পাঁচ শতাব্দী আগে বিলুপ্ত বল খেলার ঐতিহ্য ফিরে আসছে লাতিন আমেরিকায়

ছবির উৎস, AFP
অ্যাজটেক, ইনকা এবং মায়া সভ্যতার সময়ে 'উলামা' নামে যে বল খেলার প্রথা ছিল কিছু তরুণ মেক্সিকান এখন চেষ্টা করছেন সেই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে।
উলামা খেলা হতো মধ্য আমেরিকায় এবং ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিকরা ঐ এলাকা দখল করার পর এই খেলা নিষিদ্ধ করা হয়।
এই বল খেলার সময় খেলোয়াড়রা তাদের নেংটির ওপর চামড়ার বেল্ট পরেন এবং কোমরের ধাক্কা দিয়ে রাবারের তৈরি বলটি একে অন্যের কাছে এগিয়ে দেন।
এই নিরেট বলেটির ওজন চার কেজি।

ছবির উৎস, AFP

ছবির উৎস, AFP

ছবির উৎস, AFP
কয়েক ভাবে এই বল খেলা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দল মাঠে নিজের অংশে মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ায় এবং বলটিকে মাটিতে পড়তে না দিয়ে কোমরের ধাক্কা দিয়ে বলটি একে অন্যের কাছে পাস করে।
আরেক ধরনের উলামা খেলা চলে পাথরের চত্বরের ওপর। সেখানে পাথরের একটি রিং-এর ভেতরে বল পাঠানো হয়, অনেকটা বাস্কেটবলের মতো।

ছবির উৎস, AFP
মেক্সিকোর আদিবাসী অঞ্চলের কোন জায়গায় উলামা খেলার প্রচলন আবার শুরু হলেও রাজধানীতে এতদিন কোন উলামা কোর্ট ছিল না। অতি সম্প্রতি শহরের অ্যাজাকাপোটজালো মহল্লার ময়লা ফেলার জায়গায় একটি কোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
এমানুয়েল কাকালোটেল হলেন একজন উলামা কোচ। তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, "খেলাটি পাঁচ শতাব্দী আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।"
"আমরা এখন চেষ্টা করছি একে আবার ফিরিয়ে আনতে।"

ছবির উৎস, AFP
নতুন তৈরি কোর্টে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও উলামা খেলতে শুরু করেছেন।
এদেরই একজন ২৫-বছর বয়সী বিয়েট্রিস ক্যাম্পোস। তিনি বলছেন, আমরা মনে প্রাণে নারী যোদ্ধা। কিন্তু খেলাটা সহজ না। সবাই এই বল খেলতে পারব না। এর জন্য অনেক অনুশীলন করতে হয়। শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়।"
উলামার প্রতি ম্যাচের আগে ধুপ-ধুনো জ্বালানোর প্রথা রয়েছে।

ছবির উৎস, AFP
এক সময় উলামা খেলার একটি সামাজিক এবং ধর্মীয় তাৎপর্যও ছিল। মেক্সিকো সিটিতে যারা উলামা খেলেন তারা ম্যাচের আগে নানা ধরনের পোশাক পরে এসব আচার পালন করেন।

ছবির উৎস, AFP
তারা নানা ধরনের পৌরাণিক চরিত্রের সাজ ধরেন। এদের একজন হলেন 'মিকটলাটেকুল্টিৰ -- তিনি মৃত্যু দেবতা।

ছবির উৎস, AFP

ছবির উৎস, AFP
মেক্সিকো সিটির নতুন উলামা কোর্টে যারা খেলায় যোগ দিয়েছেন তারা বলছেন, তারা খেলাটিকে উদ্ধার করেন নি, এই খেলাই তাদের উদ্ধার করেছে। তাদের জীবনে নতুন এক লক্ষ্য তৈরি করেছে।

ছবির উৎস, AFP

ছবির উৎস, AFP
All photos subject to copyright.








