মেক্সিকো মাদক ব্যবসায়ীকে ধরেও পাল্টা আক্রমণের মুখে তাকে ছেড়ে দিল পুলিশ
মেক্সিকোর সিনালোয়া রাজ্যে এক মাদক সম্রাটের ছেলেকে পুলিশ ধরে ফেলার পর তার সশস্ত্র দলের সাথে ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধে ২৯ জন হতাহত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ অবশেষে বাধ্য হয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
'এল চ্যাপো গুজম্যান' নামে পরিচিত মাদক সম্রাটের ছেলে ওভিদিও গুজম্যান লোপেজকে কুলিয়াচান শহর থেকে আটক করে পুলিশ।

ছবির উৎস, Getty Images
কিন্তু তার গ্যাংএর সশস্ত্র লোকেরা পুলিশকে ঘিরে ফেলে এবং পিছু হটে যেতে বাধ্য করে।
ওভিদিও গুজম্যান লোপেজ ধরা পড়েছে - এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই তার দলের বন্দুকধারীরা রাস্তায় নেমে নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রমণ করে।
শহরের নানা জায়গায় এই গ্যাং সদস্যদের মেশিনগানের মতো ভারী অস্ত্র সজ্জিত পিকআপ ট্রাক নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়।

ছবির উৎস, Getty Images
তারা বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়তে থাকে, বহু গাড়িতে আগুন দেয়। রাস্তায় বেশ কিছু মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
লোকজন ভয়ে এদিক সেদিক পালাতে থাকে।
গুলিতে অন্তত ৮ জন নিহত এবং ২১ জন আহত হয় বলে জানা গেছে।

ছবির উৎস, Getty Images
এর পর উর্ধতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওভিদিও গুজম্যান লোপেজকে ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন।
শহরে যখন বন্দুকযুদ্ধ চলছে তখন একজন আইনজীবী বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ওভিদিও জীবিত এবং তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
আটকের পর তোলা ওভিদিও গুজম্যান লোপেজের একটি ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ছবির উৎস, টুইটার
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর এ সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছেন - যদিও তিনি মাদক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার অঙ্গীকার করেই নির্বাচনে জিতে এসেছিলেন।
কর্তৃপক্ষ পরে বলেছে, সহিংসতা বাড়তে না দেয়ার জন্যই তারা ওভিদিও গুজম্যান লোপেজকে ছেড়ে দিয়েছে।
সিনালোয়া মাদক কার্টেল হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় মাদক পাচারকারী চক্র। তারা যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টন কোকেন সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ আছে।

ছবির উৎস, Getty Images
এই চক্রের আসল নেতা এল চ্যাপো গুজম্যান এখন যুক্তরাষ্ট্রের জেলে যাবজ্জীবন কারাবাসের দন্ড ভোগ করছে।
তার ছেলে ওভিদিও গুজম্যান লোপেজ - যার বয়স বিশের কোঠায় - এখন এই ব্যবসার একাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
এল চ্যাপোর বিভিন্ন স্ত্রী ও বান্ধবীর গর্ভে ৮ থেকে ১৫ জন ছেলেমেয়ে আছে বলে জানা যায়।
এল চ্যাপো বন্দী হবার পর তার কয়েক ছেলে এবং সিনালোয়া কার্টেলে আরেক প্রতিষ্ঠাতা ইসমায়েল এল মায়ো জামবাদার মধ্যে মাদক চক্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায়।