ত্রাণের আশায় দিন যাপন করেছন। বেঁচে থাকার জন্যই এই পরিস্থিতি থেকে তারা পরিত্রাণ চান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লকডাউন তুলে নিয়ে কীভাবে ভাইরাস সংক্রমণকেও রোধ করা যাবে? তার জন্য অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।
পরের চিঠি লিখেছেন কলকাতার বনহুগলী থেকে তালাত মাহমুদ:
''আমি সেই ছোট্ট বেলা থেকে আমার বাবার সঙ্গে নিয়মিত বিবিসি বাংলা অনুষ্ঠান শুনে আসছি। আমি মনে করি, ভারত উপমহাদেশের যেকোনো চাঞ্চল্যকর ঘটনার সংবাদ,বাস্তব ও নিরপেক্ষ ভাবে একমাত্র বিবিসি থেকেই পাওয়া যায়।''
আপনাকে ধন্যবাদ মি. মাহমুদ, বিবিসি বাংলার ওপর আস্থা রাখার জন্য।
সব শেষে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
সম্পদ পোদ্দার বলরাম, শেরপুর, বগুড়া।
সাজ্জাদ হোসেন, হাড়িভাসা,পঞ্চগড় সদর,পঞ্চগড়।
মোহাম্মদ আহসান কবির, গাজীপুর।
মোহাম্মদ রেজাউল রহিম, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
মোহাম্মদ সুমন রেজা, সাতক্ষীরা।
অমিত পাল, পিরোজপুর।
হিমু দাশ, চট্টগ্রাম।