বাংলাদেশ ক্রিকেট: ভেট্টোরি-ল্যাঙ্গাভেল্টের কোচিং অভিজ্ঞতা কী?

ছবির উৎস, Hannah Peters
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিন বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি।
৪০ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন।
ভেট্টোরি খন্ডকালীন কোচ হলেও দু'বছরের মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেস বোলার শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট।
ক্রিকেট বোর্ড বলছে, দুজনের সাথেই চুক্তি হয়েছে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট পুরোটা সময় জুড়ে কাজ করলেও ভেট্টোরির কাজ হবে খন্ডকালীন।
কর্মকর্তারা বলছেন, ভেট্টোরি মূলত কাজ করবেন চলতি বছরের ভারত সফর, এশিয়া কাপ ও ২০২০ সালের নিউজিল্যান্ড সফর এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে। এজন্যে তিনি বাংলাদেশের স্পিন বোলারদের মোট ১০০ দিন সময় দেবেন। নভেম্বরে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরের আগে কাজ শুরু করবেন ভেট্টোরি।
ক্রিকেটের আরো খবর:
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এবছরের বিশ্বকাপের পর কোর্টনি ওয়ালশ ও সুনীল যোশীর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এই দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিল ম্যাকেঞ্জির চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে।
ভেট্টোরি ও ল্যাঙ্গাভেল্টের কোচিং অভিজ্ঞতা কেমন?
ভেট্টোরি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক থাকার সময়েই নির্বাচকের দায়িত্বও পালন করেন।
খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হওয়ার আগেই ২০১৪ সালে তিনি দায়িত্ব পান আইপিএল দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কোচ হিসেবে।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যান ভেট্টোরি।
সব ধরনের ক্রিকেটে তিনি মোট ৭০৫টি উইকেট নিয়েছেন।
ভেট্টোরি কোচ হিসেবে কাজ শুরু শুরু করেন অবসর নেয়ার সাথে সাথেই। অস্ট্রেলিয়ান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ বিগ ব্যাশের দল ব্রিসবেন হিটের কোচের দায়িত্ব নেন তিনি।
২০১৫ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের তরুণ স্পিনারদের নিয়ে কাজ করেন তিনি। ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেন মিডলসেক্স টি-টোয়েন্টি দলের।

ছবির উৎস, Gallo Images
বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব ঘোষণার আগে ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম ফিনিক্স দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ভেট্টোরি।
অন্যদিকে, ল্যাঙ্গাভেল্টের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ৯ বছরের।
দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে দলের হয়ে ৭২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। টেস্ট খেলেছেন ৬টি ও টি-টোয়েন্টি ৯টি।
তবে ইয়র্কার ও রিভার্স সুইংয়ের কারণে ল্যাঙ্গাভেল্ট ডেথ-ওভারে ভালো বল করার সুনাম অর্জন করেন সেসময়।
২০১০ সালে শেষ হয় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। এর পরে ফ্র্যাঞ্চাইজ টি-টোয়েন্টি লিগগুলোয় খেলেছেন ল্যাঙ্গাভেল্ট।
২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের বোলিং কোচ।
বিশ্লেষকরা কী বলছেন?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্টের ন্যাশনাল ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিম, যার অধীনে বাংলাদেশের জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটার উঠে এসেছে, বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, "কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকা খুব জরুরি, বিশেষত আন্তর্জাতিক মানের কোনো দল তৈরি করতে গেলে।"
"খুব ভালো মানের খেলোয়াড় যে ভালো কোচ হবেন সেটা বলা যাবে না, তবে ভেট্টোরি খুব ভালো ক্রিকেট বোঝে, সে ভালো প্লেয়ার কি না সেটা এখানে বিবেচ্য হবে না।"
মি: ফাহিমের মতে, ল্যাঙ্গাভেল্টের কোচিং অভিজ্ঞতাও ভালো, "যেখানে কাজ করেছেন সেখানেই তিনি সফল হয়েছেন।"
"ল্যাঙ্গাভেল্ট খুব কঠিন পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠেছে, তাই আমাদের এমন কোচ প্রয়োজন হয় যারা পরিশ্রম করতে জানেন।"
তবে ভিন্ন ভিন্ন কোচিং স্টাফ, যেমন বোলিং কোচ, ব্যাটিং কোচ, ফিল্ডিং কোচ- এর ফলে কি খেলোয়াড়দের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে?
"বোর্ডের তরফ থেকে যারা দায়িত্ব পালন করেন তাদের দায়িত্ব এটা দেখার, এটা হেড কোচ দেখবেন, এটা না করলে বড় বড় নাম বা বড় কোচ এনেও লাভ হবে না," বলছিলেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক শাহরিয়ার নাফিস বলছেন, "এরা যেহেতু পেশাদার কোচ তাই ক্রিকেটারদের সাথে তাদের যোগাযোগের কোন সমস্যা হবে না। তাদের ক্রিকেট ইতিহাস দেখেই বোর্ড তাদেরকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।"








