করোনাভাইরাস: ১৪ এপ্রিলের পরও ভারতে লকডাউন জারি রাখতে হবে, ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী মোদীর

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
- Published
ভারতে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলার লক্ষ্যে যে তিন সপ্তাহের 'সম্পূর্ণ লকডাউন' জারি করা হয়েছে, তার মেয়াদ আরও বাড়াতে হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও পরামর্শ করবেন – তবে এখনও যা পরিস্থিতি তাতে লকডাউন তুলে নেওয়া 'অসম্ভব' বলেই মনে হচ্ছে।
এদিকে শুধু গত চব্বিশ ঘন্টাতেই ভারতে ৩৫জন করোনা-পজিটিভ রোগী মারা গেছেন, মোট মৃত্যুর সংখ্যাও ১৫০ অতিক্রম করেছে।
সারা দেশে শনাক্ত হওয়া মোট করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যাও সোয়া পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
বস্তুত গত চব্বিশ থেকে আটচল্লিশ ঘন্টায় ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ছবিতে যে দ্রুত অবনতি হয়েছে, সেটাকেই এই লকডাউন সম্প্রসারিত করার ভাবনার পেছনে মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে 'সর্বদলীয় বৈঠকে' যোগ দিয়ে বলেন, "সরকারের সামনে এখন অগ্রাধিকার হল প্রতিটি জীবন বাঁচানো। দেশের পরিস্থিতি এখন একটা 'সামাজিক জরুরি অবস্থা'র সঙ্গে তুলনীয়।"
"এই কারণেই এখন বেশ কিছু কঠিন ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে – আর সেই সঙ্গে আমাদের এখন সদাসতর্ক থাকাও খুব জরুরি।"
এর পরই প্রধানমন্ত্রী কার্যত স্বীকার করে নেন, এই পরিস্থিতিতে দেশ থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করা এক রকম অসম্ভব।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আরও একটি ভিডিও কনফারেন্স করবেন – যেটি হবে করোনাভাইরাস সঙ্কট নিয়ে আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিতীয় বৈঠক।

ছবির উৎস, Getty Images
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এদিনের ভিডিও বৈঠকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ, তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত-সহ দেশের বেশ কয়েকজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ যোগ দিয়েছিলেন।
ভারতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার ও অনেক বিশেষজ্ঞই দেশব্যাপী লকডাউন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
তাদের আশঙ্কা, আগামী দু-তিন সপ্তাহে ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার 'পিক'-এ পৌঁছতে পারে – আর লকডাউন তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
গতকাল (মঙ্গলবার) কয়েকজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত একটি গ্রুপ অব মিনিস্টারস-ও সুপারিশ করেছিল, সারা দেশের স্কুল-কলেজ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো আরও বেশ কয়েক সপ্তাহ বন্ধ রাখা উচিত হবে।
ফলে ১৪ এপ্রিলের পর ভারতে যদি খুব সীমিত আকারে লকডাউন কোনও কোনও ক্ষেত্রে তুলেও নেওয়া হয় – সারা দেশে ট্রেন, বিমান, মেট্রো চলাচল আবার শুরু হবে কিংবা মন্দির-মসজিদগুলো আবার খুলে দেওয়া হবে সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

ছবির উৎস, Getty Images
তবে ভারতে অভিবাসী শ্রমিকরা রুটিরুজি হারিয়ে যে অবর্ণনীয় দুর্দশার মধ্যে আছেন এবং দেশে বেকারত্বের হার যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে তাতে লকডাউন আংশিকভাবে হলেও যাতে তুলে নেওয়া হয় – সে জন্য সরকারের ওপর একটা প্রবল অর্থনৈতিক চাপ আছে তা অনস্বীকার্য।
ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরেও এই লকডাউনের যে চাপ পড়ছে – তা প্রায় নজিরবিহীন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি অর্থনীতি এত বড় ধাক্কা কীভাবে সামাল দেবে, সেই প্রশ্নটা দিনকে দিন বড় হয়ে উঠছে।








