করোনাভাইরাস: বেলি ড্যান্সার থেকে ফুল চাষী, আফ্রিকার লকডাউনে মানুষকে সাহায্য করছেন যারা

Published

বিশ্বের অধিকাংশ এলাকার মত আফ্রিকার মানুষও করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিজেদের আশেপাশের মানুষের দিকে অভিনব ও মজার পন্থায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হল এখানে।

শৌখিন পোশাক থেকে মেডিকেল গাউন

লিবিয়ার একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড, যারা শৌখিন ফ্যাশনেবল পোশাক বানাতো, তারা পাক্তারদের পরার মেডিকেল গাউন বানানো শুরু করেছে।

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে ফ্যাশন হাউজটির একটি কারখানায় ছয়জন কর্মী ডাক্তারদের অস্ত্রপচারের সময় পরার পোশাক তৈরি করছে।

তাদের সবাই বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন এবং কেউ কেউ কারখানাতেই ঘুমাচ্ছেন।

এরই মধ্যে তারা ৫০টি গাউন বানিয়েছে এবং দ্বিতীয় দফায় বানানো শুরু করেছেন।

ফ্যাশন হাউজটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাজওয়া তাহের শোক্রি বিবিসিকে বলেন চিন্তাটা তার মাথায় আসে ত্রিপলির এক হাসপাতালের ডাক্তার সামাজিক মাধ্যমে সাহায্য চেয়ে পোস্ট দেয়ার পর।

"আল জালা হাসপাতালের এক ডাক্তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানান সাহায্য করতে", বলেন ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা শোক্রি।

তিনি ও তার কর্মীরা আরো মেডিকেল গাউন তৈরি করতে আগ্রহী, কিন্তু যুদ্ধ বিদ্ধস্ত শহরে যথেষ্ট পরিমাণ পোশাক তৈরি ও সেলাইয়ের প্রয়োজনীয় উপকরণ পেতে সমস্যার মুখে পড়ত হচ্ছে তাদের।

বৃদ্ধনিবাসে ফুল উপহার

মহামারি ছড়িয়ে পড়ায় অনেক বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে গেছে, কাজেই অপ্রয়োজনে পড়ে আছে বিক্রি না হওয়া বিপুল পরিমাণ ফুল।

দক্ষিণ আফ্রিকার পার্ল শহরের কয়েকজন ফুল চাষী এই মন্দার মধ্যেও ফুলের সদ্ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে।

একটি ফার্ম থেকে দান করা ৬০০ ফুল দিয়ে তারা স্থানীয় একটি বৃদ্ধনিবাস সাজিয়ে দিয়েছেন।

ফুল চাষীদের এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

তারা বলেন, "আমরা যখন বাড়িটা সাজিয়ে দিচ্ছিলাম তখন পাশ দিয়ে যাওয়া অনেক গাড়ি হর্ন দিয়ে উৎসাহ দিয়েছে. পথচারীরা অভিবাদন জানিয়েছে।"

ভাড়া মাফ করলেন বাড়িওয়ালা

কেনিয়ার একজন বাড়িওয়ালা তার বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া থাকা ৩৪টি পরিবারের মার্চ ও এপ্রিলের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন।

মাইকেল মুনেনে নামের ঐ ব্যক্তি বলেন, একসময় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ভাড়া না দিতে পারায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বাড়িওয়ালা।

মি. মুনেনে বলেন, "তারা অনেকদিন ধরে আমার বাড়িতে ভাড়া থাকে এবং তাদের দেওয়া ভাড়ার টাকায় আমি অনেককিছু করেছি।"

"তাই আমি ঠিক করেছি এখন তাদেরকে সাহায্য করার এবং একসাথে কাজ করার সময় এসেছে।"

অনলাইনে বিনামূল্যে নাচ দেখাচ্ছেন বেলি ড্যান্সার

তিউনিসিয়ার বেলি ড্যান্স শিল্পী নেরমিনে স্ফার উত্তর আফ্রিকার দেশটির মানুষ যেন লকডাউনের সময় বাসায় থাকতে উদ্বুদ্ধ হয়, সেজন্য অনলাইনে নাচ দেখাচ্ছেন।

প্রতি রাতে নিজের ঘর থেকে একটি করে নাচ লাইভ স্ট্রিমিং করছেন তিনি এবং সেটি লক্ষ লক্ষবার দেখা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়া তিনি তার এই ক্যাম্পেইনের নাম দিচ্ছেন: "আপনি বাড়িতে থাকুন, আমি আপনার জন্য নাচবো।"

তার ঐ পদক্ষেপ কাজে লেগেছে বলেই মনে হচ্ছে - প্রতিদিন সন্ধ্যায়ই তার ভিডিও দেখতে লাখ লাখ মানুষ লাইভে আসেন, এমনকি গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক ভিডিও বিশ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে।

কোয়ারেন্টিন সেন্টার তৈরি কিরতে বাড়ি দান করলেন পপ তারকা

ইথিওপিয়ার এক পপ তারকা তার নিজের বাড়ি কোয়ারেন্টিন জন্য দান করবেন বলে জানিয়েছেন।

গতমাসে ইথিওপিয়ার সরকার ঘোষণা করে যে ইথিওপিয়ায় প্রবেশ করা যে কোনো ব্যক্তিকে ১৪ দিন নিজেদের খরচে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন করতে হবে।

পপ তারকা হামেলমাল আবাতে, যিনি ১৯৯০'র দশকে আমহ্যারিক এবং আফান ওরোমো ভাষায় গান গেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে, বিদেশিদের মধ্যে যারা হোটেলের খরচ পোষাতে পারবেন না, তাদের কোয়ারেন্টিনের সুবিধার্থে নিজের বাড়ি দান করেছেন।

"বিদেশ থেকে আসা অনেকেই হোটেলের ভাড়া বহন করতে সমর্থ নন। তারা যেন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে পারেন সেজন্য আমার বাড়িটি দান করেছি।"

হামেলমাল আবাতে ছাড়াও ইথিওপিয়ার অনেকেই নিজেদের বাড়িকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার জন্য দান করেছেন।