করোনাভাইরাস: ইটালির মৃত্যুর সংখ্যা চীনকে ছাড়ালো

মাস্ক পরে সর্তক নাগরিকরা

ছবির উৎস, SOPA Images

ছবির ক্যাপশান, মাস্ক পরে সতর্ক নাগরিকরা
Published

এ পর্যন্ত যতগুলো দেশে একদিনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেসব দেশের মধ্যে ইটালি শীর্ষে রয়েছে।

ইটালিতে একদিনে মৃতের সংখ্যা ৪২৭জন। দেশটিতে এখন মৃতের সংখ্যা ৩৪৯৫।

এই মৃতের সংখ্যাটা সংক্রমণ শুরু হওয়া দেশ চীনের চেয়ে বেশি। চীনে মৃতের সংখ্যা ৩২৪৫জন। যদিও এই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যাতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

মার্চের ১২ তারিখে ইটালিতে লকডাউন করা হয়। সব নাগরিককে বলা হয়েছে বাসায় থাকতে।

তবে এইসব পদক্ষেপ নেয়ার পরেও নতুন সংক্রমণ এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। বিশ্বব্যাপী এখন এই ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা ২,২০,০০০ এবং নয় হাজারের বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

চীন বুধবার নিশ্চিত করেছে যে এই ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর দেশটির মধ্যে একে অপরের সংস্পর্শে নতুন করে সংক্রমণের ঘটনা ঘটে নি।

যেটা চীনের একটা বড় মাইলস্টোন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

কিন্তু দেশটিতে বিদেশ থেকে সম্প্রতি ফিরেছে এমন ৩৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে।

তবে আগে থেকেই যে সংক্রমণ রয়েছে চীনে তার সংখ্যা ৮১ হাজার যেটা ইটালির চেয়ে এখনো অনেক বেশি। ইটালিতে এখন সংক্রমণ ৪১ হাজার ৩৫জন।

ইটালির সর্বশেষ পরিস্থিতি কী

ইটালি তাদের বেশির ভাগ ব্যবসা বাণিজ্য এবং জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে ১২ই মার্চ থেকে, তবে পূর্ব ঘোষিত তারিখের চেয়ে আরো বেশি দিন থাকতে পারে লকডাউন অবস্থা।

তারা চেষ্টা করছে এই ভাইরাসের যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে সেটা ঠেকাতে।

১২ই মার্চে যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে সেটার মেয়াদ বাড়তে পারে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ১২ই মার্চে যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে সেটার মেয়াদ বাড়তে পারে

বার, রেস্টুরেন্ট, বেশিরভাগ দোকান, স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।

১২ই মার্চ থেকে লক ডাউন করা হয়েছে দেশটি, প্রধানমন্ত্রী জুসেপে কন্টে বলেছেন "সিস্টেমের পতন" হওয়া ঠেকাতে এই ব্যবস্থা সাহায্য করবে।

তিনি স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন "আমরা শ্রীগ্রিই আগের জীবনে ফিরে যেতে পারবো না" এমনকি যখন পদক্ষেপ গুলো নেয়া শেষ হয়ে যাবে।

কিছু কিছু গবেষণা বলছে, বড় সংখ্যায় মানুষ যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা বয়স্ক এবং তাদের সাথে যারা বাসায় রয়েছেন তাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছর।

বাইরে বের হলে পুলিশ কে কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, বাইরে বের হলে পুলিশ কে কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে

অন্যান্য দেশের ভিন্ন জনসংখ্যাতত্ব এই মৃতের সংখ্যা কম করতে সাহায্য করবে।

ইউরোপের বাকি অংশের কী পরিস্থিতি?

•ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক সংকট মোকাবেলার জন্য ৭৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি জরুরি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

•ফ্রান্স মঙ্গলবার সকাল থেকে লকডাউন শুরু করেছে। যারা বাইরে বের হচ্ছে তাদের কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে যাতে বাইরে বের হওয়ার কারণ লেখা রয়েছে। না হলে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।

•ফ্রান্সের মন্ত্রী ক্রিসটোফে কাস্টানের ইউরোপ ওয়ান রেডিও কে বলেছেন লকডাউন পূর্বে ১৫ দিনের কথা বলা হলেও সেটা বাড়তে পারে।

•স্পেনে একদিনে মৃতের সংখ্যা ২০৯ জন। সংক্রমিত লোকের সংখ্যা ৩৪৩১ থেকে বেড়ে ১৭,১৪৭। স্পেন বিশ্বের ৪র্থ দেশ যেটা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। দেশটি লকডাউন অবস্থায় রয়েছে।

•জার্মানি এখনো কঠিন ব্যবস্থা নেয় নি। যদিও তারা স্কুল এবং অনেক ব্যবসা, জনসমাগম স্থল বন্ধ করেছে। কিন্তু বুধবার চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের এক ভাষণে মনে হয়েছে বাধ্যতামূলক লকডাউন এড়িয়ে চলার একটা সবশেষ হুশিয়ারি ছিল। তিনি বলেন "পরিস্থিতি গুরুত্বর, এটা গুরুত্বের সাথে নাও"।

•যুক্তরাজ্যও এখনো কোন কঠিন ব্যবস্থা নেয়নি তবে ঘোষণা দিয়েছে স্কুল বন্ধ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন তিনি কোন তারিখ দিতে পারছেন না কখন আবার খোলা হবে।লন্ডনে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। গণ-পরিবহন কমিয়ে দিচ্ছে। তবে একেবারে বন্ধ করে দেয়ার কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: