অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুম্বাই, নিহত অন্তত ২১

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
- Published
গত চব্বিশ ঘন্টার অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, বৃষ্টিজনিত নানা দুর্ঘটনায় শহরে অন্তত ২১জন মারা গেছেন।
এর মধ্যে শহরতলির মালাড অঞ্চলে একটি বস্তিতে দেওয়াল ধসেই মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের, জখম হয়েছেন আরও অনেকে।
মুম্বাইতে এদিন সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে, জল জমে রয়েছে বহু রাস্তায়।
শহরের 'লাইফলাইন' বলে পরিচিত যে লোকাল ট্রেন সার্ভিস বা শহরতলির ট্রেন পরিষেবা, সেটাও প্রায় বন্ধ।
অন্য দিকে শতাধিক ফ্লাইট হয় বাতিল - নয় তো অন্য গন্তব্যে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
বস্তুত মুম্বাই ও তার আশেপাশে গত চব্বিশ ঘন্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, ২০০৫ সালে সেখানে ভয়াবহ ও বিধ্বংসী বন্যার পর তা আর কখনও হয়নি।
এদিন ভোররাতে উত্তর শহরতলির মালাড ইস্টে টিলার নিচে একটি বস্তির ওপর কম্পাউন্ড ওয়াল ধসে পড়লে বহু লোক হতাহত হয়, দশ বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
বস্তিবাসীরা বলছিলেন, "ওই দেওয়াল ঘেঁষে আগে একটা নালা ছিল, কিন্তু সেটাও এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নালা দিয়ে জল বেরোতে না-পেরে ওই জলের ধাক্কাতেই দেওয়াল ধসে পড়েছে।"
সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানাচ্ছেন তারা। নিহতদের পরিবারের জন্য মহারাষ্ট্র সরকার এককালীন ৫ লক্ষ রুপি আর্থিক সহায়তাও ঘোষণা করেছে।
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
মুম্বাইয়ের কাছে থানে-তেও একটি স্কুলবাড়ির দেওয়াল ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র তিন বছরের একটি শিশুও ছিল। সেখানেও স্থানীয় বাসিন্দারা যথারীতি ক্ষুব্ধ।
মালাডের আহত বস্তিবাসীদের হাসপাতালে দেখে আসার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিস জানান, নজিরবিহীন বৃষ্টিই আসলে প্রশাসনকে বেসামাল করে দিয়েছে।
তিনি বলছিলেন, "গত রাতে মুম্বাই জুড়ে খুব বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে - কোথাও কোথাও চারশো মিলিমিটারেরও বেশি। মালাডে দেওয়াল ধসে-পড়া সহ নানা দুর্ঘটনা হয়েছে এই কারণেই।"
"মুম্বাই বিমানবন্দরের মূল রানওয়ে থেকে একটি বিমান ছিটকে পড়ায় সেটিও বন্ধ।"
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

ছবির উৎস, Getty Images
"ট্রেনলাইন জলের নিচে ডুবে যাওয়ায় সেন্ট্রাল লাইন এখনও অচল, তবে ওয়েস্টার্ন লাইন সার্ভিস ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে।"
এদিকে গতকাল বেশি রাতে শহরের একটি জলমগ্ন আন্ডারপাসে তাদের গাড়ি আটকে যাওয়ার পর গাড়ির ভেতরেই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, কারণ আপনা থেকে জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তারা আর গাড়ির দরজা খুলতেই পারেননি।
রাতের ডিউটি সেরে বহু মানুষ এদিন আর নিজেদের বাড়িতেও ফিরতে পারেননি।বহু শ্রমজীবী মহিলা যেমন দাদার স্টেশনেই আটকে পড়েছেন।
কেউ কেউ আবার ছুটির দিনে ফাঁকা রাস্তার সুযোগ নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি নিজের কাজের জায়গায় চলে এসেছেন, যেমনটা বীনা পারুলকর বলছিলেন বিবিসি মারাঠিকে।

ছবির উৎস, Getty Images
তার কথায়, "ওয়েস্টার্ন এক্সেপ্রেসওয়েতে অন্যদিনের দুঘন্টার রাস্তা আজ মাত্র কুড়ি মিনিটে চলে এলেও অফিসে অবশ্য সহজে ঢুকতে পারিনি, কারণ সেই রাস্তাটা ছিল এক মানুষ জলের নিচে।"
যারা রোজ উবার বা ওলার মতো অ্যাপে ক্যাব বুক করে অফিসে আসেন ভোগান্তিতে পড়েছেন তারাও।
যারা আজ ছুটি পাননি, সেই বেসরকারি খাতের কর্মীরা তবু বলছেন, শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের বিখ্যাত 'স্পিরিট'ই আজ জিতেছে।
মনসুন বা মৌশুমি বৃষ্টির মাসগুলোতে মুম্বাই প্রায় প্রতিবারই বৃষ্টিতে নাকাল হয়ে থাকে, কিন্তু এবার মনসুনের প্রায় গোড়ার দিকেই ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী যেভাবে বিপর্যস্ত তা প্রায় গত দেড় দশকে হয়নি।








