ছবিতে দেখুন সাতজন অন্ধ ব্যক্তির পর্বত জয়ের গল্প

Published

অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও পাহাড় বেয়ে ওঠার গল্প শুনেছেন কখনও। তাও আবার ছোটখাট কোন পাহাড় নয় বরং প্রায় উনিশ হাজার ফুট উঁচু কিলিমানজারো পর্বত। এমন অসম্ভব বিষয়টি সম্ভব হয়েছিল ১৯৬২ সালে। সেই অন্ধ পবর্তারোহীদের রোমাঞ্চকর গল্প বলা হয়েছে ছবিতে ছবিতে।

মাউন্ট কিলিমানজারো
ছবির ক্যাপশান, ১৯৬২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি, একটি অভিযাত্রী দল বের হয়েছিল তানজানিয়ায় মাউন্ট কিলিমানজারো জয়ের লক্ষ্যে। এই দলটির বেশিরভাগই ছিলেন অন্ধ। আর হাতে গোনা কয়েকজন ছিলেন তাদের পথ দেখানোর সঙ্গি।
মাউন্ট কিলিমানজারো
ছবির ক্যাপশান, তানজানিয়ার ১৮,৮৬৫ ফুট উঁচু মাউন্ট কিলিমানজারো বেয়ে সবোর্চ্চ শৃঙ্গে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন সাত জন দৃষ্টিহীন এবং তাদের সহায়তায় থাকা ৪জন। তীব্র ঠান্ডা আর ঝড়ো বাতাসের মধ্যে শেষ ৩০০০ ফুট উঠতে তারা সময় নিয়েছিল প্রায় নয় ঘণ্টার মতো।
মাউন্ট কিলিমানজারো
ছবির ক্যাপশান, শুরুতে বেশ কয়েকজন অভিযানে অংশ নিলেও পুরো অভিযান সম্পন্ন করতে পেরেছিলের সাত জন অন্ধ ব্যক্তি। অষ্টম জন শেষ মুহুর্তে হাল ছেড়ে দেন।
মাউন্ট কিলিমানজারো
ছবির ক্যাপশান, দাতব্য সংস্থা সাইট সেভার্সের প্রতিষ্ঠাতা জন উইলসন সর্বপ্রথম এই বিষয়টিকে সামনে আনেন। তিনি চেয়েছেন আফ্রিকার অন্ধদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে। তার মতে প্রশিক্ষিত অন্ধ মানুষ লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মানসিক ও শারীরিক বল রাখে।
মাউন্ট কিলিমানজারো
ছবির ক্যাপশান, কেনিয়া, উগান্ডা এবং তানজানিয়া থেকে সবচেয়ে ভাল ট্রেকারদের বেছে নেয়া হয়। পরে তাদের এই পর্বতারোহনের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে দড়ি আরোহণ, রাতের ক্যাম্পিং এবং পর্বতারোহনের সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করার দক্ষতা অর্জন ইত্যাদি।
মাউন্ট কিলিমানজারো
ছবির ক্যাপশান, দীর্ঘ যাত্রায় তারা সবাই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। কারও পা কেটে গিয়েছিল। কারও তীব্র মাথাব্যাথা। আবার কারও কষ্ট হচ্ছিল নি:শ্বাস নিতে। তবুও এতো বড় অর্জনে অনেকটাই হালকা বোধ করছিলেন তারা।
মাউন্ট কিলিমানজারো
ছবির ক্যাপশান, সে সময় আফ্রিকার প্রতিটি সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম জুড়ে ছিল এই অন্ধ মানুষগুলোর পাহাড় জয়ের খবরটি। সেখানে প্রত্যেক পর্বতারোহীদের নায়ক আখ্যা দেয়া হয়।
মাউন্ট কিলিমানজারো
ছবির ক্যাপশান, তাদের এই অবিস্মরণীয় জয়ের প্রতি সম্মান জানাতে সবোর্চ্চ শৃঙ্গ ঘিরে চক্রাকারে ফক্কার F27 ফ্রেন্ডশিপ বিমান ওড়ানো হয়। এছাড়া উগান্ডান জাতীয় জাদুঘরে গেলে এখনও দেখা মিলবে ওই পর্বতারোহনের সময় ছিঁড়ে ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া তিন অভিযাত্রীর পোশাক এবং বুট।