করোনাভাইরাস : লকডাউনের কাশ্মীর কি উপেক্ষিত?

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
- Published
- পড়ার সময়: ৩ মিনিট
ভারত-শাসিত কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা না-ফিরলে সেখানে করোনাভাইরাসের সফল মোকাবিলা সম্ভব নয়, সার্কের মঞ্চ থেকে পাকিস্তান প্রকাশ্যে এই মন্তব্য করার পর তা ভারতকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।
শ্রীনগর থেকে কাশ্মীরি অ্যাক্টিভিস্টরাও বিবিসিকে জানাচ্ছেন, সারা দেশ থেকে আসা সৈন্য বা আধাসামরিক বাহিনীর লোকেরা যেভাবে কাশ্মীরের জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোয় রোজ টহল দিচ্ছে - তাতে সেখানে ভাইরাস আতঙ্ক বেশি করে ছড়াচ্ছে।
কাশ্মীরের বহু ছাত্র ও তীর্থযাত্রী এখনও ইরানে আটকা পড়ে আছেন, দ্রুত দেশে ফেরানোর দাবিতে তারা তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ পর্যন্ত দেখাচ্ছেন।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে কাশ্মীর কি তাহলে উপেক্ষিত হচ্ছে?

ছবির উৎস, Getty Images
দক্ষিণ এশিয়াতে করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় একটি সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির লক্ষ্যে রবিবার সার্কের নেতাদের নিয়ে একটি ভিডিও কনফারেন্সে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সেখানে শেষ বক্তা, পাকিস্তানের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাফর মির্জা যে কাশ্মীরের প্রসঙ্গ উত্থাপন করবেন - ভারত তা একেবারেই ভাবতে পারেনি।
তিনি সেখানে বলেন, "ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরেও যে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।"
"এটা একটা হেলথ ইমার্জেন্সি, এই পটভূমিতে ওই বিতর্কিত ভূখন্ডে যে লকডাউন পরিস্থিতি চলছে - তা অবিলম্বে তুলে নেওয়া দরকার।"

ছবির উৎস, Getty Images
"এই মহামারি রুখতে সেখানে অবাধ যোগাযোগ, তথ্য সম্প্রচার, ওষুধপত্রের সরবরাহ ইত্যাদি চালু করা প্রয়োজন।"
ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সম্পূর্ণ কমিউনিকেশন ব্ল্যাকআউট জারি হয়েছিল গত আগস্টের গোড়ায়, যখন সেখানকার বিশেষ সাংবিধানিক স্বীকৃতি বাতিল করা হয়।
স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল স্বাভাবিক জনজীবন, যদিও সাত মাস পর এখন সেই সব বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু এখন যখন গোটা ভারত করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি কি সেখানে কোনও অন্তরায় হয়ে উঠছে?
বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

ছবির উৎস, LAMAAKAN
কাশ্মীর ইউনিভার্সিটির প্রবীণ অধ্যাপক ও সমাজকর্মী হামিদা বানো শ্রীনগর থেকে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ভারত তো কখনওই কাশ্মীরকে তাদের সত্যিকারের অংশ বলে মনে করে না - একটা উপনিবেশের দৃষ্টিতে দেখে - কাজেই দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা তো আছেই।"
"কাশ্মীরের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা খুব ভাল কাজ করছেন কোনও সন্দেহ নেই!"
"কিন্তু সমস্যা হল রোজ ভারতের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার সেনা বা সিআরপিএফ সদস্য কাশ্মীরে আসছে এবং মহল্লার গলিঘুঁজিতে তারা ঢুকে যাচ্ছে - এতে তো করোনা আতঙ্ক ছড়াচ্ছেই!"
কাশ্মীরের বহু লোকজন ইরান ও চীনে গিয়েছিলেন নানা কাজে - তাদের সবাইকে এখনও দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
অধ্যাপক বানো জানাচ্ছেন, "দিনকয়েক আগে বাডগামের বাসিন্দা ৩০জন ইরান থেকে ও জনাদশেক চীন থেকে ফিরে এসেছেন, তাদের শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে কোয়ারেন্টিনেও রাখা হয়েছে।"
"কিন্তু এখনও বহু কাশ্মীরি ছাত্র লাদাখ থেকে যাওয়া বহু শিয়া তীর্থযাত্রী ইরানে আটকা পড়ে আছেন।"
এদের সংখ্যা বেশ কয়েকশো, যাদের অনেকে তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ পর্যন্ত দেখাচ্ছেন - যাতে তাদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও করোনাভাইরাস ইভ্যাকুয়েশনের সমন্বয়কারী দাম্মু রাভি অবশ্য বলছেন, "ইভ্যাকুয়েশন মানে সবাইকে একধারসে দেশে ফিরিয়ে আনা নয়, এটা কিন্তু বুঝতে হবে।"

ছবির উৎস, Getty Images
"যারা সংক্রামিত নন, তাদেরকেই সবার আগে ফিরিয়ে আনা হবে।"
"ইরান থেকে গত কদিন ধরেই আমরা নমুনা নিয়ে এসে টেস্ট করাচ্ছি, যাদের ফল নেগেটিভ আসছে তাদেরই আনানোর ব্যবস্থা হচ্ছে।"
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও আজ সকালে টুইট করে জানিয়েছেন ইরান থেকে ভারতীয়দের চতুর্থ ব্যাচ দেশে ফিরেছে।
এই নিয়ে মোট ৩৮৯জন ভারতীয় নাগরিক করোনা-উপদ্রুত ইরান থেকে ফিরে এলেন।
ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী এদের মধ্যে বেশির ভাগই জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা।

ছবির উৎস, BBC Sport









