করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু পাঁচশো ছাড়াল, একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশী নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশী নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।
Published

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১,৯৭৫ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।

এর ফলে বাংলাদেশে মোট কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৫,৫৮৫ জন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এই রোগে ৫০১ জন মারা গেলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৩৩ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ৭,৩৩৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮টি ল্যাবে ৯, ৪৫১টি নমুনা পরীক্ষা করে এই ফলাফল পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচশো ছাড়াল এমন দিনে যখন দেশটিতে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদের আয়োজন ভিন্ন। নিষেধাজ্ঞা আসে কোলাকুলি করার ক্ষেত্রেও। ঈদ হলেও সব ধরণের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়।

এর আগে রবিবার সর্বোচ্চ ২৮ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। সেদিন ১৫৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ আর সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৬১।

মারা যাওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ আর ৫ জন নারী। তারা ঢাকা বিভাগের ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৯ জন আর রংপুর বিভাগের ১ জন বাসিন্দা।

তিনি জানান, বয়স বিশ্লেষণে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের তিনজন, ৫১ থেকে ৬০ বয়সের মধ্যে নয়জন, ৬১ থেকে ৭০ বয়সের মধ্যে চারজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের দুইজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুইজন রয়েছেন।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এন্ড মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ লক্ষ ১১ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বের মোট ১৮৮টি দেশ বা অঞ্চলে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় আটই মার্চ। তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ই মার্চ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬শে মার্চ থেকে বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি চলছে। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন।

Banner image reading 'more about coronavirus'
Banner

ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেসব নির্দেশনা মানার পরামর্শ দেয় সেগুলো হচ্ছে,

•সব ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে

•কমপক্ষে ৩ ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাতে অংশ নিতে হবে

•ঈদের কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে হবে

•ঈদের আনন্দ উচ্ছলতার কারণে শিশুরা যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে

•অবশ্যই শিশুসহ সবাইকে নিয়মিত মুখে মাস্ক পড়তে হবে

•বাইরে থেকে ঘরে ফিরে সাবান-পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে

•বাইরের খোলা খাবার খাওয়া যাবে না

•নিজের হাতের প্রতি সজাগ থাকতে হবে। অযথা নাক-মুখ-চোখে হাত দেয়া যাবে না। শিশুদের এ বিষয়ে সতর্ক করতে হবে।

•যারা এরই মধ্যে আক্রান্ত তাদেরকে আইসোলেশনের নিয়ম পালন করতে হবে।

•পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। পানি ও তরল খাবার বেশি খেতে হবে।

•ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা ও টাটকা শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে।

•জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাংস, কুমড়ো ও লাউয়ের বীজ, মাশরুম, রসুন, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বেশি খেতে হবে।

•হালকা ব্যায়াম করতে হবে।