এডিটারস্ মেইলবক্স: নারীর জীবন কি তিরিশেই শেষ; বাংলাদেশে পেঁয়াজ সংকট কি 'শাপে বর'?

বাংলাদেশে ত্রিশোর্দ্ধ নারী শিল্পী বেগম
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে ত্রিশোর্দ্ধ নারীদের সংগ্রামী জীবনের কাহিনি
Published

বাংলাদেশে তিরিশোর্দ্ধ নারীদের আবেগ-অনুভূতি, সুখ-দু:খ, অর্জন-বিসর্জন ও নানা সংগ্রামের গল্প নিয়ে বিবিসি বাংলায় চলছে নতুন ধারবাহিক অনুষ্ঠানমালা, যা মূলত ভিডিও-ভিত্তিক।

এই ভিডিও ধারাবাহিক নিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

"অনুষ্ঠানটির নাম 'তিরিশে ফিনিশ' হলেও আমরা দেখতে পাচ্ছি তিরিশ কেন- জীবনের চাকা ঘুরাতে এবং জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে বয়স কোন বিষয় না। তবে এটা সত্য ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ মানুষের ধারণা নারীদের জীবনের সব শক্তি ব্যয় হয়ে যায় তিরিশ/চল্লিশ বছর বয়স হলে।

''কিন্তু আমরা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু অদম্য নারীদের দেখতে পাচ্ছি যারা জীবন চাকা ঘুরাতে পুরুষদের চাইতে কোন অংশে কম নয়। সাধুবাদ জানাই এসব অদম্য, অনুপ্রেরণাময়ী এবং জীবনযুদ্ধে জয়ী নারীদের। তাঁদের কাজ প্রশংসার দাবিদার। বিবিসি বাংলাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন ব্যতিক্রমী এবং প্রশংসিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য।''

এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানমালা নিয়ে আরও মন্তব্য করেছেন রাণীবাজার, রাজশাহী থেকে হাসান মীর:

''ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী -- এই পর্যায়ে প্রচারিত আপনাদের বিশেষ ভিডিও প্রতিবেদনের তিনটি পর্ব মোটর মেকানিক রাব্বি আপা, মাংস ব্যবসায়ী জামিলা বেগম ও ট্রলার চালক জেসমিন বেগমের কথা শুনেছি। এ ধরণের কঠিন ও শ্রমসাধ্য কাজ মহিলাদের করার কথা নয়। দায়ে পড়েই তাদের এই দায়িত্ব নিতে হয়। অথচ যে পুরুষদের উপেক্ষা ও অবহেলার কারণে তাদের বাধ্য হয়ে ওই "পুরুষালি" কাজ হাতে নিতে হয়, তার বিরুদ্ধে বেশি সোচ্চার হয় ওই পুরুষেরাই। এ এক বিচিত্র বৈপরীত্য।''

ভিডিওর ক্যাপশান, স্বামীর চেয়েও বেশি আয় মোটর মেকানিক রাব্বি আপার

ধারাবাহিক এই ভিডিও অনুষ্ঠানগুলো আপনাদের ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম। লেখার জন্য আপনাদের দুজনকেই ধন্যবাদ। অনেক নারীকে বাধ্য হয়ে জীবিকার তাড়নায় কঠিন শ্রমের কাজ করতে হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যেসব কাজ এতদিন মেয়েদের জন্য দু:সাধ্য বলে মনে করা হতো সেসব কাজ করার মত মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস যে এই নারীরা দেখিয়েছেন তা তাদের সত্যিই ব্যতিক্রমী ও অনন্য করে তুলেছে।

তিরিশে ফিনিশ বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠানমালা নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি প্রশ্নও করেছেন সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল থেকে বিলকিছ আক্তার:

''২৮শে নভেম্বর চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত বিবিসি প্রবাহ অনুষ্ঠানে আমার অনেক প্রিয় আপু পারমিতা হিমের 'তিরিশে ফিনিশ' প্রতিবেদনটি দেখছিলাম; খুবই ভালো লেগেছে! বিশেষ করে উক্ত প্রতিবেদনে তিরিশোর্ধ্ব নারীদের সাক্ষাতকারগুলো ছিলো অতি চমৎকার! আসলেই তো, একজন নারীর তিরিশ বছর বয়স পার হয়ে গেলেই কি সব শেষ হয়ে যায়? কখনোই নয়- আমি উক্ত প্রতিবেদনের সাথে পুরোপুরি সহমত পোষণ করে জানতে চাচ্ছি, এই ধারাবাহিকটি আমরা কি বিবিসি রেডিওতেও শুনতে পাবো? যদি পাই, তাহলে তা কত পর্বে প্রচার হবে?''

তিরিশে ফিনিশ-এর ভিডিওগুলো আপনার ভাল লাগছে জেনে খুশি হলাম। আশাকরি বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায়, ইউটিউব চ্যানেলে আর ওয়েবসাইট bbcbangla.com-এ এই ধারাবাহিক আয়োজনগুলো আপনি নিয়মিত দেখছেন। এই ধারাবাহিকটি আমরা তৈরি করেছি ভিডিও ফর্মাটে, মূলত বিবিসির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কথা মাথায় রেখে। রেডিওতে এই ধারাবাহিকটি প্রচারের কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই। একই বিষয়ে আপনি দ্বিতীয় একটি চিঠিতে আরও লিখেছেন আপনার মতে বাংলাদেশের নারীরা বিয়ের পর তাদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে। এবং আপনার আশা এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে নারীরা তাদের স্বকীয়তা সম্পর্কে নতুন করে সচেতন হবেন।

ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ ঢাকায় সুলভ মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। (ছবি ১৭ই নভেম্বর ২০১৯)

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, ঢাকার বাজারে নিয়ন্ত্রিত মূল্যে পেঁয়াজ কেনার লাইন।

সাম্প্রতিককালের বহুল আলোচিত একটি বিষয় পেঁয়াজ নিয়ে পরের চিঠিটি লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''সম্প্রতিকালে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে এদেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। অনেকেই এটা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও আমি মনে করি আমাদের অর্থনীতি এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এটা শাপে বর হিসেবে গণ্য করা উচিত। এখানে উদাহরণ হিসেবে ভারত কর্তৃক গরু রপ্তানি বন্ধের ব্যাপারটি উল্লেখ করা যেতে পারে। একটা সময় ভারত হঠাৎ করে গরু রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে এ দেশে প্রচুর পরিমাণে গরুর খামার গড়ে উঠেছে এবং বাংলাদেশ এখন গরু সংক্রান্ত ব্যাপারে পুরোপুরি ভারতের মুখাপেক্ষীহীন। এটা পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও ঘটা খুবই সম্ভব।''

ভারতের পেঁয়াজের মান, দাম এবং সেদেশ থেকে আমদানি খরচ সবকিছু বিবেচনা করলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আনা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক বলেই এতদিন ভারতের বাজারের উপর বাংলাদেশ নির্ভর করেছে। এখন ভারতেও পেঁয়াজের ফলনে টান পড়েছে। ফলে দাম অগ্নিমূল্য হয়েছে। নানা দিক বিবেচনায় এখন বাংলাদেশ বিকল্প বাজার খুঁজবে এবং বাংলাদেশের ভেতরেও পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়নোর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পেঁয়াজ: বাংলাদেশ কি পারবে ভারতের উপর নির্ভরতা কাটাতে? -বিবিসি বাংলার রিপোর্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন

স্টুডিওতে মাসুদ হাসান খান সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেনের প্রাক্তন মহাসচিব আবদুল বারির।
ছবির ক্যাপশান, বিবিসি বাংলার পুরনো একটি অনুষ্ঠানের ছবি। স্টুডিওতে মাসুদ হাসান খান সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেনের প্রাক্তন মহাসচিব আবদুল বারির।

বিবিসি বাংলায় রাতের অধিবেশন আবার ফেরত আনা প্রসঙ্গে বড়শশী-পঞ্চগড় থেকে লিখেছেন মোঃ উজ্জ্বল ইসলাম:

"শ্রোতাদের অনুরোধের কারণে রাতের পরিক্রমা আবারও চালু হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে বিবিসি চিন্তা ভাবনা করছে। আমার মনে হয় সকালের প্রভাতী চালু না করলেও পরিক্রমা চালু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের মধ্যে যারা কর্মজীবী তারা সন্ধ্যার প্রবাহ শোনা থেকে বঞ্চিত হয়। সেই সাথে বিজ্ঞানের আসর,মাঠে ময়দানে,ইতিহাসের সাক্ষী, গান গল্প এই অনুষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করার অনুরোধ করছি।"

আর রাত সাড়ে দশটার অনুষ্ঠান নিয়ে চিন্তাভাবনা প্রসঙ্গে দৌলতপুর, কুষ্টিয়া থেকে সংশয় প্রকাশ করে লিখেছেন এম নাজমুল হোসাইন:

''বিবিসি বাংলা রাত সাড়ে দশটার অনুষ্ঠান আবার ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছে। কিন্তু এখানে সংশয় থেকে যায় সকাল সাড়ে সাতটা এবং সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার অনুষ্ঠান দুটো থেকে যেকোন একটি বাদ দেওয়া হতে পারে। তাই বিবিসি বাংলার কাছে অনুরোধ এই দুটো অনুষ্ঠান থেকে যেনো কোন অনুষ্ঠান বাদ দেওয়া না হয় কারণ রাত সাড়ে দশটায় গ্রামে কিন্তু অনেক রাত তাই আমার কাছে মনে হয় রাত সাড়ে দশটার অনুষ্ঠান গ্রামের অনেকেই শুনবে না।''

মি. হোসাইন রাতের অনুষ্ঠান চালু করতে হলে কোন একটি অধিবেশন আমাদের বাদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মার্কেট ডেটা যাচাই করেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। মি. ইসলাম প্রভাতীর শ্রোতাসংখ্যা সবসময়ই খুবই কম ছিল এবং সেই সংখ্যা সাম্প্রতিককালে বেড়েছে এমন কোন প্রমাণও যেহেতু আমরা পাইনি তাই সকাল সাড়ে ছ'টার অধিবেশনটি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না। আপাতত রাত সাড়ে দশটার অনুষ্ঠানটির কথাই ভাবা হচ্ছে। তবে সেই অনুষ্ঠানের ফমার্ট কী হবে বা তাতে কী থাকবে তা নিয়ে এখনও চিন্তাভাবনা চলছে।

বিবিসি বাংলার স্মরণিকা নিয়ে লিখেছেন দাকোপ, খুলনা থেকে মুকুল সরদার:

''সম্প্রতি বেশ কয়েক জন শ্রোতার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে, যারা দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মিত বিবিসি বাংলা শুনছেন কিন্তু বিবিসি বাংলাকে তারা কখনোই তাদের ভালোলাগা বা প্রত্যাশার কথা জানাননি। বিবিসি বাংলা তার ৭০ এবং ৭৫ বছর পূর্তিতে যে দুটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছিল সেই ম্যাগাজিন দুটি ঐ শ্রোতা বন্ধুরা আমার কাছে প্রত্যাশা করেছিলেন।

বিবিসি লাইভ অর্থাৎ বিবিসি বাংলার ৭৫ বছর পূর্তিতে প্রকাশিত ম্যাগাজিনটি ডাউনলোড করা গেলেও ৭০ বছর পূর্তিতে প্রকাশিত ম্যাগাজিনটি বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে খুঁজেই পেলাম না। ঐ ম্যাগাজিনটি কি এখন আর আপনাদের ওয়েবসাইটে নেই, না কি আমি খুঁজে পাচ্ছি না?''

বিবিসি বাংলার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা সেতুবন্ধন এখনও বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা সম্ভব। গুগল সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে একইসঙ্গে সেতুবন্ধন ও বিবিসি বাংলা লিখে সার্চ দিলে ওই স্মরণিকার ডিজিটাল ভার্সনটি পাওয়া যাবে।

স্মরণিকা 'সেতুবন্ধন'
ছবির ক্যাপশান, বিবিসি বাংলার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা 'সেতুবন্ধন'

কীভাবে ডাউনেলাড করবেন বিবিসি বাংলার স্মরণিকা সেতুবন্ধনজানতেএখানে ক্লিক করুন।

একটি অভিযোগ তুলে ধরেছেন জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা থেকে মো: আবদুল্ললাহ-আল-মাবুদ:

''কিছু দিন আগে পত্রিকার পাতায় ও ফেসবুক ভিডিও স্ট্রিমিংএ দেখছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. রুশাদ ফারিদী স্যারকে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে এর কারণ না জানলেও পরে প্রথম আলো পত্রিকায় একটি নিউজের মাধ্যমে জানতে পারলাম ঐ শিক্ষক প্রথম আলোতেই একটি কলাম লিখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিংএর অধ:পতন নিয়ে। আর এর জন্য জোরপূর্বক ওনাকে ছুটিতে পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমার একটি আক্ষেপ হলো বিবিসি বাংলা কেন এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে গেল?''

মি. আল-মাবুদ খবরটি অবশ্যই আমাদের বিবিসি বাংলার ওয়েবপেজে ছাপা হয়েছিল 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ক্লাসে ফিরতে চান অর্থনীতির শিক্ষক রুশাদ ফরিদি, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ' এই শিরোনামে। ওই খবরে শিক্ষক মি. ফরিদির অভিযোগ, কী কারণে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং রুশাদ ফরিদির এই অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য সবই ছিল অনলাইনের খবরে। সব খবর একইসঙ্গে রেডিও, অনলাইন এবং টিভিতে না থাকার মানে কিন্তু এই নয় যে খবরটি আমরা এড়িয়ে গেছি।

বিবিসি বাংলার ভিডিও নিয়ে লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মশিউর রহমান:

''আপনাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন ফেইসবুক কিংবা ইউটিউবে নিয়মিত খবর ও ভিডিও দেখি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি লাইভ সংবাদ খুব ভাল লাগে। তবে বেশ কিছু ভিডিওতে শুধু বাংলা সাবটাইটেল দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কথা যোগ করলে খুবই ভালো লাগতো। আশা করি বিষয়টা নিয়ে বিবিসি বাংলা ভেবে দেখবে।''

মি. রহমান কথা যোগ করা বলতে আপনি ঠিক কী বলছেন তা বুঝতে পারলাম না। ধরে নিচ্ছি আপনি আমাদের ডিজিটাল ভিডিওর কথা বলছেন। এই ভিডিওগুলোতে যেখানে কারোর বক্তব্য থাকে সেখানে ওই বক্তব্য তার কণ্ঠে অবশ্যই থাকে, সাথে সাথে যারা ভিডিওটি শোনার বদলে শুধু দেখতে চান, তাদের জন্য থাকে সাবটাইটেল। তবে ডিজিটাল ভিডিওতে কাহিনিটা বলার জন্য শুধু লেখাই থাকে সেখানে কারো কণ্ঠ থাকে না।

রুশাদ ফরিদির প্ল্যাকার্ড হাতে টানা তৃতীয় দিনের মত প্রতিবাদ প্রদর্শন।

ছবির উৎস, সাদমান ফারশিদ

ছবির ক্যাপশান, রুশাদ ফরিদির প্ল্যাকার্ড হাতে টানা তৃতীয় দিনের মত প্রতিবাদ প্রদর্শন।

প্রীতিভাজনেষু নিয়ে চিঠি লিখেছেন পার্বতীপুর, দিনাজপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''আমি নিয়মিতভাবে প্রতি পর্বেই প্রীতিভাজনেষুতে লিখে যাই এবং আমার লেখা চিঠি আপনাদের মেইলবক্সে স্থানও পায়। কিন্তু গত ৩০শে নভেম্বর ও পয়লা ডিসেম্বরের প্রীতিভাজনেষুতে লক্ষ্য করলাম একটু ভিন্ন আঙ্গিক। তাতে দু'একজন পুরাতন শ্রোতা বাদে বেশিরভাগই দেখলাম নতুন শ্রোতা।

নতুনদের সু-স্বাগত জানিয়েও এখানে একটি বিষয় আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে, আর তা হলো- হঠাৎ একজন শ্রোতার অভিযোগের ভিত্তিতেই কি এমনটি করা হলো? তা নাহলে এতদিন এসব পুরাতন শ্রোতারা ছিলেন কোথায়? নিশ্চয়ই এতদিনও তারা ঠিকই লিখতেন, কিন্তু লেখার বিষয়বস্তুতে বিবিসি'র সাথে সাদৃশ্য না থাকায় তা কমই স্থান পেতো। পরিশেষে বলবো, বিবিসি কি কারও অভিযোগের ভিত্তিতে কোটা প্রথাকে উৎসাহিত করছে?''

মি: ইসলাম- এখানে কোনধরনের কোটা প্রথাকে উৎসাহিত করার কোন প্রশ্নই নেই। এটা ঠিক যে সবাই প্রীতিভাজনেষুতে তাদের চিঠির উত্তর চান। অনেক শ্রোতাই নিয়মিত আমাদের লেখেন, আগেও লিখতেন, কিন্তু কোন খবর সম্পর্কে বিজ্ঞ মতামত না দিয়ে। তাদের অনেকের প্রশ্নের উত্তর হয়ত আগে অনেকবার দেওয়া হয়েছে অথবা তেমন কোন মতামত তারা চিঠিতে দিচ্ছেন না। কিন্তু তারাও মন:ক্ষুণ্ন হন তাদের চিঠি কখনই পড়া হয় না বলে। তাই অপেক্ষাকৃত কম মতামতভিত্তিক চিঠিগুলোকেও কিছুটা গুরুত্ব দিয়ে মাঝেমধ্যে পড়লে আপনাদের যাদের চিঠি নিয়মিত অনুষ্ঠানে স্থান পায় তারা নিশ্চয়ই কিছু মনে করবেন না।

তাছাড়া দেখুন, এ সপ্তাহের দুটো অনুষ্ঠানেই নিয়মিত অনেক পত্রলেখকের চিঠিই পড়া হয়েছে। অন্যদিকে, মন খারাপ করে লিখেছেন মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল থেকে অহিদুল ইসলাম:

''আমি গত ১০ই নভেম্বর ইমেইল-যোগে একখানা পত্র পাঠিয়েছিলাম, আমার প্রশ্ন হলো আমার পত্র লেখার গুণগত মান কি খারাপ ছিল? নাকি আমি বা আমরা অল্প বেতনের অতি দরিদ্র লোক তাই আমাদের এ জগতে কেউই মূল্যায়ন করে না। তাই যদি না হত তাহলে আমার পত্র খানি প্রাপ্তি স্বীকার না করে পড়া হতো!''

মি. ইসলাম আপনি কী বিষয় নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন জানি না। তাই কেন আপনার চিঠি না পড়ে শুধু প্রাপ্তিস্বীকার করা হয়েছিল আমি বলতে পারব না। তবে কারো আর্থিক সামর্থ্য বা শিক্ষাগত যোগ্যতা বা লেখার মানের বিচার করে আমরা ঠিক করি না কার চিঠি প্রীতিভাজনেষুতে পড়া হবে বা হবে না। যদি অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত থাকে, কোন অভিযোগ থাকে বা আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে চান তাহলে আমরা এ অনুষ্ঠানে তার জবাব দিয়ে থাকি।

এবারে কিছু প্রাপ্তিস্বীকার।

কৃষ্ণ শর্মা, দিনাজপুর, বাংলাদেশ।

মো: মুশফিকুর রহমান, রংপুর।

প্রশান্ত কুমার রায়, কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট।

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড়।

মো.মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ, পীরগঞ্জ, রংপুর।

আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা, খুলনা।

অরবিন্দ দাস, নোয়াখালী।

মোঃ মিজানুর রহমান, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

মো. শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।

তানাকা রহমান, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

চিঠি লেখার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।