করোনাভাইরাস: কংগ্রেসের মতে মোদীর ঘোষণা 'দিশাহীন', হতাশ শিল্প মহলও

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
- Published
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় ভারতে যে তিন সপ্তাহের লকডাউন জারি করা হয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী ৩রা মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে আজ এই ঘোষণা করার পাশাপাশি আরও জানিয়েছেন, এখন থেকে ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় বিবেচনা করে দেখা হবে – এই সব বিধিনিষেধ থেকে কোথাও কোনও ছাড় দেওয়া সম্ভব কি না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও সার্বিক অনিশ্চয়তার কারণে শিল্প ও কৃষি মহলে কিন্তু হতাশাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে 'দিশাহীন' বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।
ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর মরিয়া চেষ্টায় গত মাসের ২৫শে মার্চ থেকে তিন সপ্তাহের সম্পূর্ণ লকডাউন আরোপ করা হয়েছিল।
তার একেবারে শেষ দিনে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ঘোষণা করলেন, সারা দেশে এই লকডাউনের মেয়াদ আরও ১৯ দিনের জন্য বাড়াতে হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images
মি মোদী মঙ্গলবার তার ভাষণে বলেন, "এতদিন দেশবাসীকে যে সব নিয়মশৃঙ্খলা ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়েছে সেটা বজায় রেখে ৩রা মে অবধি লকডাউনের আওতাতেই তাদের থাকতে হবে।"
"বরং আগামী এক সপ্তাহ আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে।"
"তাতে যে সব এলাকার হটস্পটে রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে সেখানে ২০শে এপ্রিল থেকে কিছু জরুরি গতিবিধির জন্য শর্তসাপেক্ষে অনুমতি বা ছাড় দেওয়া হতে পারে", জানান প্রধানমন্ত্রী।
ভারতে বিশেষজ্ঞরা অবশ্য একটা বিষয়ে একমত, ভারতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ যে গতিতে বাড়ছে তাতে লকডাউন বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনও রাস্তা ছিল না।
ভারতে এযাবত কোভিড-১৯য়ে আক্রান্ত হয়ে প্রায় সাড়ে তিনশো জনের মৃত্যু হয়েছে – শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যাও রোজ বাড়ছে প্রায় হাজার-বারোশো করে।
দেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র জয়পুরের সওয়াই মাধো সিং মেডিক্যাল কলেজ – তার অধিকর্তা ড: সুধীর ভান্ডারী মনে করেন এই পরিস্থিতিতে লকডাউনের মেয়াদ বাড়াতেই হতো।
ড: ভান্ডারী যুক্তি দিচ্ছেন, "আগামী দিনে অসাধারণ এক অর্জনের আশাতেই আমাদের আরও কয়েকটা সপ্তাহ এই ব্যক্তিগত, সামজিক ও অর্থনৈতিক কষ্ট সয়ে যেতে হবে।"
"আমরা যে জয়ের পথে এগোচ্ছি, সেই লক্ষণ কিন্তু স্পষ্ট।"
"হ্যাঁ, অসুবিধা নিশ্চয় হচ্ছে – কিন্তু একজন ডাক্তার হিসেবে আমি বলব, এই সঙ্কট থেকে উত্তীর্ণ হতে হলে আরও কয়েকটা সপ্তাহ এই আইসোলেশনের যন্ত্রণা সহ্য করে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই।"

ছবির উৎস, Getty Images
তবে দেশের কলকারখানা বা কৃষিক্ষেতে আবার কবে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হবে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না-থাকায় ভারতের শিল্প ও কৃষিমহল স্বভাবতই হতাশ।
দেশের শীর্ষ বণিকসভা সিআইআই আজও টুইট করে সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছে – লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার একটা 'এক্সিট স্ট্র্যাটেজি'ও দরকার, আর সে জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কিছু কিছু শিল্পকে ছাড় দেওয়া শুরু করতে হবে।
বিরোধী দল কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ তিওয়ারি বলছিলেন, "দেশের সাপ্লাই চেইন বজায় রাখার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা কিন্তু আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কিছুই জানতে পারলাম না।"
"ইতিমধ্যেই দেশে জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করেছে, দোকানে জোগান ফুরিয়ে আসছে, পাশাপাশি কালোবাজারি ও মজুতদারিও শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে।"
"শ্রমিক ও কর্মচারীরা ছাঁটাই হচ্ছেন একধারসে, সরকার সেই মালিকদের বিরুদ্ধেই বা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?"
"অন্যদিকে ক্ষেতে রবিশস্য পড়ে আছে – আর কৃষিশ্রমিকরা আটকা পড়ে আছেন বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্তে। ফসল তোলার জন্য সরকারের রোডম্যাপটাই বা কী?", প্রশ্ন মি তিওয়ারির।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এই স্পেসিফিকস-গুলো ছিল না বলেই কংগ্রেস বলছে এটা হল আসলে 'প্রিন্স অব ডেনমার্ক-কে ছাড়াই হ্যামলেট'।
শাসক দল বিজেপি আবার নিশ্চিত – প্রধানমন্ত্রীর সাত দফা অনুরোধে সাড়া দিয়ে দেশবাসী ঠিক আরও একবার লকডাউনকে সফল করে তুলবেন।










