ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে তৃতীয় দিনের খবরের আপডট আজ এখানেই শেষ হচ্ছে। সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
কিয়েভ বলছে রাজধানীতে 'অন্তর্ঘাতী বাহিনী' সক্রিয় হয়েছে, কারফিউ জারি সোমবার সকাল পর্যন্ত
রাশিয়ার সৈন্যরা শুক্রবার কিয়েভে পৌঁছনর পর শনিবার রাজধানীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে। শহরের প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভাঙতে তীব্র লড়াই চলছে। তৃতীয় দিনে সর্বশেষ কী জানা যাচ্ছে?
সরাসরি কভারেজ
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবশেষ প্রধান খবর, রুশ অন্তর্ঘাতী গ্রুপগুলো রাজধানী কিয়েভের ভেতরে ঢুকে পড়েছে
- কিয়েভের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের সেনাবাহিনী শহরের ওপর চালানো সবশেষ রুশ আক্রমণ প্রতিহত করেছে। তবে রুশ অন্তর্ঘাতী গ্রুপগুলো রাজধানীর ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
- রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে তারা দক্ষিণ ইউক্রেনের শহর মেলিতোপোল দখল করেছে।
- অন্যদিকে রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলের নেতা রমজান কাদিরভ বলেছেন তিনি ইউক্রেনে তার যোদ্ধাদের পাঠিয়েছেন, যারা রুশ সৈন্যদের সাথে হাত মিলিয়ে যুদ্ধ করবে।
- রুশ সৈন্যদের অগ্রাভিযান ঠেকাতে কিয়েভ শহরের উপকণ্ঠে বিভিন্ন স্থানে ইউক্রেনীয় সেনা ও বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবীরা অবস্থান নিয়েছে।
- কিয়েভ শহরে বিকেল পাঁচটা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
- প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ভিডিও বার্তায় বলছেন তার বাহিনী এখনো কিয়েভ এবং অন্যান্য প্রধান শহরগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে।
- জার্মানি বলছে, তারা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ইউক্রেনের কাছে জার্মানিতে তৈরি প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে নিয়েছে।
- ব্রিটেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এ পর্যন্ত যুদ্ধে প্রায় ২০০ ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছে যার মধ্যে তিনটি শিশুও আছে। আহত হয়েছে ১০০০ জনেরও বেশি।
- জাতিসংঘ বলছে, গত ৪৮ঘন্টায় ১ লক্ষ ২০ হাজার লোক। ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে।
- কিয়েভের শহরে যে বহুতল এ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি মিসাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবার ছবি এর আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে – তাতে দুজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তৃতীয় দিনের যুদ্ধের কিছু ছবি:
ইউক্রেনকে মারণাত্মক অস্ত্র সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল জার্মানি
জার্মানিতে তৈরি প্রাণঘাতী অস্ত্র তৃতীয় কোন দেশের ইউক্রেনে সরবরাহের ওপর জার্মানির যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, জার্মানি তা তুলে নিয়েছে।
এই পদক্ষেপের অর্থ হল নেদারল্যান্ডস এখন জার্মানিতে তৈরি রকেট চালিত গ্রেনেড উৎক্ষেপক ইউক্রেনে পাঠাতে পারবে।
জার্মানির অস্ত্র নীতিতে এটা বড়ধরনের একটা পরিবর্তন এবং এর ফলে ইউক্রেনে ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক সহায়তা বাড়বে। এসব দেশের কাছে যেসব সমরাস্ত্রে আছে, তার বেশিরভাগই অংশত জার্মানিতে তৈরি। কাজেই এসব অস্ত্র কোথায় ব্যবহার হবে ও কোথায় রপ্তানি হবে, সে বিষয়ে জার্মানি মত দিতে পারবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জার্মানির ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দেয়া প্রত্যাখ্যান করার পেছনে এই নীতির কথাই বারবার উল্লেখ করেছিলেন জার্মান চান্সেলার ওলাফ শোলৎজ।
রাশিয়ার ‘ডার্টি বোমা’ নিয়ে ছড়ানো তথ্য ভুয়া: ইউক্রেন
ইউক্রেন সরকার রাশিয়ান এলাকায় ‘ডার্টি বোমা’র বিস্ফোরণ ঘটাতে চলেছে এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা।
ডার্টি বোমা হল এমন ধরনের বোমা যেখানে সাধারণ বিস্ফোরকের সাথে তেজস্ক্রিয় পদার্থ মেশানো থাকে এবং এর বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ মারা যেতে পারে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে এই সম্ভাবনা নিয়ে কথাবার্তা চলছে। শুক্রবার রাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া প্রতিনিধিদের বলেন: “আমরা চাই না ইউক্রেন ‘ডার্টি বোমা’ তৈরি করুক।”
এক টু্ইট বার্তায় মি. কুলেবা এই সম্ভাবনার কথাকে বিদ্রূপ করে বলেন: “রাশিয়ার প্রচারণা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।”
ইতিহাসে ইউক্রেন একমাত্র রাষ্ট্র যারা স্বেচ্ছায় পারমাণবিক অস্ত্র-মুক্ত দেশ হয়েছে। ১৯৯৪ সালে ইউক্রেন রাশিয়া এবং পশ্চিমের দেশগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিনিমেয় প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমার সম্ভার নষ্ট করে ফেলে।
কিয়েভে সোমবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি
প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে রাজধানী কিয়েভ শহর জুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে, যা সোমবার সকাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
"যেসব নাগরিককে এসময় রাস্তায় দেখা যাবে, তাদের শত্রু পক্ষের অন্তর্ঘাতী বাহিনীর সদস্য হিসাবে বিবেচনা করা হবে," জানিয়েছে কিয়েভের কর্তৃপক্ষ।
এর আগে একটি ঘোষণায় জানানো হয় কারিফউ জারি থাকবে প্রতি দিন স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত। মেয়রের দপ্তর থেকে এরপর কারফিউ-এর হালের এই মেয়াদ ব্যাখ্যা করা হয়।
বলা হয় যে কারফিউ বর্তমানে বলবৎ আছে, তা সোমবার স্থানীয় সময় সকাল আটটার আগে উঠবে না।
ইউক্রেনে রুশ আক্রমণে মদত যোগাবে চেচেন যোদ্ধারা
রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলের নেতা বলেছেন তিনি ইউক্রেনে তার যোদ্ধাদের পাঠিয়েছেন, যারা রুশ সৈন্যদের সাথে হাত মিলিয়ে যুদ্ধ করবে।
অনলাইনে পোস্ট করা এক ভিডিওতে রামযান কাদিরভ বলেন চেচেন বাহিনী এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের একটি সামরিক স্থাপনা সফলভাবে দখল করেছে। ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় এই প্রজাতন্ত্রের নেতা রুশ প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একজন মিত্র।
রাশিয়ার আক্রমণকে সমর্থন করে মিঃ কাদিরভ বলেছেন, ইউক্রেনের ওপর হামলা চালানোর যে সিদ্ধান্ত মিঃ পুতিন নিয়েছেন তা মস্কোর শত্রুদের ইউক্রেনের মাটি ব্যবহার করে রাশিয়ার ওপর হামলা চালানোর সুযোগ প্রতিহত করবে।
মিঃ কাদিরভের অনুগত চেচেন যোদ্ধাদের মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপারে দুর্নাম রয়েছে।
রাশিয়ায় টুইটারকে ব্লক করা হয়েছে বলে খবর, রুশ ব্যবহারকারীদের জন্য টুইটারে ঢোকা ব্লক করে দেয়া হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছে ইন্টারনেট কোম্পানি নেটব্লকস ।
রুশ ব্যবহারকারীদের জন্য টুইটারে ঢোকা ব্লক করে দেয়া হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছে ইন্টারনেট কোম্পানি নেটব্লকস ।
শনিবার সকাল থেকে রাশিয়ায় টুইটারে ঢোকার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে।
ইউক্রেনে রুশ অভিযানের নানা নাটকীয় ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছিল এবং এগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছিল।
গত কিছু দিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং রুশ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘাত দেখা চলছিল।
রাশিয়া বলছে, ফেসবুক রাশিয়ার সরকারি ও ক্রেমলিন সমর্থক চ্যানেলগুলোর ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল তা তুলে নেবার জন্য তারা দাবি জানালেও মেটা কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করছিল।
রাশিয়া ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে যে তারা “রুশ নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতাকে লংঘন করছে,” এবং তাদেরকে ব্লক করারও হুমকি দেয়।
এখন পর্যন্ত অবশ্য রাশিয়ায় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম স্বাভাবিকভাবেই দেখা যাচ্ছে।
ফ্রান্স ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাচ্ছে
ফ্রান্স থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন অংশে রুশ সৈন্যদের অগ্রাভিযানের বিরুদ্ধে লড়তে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে পশ্চিমের দেশগুলো।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, শনিবার সকালে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সাথে কথা বলেছেন।
“যুদ্ধ বিরোধী জোট কাজ করছে!” মি. জেলেনস্কি টুইট করেন।
শনিবার মি. ম্যাক্রঁ নিজের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন সামাজিক মাধ্যমে, যেখানে তিনি ঘোষণা করেছেন: “এই যুদ্ধ লম্বা সময় গড়াবে, আমাদের এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে!”
ব্রেকিং, রুশ বাহিনী প্রথম 'গুরুত্বপূর্ণ' একটি শহরের দখল নিয়েছে
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে তারা দক্ষিণের একটি শহর মেলিতোপোল দখল করেছে।
মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে রুশ সংবাদমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্স এবং স্পুটনিক জানাচ্ছে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে জাপোরিঝঝিয়া এলাকার মেলিতোপোল শহরের নিয়ন্ত্রণ এখন রাশিয়ার হাতে।
মেলিতোপোল ইউক্রেনের মারিয়োপোল বন্দরের কাছে মাঝারি আয়তনের একটি শহর। সেখানে দেড় লাখ মানুষের বাস।
রয়টার্স সংবাদ সংস্থা বলছে, বৃহস্পতিবার রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করার পর এটাই প্রথম একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বসতির গুরুত্বপূর্ণ শহর যেটির নিয়ন্ত্রণ রাশিয়া নিল।
ইউক্রেনের কতটা এখন রাশিয়া নিয়ন্ত্রণে?
এখন পর্যন্ত দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক ছাড়া ইউক্রেনের অন্য যে জায়গাগুলো রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানা যাচ্ছে সেগুলো হলো – রাজধানী কিয়েভের উত্তরে বেলারুস সীমান্তবর্তী কিছু অঞ্চল, খারকিভ শহরের আশপাশের অঞ্চল এবং দক্ষিণ দিকে ক্রাইমিয়ার উত্তরের কিছু অঞ্চল।
এর বাইরে ইউক্রেনের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে এখনো লড়াই চলছে বা সেখানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এখনও বজায় আছে।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলছেন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার রুশ পরিকল্পনা বানচাল হয়েছে
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি বলেছেন, রাতের বেলা তাকে গ্রেফতার করে তার জায়গায় রাশিয়ার নিজের পছন্দের নেতাকে বসিয়ে দেবার রুশ পরিকল্পনা তার দেশের সেনাবাহিনী বানচাল করে দিয়েছে।
“তাদের পরিকল্পনা আমরা ভেস্তে দিয়েছি,” এক ভিডিও বার্তায় মি. জেলেনস্কি বলেন।
রাজধানী কিয়েভ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর এখনও তার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বলেন তিনি জানান।
ঐ ভিডিও বার্তায় সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর চাপ তৈরির জন্য তিনি রুশ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকি বলেছেন, তার বাহিনী রাশিয়ার সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
অনলাইনে পোস্ট করা এক ভিডিওতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি রাজধানী কিয়েভ ছেড়ে চলে গেছেন বলে যে গুজব রটেছে, সেটা তিনি দূর করতে চান।
তিনি বলেন, ইউক্রেনীয়রা তাদের দেশকে রক্ষায় যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
এর আগে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম জানায় যে ইউক্রেন থেকে মিঃ জেলেনস্কিকে সরিয়ে নেবার আমেরিকান প্রস্তাব ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট প্রত্যাখ্যান করেন।
মিঃ জেলেনস্কি বলেন: "লড়াই চলছে এখানে। আমার দরকার অস্ত্রশস্ত্র, চলে যাবার পথ নয়," একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবর দেয় অ্যাসোসিয়েটেড বার্তা সংস্থা।
কয়েক হাজার ভারতীয়কে ইউক্রেন থেকে ফেরাতে বিমান নেমেছে রোমানিয়ায়
ইউক্রেনে আটকা পড়ে কয়েক হাজার ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে নিতে একটি বিমান পাঠিয়েছে ভারত।
এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি শনিবার রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে অবতরণ করে।
ইতোমধ্যেই কয়েকশ' ভারতীয় ইউক্রেন থেকে সীমান্ত পার হয়ে রোমানিয়ায় গিয়ে পৌঁছেছে।
ইউক্রেনের আকাশে বেসরকারি বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় দিল্লি সরকার রোমনিয়ার বুখারেস্ট ও হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট থেকে ভারতীয়দের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ধারণা করা হয় ইউক্রেনে কুড়ি হাজারের মতো ভারতীয় রয়েছে যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।
কিয়েভের একটি আবাসিক ভবনে যখন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে
আজ সকালে কিয়েভের একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দেখা যাচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজে।
এই হামলায় হতাহতের কোন খবর নিশ্চিত করা হয়নি, তবে কর্মকর্তারা বলছেন রাতের বেলার হামলায় ৩৫ জন আহত হয়েছে।
এক লাখ ইউক্রেনীয় ইতোমধ্যেই পোল্যান্ডে ঢুকেছে
পোল্যান্ডের সীমান্ত রক্ষা সংস্থা জানাচ্ছে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে ইউক্রেন থেকে পালিয়ে পোল্যান্ডে যাওয়া মানুষের ঢল ক্রমশ বাড়ছে। ইতোমধ্যেই এক লাখ ইউক্রেনীয় পোল্যান্ডে ঢুকেছে বলে জানাচ্ছেন বিবিসির ওয়ারস সংবাদদাতা অ্যাডাম ইস্টন।
“শরণার্থীর ঢল বাড়ছে,” জানাচ্ছেন আনা মিশালস্কা।
তিনি বলছেন, শনিবার ভোর ছয়টা (জিএমটি) থেকে বিশ হাজারের ওপর মানুষ পোল্যান্ডে পৌঁছেছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে যারা পালাচ্ছেন, তাদের সকলকে আশ্রয় দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পোল্যান্ড সরকার। যাদের কোথাও যাবার জায়গা নেই, তাদের অস্থায়ী বাসস্থানের আশ্বাসও তারা দিয়েছে।
ইউক্রেনের সাথে সীমান্ত পারাপারের আটটি চৌকির সবগুলো দিয়ে শরণার্থীদের পায়ে হেঁটে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়েছে, কারণ সীমান্ত চৌকিগুলোতে গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে। এর আগে পায়ে হেঁটে আসা মানুষদের শুধু একটি চৌকি, মেডিইকা দিয়ে পার হবার অনুমতি দেয়া হচ্ছিল।
শরণার্থীদের জন্য নয়টি অভ্যর্থনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে- যেখানে তাদের খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা এবং তথ্য দেয়া হচ্ছে। সীমান্ত পারাপার চৌকিগুলোর কাছে স্কুল এবং জিমগুলোতে এবং প্রজেমিসল রেল স্টেশনে এই অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলো খোলা হয়েছে।
পশ্চিমের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রয়োজন নেই- মেদভেদিয়েভ
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদিয়েভ বলছেন পশ্চিমের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার প্রয়োজন মস্কোর নেই।
পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
ভ্লাদিমির পুতিন ২০২০ সালে মিঃ মেদভেদিয়েভকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। তিনি এখন মস্কোর নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি সভাপতি হিসাবে কাজ করছেন। তিনি রাশিয়ার সামাজিক মাধ্যম নেটওয়ার্ক ভিকে-তে লিখেছেন- “দূতাবাসগুলোতে এখন তালা ঝুলিয়ে দেবার সময় হয়েছে”।
তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মস্কো ইউক্রেনের ওপর তাদের আক্রমণ অব্যাহত রাখবে। তবে মি. পুতিনের লক্ষ্য আসলে কী তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কাউন্সিল অফ ইউরোপ বা ইউরোপীয় পরিষদ থেকে রাশিয়াকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের নিন্দা করেছেন মিঃ মেদভেদিয়েভ। তবে তিনি বলেছেন এর একটা ভাল দিক হল এর ফলে রাশিয়া তার আইনে মৃত্যুদণ্ড আবার ফিরিয়ে আনার সুযোগ পাবে।
"রুশ সৈন্যদের মৃতদেহ সরিয়ে নিতে" রেডক্রসকে ইউক্রেনের আহ্বান
ইউক্রেন বলছে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত যে “হাজার হাজার” রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে - আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের উচিত সেসব মৃতদেহগুলো সরিয়ে নিয়ে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো।
ইউক্রেনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেসচুক টেলিভিশনে প্রচারিত এক ব্রিফিংএ এ কথা বলেন।
এর আগে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ফেসবুকে জানায় যে যুদ্ধে ৩,৫০০-রও বেশি রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে । তবে রাশিয়া এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের কথা স্বীকার করেনি।
এখন পর্যন্ত ১৯৮জন ইউক্রেনীয় নিহত- স্বাস্থ্য মন্ত্রী
ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ভিক্টর লিয়াশকো বলেছেন রুশ হামলায় তিনজন শিশুসহ এখন পর্যন্ত মোট ১৯৮জন ইউক্রেনীয় মারা গেছেন।
মন্ত্রী তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন আরও ১,১১৫ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৩জন শিশু।
রুশ তেলের ওপর বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ডাক দিয়েছে কিয়েভ
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বের দেশগুলোকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছেন।
দিমিত্রি কুলেবা এই টুইট বার্তায় বলেছেন: “বিশ্বের কাছে আমার দাবি – রাশিয়াকে পুরো একঘরে করুন, রুশ রাষ্ট্রদূতদের সকল দেশ থেকে বহিষ্কার করুন, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিন, তাদের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিন। রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধীদের থামান!”
এখনও পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য খবর, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের সবশেষ কিছু খবরাখবর:
গতরাতে কিয়েভ শহরে এবং তার আশপাশে যুদ্ধ হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, কিয়েভের একটি প্রধান সড়কে তাদের একটি ঘাঁটি থেকে তারা রুশ বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে।
কিয়েভে গোলার আঘাতে একটি আবাসিক এ্যাপার্টমেন্ট ভবনের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার সকালে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি কিয়েভ শহরের একটি স্থান থেকে একটি ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করেন। এতে তিনি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করার আদেশ দিয়েছেন বলে যে খবর বেরিয়েছে তা অস্বীকার করেন, এবং বলেন যে তার দেশ নিজেকে রক্ষার জন্য লড়ে যাবে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের বাহিনী দক্ষিণপূর্ব ইউক্রেনের মেলিটপুল শহরটির নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে। তবে একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী এ দাবি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী জেমন হিপি বলছেন, ব্রিটেন এবং অন্য আরো ২৫টি দেশ ইউক্রেনকে অস্ত্র দিতে সম্মত হয়েছে।
যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৯৮ জন ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে – যার মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছে ১০০০ জনেরও বেশি।
মার্চ মাসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং পর্বের একটি ফুটবল ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পোল্যান্ড। পোলিশ ফুটবল ফেডারেশন বলছে, এখন পদক্ষেপ নেবার সময় এসেছে।
জাতিসংঘ বলছে, গত ৪৮ ঘন্টায় ১০০,০০০ লোক ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে।
হামলার তৃতীয় দিনে সবশেষ আপডেট জানাতে বিবিসি বাংলার সরাসরি আয়োজনে আপনাকে স্বাগতম।। রিপোর্ট করছেন মানসী বড়ুয়া ও পুলক গুপ্ত।