আমরা আজ বিশ বছর আগের তালেবান নই: সংবাদ সম্মেলনে তালেবান মুখপাত্র

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর তাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তাদের শাসনের অধীনে আফগানিস্তান কেমন হবে তার ধারণা দিয়েছেন। কাবুল বিমানবন্দরে গতকালের চরম বিশৃঙ্খলার পর আজ বিমানবন্দরে কাজ আবার চালু হয়েছে। সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসির লাইভ রিপোর্টিং:

সরাসরি কভারেজ

সায়েদুল ইসলাম and মানসী বড়ুয়া

  1. বিবিসি বাংলার লাইভ পেজ থেকে আজকের মত বিদায় নিচ্ছি মানসী বড়ুয়া। আফগান পরিস্থিতির সর্বশেষ জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার পাতায়: www.bbcbangla.com এ

  2. তালেবানের প্রথম সংবাদ সম্মেলন থেকে কী জানা গেল: সার সংক্ষেপ

    তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ

    ছবির উৎস, Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, কী বললেন তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ

    তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেবার পর তাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন।

    আপনি যদি আমাদের লাইভ পেজে এইমাত্র যোগ দিয়ে থাকেন তাহলে জেনে নিন তাদের মূল বক্তব্যগুলো কী ছিল:

    • তালেবান সরকার গঠনের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। “সব পক্ষ, সব গোষ্ঠী, সবার অন্তর্ভুক্তি আমরা নিশ্চিত করব, কাজ সম্পূর্ণ হলে আমরা সরকার ঘোষণা করব,” বলেছেন মি. মুজাহিদ।
    • তিনি বলেছেন, “নারীরা আমাদের সমাজে খুবই সক্রিয় ভূমিকা রাখবে” এবং তারা বাইরে কাজ করতে পারবে, সেটা হবে “আমাদের শরিয়া আইনের কাঠামোর মধ্যে,”। তিনি সেই কাজের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু ব্যাখ্যা করেননি।
    • যেসব চুক্তি-ভিত্তিক কর্মী বা দোভাষী বিদেশিদের হয়ে কাজ করেছিল, তাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মি. মুজাহিদ বলেছেন “কারোর বিরুদ্ধে কোনরকম প্রতিশোধ নেয়া হবে না” এবং তালেবান “আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও শান্তির কথা মাথায় রেখে সবাইকে ক্ষমা করেছে।”
    • তিনি বলেন তালেবান সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকে সম্মান প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং অঙ্গীকার করেছে “বেসরকারি মিডিয়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে।”
    • কিন্তু মি. মুজাহিদ সতর্ক করে দিয়েছেন যে “মিডিয়া আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারবে না।”
    • তালেবান শাসনের অধীনে আফগানিস্তান আল-কায়দা বা অন্য চরমপন্থী যোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে কিনা- এই ঝুঁকি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মি. মুজাহিদ বলেছেন যে “আফগানিস্তানের মাটি কারোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।”
    • তিনি আরও দাবি করেন যে তালেবান তাদের অগ্রযাত্রা “কাবুলের প্রবেশ দ্বারগুলোতে এসে থামানোর পরিকল্পনা করেছিল, যাতে ক্ষমতার হস্তান্তর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে,” কিন্তু তিনি বলেন পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়ায় “শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে” তারা কাবুলে ঢুকতে বাধ্য হন।
  3. প্রায় পুরো আফগানিস্তান তালেবানের নিয়ন্ত্রণে

    মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়ে কীভাবে বদলে গেছে আফগানিস্তানের মানচিত্র:

    আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ মানচিত্র
  4. ‘আমরা আজ বিশ বছর আগের তালেবান নই’

    তালেবানের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তাদের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন: “বিশ বছর আগেও আমাদের দেশ মুসলিম রাষ্ট্র ছিল। আজও আছে।”

    “কিন্তু অভিজ্ঞতা, পরিপক্কতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে বিশ বছর আগের তালেবানের সাথে আজকের তালেবানের বিশাল তফাত রয়েছে,” বলেন মি. মুজাহিদ।

    “আমরা এখন যেসব পদক্ষেপ নেব তার সাথে সেসময়কার তফাত রয়েছে। এটা বিবর্তনের ফসল।”

  5. আমাদের মাটিতে কোন বিদেশি সৈন্য থাকবে না: তালেবান

    জাবিউল্লাহ মুজাহিদ

    ছবির উৎস, Reuters

    “আফগানিস্তানের মাটি কারো বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে না,” বলেছেন তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

    আফগানিস্তান আল-কায়দা যোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠার ঝুঁকি আছে কিনা সাংবাদিকরা এ প্রশ্ন করলে মি. মুজাহিদ বলেন আফগানিস্তান কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হবে না।

    “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”

    তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অপহরণ ও হত্যার ঘটনা খবর প্রসঙ্গে তালেবানকে প্রশ্ন করা হলে তালেবান মুখপাত্র বলেন: “সারা দেশে পূর্ণ নিরাপত্তা বজায় রয়েছে।”

    “কেউ কাউকে অপহরণ করতে পারবে না। প্রত্যেকদিন আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করব।”

    তিনি বলেন, আমরা চাই না কেউ দেশ ছেড়ে যাক। “সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। কোনরকম শত্রুতা বা প্রতিশোধ নেয়া হবে না।”

    যারা বিদেশিদের জন্য অনুবাদকের কাজ করেছে বা বিদেশিদের সাথে চুক্তিতে কাজ করেছে তাদের প্রতি ভবিষ্যত আচরণ সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মি. মুজাহিদ বলেন: “কারোর প্রতি প্রতিশোধ নেয়া হবে না।”

    “যারা এদেশে বড় হয়ে উঠেছেন তারা এদেশেরই সন্তান। আমরা চাই না তারা চলে যাক। তারা আমাদের সম্পদ।”

    তিনি আরও বলেন: “কেউ কারোর বাসার দরজায় টোকা মেরে জিজ্ঞেস করবে না ‘আপনি কাদের সাথে কাজ করতেন?’”

    তিনি আশ্বাস দেন, তারা নিরাপদ থাকবে। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না, কাউকে হয়রানি করা হবে না।

  6. তালেবান: আমাদের কাঠামোর মধ্যে থেকে নারীরা কাজ করতে পারবেন

    তালেবান সংবাদ সম্মেলন

    ছবির উৎস, Reuters

    নারীর অধিকারের প্রশ্নে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন: “আমরা নারীদের বাইরে কাজ করার এবং পড়াশোনার অনুমতি দেব, তবে সেটা হতে হবে আমাদের কাঠামোর মধ্যে।”

    “আমাদের সমাজে নারীরা খুবই সক্রিয় থাকবেন, সেটা আমাদের কাঠামো ও ব্যবস্থার মধ্যে থেকে,” তিনি বলেন।

    “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে কারোর ক্ষতি করা হবে না।”

    মি. মুজাহিদ বলেন, “আমাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী চলার অধিকার আমাদের আছে। অন্য দেশের অন্য দৃষ্টিভঙ্গি, ভিন্ন নিয়ম, ভিন্ন বিধান থাকবে... আফগানদের মূল্যবোধের নিরীখে তাদের নিজস্ব আইন এবং বিধান আছে।”

    “শরিয়া আইনের অধীনে নারীর অধিকার রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,” তিনি বলেন।

    “নারীরা আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েকে আমরা এই আশ্বাস দিতে চাই যে নারীদের প্রতি কোন বৈষম্য করা হবে না,” জানান জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

  7. মিডিয়ায় ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী কিছুই প্রচার করা যাবে না: তালেবান

    তালেবান মুখপাত্র বলেছেন বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমকে তালেবান প্রশাসনের অধীনে কাজ করতে হবে।

    “আমি মিডিয়াকে আশ্বস্ত করতে চাই এই বলে যে, আমরা চাইব আমাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোর মধ্যে থেকে মিডিয়া কাজ করবে,” মি. মুজাহিদ বলেন।

    “বেসরকারি মিডিয়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে।”

    “মিডিয়ায় ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী কিছুই প্রচার করা যাবে না,” তিনি বলেন।

    মিডিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমাদের যেখানে ঘাটতি থাকবে, দেশের কল্যাণে সেই ঘাটতি আপনারা পূরণ করবেন।”

    “কিন্তু মিডিয়াকে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেয়া হবে না,” তিনি বলেন। “সংবাদমাধ্যম দেশ ও জাতির ঐক্যের লক্ষ্যে কাজ করবে।”

  8. 'সরকার গঠনের পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব দেশ কোন আইনে চলবে'

    “আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য আমরা সবাইকে ক্ষমা করেছি,” বলেছেন জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

    “আমাদের যোদ্ধা, আমাদের জনগণ, সব পক্ষ, সব উপদল, সবার অন্তর্ভুক্তি আমরা নিশ্চিত করব।”

    তিনি বলেন, “যুদ্ধে যারা প্রাণ হারিয়েছে, তারা মারা গেছে শত্রুপক্ষের হয়ে লড়াই করতে গিয়ে। তারা প্রাণ হারিয়েছে নিজেদের দোষে। আমরা মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে গোটা দেশ জয় করে নিয়েছি।”

    “সরকার গঠনের পর সব কিছু পরিষ্কার হবে,” তিনি জানান।

    “সরকার গঠনের পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব এবং দেশের জনগণকে জানাব দেশ কোন আইনে চলবে,” বলেন জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

    “আমি স্পষ্ট বলতে চাই সরকার গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের কাজ সম্পূর্ণ হলে আমরা এ বিষয়ে ঘোষণা দেব।”

    “দেশের সব ক’টি সীমান্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণে,” তিনি বলেছেন।

  9. গোটা জাতির জন্য এটা গর্বের মুহূর্ত: তালেবান

    তালেবানের প্রথম সংবাদ সম্মেলন

    আফগানিস্তানে তালেবান তাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন শুরু করেছেন।

    তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ ক্যামেরার সামনে প্রথমবারের মত কথা বলছেন: "বিশ বছরের সংগ্রামের পর আমরা (দেশকে) মুক্ত করেছি এবং বিদেশিদের বহিষ্কার করেছি"।

    "গোটা জাতির জন্য এটা গর্বের মুহূর্ত," তিনি বলেছেন।

    ''আফগানিস্তান যাতে একটা যুদ্ধ ক্ষেত্র বা সংঘাতের দেশ না হয় সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।"

    "আমাদের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছে, তাদের সবাইকে আমরা ক্ষমা করেছি। আমরা শত্রুতার অবসান চাই," তিনি বলেন।

    ''আমরা ঘরে ও বাইরে কোথাও কোন শত্রু চাই না," বলেন মি. মুজাহিদ। "কাবুলে আমরা কোন বিশৃঙ্খলা চাই না।"

    • ব্রেকিং, আফগান রাজনৈতিক প্রধান কাবুলে সংবাদ সম্মেলন করছেন

      তালেবানের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান মোল্লা বারাদার তালেবান শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহারে পৌঁছেছেন।

      মি. বারাদার তালেবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতাদের একজন।

      তারা কোথা থেকে সেখানে পৌঁঁছেছে তা স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে বেশিরভাগ নেতাই কাতারের দোহায় ছিলেন এবং মার্কির বাহিনী প্রত্যাহারের পর দেশ শাসনের রূপরেখা নিয়ে আমেরিকানদের সাথে আলোচনা করছিলেন।

      বিস্তারিত আসছে.....

    • তালেবানের যোদ্ধাদের কারোর বাড়িতে প্রবেশ না করার নির্দেশ

      এক তালেবান যোদ্ধা

      ছবির উৎস, Getty Images

      তালেবান তাদের যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা কারও বাড়িতে প্রবেশ না করে এবং রাস্তায় কোন দূতাবাসের গাড়ি চলাচলে বাধা না দেয়, বিশেষ করে রাজধানী কাবুলে।

      এই নির্দেশ জারি করেছেন তালেবানের উপনেতা মোলাভি ইয়াকুব। তালেবান যোদ্ধারা লুটপাটের ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে এরকম খবরের পর মি. ইয়াকুব নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা এক বার্তা জারি করেছেন।

      তালেবান আফগানিস্তানে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা শুরু করেছে। সব সরকারি কর্মচারীদের তারা কাজে ফিরতে বলেছে এবং তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। যারা লুটপাটের সাথে জড়াবে ধরা পড়লে তাদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান।

      কাবুলের অনেক জায়গায় আজ রুটির এবং ওষুধের দোকান খুলেছে এবং রাস্তা ঘাটে আরও বেশি গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

      কাবুলে একটি টিভি অনুষ্ঠানে দেখা গেছে একজন নারী উপস্থাপক একজন তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। তালেবান বিশ বছর আগে যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এটা অকল্পনীয় ছিল। প্রথম সারির টিভি চ্যানেল, তোলো নিউজ তাদের এক নারী সংবাদদাতার ছবি টুইট করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে রিপোর্টিং করছেন।

      তবে কাফেতে, দোকানে বা গাড়িতে এখন আর কোন গান বাজতে শোনা যাচ্ছে না। বড় বড় পোস্টারে বা বিজ্ঞাপনে যেসব নারীর মুখ আছে, সেগুলো রঙ দিয়ে মুছে দেয়া হচ্ছে।

      ধারণা করা হচ্ছে তালেবানের কিছু শীর্ষ নেতা আজ আরও পরের দিকে কাবুলে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন। যেখানে নতুন সরকার এবং দেশটির ভবিষ্যত রূপরেখা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা তারা জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    • কাবুলে কোথায় কী ঘটছে?

      কাবুলের মানচিত্র- কোথায় কী ঘটছে
    • 'আমেরিকানরা ঘরে ফেরেনি, তারা পালিয়েছে': রুশ সংবাদপত্র

      তালেবান আফগানিস্তান দখলের লড়াইয়ে তাদের বিজয় ঘোষণার দুদিন পর সেখানে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে রাশিয়ায় আজকের সংবাদপত্রগুলোতে।

      সরকারি সংবাদপত্র রসিইসকায়া গেজেটায় পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক বিশ্লেষক ফিয়োদোর লুকিয়ানফ দেশটির ঘটনাবলীকে একটা 'চরম বিশৃঙ্খলা' বলে বর্ণনা করেছেন।

      ''আমেরিকার মদতপুষ্ট প্রশাসন তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়েছে,'' তিনি বলেছেন। "আমেরিকানরা ঘরে ফেরেনি, তারা পালিয়েছে।''

      বিবিসির মস্কো সংবাদদাতা স্টিভ রোজেনবার্গ টুইটারে সংবাদপত্রগুলোর পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বলছেন পত্রিকাগুলোর শিরোনাম হয়েছে মূলত এরকম: "একটা চরম বিশৃঙ্খলা", ''পশ্চিমা বিশ্ব এবং জো বাইডেনের জন্য পাহাড়-প্রমাণ রাজনৈতিক অপমান"। একটি পত্রিকা এমন প্রশ্নও তুলেছে: "রাশিয়াকে কি এখন আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠাতে হবে?"

      Skip X post
      X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

      এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

      সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না

      End of X post

    • তুরস্ক সব পক্ষের সাথে কথা বলছে

      তুরস্ক বলেছে আফগান সংঘাতে সংশ্লিষ্ট ''সব পক্ষের'' সঙ্গে তারা কথা বলছে, যার মধ্যে তালেবানও রয়েছে।

      জর্ডানের রাজধানী আম্মানে এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুৎ কাভুসগলু বলেন আফগানিস্তানে কূটনৈতিক মিশন এবং সেখানে তুরস্কের নাগরিকদের ব্যাপারে তালেবানের বার্তাকে তুরস্ক স্বাগত জানিয়েছে।

      "আমরা আশা করছি তারা যা বলেছে তা কাজেও করবে," তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, তুরস্ক আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

      মি. কাভুসগলু বলেন তুরস্ক এই মুহূর্তে আফগানিস্তান থেকে তাদের এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নেবার কাজ করছে।

      এর আগে, তুরস্ক বলেছিল নেটো বাহিনীর সদস্যরা আফগানিস্তান ছেড়ে যাবার পর সেদেশের বিমানবন্দরের প্রহরা ও কার্যক্রম চালু রাখতে তাদের ৬০০ সৈন্য আফগানিস্তানে থেকে যাবে। কিন্তু এখন তালেবান ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সেটা হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

      তবে নাম প্রকাশ না করে দুটি সূত্র থেকে রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে জানানো হয়েছে এই পরিকল্পনা এখন বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু তালেবান সহায়তা চাইলে তুরস্ক সেটা দিতে প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছে।

      কাবুলের কোটে সাঙ্গি বাজার এলাকায় তালেবান যোদ্ধারা টহল দিচ্ছে, সাধারণ মানুষ বাজারে ঘোরাফেরা করছেন- ১৭ই অগাস্ট ২০২১

      ছবির উৎস, Getty Images

      ছবির ক্যাপশান, কাবুলের কোটে সাঙ্গি বাজার এলাকায় তালেবান যোদ্ধারা টহল দিচ্ছে, সাধারণ মানুষ বাজারে ঘোরাফেরা করছেন
    • ইরান বলছে তারা কাবুলে দূতাবাস খোলা রেখেছে

      ইরান জানাচ্ছে কাবুলে তাদের দূতাবাস এখনও খোলা আছে।

      ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে আফগানিস্তানে তাদের দূতাবাস "সম্পূর্ণ খোলা এবং পুরো মাত্রায় কাজ করছে"।

      আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সাঈদ খাতিবযাদে এর আগে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এই খবর নাকচ করে দেন যে, আফগানিস্তানে শুধু রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের দূতাবাস খোলা রয়েছে।

      তিনি আরও বলেন, শুধু কাবুলেই নয়, হেরাতেও ইরানী কনস্যুলেট ''পুরোপুরি কাজ করছে''।

      সপ্তাহান্তে ইরান জানিয়েছিল আফগানিস্তানে তাদের পাঁচটির মধ্যে তিনটি কনস্যুলেট তারা গোপনে বন্ধ করে দিয়েছিল এবং সেখানকার কূটনীতিকদের কাবুলে নিয়ে গিয়েছিল।

      কিছু কূটনীতিককে তারা তেহরানে ফেরত নিয়ে গেছে।

    • কাবুলের জীবনযাত্রা এখন কেমন?, মালিক মুদাস্সের, বিবিসি নিউজ, কাবুল

      কাবুলের রাস্তায় কয়েকজন তালেবান সদস্য

      ছবির উৎস, AFP

      ছবির ক্যাপশান, কাবুলের রাস্তায় কয়েকজন তালেবান সদস্য

      শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা, খুব একটা গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে না।

      মানুষজন ভীত এবং যেকোনো সময় কিছু একটা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তাই সবাই ঘরের ভেতরেই থাকছেন।

      খোলা কয়েকটি মুদি দোকান থেকে মালামাল কিনতে পারছে মানুষজন, কিন্তু বড় মার্কেট এবং শপিং মলগুলো বন্ধ রয়েছে।

      গত কয়েকদিন ধরেই ডলারের বিনিময় মূল্য অনেক বেড়েছে। ফলে আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় আফগানিস্তানে সম্প্রতি সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে।

      বাইরে যাওয়া এবং মানুষজনের সঙ্গে কথা বলার ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। এমনকি ভিডিও করাও যাচ্ছে। আমি গতকাল ভেবেছিলাম, আমাকে হয়তো ভিডিও করতে দেয়া হবে না বা মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হবে না। কিন্তু আমাকে কোথাও বাধা দেয়া হয়নি অথবা জিজ্ঞেস করা হয়নি আমি কে বা কেন আমি এটা করছি।

      শহরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে তালেবান, এমনকি যান চলাচল ব্যবস্থারও। তাদের সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে, প্রতিটা মোড়ে তারা দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা যে শহরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেটা তারা নিশ্চিত করছে।

      আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। জিজ্ঞেস করেছি কেন তারা এখানে এবং এখন তারা কি কাজ করছে? তারা বলেছে, তারা শহরের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। তারা যানবাহন তল্লাশি করছে, বিশেষ করে তাদের তালেবান সহকর্মীদের।

      আমি জানতে চেয়েছি, সেটার কারণ কী? তারা বলেছে, এসব গাড়ি এর আগে সরকারি কর্মকর্তারা ব্যবহার করতেন এবং সেখানে মালামাল লুটকারীরা থাকতে পারে, যারা তালেবানের নাম খারাপ করছে।

      পরবর্তীতে কি হতে চলেছে, সেটা কেউ জানে না।

    • আপনি যদি কিছুক্ষণ আগে আমাদের এই পাতায় যোগ দিয়ে থাকেন:

      আফগানিস্তান ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছে, এখানে তার কিছু সংক্ষিপ্তসার:

      • তালেবানকে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, যে সরকার হবে ঐক্যবদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিনিধিত্বমূলক এবং যেখানে নারীদের পূর্ণ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ থাকবে।
      • যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারে তার সিদ্ধান্তের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধ তিনি পরবর্তী প্রেসিডেন্টের জন্য রেখে যেতে চান না।
      • জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন আফগান জনগণকে পরিত্যাগ না করে।
      • আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান একটি সংবাদ মাধ্যম টোলো নিউজের খবরে আবার নারী সংবাদ পাঠকদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
      • সব সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তালেবান আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সম্পূর্ণ আস্থার সঙ্গে কাজে ফিরে আসেন।
      • চরম বিশৃঙ্খলার কারণে বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়ে যাওয়ার একদিন পর কূটনীতিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে আবার কাবুল বিমানবন্দর চালু হয়েছে।
      • বিদেশি দূতাবাসগুলোর কর্মীরা চলে যাওয়ার পর কাবুলে অবশেষে তিনটি দেশের দূতাবাস থাকছে। এগুলো হলো রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান।
      • আফগানিস্তান থেকে শরণার্থী স্রোত ঠেকাতে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত দেয়াল তুলতে শুরু করেছে তুরস্ক।
      • সোমবার কাবুল ছেড়ে আসা একটি মার্কিন পরিবহন বিমানের চাকায় মানব দেহাবশেষ পাওয়া গেছে।
      • আফগান শরণার্থীদের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
      • প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি কাবুল থেকে চারটি গাড়ি আর একটি হেলিকপ্টার ভর্তি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন বলছে রাশিয়া।
    • আলোচনার মাধ্যমে আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠনে আহ্বান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের

      আফগানিস্তানে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, যে সরকার হবে ঐক্যবদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিনিধিত্বমূলক এবং যেখানে নারীদের পূর্ণ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ থাকবে।

      বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর দিয়েছে।

      সোমবারের ওই বৈঠকে আফগানিস্তানে অবিলম্বে সকল প্রকার সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ১৫ সদস্যের এই পরিষদ।

    • যতজনকে সহায়তা করা উচিৎ, সবাইকে সাহায্য করতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া

      অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, যে আফগানরা অস্ট্রেলিয়ার সৈনিকদের সহায়তা করেছে, তাদের সবাইকে সাহায্য করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

      যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীতে ২০০২ সাল থেকে এই বছরের জুন পর্যন্ত অংশ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে দেশটির ৪১ জন সৈনিক নিহত হয়েছে।

      দেশটি আশা করছে, নিরাপদে যদি সরিয়ে আনা সম্ভব হয়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং কিছু আফগানকে তারা সরিয়ে আনবে।

      তবে মি. মরিসন বলেছেন, ‘’যতজনকে সহায়তা করা উচিৎ, সবাইকে হয়তো সহায়তা করা সম্ভব হবে না। সেখানে ঘটনাগুলোর কারণে আমাদের অনেক উদ্যোগ বাতিল হয়ে গেছে- পরিস্থিতি অন্যরকম হলে ভালো হতো।‘’

      উদ্ধার মিশনে দেরি হওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া।

      অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন

      ছবির উৎস, Getty Images

      ছবির ক্যাপশান, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন
    • আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানালেন কেন তিনি পালিয়েছেন

      আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আজমল আহমাদে টুইটারে একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন, তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আগের কয়েক সপ্তাহ কীভাবে কেটেছে।

      রবিবার তিনি আফগানিস্তান ছেড়েছেন।

      তিনি বলেছেন, দেশটির মুদ্রার মান রেকর্ড নেমে যাওয়া এবং নতুন করে আর কোন ডলার তাকে সরবরাহ করা হবে না জানতে পেরে তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

      আফগানিস্তানে যা কিছু ঘটেছে, সেজন্য আফগান সরকারকে তিনি দায়ী করেন।

      ‘’এটা এইভাবে শেষ হওয়ার কথা ছিল না। আফগান নেতাদের পরিকল্পনা হীনতায় আমি বীতশ্রদ্ধ,’’ তিনি লিখেছেন।

      Skip X post
      X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

      এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

      সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না

      End of X post