যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলি,নিহত দুইজন শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গোলাগুলিতে নিহত ২
ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
Published

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর এলোপাথাড়ি গুলিতে দু'জন ছাত্র নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

লস অ্যাঞ্জেলসের উত্তরে সান্টা ক্লারিটা শহরের সউগাস হাই স্কুলে কার্যক্রম শুরুর কয়েক মিনিট আগে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

আহত হওয়া ১৬ বছর বয়সী সন্দেহভাজন কিশোরকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মারাত্মক কয়েকটি হামলার ঘটনায় দেশটির অনেক স্কুলে গোলাগুলির সময় আত্মরক্ষার মহড়া দেয়া হয়।

গোলাগুলি সম্পর্কে কী জানা গেছে

গোলাগুলির ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ জানতে পারে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে।

লস অ্যাঞ্জেলসের আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা অ্যালেক্স ভিলানুয়েভা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "কয়েক সেকেন্ডের মাথায় আমাদের কাছে একাধিক [জরুরি] ফোন কল আসে, এর দুই মিনিটের মধ্যে আমাদের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়"।

মিস্টার ভিলানুয়েভা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে ছয়জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। এবং পরে আহতদের মধ্যে একজনকে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

যে দু'জন নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোরী এবং অপরজন ১৪ বছর বয়সী কিশোর - তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও পরে মারা যান বলে জানায় পুলিশ।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ এবং ১৪ বছর বয়সী দুজন কিশোরী এবং একজন ১৪ বছর বয়সী কিশোর।

আহতদের মধ্যে একজনকে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।
ছবির ক্যাপশান, আহতদের মধ্যে একজনকে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন কেন্ট ওয়েগেনার জানিয়েছেন, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে যার আজ জন্মদিন ছিল।

মার্কিন মিডিয়া সন্দেহভাজন হামলাকারীকে নাথানিয়েল বেরহাও নামে নামকরণ করেছে।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্দেহভাজন ওই কিশোর তার ব্যাকপ্যাক থেকে একটি বন্দুক বের করে পাঁচজন শিক্ষার্থীর ওপর গুলি চালায় এরপর নিজেকে নিজে গুলি করে।।

উদ্ধারকৃত পয়েন্ট ফোর্টি ফাইভ ক্যালিবার আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তলটি খালি অবস্থায় পাওয়া যায়। অর্থাৎ এর ভেতরে কোন বুলেট ছিল না।

পুলিশ জানিয়েছে, যে তারা সন্দেহভাজনের বাড়ি চিহ্নিত করেছে এবং তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তারা সেখানে তল্লাশি চালাবেন।

অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ওপর এই ঘটনা কেমন প্রভাব ফেলেছে

গোলাগুলি চলাকালীন সউগাস হাই স্কুল এবং আশেপাশের অন্যান্য স্কুলগুলো তালাবন্ধ করে রাখা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পরে সেই অচলাবস্থা তোলা হয়।

লস অ্যাঞ্জেলসের টিম মুরাকামি টুইটারে লিখেছেন, যে পুলিশ সউগাস হাই স্কুলের সকল শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এরপর তাদেরকে যার যার বাবা-মার হাতে তুলে দেয়া হবে।

সন্দেহভাজন কিশোর সামাজিক মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে- এমন গুজবও পুলিশ তদন্ত করে দেখবে বলে জানায়।

একজন ছাত্র এনবিসিকে বলেন যে সবাই যখন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে তখন সে তার হোমওয়ার্ক করছিল। "আমি সত্যি সত্যিই ভয় পেয়েছিলাম। আমি কাঁপছিলাম" তিনি বলেন।

আজালিয়া নামে অপর এক ছাত্র সিবিএসকে জানিয়েছেন যে তিনি এবং তার সহপাঠীরা চেয়ারের সাহায্যে ক্লাসরুমের দরজায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল। "এটা সত্যিই ভয়ঙ্কর ছিল, প্রত্যেকে আতঙ্কিত হয়ে নিজেদের বাবা-মাকে ফোন করে বলেছিল যে তারা তাদেরকে অনেক ভালবাসে"।

বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে সিনেটের বিতর্ক চলা অবস্থায় বন্দুক হামলার এই খবর প্রকাশিত হল।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল, গণমাধ্যমের কাছে বন্দুক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কথা বলেছেন।

"আমরা যদি তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হই তাহলে এটাই প্রমাণ হবে যে আমরা অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এটি কেবল কোন রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক অপরিহার্য বিষয়"।

অস্ত্র বহন করার অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিভাজনমূলক রাজনৈতিক ইস্যু।
ছবির ক্যাপশান, অস্ত্র বহন করার অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিভাজনমূলক রাজনৈতিক ইস্যু।

আরও পড়তে পারেন:

এদিকে, ভারপ্রাপ্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি, চ্যাড ওল্ফ একটি বিবৃতিতে বলেছেন যে তার বিভাগ স্কুলে গোলাগুলির বিষয়টিকে "অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে" নিয়েছেন।

এ ধরণের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সক্ষমতা গড়ে তুলতে সেই সঙ্গে নাগরিকদের সুরক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং সংস্থান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সব ধরণের সহায়তা দেয়ার কথা জানান তিনি।

বন্দুক নিয়ন্ত্রণ, এবং অস্ত্র বহন করার অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিভাজনমূলক রাজনৈতিক ইস্যু।

২০১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৪০% আমেরিকান বলেছেন যে তারা একটি আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক অথবা তারা নিজেদের বাড়িতে একটি বন্দুক রাখেন।

দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা হত্যা বা হত্যাযজ্ঞের হার উন্নত বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলে জরিপে জানা গেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, ১৯৯৯ সালে কলোরাডোতে কলম্বাইন হাই স্কুল গণহত্যার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী স্কুলে বন্দুক সহিংসতার শিকার হয়েছে।