আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ভারত নাগরিকত্ব আইন: বিক্ষোভে অন্তত নয়জন নিহত
ভারতে সদ্য পাশ পাওয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রধান ওপি সিং রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, এ সময় আরো অন্তত ৩২জন আহত হয়েছে।
বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে এ নিয়ে দেশটিতে ১৬জন নিহত হলো। সমালোচকরা আইনটিকে মুসলমান বিরোধী বলে বর্ণনা করছেন।
পুলিশের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা অনেক স্থানে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।
উত্তর প্রদেশের স্থানীয় চিকিৎসা কর্মী এবং পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অনেকের শরীরে বুলেটের ক্ষত রয়েছে।
আরো পড়ুন:
তবে রাজ্য পুলিশের প্রধান মি. সিং দাবি করেছেন, তার পুলিশ কর্মকর্তাদের গুলিতে শুক্রবার কেউ হতাহত হয়নি।
শুক্রবার উত্তর প্রদেশের অন্তত ১০টি জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে।
দিল্লিতেও শুক্রবার দেশটির সবচেয়ে পুরনো মসজিদ জামা মসজিদের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বড় বিক্ষোভ করেছেন।
এএফপি জানিয়েছে, সেখানেও সহিংসতার পর অনেক বিক্ষোভকারীর মাথা থেকে রক্ত ঝড়তে দেখা গেছে।
একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান আর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।
অনেক স্থানে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দেশটিতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে, যা দমনের চেষ্টা করছেন কর্মকর্তারা।
কী আছে নাগরিকত্ব আইনে?
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা চৌঠা ডিসেম্বর সে দেশের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল অনুমোদন করেছে।
বিলটির মূল উদ্দেশ্য হল সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়া।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
আইনটির নাম নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৬। এটি ভারতের নিম্নকক্ষ লোকসভায় অনুমোদনের পরই ভারতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে বিশেষ করে আসামে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল।
বিক্ষোভকারীরা বলছে, এই আইন মুসলিম প্রধান দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুদের প্রতি 'পক্ষপাতমূলক'।
১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী আনা হয়েছে এই বিলের মাধ্যমে।
এতে বলা হয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ সহ আরও কিছু অমুসলিম ধর্মাবলম্বীরা, যারা নিজের দেশে ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে, তারা যদি ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ সালের আগে ভারতে প্রবেশ করে থাকে, তবে তারা এই আইনের আওতায় ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার উপযুক্ত।
এসব সম্প্রদায়ের মানুষজন ভারতে ছয় বছর বসবাসের পর সেখানকার নাগরিকত্ব পাবেন যা আগে ছিল এগারো বছর। তাদের কোন কাগজপত্র না থাকলেও চলবে।
২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ের আগে এখনকার ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এটি।
২০১৬ সালের আগস্ট মাসে বিলটি পার্লামেন্টের একটি কমিটির কাছে পাঠানো হয়। এর পর গত বছরের জুলাই মাসে ভারতের লোকসভায় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়।
যে কারণে বিলটি নিয়ে এত বিরোধিতা
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু জাতি ভিত্তিক সংস্থা এর বিরোধিতা করে আসছে। তারা মনে করে এসব অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দিলে সেটি স্থানীয় মানুষদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আসামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আশঙ্কা বাংলাভাষী হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিলে তারা সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে।
বিলটির প্রতিবাদ করে আসছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন, 'নর্থ ইষ্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন'। তাদের নেতা প্রিতমবাই, সোনাম সেন্টিনাল কাগজকে বলেছিলেন, "বিলটি আদিবাসীদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।"
ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস সহ বেশিরভাগ বিরোধীদল মনে করে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দিলে তা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভীতকে দুর্বল করবে।