করোনাভাইরাস: নিষেধাজ্ঞার মুখে জুমার নামাজে হাতে গোনা মুসল্লি

মসজিদে হাতে গোনা কয়েকজন মুসুল্লি নামাজ আদায় করছেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মসজিদে হাতে গোনা কয়েকজন মুসুল্লি নামাজ আদায় করছেন।
Published

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বাংলাদেশের মসজিদগুলোয় নামাজ আদায়ে গত সপ্তাহে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সেটার প্রতিফলন দেখা গেছে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের মসজিদগুলোতে।

ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে শুক্রবার জুমার নামাজে একসঙ্গে কয়েক হাজার মুসুল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায় নিয়মিত চিত্র।

এছাড়া শবেবরাতের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই লোক সমাগম আরও বেড়ে যায়।

অথচ আজ (শুক্রবার) জুমা নামাজের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। মসজিদের ইমাম, খতিব, খাদেম, মুয়াজ্জিন এবং তাদের সঙ্গে হাতে গোনা কয়েকজন মুসুল্লি ছাড়া কাউকেই মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলা শহরগুলোর মসজিদের চিত্রও প্রায় একই।

পাড়া মহল্লার ছোটখাটো মসজিদেও দেখা গেছে হাতে গোনা কয়েকজন মুসুল্লি নামাজ আদায় করছেন।

রাজশাহীর শাহী মসজিদে যেখানে প্রতি জুমায় হাজারো মানুষের জামাত হয়।

সেখানে মানুষের সমাবেশ ঠেকাতে কয়েকজন মুসুল্লি প্রবেশের পর গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন মসজিদের খাদেম।

এ ব্যাপারে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান কাসিমি বলেন, "আমরা মাইকিং করে মুসুল্লিদের বলেছি তারা যেন বাড়িতে নামাজ আদায় করেন। তারপরেও ২০-৩০জন মুসুল্লি আসতোই। আজকেও প্রচুর মানুষ ভিড় করেছে। কিন্তু আমরা ৩/৪ জন ঢোকার পরেই মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেই। তারপরও অনেকে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।"

Banner image reading 'more about coronavirus'
Banner

গত ৬ই এপ্রিল দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি শুক্রবারের জুমা নামাজ মসজিদের জামাতে আদায়ের পরিবর্তে বাড়িতে পড়ার নির্দেশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সরকারি ওই নির্দেশনায় তাবলীগ জামাতসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সমাবেশ এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক বা আদর্শগত মতবিরোধ থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ধর্মীয় উপাসনালয়ে সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ধর্মীয় উপাসনালয়ে সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সব ভিন্নমতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রয়োজনে তারা সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের শীর্ষ ১৫ জন আলেম, মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়া আহ্বান জানিয়েছেন।

খেলাফত আন্দোলনের অফিশিয়াল ইমেইল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এই আহ্বান জানান।

সেখানে তারা বলেছেন কাঁচা বাজারগুলোতে জনসমাগমের বৈধতা থাকলেও নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের মসজিদে উপস্থিতির ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ ও সংখ্যা নির্ধারণ যুক্তিসংগত নয়।

ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নূর হোসেন কাসেমীর প্রেস সচিব মনির আহমেদ জানান, এই বিধিনিষেধ আরোপ মুসুল্লিদের বিক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে।

মনির আহমেদ বলেন, "এ ধরণের বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে কারও হৃদয়ে যদি আকুতি হয় যে তিনি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়বেন, মনে শান্তি পাবেন, প্রার্থনা করবেন, কান্নাকাটি করবেন এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য, সেই সুযোগটা যেন রাখা হয়। তারা এই আবেদন জানিয়েছেন।"

বায়তুল মোকাররমে মুসুল্লির সংখ্যা ছিল খুবই কম।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বায়তুল মোকাররমে মুসুল্লির সংখ্যা ছিল খুবই কম।

মুসুল্লিদের এই সুযোগ থেকে দূরে রাখা হলে, মসজিদে প্রবেশ ঢালাওভাবে বন্ধ করে দেয়া হলে মানুষের মনে ক্ষোভ জাগতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, করোনাভাইরাস মারাত্মক সংক্রামক রোগ হওয়ার কারণেই তারা এই বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।

এটি কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। এবং কোন ধর্মের সাথে এই বিধিনিষেধ সাংঘর্ষিক নয় বলেও প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশের সব পক্ষের ওলামায়ে কেরামের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদি সংক্রমণ প্রতিরোধে পবিত্র মক্কা ও মদিনা বন্ধ করে দেয়া হয় আমরা আমাদের মসজিদ খুলে দেয়ার কোন যৌক্তিকতা দেখিনা।"

মসজিদে জামাত সীমাবদ্ধ করা গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ বাড়ির ছাদে বা খোলা জায়গায় জামাতে নামাজ আদায় করছেন।

এক্ষেত্রে সরকারি এই নির্দেশনার সুফল কতোটা পাওয়া যাবে সেটা নিয়েও থেকে গেছে প্রশ্ন।