কেন স্কটিশ মিষ্টি আর চকলেট মজুদ করছে ইরাকিরা?

ছবির উৎস, FARHAD HASEB
স্কটল্যান্ডের একজন মিষ্টি প্রস্তুতকারক সম্প্রতি লক্ষ্য করেছেন যে, ইরাকে মিষ্টিজাতীয় চকলেট আর টফির চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। হঠাৎ করে সেখানে এতো চাহিদা বাড়ার কারণ কি?
উত্তর ইরাকে বেশিরভাগ দোকান এখন তাদের তাকগুলো মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় চকলেট দিয়ে ভরে ফেলার চেষ্টা করছে।
কারণ ইসলাম ধর্মের অন্যতম বড় উৎসব ঈদ উল আযহা এগিয়ে আসছে, যেটি ব্যবসার জন্যেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়।
ইরাকের কুর্দিস্তানে, চারদিনের এই উৎসব শুরু হবে রবিবার থেকে, যে উৎসবে মিষ্টি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ।
সুলেইমানিয়ার ব্যবসায়ী ফরহাদ হাসিব বলেছেন, ''আমাদের সংস্কৃতি অনুযায়ী, যখন অতিথিরা বাসায় বেড়াতে আসবেন, তাদের উপহার দেয়ার জন্য সবাই মিষ্টিজাতীয় জিনিসপত্র ঘরে সংগ্রহ করে রাখেন। ''
''কুর্দিস্তানের মানুষজনের মধ্যে টফি অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিশেষ করে রমযান এবং ঈদের সময়ে।''
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, FARHAD HASEB
সুতরাং পুরো কুর্দিস্তান জুড়ে পরিবারগুলো নানাজাতীয় মিষ্টি ঘরে জড়ো করছেন।
আর তার মধ্যে পছন্দের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে ২৬০০ মাইল দূরে তৈরি হওয়া স্কটল্যান্ডের টফি ও মিষ্টিজাতীয় চকলেটগুলো।
গ্রীননক ভিত্তিক বেকারি ব্যবসায়ী গোল্ডেন ক্যাসকেট, যিনি মিলিয়নস ব্রান্ডের জন্য বিখ্যাত, মি. হাসিবের সরবরাহকারীদের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি অন্যতম।
বেশ কয়েক বছর আগে একটি কনফেকশনারি ব্যবসা মেলায় এই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ হয় ইরাকের ব্যবসায়ী ফরহাদ হাসিবের।
এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির হালাল সনদ দেয়া মিষ্টি, চকলেট আর নানা টফির চাহিদা প্রতিবছর বাড়ছেই।
ইরাক হচ্ছে এখন গোল্ডেন ক্যাসকেটের জন্য আমেরিকা আর আয়ারল্যান্ডের পরে বিদেশের তৃতীয় বড় মার্কেট।
পারিবারিক মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি সপ্তাহে ৭০টন টফি, মিষ্টি, চকলেট এবং নানা জাতীয় পণ্য তৈরি করছে।
শুধুমাত্র এই বছরে এই প্রতিষ্ঠানটি ৬০ টন নানাজাতীয় পণ্য ইরাকে পাঠিয়েছে।

ছবির উৎস, FARHAD HASEB
সুতরাং ইরাকের কুর্দিস্তানে স্কটল্যান্ডের টফি এতো জনপ্রিয় ওঠার কারণ কি?
''আমাদের সংস্কৃতিতে একলেয়ার ও মাখনের টফি অত্যন্ত জনপ্রিয়'' বলছেন মি. হাসিব।
''আমরা বেলজিয়াম এবং পোল্যান্ড থেকেও কিনে থাকি, কিন্তু স্কটিশ টফি হচ্ছে সবার সেরা-এটা অনেক বেশি স্বাদের। প্রতিবছর আমরা অনেক বেশি পরিমাণে এগুলো বিক্রি করছি।''
মি. হাসিবের কোম্পানি আর্ক গোল্ডেন প্রতিবছর ২০০ টনের বেশি টফি আর চকলেট আমদানি করে থাকে। এ বছর সেই আমদানির পরিমাণ আরো বাড়াতে হয়েছে।
ফলে ইরাকি কোম্পানিগুলোর চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক স্কটিশ কোম্পানিকে নিজেদের উৎপাদন ব্যবস্থাতেও সমন্বয় করতে হচ্ছে।
যেমন শুধুমাত্র ইরাকি চাহিদা মেটানোর জন্য একটি কোম্পানি নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করে চকলেট আর মিষ্টিজাতীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়িয়েছে।

ইরাকি বাজারের জন্য মোড়কের দিকেও বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে এসব কোম্পানি।
বিক্রয় ব্যবস্থাপক স্টুর্ট রে ব্যাখ্যা করে বলছিলেন, ''প্রতিটি টফি বা চকলেটের জার অবশ্যই সোনালি রঙের প্যাকেট করা থাকতে হবে এবং সেখানে অবশ্য। লেখা থাকবে যে, এটা যুক্তরাজ্যে তৈরি হয়েছে।''
''ইরাকের কুর্দিশ বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা অনেক।''
গোল্ডেন ক্যাসকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রফোর্ড রে মনে করেন, ইরাক এবং এর আশেপাশের এলাকায় তাদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলছেন, '' গত নভেম্বর মাসে দুবাইয়ে আমরা একটা প্রদর্শনী করেছি-এটা আসলে উঠতি একটা বাজার, যেখানে আমরা প্রবেশ করতে চাই এবং বেশ ভালো পরিমাণে রপ্তানি করতে চাই।''
নতুন বাজারের এই সম্ভাবনা যুক্তরাজ্যের চকলেট ও টফি নির্মাতা অনেক কোম্পানিকে আশান্বিত করে তুলেছে, কারণ গত ইদানীং সেখানে এ জাতীয় পণ্যের বাজার একই রকম রয়েছে।








